প্রসঙ্গ: বিশ্ব স্বাস্থ্য ভিডিও-সম্মেলনে সি চিন পিং
  2020-05-19 12:40:45  cri
মে ১৯: চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং গতকাল (সোমবার) ৭৩তম বিশ্ব স্বাস্থ্য ভিডিও-সম্মেলনে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে গুরুতর বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি করেছে কোভিড-১৯ মহামারী। এই মহামারীকে বিভিন্ন দেশের জনগণের যৌথভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। চীন জনগণের জীবন ও স্বাস্থ্যকে সবার আগে স্থান দিয়ে এসেছে এবং বরাবরই প্রকাশ্য, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীলভাবে বিশ্বের জনস্বাস্থ্যকে সুরক্ষায় অবদান রেখে আসছে। বর্তমানে সার্বিকভাবে ভাইরাস প্রতিরোধ করার চেষ্টা করতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-কে নেতৃত্বে ভূমিকা পালন করতে হবে। আফ্রিকান দেশগুলোকে সহায়তা জোরদার করতে হবে। বিশ্বের জনস্বাস্থ্য মোকাবিলা জোরদার, অর্থনীতি ও সমাজের উন্নয়ন পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে হবে। তিনি বিশ্বব্যাপী ভাইরাস প্রতিরোধে সহযোগিতা ত্বরান্বিত করতে পাঁচ-দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন।

ভাষণে সি চিন পিং বলেন, 'মানবজাতির ভাইরাস প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এবারের বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলন আয়োজনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাত্পর্য রয়েছে। এ পর্যন্ত ২১০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ৭০০ কোটিরও বেশি মানুষ প্রভাবিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩ লাখেরও বেশি মানুষ জীবন হারিয়েছে। আমি নিহতদের জন্য শোক প্রকাশ করি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাই।'

তিনি বলেন, ভাইরাসের কোনো সীমা নেই, কোনো জাতি নেই। বিভিন্ন দেশের জনগণকে যৌথভাবে ভাইরাস প্রতিরোধ করতে হবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, কঠোর প্রচেষ্টা ও প্রচুর ত্যাগ স্বীকারের পর চীন কার্যকরভাবে মহামারী পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে এবং জনগণের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মোটামুটি সফল হয়েছে। চীন বরাবরই প্রকাশ্য, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীলভাবে হু ও সংশ্লিষ্ট দেশের কাছে ভাইরাসসংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ করে আসছে। চীন সময়মতো ভাইরাসের জিন ক্রম প্রকাশ করেছে এবং সকল পক্ষের সাথে প্রতিরোধ ও চিকিত্সার অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেছে। চীন অভাবী দেশগুলিকে প্রচুর সাহায্য দেওয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে।

ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য ছয়টি প্রস্তাব তুলে ধরেন সি চিন পিং। তিনি বিভিন্ন দেশকে জনগণের জীবনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান। বিজ্ঞানসম্মত চিকিত্সা-পদ্ধতি ও ওষুধ ব্যবহারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রতিরোধ, লকডাউন, পরীক্ষা, উদ্ধার ও চিকিত্সা ইত্যাদি ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ভাইরাসের আন্তঃদেশীয় সংক্রমণ প্রতিরোধ করার চেষ্টা করতে হবে। তথ্য বিনিময় জোরদার করতে হবে। পরীক্ষার উপায়, চিকিত্সা ও টিকা গবেষণার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে হবে।

আন্তর্জাতিক সমাজকে হু-কে রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থ সহায়তা জোরদার করার আহ্বানও জানান সি চিন পিং। তিনি বলেন, আফ্রিকান দেশগুলোর প্রতি সমর্থন জোরদার করতে হবে। বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য মোকাবিলা জোরদার করতে হবে। জরুরি সতর্কতা-ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ভাইরাস প্রতিরোধ সামগ্রী রিজার্ভ কেন্দ্র নির্মাণ করতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী ভাইরাস নিয়ন্ত্রণের পর সার্বিকভাবে বৈশ্বিক ভাইরাস প্রতিরোধকাজের মূল্যায়নের বিষয়টিকে সমর্থন করে চীন।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সামষ্টিক অর্থনীতির সমন্বয় জোরদার, বিশ্বের শিল্প সরবরাহ চেইনের সুরক্ষা এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিশ্বের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে হবে। সহযোগিতা ও ঐক্য হলো ভাইরাসতে পরাজিত করার অস্ত্র এবং ভাইরাস প্রতিরোধের সঠিক উপায়।

তিনি ঘোষণা করেন, ভাইরাস প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে চীন আগামী দুই বছরে ২০০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা দেবে, যাতে ভাইরাসে গুরুতরভাবে প্রভাবিত বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশকে অর্থনীতি ও সমাজ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করা যায়। তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের সঙ্গে সহযোগিতা করে চীনে বিশ্ব মানবিক জরুরি গুদাম নির্মাণ করা হবে। এর উদ্দেশ্য হবে, ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ চেইন নিশ্চিত করা। (ছাই/আলিম/ফেই)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040