

পেইচিং থেকে প্রচারিত চীন আন্তর্জাতিক বেতারের বাংলা অনুষ্ঠানে আপনাদের স্বাগতম। সবাইকে আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আজকের 'চলতি প্রসঙ্গ' অনুষ্ঠান।
বন্ধুরা, এ অনুষ্ঠানে আপনাদের জন্য তুলে আনা হয়েছে পৃথিবীর নানা প্রান্তে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা।
আর এ আয়োজনে আপনাদের সঙ্গে আছি আমি প্রকাশ এবং আমি আইরীন নিয়াজী মান্না।
প্রকাশ : তাহলে মান্না আপা আজ আমরা কি কি খবর নিয়ে আলোচনা করবো।
মান্না : আপনি শুরু করুন। 'খুন মিং-ঢাকা আন্তর্জাতিক কার্গো ফ্লাইট চালু'র বিষয়টি দিয়ে আজ আলোচনা শুরু করা যাক।
প্রথম খবর : খুন মিং-ঢাকা আন্তর্জাতিক কার্গো ফ্লাইট চালু
সম্প্রতি মে মাসের শেষ দিক থেকে খুন মিং-ঢাকা আন্তর্জাতিক কার্গো ফ্লাইট চালু হলো। মে ২৭ দুপুর ১টায় চীনের খুন মিং থেকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে চেচিয়াং ছাং লোং এয়ারলাইনের প্রথম কার্গো ফ্লাইটটি রওয়ানা হয়ে যায়।
এই ফ্লাইট চলাচলের মাধ্যমে ইউন নান প্রদেশ থেকে শুরু হওয়া প্রথম নিয়মিত আন্তর্জাতিক কার্গো ফ্লাইট সুষ্ঠুভাবে চালু হলো।
জানা গেছে, এই ফ্লাইট চালু হওয়ার ফলে ইউন নান এবং বাংলাদেশের মালামাল সুষ্ঠু ও দ্রুতভাবে পরিবহন করা সম্ভব হবে। তাছাড়া দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের সঙ্গে ইউন নান প্রদেশের বাণিজ্যিক বিনিময় ও আদান-প্রদান বেগবান হবে এবং ইউন নান প্রদেশের বৈদেশিক উন্মুক্তকরণের মান বাড়ানো সম্ভব হবে।
সূত্র বলছে, খুন মিং এবং ঢাকার মধ্যে প্রতি সপ্তাহে মোট ৫টি ফ্লাই যাওয়া-আসা করবে।
দ্বিতীয় খবর : রোহিঙ্গাদের হাতিয়া দ্বীপে পুনর্বাসিত করার পরিকল্পনা
বাংলাদেশ সরকার কক্সবাজার সীমান্তের শরণার্থী শিবিরের রোহিঙ্গাদের হাতিয়া দ্বীপে পুনর্বাসিত করার পরিকল্পনা করছে বলে খবর দিয়েছে একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
সরকারের মিয়ানমার শরণার্থী বিভাগের প্রধান অমিত কুমার বাউলকে উদ্ধৃত করে বুধবার ২৭ মে সবাদমাধ্যমটি এ খবর দেয়।
যদিও এ বিষয়ে বাংলাদেশের তরফে এখনও কিছু খোলাসা করা হয়নি। তবে প্রকাশিত খবরে অমিত কুমারকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় দীর্ঘ সময় ধরে কক্সবাজার সীমান্তে বসবাসরত হাজারো রোহিঙ্গাকে বঙ্গোপসাগরের দ্বীপ হাতিয়ায় পুনর্বাসিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
তিনি জানান, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বেশ কিছু অনানুষ্ঠানিক পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই নেওয়া হয়েছে। এটা নিশ্চিত, রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে।
রোহিঙ্গা সংকটের কারণে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এমন উদ্বেগ থেকেই সরকার এ পরিকল্পনা নিয়েছে বলেও জানান অমিত কুমার।
ওই সংবাদমাধ্যমটি জানায়, মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কক্সবাজার জেলার দু'টি শরণার্থী শিবিরে ৩২ হাজার নিবন্ধিত রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। এই শরণার্থীদেরই হাতিয়ায় পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে, সরকারের এই উদ্যোগ শরণার্থীদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলবে বলে সংবাদমাধ্যমটির কাছে দাবি করে করেছেন এক রোহিঙ্গা নেতা। মোহাম্মদ ইসলাম নামে ওই শরণার্থী নেতা বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো আমাদের এই সংকটের সমাধান এখানেই করুক।
সম্প্রতি মানবপাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে সাগর পথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় পাড়ি জমানোর পথে আটক হয়েছে অনেক রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি। তবে, পাড়ি জমানোর পথে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া সীমান্তে লাশ হওয়া অনেক রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশির গণকবর পাওয়ার ঘটনায় সমালোচনার ঝড় ওঠে বিশ্বজুড়ে। এই আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই সরকারের পরিকল্পনাটির খবর পাওয়া গেল।
তৃতীয় খবর : আইটি বাগান নির্মাণে চুক্তিতে পৌঁছেছে চীন-ভারত
সম্প্রতি চীনের কুই চৌ প্রদেশের কুইআন নতুন অঞ্চল এবং ভারতের শিল্প কনফেডারেশন যৌথভাবে দু'দেশে আইটি বাগান নির্মাণের ব্যাপারে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে।
জানা গেছে, কুইআন নতুন অঞ্চলে আইটি শিল্পের উন্নয়নের অবকাশ বিশাল, তবে এ ক্ষেত্রে তথ্য ও প্রযুক্তির প্রতিভাবান ব্যক্তির অভাব। সফ্টওয়্যার রপ্তানির ব্যাপকতা, গুণগত মান ও খরচসহ তিনটি ক্ষেত্রে ভারতের প্রাধান্য স্পষ্ট। তাই বাজারে সহযোগিতার নতুন সুযোগ খুঁজে বের করতে হবে। এ কারণে দু'পক্ষ যৌথভাবে আইটি বাগান নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় যাতে উন্নয়নের সুযোগ ভাগাভাগি করতে পারবে।
দু'পক্ষের সহযোগিতার দিকের মধ্যে রয়েছে: তথ্যের সফ্টওয়্যার ও আইটি বাজার খোলা এবং কুইচৌ প্রদেশে ভারতের আইটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো, আন্তর্জাতিক প্রথম শ্রেণীর মানদণ্ড অনুযায়ী আইটি বাগান প্রতিষ্ঠা করা, ভারতের আইটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিপক্ক ধারণা ও বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে দু'দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও বিনিময় চালানো।
চীনে ভারতের দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলার নামগিয়া খাম্পা আইটি শিল্প বাগান নিয়ে আশা প্রকাশ করেন। আইটি ছাড়াও, কুইচৌ ভারতের সঙ্গে গাড়ি, ঔষধ, বস্ত্র, মহাকাশ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা চালাতে পারবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
চতুর্থ খবর : তেত্রিশ বছর পর আবার ফুঁসে উঠেছে ইকুয়েডরের 'নেকড়ে (উলফ)' আগ্নেয়গিরি
তেত্রিশ বছর পর আবার ফুঁসে উঠেছে ইকুয়েডরের 'নেকড়ে (উলফ)' আগ্নেয়গিরি। এর আগে ১৮৮২ সালে সর্বশেষ আগ্নেয়গিরিটিতে অগ্নুতপাতের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৫ মে) রাত দেড়টায় গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের এই আগ্নেয়গিরিতে অগ্নুতপাত শুরু হয় বলে ইকুয়েডরের গ্যালাপাগোস ন্যাশনাল পার্ক প্রশাসনের বরাত দিয়ে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
গ্যালাপাগোস দ্বীপমালায় সর্ববৃহত এই আগ্নেয়গিরিটি ইসাবেলা দ্বীপের উত্তর দিকে অবস্থিত। উদ্গীরনের সময় লাভা প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত উপরে ওঠে বলে জানায় গ্যালাপাগোস ন্যাশনাল পার্ক।
অগ্নুপাতের এলাকায় কোনো জনসাধারণ বসতি নেই বলে নিশ্চিত করেছে ইকুয়েডর প্রশাসন। তবে এই পর্বতটি গোলাপি প্রজাতির গুঁইসাপের আবাস। পুরো পৃথিবীতে একমাত্র এই স্থানেই গুঁইসাপের এই গোলাপি প্রজাতির দেখা মেলে।
তবে লাভার ছড়িয়ে পড়া পর্যবেক্ষণ করে এখন পর্যন্ত গুঁইসাপের ওই প্রজাতি ঝুঁকিমুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইকুয়েডরের বিশেষজ্ঞরা।
(প্রকাশ/মান্না)
0612CPD.m4a
|




