|
||||||||||||||||||||||||||||
১৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও জার্মানীসহ ছয়টি দেশ ও ইরান তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে ইরানের পারমাণবিক সমস্যা নিয়ে বৈঠক করেছে। গত এক বছরে ইরান আর পাশ্চাত্য দেশগুলোর উত্তেজনাময় সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এবারের পারমাণবিক আলোচনা পুনর্বার শুরু করা দু'পক্ষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তাত্পর্যবাহী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচ্চ মানের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের সচিব, পারমাণবিক আলোচনার মুখ্য প্রতিনিধি সায়েদ জালিলি ১৩ এপ্রিল চার জন নিয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধি দলকে নিয়ে ইস্তাম্বুলে পৌঁছেছেন। একই দিন রাতে স্বাগতিক দেশ তুরস্ক বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি দলের জন্য অভ্যর্থনা ভোজসভার আয়োজন করে। সান্ধ্যভোজে জালিলি ইউরোপীয় ইউনিয়নের কুটনীতি ও নিরাপত্তা নীতি বিষয়ক উর্ধ্বতন প্রতিনিধি ক্যাথেরিন অ্যাশটোনের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর আগে তিনি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ দাউতোগ্লোর সঙ্গেও বৈঠক করেন। ইরানের তথ্য মাধ্যম দাউতোগ্লোর কথা উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, ৬+১ বৈঠকের পর 'সুখবর' প্রকাশিত হবে।
ইরানের তথ্য মাধ্যম জানায়, ইরানের প্রতিনিধি দলের সদস্য, সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির উপ-সচিব আলি বাগেরি সে দিন চীনের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মা চাও শুয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বাগেরি বলেন, ইরান নতুন প্রস্তাব ও গঠনমূলক মনোভাব নিয়ে এবারের বৈঠকে অংশ নিবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সার্কোজি ১২ এপ্রিল অডিও বার্তায় যৌথভাবে ব্যক্ত করেন যে, এ দু'দেশ আশা করে, ইরান তুরস্কে পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু করার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তার পারমাণবিক পরিকল্পনা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ প্রশমন করবে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এবারের পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়া একটি দুর্লভ ব্যাপার। এটা হচ্ছে চীনসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিরন্তর সমন্বয়ের সুফল। গত বছরের অক্টোবরে ইরান আর পাশ্চাত্য বিশ্বের দ্বন্দ্বের অব্যাহত অবনতি হয়েছে। এবারের পারমাণবিক আলোচনার মাধ্যমে যদি কিছু মাত্রায় দু'পক্ষের উত্তেজনাময় সম্পর্কের প্রশমন করা যায় তবে তা দু'পক্ষের জন্যই অনুকূল হবে।
বিগত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র আর ইউরোপ ইরানের অর্থ ও জ্বালানি ক্ষেত্রে দেয়া শাস্তির মাত্রা আরো জোরদার করেছে। এটা ইরানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনগণের জীবনযাপনের ওপর বড় প্রভাব সৃষ্টি করেছে। যদি এবারের বৈঠকে কিছু অগ্রগতি অর্জন করা যায়, তাহলে শাস্তি আরোপ থেকে ইরানের ওপর সৃষ্ট চাপ কিছুটা প্রশমিত হবে।
ইরান আর যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও জার্মানীসহ ছয়টি দেশের সংলাপ গত বছরের ২২ জানুয়ারি তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ নানা সমস্যায় দু'পক্ষের মৌলিক মতভেদ থাকার কারণে বৈঠকে কোন বাস্তব অগ্রগতি অর্জিত হয় নি। এর আগে ছয় রাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক দফা পারমাণবিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে ইরান আর পাশ্চাত্য বিশ্বের মধ্যে বড় মতভেদ আছে বলে আলোচনায় কোন বাস্তব অগ্রগতি অর্জিত হয় নি।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরান তার পারমাণবিক সমস্যা ইসরায়েলের পারমাণবিক সমস্যার সঙ্গে সংলগ্ন করতে চাইলে বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অবস্থায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার ব্যাপারে মতৈক্যে পৌঁছানো কঠিন হবে। (ইয়ু / শান্তা)

| ||||

| © China Radio International.CRI. All Rights Reserved. 16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040 |