Web bengali.cri.cn   
সন্ত্রাসবাদের কারণে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলো বেশি পর্যুদস্ত
  2009-11-19 20:39:20  cri
বিশ্বের অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশই এখন সন্ত্রাসবাদের কারণে পর্যুদস্ত। একই কারণে বিশ্বের যে কোন অন্চলের তুলনায় সবচেয়ে বেশি পর্যুদস্ত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়া। কিন্তু এ অন্চলের সহযোগিতা সংস্থা সার্কের আওতায় সন্ত্রাসবাদ দমনে যে সব চুক্তি হয়েছে, এ অন্চলের দেশগুলোর ঐতিহাসিক ও রাজনেতিক উত্তেজনার দরুন আইনি কাঠামোগুলো কার্যকর হচ্ছে না। আসন্ন সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের সময় এ অন্চলের নেতারা সন্ত্রাসবাদ দমনের ব্যাপারে অনেক বেশি উচ্চকন্ঠ হবেন বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব ও কাউন্টার টেরোরিজম কমিটি এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টরেটের (সিটিইউ) নির্বাহী পরিচালক মাইক স্মিথ। গত ১০ নভেম্বর ঢাকার একটি পাঁচতারা হোটেলে বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট(বিইআই), বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত 'কার্যকরভাবে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা'-শীর্ষক তিন দিন ব্যাপী আন্চলিক সম্মেলন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। স্মিথ বলেন,জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত ১৩৭৩ সনদ অনুযায়ী সদস্য দেশগুলো সন্ত্রাসবাদ দমনে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে তা খতিয়ে দেখার জন্যই এ আন্চলিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এরই অংশ হিসেবে সিটিইডি দক্ষিণ এশিয়ার পুলিশ ও আইন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ঢাকায় প্রথমবারের মত এ ধরনের আলোচনার আয়োজন করে।

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক কূটনীতিক মাইক স্মিথ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, এক দেশের সাথে অন্য দেশের মধ্যস্থতা করা আমাদের কাজ নয়। সন্ত্রাসবাদ দমনের প্রক্রিয়া কতটা কার্যকর আছে , সেটা খতিয়ে দেখাই আমাদের কাজ। কীভাবে সেটা দমন করা হবে , সেটা নির্ধারনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দেশের নেতাদের। তিনি বলেন, ভুটানে অনুষ্ঠেয় আসন্ন সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ার নেতারা এ বিষয়ে অনেক জোরালো অবস্থান নিয়ে সহযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করবেন। সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত-এ প্রসঙ্গে স্মিথ বলেন, সন্ত্রাসবাদের জটিল সমস্যা রাতারাতি দূর করা যায় না। তাছাড়া এ ধরনের তৎপরতা বন্ধ করতে হলে অনেক পদক্ষেপ ও সম্পদের প্রয়োজন। সন্ত্রাসবাদ দমন করতে হলে সীমান্ত রক্ষীদের আধুনিক প্রশিক্ষণসহ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদার, বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের আধুনিকায়ন, ই-পাসপোর্টের মতো আধুনিক পাসপোর্ট পদ্ধতির প্রবর্তন, গোয়েন্দা সংস্থার কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি , সন্ত্রাসবাদের অর্থের জোগান বন্ধসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এর আগে ৯ই নভেম্বর জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সংগে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশে কাউন্টার টেরোরিজম ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ প্রস্তাবের প্রতি বাংলাদেশের সম্মতির কথা ব্যক্ত করেন এবং বলেন, এ ধরনের ইনস্টিটিউট হলে শুধু বাংলাদেশ নয়, সার্কভূক্ত অপর ৭টি সদস্য দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তানও এর সুফল পাবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর জঙ্গিবাদ দমন ও নির্মূলে প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রাখবে বলেও মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

1 2
সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন
মন্তব্যের পাতা
ভিডিও চিত্র
সাক্ষাত্কার
চিঠিপত্র
Play Stop
© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040