v চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগv চীনের বিশ্ব কোষ
China Radio International
পর্যটনসংস্কৃতিবিজ্ঞানখেলাধুলাকৃষিসমাজঅর্থ-বাণিজ্যশিক্ষার আলো
চীনা সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
চীনের কণ্ঠ
সংবাদ ব্যক্তিত্ব
সংবাদের প্রেক্ষাপট
নানা দেশ
কুইজ
আবহাওয়া

মহা মিলন ২০০৮ পেইচিং অলিম্পিক গেমস

ভয়াবহ ভূমিকম্প দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হেনেছে

লাসায় ১৪ মার্চ যা ঘটেছিল

ইয়ুন নান প্রদেশ

দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয় নয়ন
আরো>>
(GMT+08:00) 2005-10-25 23:05:40    
গর্ভবতীকে সর্দি থেকে সাবধান হতে হবে

cri

    বাচ্চা জন্ম দেয়ার সংগে সংগে প্রায় সব নতুন মা ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করেন যে, আমার বাচ্চার কোনো ত্রুটি আছে কি ?এ থেকে বুঝা যায় যে, গর্ভের সন্তান সম্পর্কে সব গর্ভবতীরাই বেশ চিন্ডিত যে , সে স্বাস্থ্যবান না তার ত্রুটি আছে ?

    গর্ভবতী হওয়ার প্রথম দিকে ভাবী-মায়েরা সহজে সর্দিতে ভূগতে পারেন ।

    গর্ভধারণকালে বিশেষ করে প্রথম দিকে অর্থাত গর্ভবতী হওয়ার ১-৩ মাসের সময়কালে গর্ভবতীরা সহজে অসুস্থ হন, বিশেষ করে বেশীর ভাগ গর্ভবতী সর্দিতে আক্রান্ত হতে পারেন । গর্ভধারণকালে সর্দি লেগে থাকা গর্ভবতীদের জন্যে অপেক্ষাকৃত এক গুরুতর ব্যাপার,যদি ভাইরাল সর্দি লাগে ,তাহলে ভাইরাস শরিরের ভেতরে প্রবেশ করার পর অমরার মাধ্যমে সরাসরি ভ্রূণের উপর প্রভাব বিস্তার করে ।দেহযন্ত্র বিভক্ত হওয়ার সময়ে ভ্রূনটি ভাইরাসের প্রভাবে বিকৃত হতে পারে । অন্য দিকে গর্ভবতীরা সর্দি লেগে জ্বরে ভূগতে পারেন অথবা কিছু সংক্রমিত হতে পারে , এই সময়ে পেটের বাচ্চা যেন ফুড-স্টিমারে থাকে,ফলে ভ্রুণটির বড় হওয়া বন্ধ হতে পারে এমন কি গর্ভপাত হতে পারে ।

    গর্ভবতী যদি বেশী ঔষুধ খান,তাহলে ঔষুধের পরোক্ষ প্রভাবে বাচ্চার দেহযন্ত্র ভাগাভাগির সময়ে বাচ্চার নানাধরনের দৈহিক বিকৃতি হতে পারে , যেমন বিভক্ত ঠোঁট,জন্মগত হৃদরোগ ,ছোটো-মাথার বিকৃতি প্রভৃতি । জন্ম হওয়ার পর বাচ্চার ধীশক্তির সমস্যাও হতে পারে ।সুতরাং গর্ভধারণের প্রথম দিকে ভাবি মায়েদের সর্দি হলে পেটের বাচ্চা নেয়া যাবে কিনা সমস্যাটি বিশেষ প্রকট হয়ে ওঠে, যার ফলে ভাবী বাবামায়েরা দ্বিধাগ্রস্ত হন । কিন্তু সর্দি হলে তেমন ভয় নেই আসলে সর্দি দুধরনের ।এক হল সাধারণ সর্দি , যেমন ঠান্ডা লেগে কাশি হওয়া বা নাক দিয়ে পানি পড়া , এটা কোনো বড় সমস্যা নয় , বিশ্রাম নেয়ার পর সমস্যা সেরে যাবে । কিন্তু ভাইরাল সর্দি এক ধরনের অপেক্ষাকৃত গুরুতর সর্দি, এই ধরনের সর্দি লাগলে গর্ভবতীর তাড়াতাড়ি জ্বর হতে পারে এমন কি এর ফুসফুসের প্রদাহও হতে পারে । এই সময়ে সময়োচিতভাবে ঔষুধ ব্যবহার না করলে এবং সময়োচিতভাবে তাপমাত্রা কমিয়ে দিতে না পারলে মায়ের উচ্চতাপমাত্রার কারনে অক্সিজেনের অভাবে পেটের বাচ্চার কিছু সমস্যা হতে পারে । এই সময়ে গর্ভবতীকে ঔষুধ দিতে হলে কড়াকড়িভাবে ঔষুধ নির্বাচন করতে হবে।এই সময়ে সাধারণতঃ ফিজিক্যাল থেরাপি অর্থাত পদার্থবিদ্যার চিকিত্সা পদ্ধতি ব্যবহার করলে ভাল । পদ্ধতির প্রক্রিয়া হল ,দৈহিক তাপমাত্রা কমিয়ে দেয়ার জন্যে প্রথমে কয়েকটি ছোটো তোয়ালে ফ্রিজে রাখুন ,বিশাধিক মিনিট পর তোয়ালে বের করে গর্ভবতীর মাথায়, বগলে আর উরুসন্ধিতে রেখে দিন ।অথবা ১০০মিলিলিটারের ৭৫শতাংশ ঘনতার সুরাসারে ৫০ মিলিলিটার পানি মিশিয়ে দিন এবং এতে ছোটো তোয়ালেগুলো রেখে দিন, কয়েক মিনিট পর তোয়ালে বের করে নিংড়িয়ে তা দিয়ে যথাক্রমে গর্ভবতীর বগল আর বাহুর বাঁকে তিনমিনিট ধরে মুছে দিন। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে,

    এক,নিম্নোক্ত কয়েকটি জায়গায় পদার্থবিদ্যার পদ্ধতিতে দৈহিক তাপমাত্রা কমিয়ে দেয়া নিষেধঃ ঘাড়ের পিছনে , বুকে, পেটে আর পায়ের তালুতে । 

    দুই,বেশী ফুটানো পানি খান ।এইভাবে প্রস্রাব করার মাধ্যমে দেহের ভেতরের বিষাক্ত পদার্থ বের করা যায় ।

    তিন,গর্ভবতীরা যদি ভাইরাল সর্দিতে ভোগেন এবং কিছুটা জ্বরাক্রান্ত হন , তাহলে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে যান, ডাক্তারের পরামর্শে চিকিত্সা নিন এবং ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী ঔষুধ খান ।ইচ্ছাকৃতভাবে ঔষুধ খাবেন না ।

    এখন সর্দির ঔষুধ নানা ধরনের আছে, কিন্তু কোনো কোনোটা গর্ভবতীর পক্ষে প্রযোজ্য নয় ,যেমন টেট্রাসাইক্লিন খেলে বাচ্চা বড় হওয়ার পর দাঁত হলুদ হবে, ক্লোরোমাইসেটিন খেলে বাচ্চার লিউক্যামিয়া রোগ হবে .স্ট্রেপটোমাইসিন আর ক্যানামাইসিন খেলে বাচ্চারা জন্মবধির হবে ।সাধারনত বলতে গেলে ওষুধ খাওয়ার আগে সর্বপ্রথমে ওষুধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ পড়তে হবে ,যে ওষুধ গর্ভবতীদের খাওয়া নিষিদ্ধ বা সাবধানে খাওয়া সম্পর্কে লেখা আছে সে ওষুধ খাবেন না। চার,গর্ভবতী অসুস্থ হলে খাওয়া যায় এমন ওষুধ অত্যন্ত কম, তাই উত্তম উপায় হল গর্ভধারণকালে অসুস্থ না হওয়া বা কম হওয়া, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল ব্যাধি এড়িয়ে যাওয়া এবং রোগে আক্রান্ত না হওয়া। গর্ভধারণকালে ভাবী মায়ের যথেষ্ট প্রোটিনজাত দ্রব্য আর ট্রেস এলিমেন্ট গ্রহন করতে হবে । এই সময় মাংস,মাছ, ডিম, দুধ প্রভৃতি আগের চেয়ে একটু বেশী খেতে হবে ।রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দিলেই কেবল বাইরের ভাইরাস রোধ করা সম্ভব হতে পারে । পাঁচ,গর্ভবতীকে শরীরচর্চার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে , যেমন মাঝেমাঝেই হেঁটেহেঁটে বেড়াতে আর সবসময় টাটকা হাওয়া গ্রহন করতে হবে, তাছাড়া ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধোয়া ঠান্ডা রোধ করার ক্ষমতা বাড়াতে পারে , এইভাবে সর্দি হওয়ার সুযোগ কমতে পারে । এখানে গর্ভবতীদের পক্ষে যে জিনিস কম খাওয়া বা না খাওয়া ভাল সে জিনিসগুলোর নাম উল্লেখ করা ভাল, সেগুলো হলঃ এক, অতিরিক্ত আর বেশী ঘনত্বের চা খাওয়া ভাল নয়,কারণ চায়ের ভেতরে ক্যাফিইন আছে, ক্যাফিইনের উত্তেজিত করার ভূমিকা আছে , এটা পেটের বাচ্চার বড় হওয়ার ক্ষতিসাধন করবে । দুই,কোকাকোলা প্রভৃতি ক্যাফিইনসম্পন্ন পানীয় বেশী খেলে গর্ভবতীদের বমি,মাথা ব্যথা,হৃত্পীন্ডের স্পন্দন দ্রুত হওয়া প্রভৃতি বিপজ্জনক লক্ষণ দেখা দেয়ার সম্ভাবনা হতে পারে , এটা ভ্রূণের গুরুমস্তিস্ক,হৃত্পীন্ড,যকৃত প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ দেহযন্ত্রের স্বাভাবিক বৃদ্ধির উপর প্রভাব বিস্তার করবে, যার ফলে বাচ্চার জন্মগত রোগ হতে পারে । তিন,বেশী ভিনিগার খাওয়া নিষিদ্ধ,ভিনিগার আর এসিডসম্পন্ন খাদ্য বিকৃত বাচ্চার এক প্রধান কারণ। চার , মদ, মরিচ,প্রভৃতি মসলা , তেলে ভাজা জিনিস বেশী খাওয়া ভাল নয়। পাঁচ,বেশী ওষুধ খাবেন না ।