Web bengali.cri.cn   
তাজিকিস্তানে চীনের তৈরি সড়ক: দ্বিপাক্ষিক সুসম্পর্কের সেতুবন্ধন
  2014-10-22 19:50:16  cri


সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাজিকিস্তান রাজনীতি, অর্থনীতি ও বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষাসহ নানা ক্ষেত্রে চীনের সাথে সহযোগিতা জোরদার করেছে। অনেক 'মেড ইন চায়না' পণ্য এখন তাজিকিস্তানে উত্পন্ন হয়। দু'দেশের সহযোগিতায় যে সব প্রকল্প এ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে সবচে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তাজিকিস্তান থেকে উজবেকিস্তানগামী সড়ক এবং তাজিকিস্তান থেকে চীনগামী সড়ক। তাজিক সরকারও এ দুটি প্রকল্পকে সবচে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এ দুটি সড়ক নির্মাণ করেছে চীনের সড়ক ও সেতু গোষ্ঠী। এ দুই সড়ক তাজিকিস্তানের সড়কজালের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ সড়ক চীন ও তাজিকিস্তানের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। প্রিয় শ্রোতা, এখন শুনুন এ সম্পর্কিত একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন।

তাজিকিস্তান প্রজাতন্ত্র মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত। দেশটির কোনো সমুদ্র সীমান্ত নেই। অর্থাত দেশটির চারিদিকেই অন্যান্য দেশের ভূভাগ অবস্থিত। তাই স্বাভাবিকভাবেই সড়কপথ দেশটির পরিবহণ ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। তবে যুদ্ধের কারণে দেশটির সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। শীতকালে এ দেশের উত্তরাংশ আর দক্ষিণাংশের দুটি শহরের যোগাযোগ পুরোপুরি বিছিন্ন হয়ে যেত। এর ফলে তাজিকিস্তানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন যেমন ব্যহত হচ্ছিল, তেমনি জনগণের চলাচলেও সৃষ্টি হচ্ছিল বিঘ্ন। আকলি বাখমোন ১২ বছর ধরে তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে বসবাস করছেন। দশ বছর আগেকার তাজিকিস্তানের সড়ক পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, "তত্কালীন তাজিকিস্তানে তেমন বড় সড়ক ছিল না। অনেক সড়ক ছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সময়ে নির্মিত, যেগুলো বহুবছর ধরে মেরামত করা হয়নি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের নির্মাণশিল্প-প্রতিষ্ঠান আমাদের জন্য অনেক সড়ক, সুরঙ্গ আর সেতু নির্মাণ করেছে। যেমন, শহরের প্রধান রাস্তাগুলোও চীনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছে। আমরা তা দিয়ে চীন থেকে শাকসবজি ও পোশাকসহ নানা পণ্য পরিবহণ করতে পারি। আমাদের সাহায্য করার জন্য চীনা কোম্পানিগুলোকে ধন্যবাদ জানাই। এখন আমাদের সড়কপথ খুব ভালো। চীনকে ধন্যবাদ। চীনা কোম্পানিকে ধন্যবাদ।"

তাজিকিস্তানের গৃহযুদ্ধ অবসানের পর সে দেশের জাতীয় অর্থনীতির পুনরুত্থান ঘটেছে, বিকাশ ঘটেছে। দেশটিতে একটি প্রবাদ আছে, 'ধনী হতে চাইলে প্রথমে সড়ক নির্মাণ করো'। ফলে তাজিকিস্তান সড়ক নির্মাণকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ মনে করে। চীনের সড়ক ও সেতু গোষ্ঠী ২০০৬ সালে তাজিকিস্তানে গিয়ে পর পর সে দেশে উত্তর থেকে দক্ষিণগামী আর পশ্চিম থেকে পূর্বগামী দুটি প্রধান সড়ক নির্মাণ করে। তাজিকিস্তান-চীন সড়ক দু'দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং রাখছে। তাজিকিস্তানের পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিচালনা কেন্দ্রের পরিচালক সায়দোভ কদির সারিফোভিচ বলেন, "২০১২ সালে আমাদের প্রেসিডেন্ট এমোমালি রাখমোন বলেছিলেন, চীনের আমদানি ও রপ্তানি ব্যাংকের সুবিধাপূর্ণ ঋণ দিয়ে চীনের সড়ক ও সেতু গোষ্ঠীর দ্বারা দুশানবে–খুজান্দ-ছিয়ানাক সড়ক নির্মাণ করে, তাজিকিস্তানের পরিবহণ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। এর পাশাপাশি এ সড়কের আশেপাশে দোকানপাট, হোটেল ও ফিলিং স্টেশনসহ নানা অবকাঠামো নির্মাণ করা যায়। এ ভাবে এ সড়কের নিকট অঞ্চলের কয়েক হাজার লোকের কর্মসংস্থানও হতে পারে। স্থানীয় অধিবাসীদের আয়ও এতে বাড়বে। তাজিকিস্তানের জনগণ চীনা কোম্পানির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়।"

তাজিকিস্তান-চীন সড়কের ছোর্মাখজাক সুরঙ্গের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট চীনের সড়ক ও সেতু গোষ্ঠীর বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং তাজিকিস্তানে এ কোম্পানির কার্যালয়ের প্রধান লিয়ান কুই থাওকে  মৈত্রী পদকে ভূষিত করেন এবং এ প্রকল্প বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় তাদের প্রশংসা করেন।

চীন ও তাজিকিস্তানের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদার হওয়ার সাথে সাথে দু'দেশের মধ্যে পণ্যদ্রব্য পরিবহণের পরিমাণ দিন দিন বেড়েছে। এর ফলে দ্বিতীয় তাজিকিস্তান-চীন সড়ক নির্মাণও জরুরি হয়েছে। তাজিকিস্তান সরকার ও চীনের সড়ক ও সেতু গোষ্ঠীও এ সড়কের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার ব্যাপারে আশাবাদী। এ কোম্পানির তাজিকিস্তান কার্যালয়ের প্রধান লিয়ান কুই থাও বলেন, "তাজিকিস্তান-চীন সড়ক হচ্ছে চীনের কারাকোরাম সড়কের সাথে সংযুক্ত তাজিকিস্তানের প্রধান সড়ক। এ সড়কের পশ্চিম আরম্ভ স্থান হচ্ছে তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবে, তারপর তাজিকিস্তানের মধ্যাঞ্চলের সীমান্তবন্দর খুলমা পাস, ওখান থেকে চীনের কারাসু বন্দর পর্যন্ত। এর দৈর্ঘ্য ১০০০ কিলোমিটার। দেশের সড়কজালের মধ্যে এ সড়কের গুরুত্বপুর্ণ মর্যাদা আছে। তাজিকিস্তান-চীন সড়ক দু'দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক উন্নয়ন এবং ইউরোপ ও এশিয়ার অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। এ সড়কের দ্বিতীয় পর্যায় প্রকল্প চালু করার প্রধান কারণ হচ্ছে দু'দেশের বাণিজ্যিক পরিমাণ দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। বিপুল পরিমাণ চীনা সামগ্রী এ সড়ক দিয়ে তাজিকিস্তানে যাচ্ছে। বিদ্যমান সড়ক ব্যবস্থা এ বিপুল পণ্য পরিবহণের জন্য যথেষ্ট নয়।"

চীনের সড়ক ও সেতু গোষ্ঠি সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি মধ্য-এশিয়া প্রাকৃতিক গ্যাসের পাইপলাইনের 'ডি' অংশ নির্মাণ করেছে। এ পাইপলাইন তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তানের সীমারেখা থেকে শুরু করে, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান পার হয়ে অবশেষে চীনের সিনচিয়াং উইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের উছাং জেলায় পৌঁছেছে।

চীনের সাথে সম্পর্ক উন্নত হওয়ায় বর্তমানে অনেক বেশি চীনা কোম্পানি তাজিকিস্তানে যাচ্ছে। তারা চীন ও তাজিকিস্তানের মধ্যে 'নতুন রেশমপথ' নির্মাণ করছে এবং দু'দেশের মৈত্রী জোরদার করার জন্য ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখছে। (ইয়ু/আলিম)

সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন
মন্তব্য
Play
Stop
ওয়েবরেডিও
বিশেষ আয়োজন
অনলাইন জরিপ
লিঙ্ক
© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040