v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2005-03-08 16:40:12    
মোটা খাদ্যশস্যের পুষ্টিমান

cri
    লাল চাল, ভূট্টার ময়দা, বজরা, মটরশুটি, মুগডাল প্রভৃতি মোটা খাদ্যশস্যের পুষ্টিমান চাল, ময়দা প্রভৃতি প্রধান খাদ্যশস্যের চেয়ে বেশি । মানুষের শরিরে মোটা খাদ্যশস্যের পুষ্টির অভাব অন্য খাদ্য দিয়ে, পূরণ করা যায় না । এক থেকে তিন বছর বয়স হচ্ছে শিশুদের দ্রুততম বৃদ্ধির সময়কাল । তরুন বাবামার ভয় যে, এই সময়ে নিজের আদুরে শিশু সন্তানটির শরিরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব । সুতরাং কোনো কোনো অভিভাবক শিশুর বয়েস এক বছর পেরোলেই তাকে বিপুল পরিমানে উচ্চ-ক্যালোরি ও উচ্চ-প্রোটিনসম্পন্ন খাদ্য খাওয়ান । এ গুলো থেকে নিজেদের বাচ্চা পরিপূর্ণ পুষ্টি লাভ করবে বলে তারা আশা করেন । কিন্তু ফলাফল কি হয়? বাচ্চারা স্বাভাবিকভাবে বড় হয়নি বরং অসম পুষ্টিকর জিনিস খাওয়ার ফলে তারা মুটিয়ে গেছে । সুষম খাবার-খাওয়া যুক্তিযুক্ত পুষ্টি লাভের একমাত্র পথ । সুষম খাবারের মধ্যে মোটা খাদ্যশস্য আর প্রধান খাদ্যশস্যের সমন্বয় আত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।

    মোটা খাদ্যশস্যের মধ্যে কি কি আছে? আছে ভিটামিন বি । মোটা খাদ্যশস্য খাওয়ার তাত্পর্য হল শরিরে প্রয়োজনীয় সেল্লুলোস সরবরাহ করা ।

    প্রধান খাদ্যশস্যের তুলনায় মোটা খাদ্যশস্যের মধ্যে মানবদেহের প্রয়োজনীয় অনেক পদার্থ আছে । তাই বাচ্চাদের চাল আর ময়দাজাত খাবার খাওয়ানো ছাড়াও তাদেরকে লাল চাল, ভূট্টার ময়দা, বজরা, মটরশুটি, মুগডাল প্রভৃতি মোটা খাদ্যশস্য খেতে দেয়া উচিত ।

    সেল্লুলোস বাচ্চাদের উপচিতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । মাঝে মাঝে মোটা খাদ্যশস্য বাচ্চাদের দাঁত গজানোতে সহায়তা করে । বাচ্চাদের দাঁত ওঠার প্রক্রিয়ায় মোটা খাদ্যশস্য তাদের খাদ্য চিবানোর ক্ষমতা বাড়াতে পারে ।

    মোটা খাদ্যশস্যের উপকারিতা অনেক বটে, কিন্তু নিজের বাচ্চাকে মোটা খাদ্যশস্য খাওয়ালে অভিভাবকরা লক্ষ্য করেছেন যে, বাচ্চাকে মোটা খাদ্যশস্যজাত দ্রব্য খেতে দেয়া তেমন সহজ ব্যাপার নয় । কারন চাল আর ময়দাজাত খাদ্য খেতে অভ্যস্ত হওয়ার পর বাচ্চারা এক পর্যায়ে মোটা খাদ্যশস্যজাত দ্রব্য খেতে চায় না । সে ক্ষেত্রে অনেক অভিভাবক জোর করে বাচ্চাকে মোটা খাদ্যশস্যজাত খাবার খাইয়ে দেন । সুস্বাদু নয় বলে বাচ্চারা দ্বিধাহীনভাবে থুথু করে মুখের খাবার ফেলে দেয় । কেন বাচ্চারা মোটা খাদ্যশস্যজাত খাবার খেতে পছন্দ করে না? কারণ চাল আর ময়দার তুলনায় মোটা খাদ্যশস্য জাত খাবার চিবানো ও গেলা একটু কঠিন এবং প্রধান খাদ্যশস্যের তুলনায় মোটা খাদ্যশস্যজাত খাবার তেমন সুস্বাদু নয় । যাতে বাচ্চারা মোটা খাদ্যশস্য খেতে পছন্দ করে তার প্রধান উপায় হল মোটা খাদ্যশস্যের প্রক্রিয়াকরন করা ।

    এ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ বলেছেন, আমাদের পুষ্টি গ্রহন করার এক নীতি হল, নানা ধরনের খাদ্যগ্রহন এবং শস্যকে প্রধান খাদ্য হিসেবে গ্রহন করা । দিনে ২৫ থেকে ৩০ ধরনের খাদ্য খাওয়া আমাদের স্বাস্থ্যের চাহিদা মেটাতে পারে । সুতরাং খাদ্যশস্যকে প্রধান খাদ্য হিসেবে গ্রহন করতে হবে এবং মাংস, ডিম, দুধ ইত্যাদিকে সহকারী খাদ্য হিসেবে গ্রহন করতে হবে । মোটা খাদ্যশস্যের সংগে প্রধান খাদ্যশস্যের সমন্বয় করতে হবে । এটা সুষম খাদ্যের বৈজ্ঞানিক পুষ্টি-নীতির সংগে খাপখায় । বাচ্চাদের খাদ্যের পুষ্টির সুষম হওয়া উচিত । পছন্দনীয় খাদ্য বেশী খাওয়া আর অপছন্দনীয় খাদ্য কম খাওয়া বা না খাওয়া চলবে না । তবে কেন অধিকাংশ বাচ্চা শুধু পছন্দনীয় খাদ্য খায়? এক তদন্ত আর গবেষণা থেকে জানা গেছে, এটা মায়ের অভ্যাসের সংগে সম্পর্কিত । তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, বাচ্চাদের বড় হওয়ার প্রক্রিয়ায় তাদের নানা পুষ্টিকর খাবার খেতে দেয়া উচিত । বাচ্চামার পছন্দকে মানদন্ড হিসেবে নিয়ে বাচ্চাদের খাদ্য বেছে নেয়া উচিত নয় ।