সিয়ুন

       সিয়ুন হচ্ছে চীনের প্রাচীনতম ফুঁস দিয়ে বাজানো বাদ্যৃযন্ত্রের অন্যতম । এর প্রায় ৭ হাজার বছরের ইতিহাস রয়েছে ।  

  কথিত আছে যে , “ সি লিও সিং” নামের এক রকম পশু শিকারী হাতিয়ার থেকে সিয়ুনের উদ্ভব হয় । প্রাচীনকালে লোকেরা প্রায় দড়ি দিয়ে বাঁধানো একটি গোলাকার পাথর নিহ্মেপ করে পাখি আর জীবজন্তুর উপর আঘাত হানতেন । কোনো কোনো গোলাকার পাথরের মাঝখানটা ফাকা । নিহ্মেপ করার সময়ে বাতাসে তা থেকে বাতাস বের হয় । পরে লোকেরা খুব মজা বলে মনে করে তার উপর ফুঁস দিয়ে বাজান । আস্তে আস্তে সিলিওসিং সিয়ুনে রূপান্তরিত হয় ।  

   গোড়ার দিকে সিয়ুন পাথর আর হাড় দিয়ে তৈরি হতো । পরে মাটি দিয়ে তৈরি হয় । আকার অনেক ধনণের আছে । যেমন চ্যাপ্টা গোলাকার , অন্তাকার , গোলাকার , মাছের আকার , নাশপাতির আকার ইত্যাদি । তার মধ্যে নাশপাতির সিয়ুন সবচেয়ে প্রচলিত ।  

  সিয়ুনের উপরের অংশে রয়েছে ফুঁস দেয়ার মুখ । পাতদেশ সমানতরাল । পাশে কাটা রয়েছে আওয়াজের গর্ত । প্রথম দিকের সিয়ুনে কেবল একটি গর্ত ছিল। পরে ক্রমে বহু গর্তযুক্ত সিয়ুনের আবির্ভাবহয় । খৃষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দির শেষ দিকে ৬টি গর্তযুক্ত সিয়ুনের উদ্ভব হয় ।  

  চীনের সংগীত ইন্স্টিটিউটের অধ্যাপক ছাও চেং বিংশ শতাব্দির ত্রিশের দশকের শেষ দিক থেকে প্রাচীন সিয়ুনের অনুকরণে মাটির সিয়ুন তৈরি করতে শুরু করেন । পরে থিয়ান চিন সংগীত ইন্স্টিটিউটের অধ্যাপক ছেন চুং প্রাচীন নাশপাতি আকারের ৬টি গর্তযুক্ত সিয়ুনের ভিত্তিতে আবার নতুন ধনণের ৯টি গর্তযুক্ত মাটির সিয়ুন ডিজাই করেন । তা চিয়াং সু প্রদেশের ই সিং শহরের বেগুনী মিটি দিয়ে তৈরি হয় । এই রকম ৯টি গর্তযুক্ত সিয়ুন যেমন এঐতিহ্যবাহী সিয়ুনের আকার আর সুর বজাই রেখেছে , তেমনি সুরের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং সুরের হ্মেত্র সম্প্রসারণ করেছে । তা দিয়ে আওয়াজের ধাপ আর আধা আওয়াজ বাজানো যায়। এইভাবে তা সুর পরিবর্তনের একটি বাদ্যযন্ত্রে পরিণত হয় । এই সিয়ুনের সুর সরল , গভীর , নীচু আর বিষন্ন । তার বৈশিষ্ট্য লহ্ম্য করার মত । আগেকার সিয়ুনের আওয়াজের গর্তের সারি এলোমেলো ছিল , এখনকার ৯টি গর্তযুক্ত সিয়ুন সেই অবস্থার পরিবর্তন করেছে । তা আধুনিক লোকদের বাজানোর চাল চলন অনুসারে তৈরি হয় বলে বাজানো আর সুবিধাজনক হয়েছে । এই সিয়ুন দিয়ে একক বাজানো, সমবেত বাজানো বা সহযোগী বাজানো যায় ।  

  ৯টি গর্তযুক্ত সিয়ুনের আবিষ্কার এই স্বাহ্মর বহন করে যে , চীনের প্রাচীন সিয়ুনের নতুন জীবন ফিরে এসেছে । কিছু দিন পর অধ্যাপক ছেন চুংয়ের অন্য একজন ছাত্র , হু পেই প্রদেশের সংগীত ও নৃত্য দলের চাও লিয়াং শান লাল কাঠ দিয়ে ১০টি গর্তযুক্ত সিয়ুন তৈরি করেছেন । আগেকার সিয়ুন দিয়ে উচ্চকন্ঠের সুর বাজানো যেতো না , ১০টি গর্তযুক্ত সিয়ুন এই দুর্বলতা কাটিয়ে দিয়েছে ।  

  চীনের সংগীতের ইতিহাসে সিয়ুন প্রধানত রাজ দরবারের সংগীতে ব্যবহার করা হতো । দরবারের সংগিতে সুং সিয়ুন আর ইয়া সিয়ুন -দুই ধনণের সিয়ুন ছিল । সুং সিয়ুনের আকার ছোট , ডিমের মত । তার সুর উচ্চ । ইয়া সিয়ুনের আকার একটু বড় । তার সুর সুগভীর আর নীচু । তা সবসময়ে বাঁশ দিয়ে তৈরি ছি নামক এক রকম বাদ্যযন্ত্রের সংগে মিলে বাজানো হতো । চীনের প্রাচীনতম কবিতা-সংকলন “ সি চিংয়ে” লিপিবদ্ধ ছিল : “ পোও সিয়ুন বাজায় আর চুং ছি বাজায় “ তার অর্থ হচ্ছে এই যে , দুই ভাই মিলে একজন সিয়ুন বাজায় এবং আরেকজন ছি বাজায় । এতে দুই ভাইয়ের মধ্যে প্রীতিও ভালোবাসার ভাব প্রকাশ পেয়েছে ।  

  [ সুরের উপভোগ ]《ছুর গান 》