v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2005-02-28 12:25:35    
ঐতিহ্য আর আধুনিকীকরণের সংগে মিশে যাওয়া হারবিন

cri
    বরফের তৈরী বাতি হারবিন শহরের একটি চিত্তার্কষক দৃশ্য বটে ।তবে এই শহরের সড়কগুলোতে , শহরবাসীদের সাধারণ জীবনে আরো অনেক বৈশিষ্ট্যসম্পন্নদৃশ্য আছে।

    আপনারা যে গান শুনতে পাচ্ছেন তার নাম হলো " সুর্য দ্বীপে"।এই গান এক সময় চীনে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।গানে যে সুর্য দ্বীপ উল্লেখ করা হয়েছে তা হারবিন শহরে অবস্থিত।দীর্ঘকাল ধরে সুর্য দ্বীপের মরোনম দৃশ্য অজস্র দেশী-বিদেশী পর্যটককে অভিভূত করে এসেছে।হারবিন চীনের উত্তর-পূবাঞ্চলের হেলোচিয়াং প্রদেশের রাজধানী।হয়তো রাশিয়ার সংগ সংলগ্ন বলে হারবিনে রাশিয়ার রীতিনীতি প্রাশ পায়।এই ধরনের ভিন্ন সংস্কৃতিরমিশ্র শহরের শৈলী চীনের অন্যান্য শহরের তুলনায় অদ্বিতীয় স্ববৈশিষ্টসম্পন্ন হারবিন গঠিত হয়েছে।ইয়াও ছিয়েন পিন নামে একজন ভদ্র লোক যিনি দীঘকাল ধরে হারবিন শহরে বসবাস আর কাজ করে এসেছেন।তিনি বলেছেন, অতীতে অনেক দেশের প্রবাসীরা হারবিনে বসবাস করতেন বলে গোটা শহরের বিভিন্ন জায়গায় পাশ্চাত্য দেশের শৈলীর সারি সারি স্থাপত্য সংরক্ষিত হয়েছে।

    " আমাদের হারবিন শহরের স্থাপত্যগুলোততে বারোক(ইউরোপীয় শৈলী) শৈলী, পেইজানছিন শৈলী প্রভৃতি শৈলীর স্থাপত্য দেখা যায়।এ সব শৈলীর স্থাপত্য চীনের অন্যান্য শৈলীর স্থাপত্যের সংগে মিশে যায় । পশ্চাত্য আর চীনের শৈলীর স্থাপত্য মিশ্রভাবে থাকায় হারবিন শহরে পশ্চাত্য আর চীনের সংস্কৃতির পরিবেশ অনুভব করা যায়।লোকেরা বিদেশী স্থাপত্যে পরিপূর্ণ হারবিন শহরের সড়ক ধরে হাঁটলে মাঝেমাঝে কানে রাশিয়ার ক্লেসিকো সংগীত ঢুকে যায়।মানুষ যখন রাস্তার কোথায়ও বসে ব্রাজিলের সুগন্ধ কফি পান করে তখন খুব ফুর্তি অনুভব করতে পারে ।"

    হারবিন শহরের সড়ক ধরে হাঁটলে আপনি অনবরত গাছপালা আর অট্রালিকার ফাঁক দিয়ে নানা ধরনের শৈলীর গির্জা আর মসজিদ দেখতে পারেন।এ সব স্থাপত্য চীনের ঐতিহ্যিক শৈলীর মন্দিগুলোর সংগে মিশে গিয়ে হারবিন শহরের স্ববৈশিষ্ট্যসম্পন্নস্থাপত্যের সংস্কৃতি পরিবেশ গঠিত হয়েছে।যদি আপনি হারবিনের স্থাপত্য কর্মশিল্প জেনে নিতে চান, তাহলে আপনি সেনসুফিয়া গির্জা দেখতে যান।সত্যই একটি দেখার মতো জায়গা।১৯০৭ সালে এই গির্জার নির্মাণ শুরু হয়।আকারের দিক থেকে এক সময় এই গির্জা ছিল হারবিন শহর তথা গোটা দূর প্রাচ্য অঞ্চলের সবচেয়ে বড় গির্জা।এই গির্জা নীরবে হারবিন শহরের সবচেয়ে জন্যব্যস্ত এবং সবচেয়ে প্রাচীন বাণিজ্য সড়কে অবস্থিত।এই বাণিজ্য সড়ক হারবিন শহরের সবচেয়ে বিখ্যাত বাণিজ্য সড়কগুলোর অন্যকম।সড়ককে "কেন্দ্রীয় সড়ক" বলে আখ্যায়িত।এই সড়কের ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের দায়িত্বশীল ব্যাক্তি লিও ডং পিন ব্যাখ্যা করে বলেছেন,

    এই কেন্দ্রীয় সড়কের ইতিহাস শতাধিক বছরের।১৮৯৮ সালে এই সড়কের নির্মান কাজ শুরু হয়।প্রথমে এই সড়কের নাম ছিল " চৈনিক সড়ক"।১৯২৫ সালে কেন্দ্রীয় সড়কের নাম বদলে গেলো।এই সড়ক স্ববৈশিষ্ট্যসম্পন্ন।সড়ক রবারব দু পাশে ৭১টি ইউরোপীয় শৈলীর অট্রালিকাআছে।এগুলোর মধ্যে বেশীর ভাগ নির্মান করা হয়েছে ১৯০৩ থেকে ১৯২৭ সালের মধ্যে।প্রত্যেকটি স্থাপত্যে স্ববৈশিষ্ট্য দেখা যায়।গত শতাব্দীর প্রথম দিকে হারবিন শহরের এই কেন্দ্রীয় সড়কে অত্যন্ত সমৃদ্ধিশালী হত।তখন এই সড়কের দু পাশের দোকানপটগুলোতে রাশিয়ার রেশমি কাপড় এবং চামরা, ফ্রান্সের পার্ফিম, জার্মানীর ঔষুধ, যুক্তরাষ্ট্রের তেল, সুইজল্যান্ডের ঘড়ি পাওয়া যেত।তা ছাড়া, রাশিয়া, ফ্রান্স, জমার্নী প্রভৃতি প্রবাসীদের রেখে দেওয়া ভিন্ন জাতীর রীতিনীতির আভাস ।আজকের এই কেন্দ্রীয় সড়ক অনেক আধুনিক হয়ে গেছে বটে । কিন্তু আধুনিক দোকারপটগুলোর মধ্যে যেসব ইউরোপীয় শৈলীর স্থাপত্য বিরাজ করছে, সে সব স্থাপত্য এখনও মানুষের দৃশ্টি আকর্ষন করে থাকে।বর্তমানে এই সড়কের প্রায় সব দোকানে প্রধানত বিশ্বের নাম-করা পোষাক আর আংকুল প্রভৃতি উচ্চ মানের পণ্যদ্রব্য বিক্রি করা হয়।আগের মতো এখনও এই সড়ককে কেনা-কাটার স্বর্গ বলে মনে করা হয়।

    হারবিন শহরে লোকেরা সহজেই খাঁটি ইউরোপীয় শৈলীর রেস্তাঁরাং পেতে পারেন।যেমন, শতাধিক বছনের ইতিহাসসম্পন্ন হুয়া মে রেস্তারাঁতে লোকেরা অত্যন্ত খাঁটি রাশিয়ার খাবার উপভোগ করতে পারেন।চীনের বিখ্যাত লেখক সু সু ইয়াং বলেছেন, রাশিয়ার রাধুন সংস্কৃতির প্রভাবে হারবিনের রাশিয়ার খাবার সুনাম পাওয়ার প্রধান কারণ।

    হারবিনের ইউরোপীয় খাবারে খাঁটি রাশিয়ার খাবারের স্বাদ বজায় রাখা হয়েছে।এটা ভৌগলের অবস্থানের সংগে সম্পর্কিত।কেননা হারবিন শহর চীন-রাশিয়া সিমান্তে অবস্থিত।অতীতে বিভিন্ন কাজে বিপুল সংখ্যক রাশিয়ান হারবিনে এসে পড়তেন।তারা রাশিয়ানদের জীবন যাত্রার রীতিনীতি এনে নিয়েছিলেন।তাদের এনে আনা সংস্কৃতিগুলোর অন্যতম হলো রাশিয়ার খাবার।হারবিনের ইউরোপীয় খাবারে অত্যন্ত খাঁটি রাশিয়ার খাবারের স্বাদ রয়েছে।যদি আপনি স্থানীয় মানুষের সংগে মেশামিশি করেন, তাহলে আপনি দেখতে পারবেন যে, এখানকার মানুষ নিজের জীবনের আমেজ সমৃদ্ধ করার জন্যে ভিন্ন জাতি , ভিন্ন অঞ্চল এবং ভিন্ন শৈলীর জিনিস দেখাতে ইচ্ছুক।

    হারবিন এমন একটি শহর যাতে ঐতিহ্য আর আধুনিকীকরণের আভাস অনুভব করা যায়।এটা হয়তো প্রতি বছরে অজস্র দেশী-বিদেশী পর্যদককে আর্কষণীয় করে তোলাপ্রধান কারণ।স্থাপতি হু হন এই শহরের স্থাপত্য পছন্দ করেন বলে দীর্ঘকাল ধরে হারবিনে বসবাস করেন।তিনি বললেন,

    এখানে বসবাসরত সকলেই এই শহর পছন্দ করে।এখানে অনেক গল্প আছে, অনেক স্মরণ আছে।আমান মনে হয় অন্য জায়গার মানুষও এই শহর পছন্দ করে।সন্ধ্যাবেলায়যখন গোট শহর চকচকে বৈত্রিময় আলোতে মখরিত হয় তখন শহরের ছোট-বড় সড়ক ধরে হাঁটলে আপনি নি:সন্দেহে ফুর্তি পান।