v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2005-04-04 19:06:13    
প্রাচীনকালের চীনা মাটি ও চীনা মাটির বাসনকোসন

cri
    কিছু দিন আগে পেইচিংয়ে চীনের চীনা মাটির তৈজসপত্রের রাজধানী বলে আখ্যায়িত চিয়াংশি প্রদেশের চিনতে চেন নগরীর উদ্যোগে চীনা মাটির বাসনকোসন সম্পর্কিত একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে । এই প্রদর্শনী বহু দর্শকের কদর পেয়েছে ।বহু বিদেশী বন্ধু মন্তব্যের খাতায় লিখেছেন যে , তারা চীনা মাটির সুদীর্ঘকালীন ইতিহাস ও তৈরীর কলাকৌশল দেখে মুগ্ধ হয়েছেন । মূক্ষম ও সুন্দর প্রকৌশলের দিক থেকে চীনের প্রাচীনকালের কতকগুলো চীনা মাটির বাসনকোসন অতি বিরল ও মূল্যবান । ধরা যাক , এবছরের গোড়ার দিকে হংকংয়ে সোখেবে নিলাম মার্কেটে চীনের মিং রাজবংশীয় আমল অর্থাত্ খূষ্টীয় ১৩৬৮ সাল থেকে ১৬৪৪ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তৈরী একটি চীনা মাটির তৈজসপত্র ৪ কোটি ৪০ লক্ষ হংকং ডলারে বিক্রি করা হয়েছে । এটা চীনের চীনা মাটির তৈজসপত্রের লেনদেনের ক্ষেত্রে বিশ্ব রেকর্ড স্থাপন করেছে ।

    চীনকে "চীনা মাটির তৈজসপত্রের রাষ্ট্র" বলে অভিহিত করা হয় । ইংরেজীতে "চায়নার" অর্থও চীনা মাটি । চীনা মৃত্ শিল্প তিন হাজার বছরের বেশি পুরানো ।চীনে বিভিন্ন রাজবংশের আমলে তৈরী চীনা মাটির বাসনের রকমারিতা ভিন্ন বলে চীনা মাটির শ্রেনী বিভাজন ও নামকরনও জটিল ।

    প্রথমত: সময় অনুযায়ী চীনা মাটির তৈজসপত্রের শ্রেনীকরণ আর নামকরন হয় । সাধারনতঃ চীনের ইতিহাসে ভিন্ন রাজবংশের আমল বা ভিন্ন রাজার রাজত্বের মেয়াদ অনুযায়ী চীনা মাটির তৈজসপত্রের শ্রেনীকরণ আর নামকরন হয় । যেমন মিন রাজবংশ আমলে তৈরী চীনা মাটির তৈসজপত্রকে মিন চীনা মাটির তৈজসপত্র বলা হয় এবং মিন রাজবংশের হোন্ উ রাজার আমলে তৈরী চীনা মাটির তৈজসপত্রকে হোন্ চীনা মাটির তৈজসপত্র ডাকে ।

    দ্বিতীয়ত : জায়গা অনুযায়ী চীনা মাটির তৈজসপত্র-এর শ্রেনীকরণ এবং নামকরন হয় । যেমন পূর্ব চীনের চেচিয়াং প্রদেশে তৈরী চীনা মাটির তৈজসপত্রকে ইউ ইয়াও চীনা মাটির তৈজসপত্র বলা হয় ।

    তৃতীয়ত : বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চীনা মাটির তৈজসপত্র-এর শ্রেনীকরণ আর নামকরন হয় । সাধারনতঃ রঙ , আকার প্রভৃতি বিষয়ের ভিত্তিতে এই শ্রেনী বিভাজন আর নামকরনের পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় ।

    শেষের পদ্ধতি হল : ভিন্ন অঞ্চলের ভিন্ন চুলা অনুযায়ী চীনা মাটির তৈজসপত্রের শ্রেনী বিভাজন আর নামকরন ।

    চিয়াংশি প্রদেশের চিনতেচেন্ নগরীকে চীনা মাটির তৈজসপত্রের রাজধানী বলে আখ্যায়িত করা হয় ।

    সুদীর্ঘকালীন ঐতিহ্যও সংস্কৃতির কেন্দ্র দক্ষিণ চীনের এই নগরীতে চীনা মাটির তৈজসপত্র তৈরীর ইতিহাস এ পর্যন্ত ২ হাজার বছরেরও বেশি সময় হয়েছে ।

    এখন থেকে ১ হাজার বছরেরও বেশী সময় আগে চীনের সুং রাজবংশ আমলে তখনকার সম্রাট চিনতেচেন্ নগরীর তৈরা চীনা মাটির তৈজসপত্রকে রাজপুরীতে ব্যবহার্য চীনা মাটির তৈজসপত্র বলে আদেশ নামা জারী করেছিলেন । তার পর চিনতেচেন্ চীনা মাটির তৈজসপত্র দেশ-বিদেশে সুপরিচিত হয়েছে ।

    চিন্ তে চেন্ নগরীতে এখনো প্রচীনকালের চীনা মাটির তৈজসপত্র তৈরীর কুটীর ও চুলা সংরক্ষিত রয়েছে । প্রতি বছর এটা দেশ-বিদেশের বহু পর্যটককে আকৃষ্ট করছে ।