Web bengali.cri.cn   
চীনের করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিভিন্ন সংখ্যা যা প্রকাশ করে : সিআরআই সম্পাদকীয়
  2020-02-14 17:15:10  cri

২০২০ সালে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ চীনের জন্য বিরাট একটি চ্যালেঞ্জ। এটি চীনের দেশ প্রশাসন সামর্থ্যের একটি কঠোর পরীক্ষা। সারা চীন ঐক্যবদ্ধভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। এক একটি সংখ্যা ভাইরাস প্রতিরোধের শক্তি ও সাফল্য তুলে ধরছে। সিআরআই সম্পাদকীয় এসব মন্তব্য করেছে।

সম্পাদকীয়তে কয়েকটি দৃষ্টিকোণ থেকে ভাইরাস প্রতিরোধ কার্যক্রম বিশ্লেষণ করা হয়। এতে বলা হয়, কয়েক কোটি মানুষের শহর উহান অবরুদ্ধ করে বিশ্বের কাছে নিজের দায়িত্বশীল মনোভাব তুলে ধরেছে চীন।

উল্লেখ্য, ২৩ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে উহান শহরের সঙ্গে যাতায়াতের সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুক্রবার পর্যন্ত উহান শহর ২৩ দিনের অবরোধে পড়েছে।

দেশের রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য কমিশনের পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, বুধবার পর্যন্ত চীনে কোভিক-১৯ রোগীর সংখ্যা ছিল ৫২,৫২৬জন। এর মধ্যে ৪৩,৪৫৫জন হুপেই প্রদেশে আছে। আর এই ৪৩,৪৫৫ জনের মধ্যে ৩০,০৪৩জন উহান শহরে অবস্থিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানোম বলেছিলেন, গণপরিবহন বন্ধ করায় ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো যাবে, বিশ্বজুড়ে তার সংক্রমণও কম হবে।

সম্পাদকীয়ত বলা হয়, চীনের ১৯টি প্রদেশ হুপেই-এর ১৬টি শহরকে সমর্থন দিচ্ছে

বুধবার পর্যন্ত, উহানে ৭টি অস্থায়ী হাসপাতাল চালু হয়েছে। ৩৬জন মানুষ এখান থেকে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন। সবচেয়ে দ্রুতগতিতে তৈরি বিশেষ হাসপাতালে দশ ঘণ্টার মধ্যে রোগী ভর্তি শুরু হয়েছে। এর আগে উহানের হুও শেন শান হাসপাতালও দশ দিনের মধ্যে তৈরি হয়। লেই শেন শান হাসপাতাল তৈরিতে সময় লাগে ১২ দিন।

এ ছাড়া আরও অনেক অবিশ্বাস্য সংখ্যা ও সত্যতা আছে।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা চীন থেকে ২০ হাজারেরও বেশি চিকিত্সক নিয়ে গঠিত ১৮০টিরও বেশি চিকিত্সকদল হুপেই প্রদেশ এবং উহানে কাজ করছেন। ১৯টি প্রদেশ হুপেই-এর ১৬টি শহরের সঙ্গে দু'দিনের মধ্যে সরাসরি সহায়তার সম্পর্ক স্থাপন করেছে। বুধবার পর্যন্ত, চীনের মূল ভূভাগের প্রতিষ্ঠানগুলো হুপেইয়ে ৭ লাখ ২৬ হাজার ৭শটি প্রতিরোধমূলক পোশাক, ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৪শ মাস্ক ও চশমা এবং ১৫৬৬টি অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়েছে।

সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়, চীন সারা দেশের শক্তি দিয়ে ভাইরাস প্রতিরোধ করছে। যা আকস্মিক ঘটনা মোকাবিলায় চীনের সামষ্টিক বিন্যাস ও শক্তিশালী সম্পদের সুবিধার প্রতিফলন।

এনসিপির সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর চীনের প্রায় ৪০ লাখ আবাসিক কমিউনিটির কর্মীরা ভাইরাসের বিরুদ্ধে ফ্রন্ট লাইনে লড়াই করছেন। তারা চীনের ৬.৫ লাখেরও বেশি কমিউনিটি রক্ষা করছেন। বিভিন্ন পক্ষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে চীনের বিভিন্ন আবাসিক কমিউনিটির শৃঙ্খলা নিশ্চিত হয়েছে। চীনা জনগণও এতে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছেন। তারা স্বেচ্ছায় বাসায় থাকছেন, যাতে ভাইরাসের সংক্রমণ না হয়। তারা নিজস্ব পদ্ধতিতে অবদান রাখছেন।

গত সোমবার পর্যন্ত ৭০জন ভাইরাসের প্রতিরোধ করতে গিয়ে নিজের প্রাণ উত্সর্গ করেছেন। তাদের মধ্যে ২০জন পুলিশ, ৮জন চিকিত্সক ও বেশ কয়েকজন তৃণমূল পর্যায়ের কর্মকর্তা। তাদের কারও কারও সঙ্গে স্বামী, স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে, বাবা ও মা ছিলেন।

কোটি কোটি সাধারণ চীনা মানুষ, অভিন্ন লক্ষ্যের জন্য ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন। তারা যেন আকাশের তারার মতো, অসীম অন্ধকার রাতকে উজ্জ্বল করেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, শীতকাল নিশ্চয় শেষ হবে, আনন্দময় বসন্তকাল অবশ্যই আসবে।

(শুয়েই/তৌহিদ/লিলি)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040