গতকাল (সোমবার) বিকেলে, চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি)-র কেন্দ্রীয় কমিটির পলিট ব্যুরোর সদস্য, বেইজিং সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক ছাই ছি এবং বেইজিংয়ের মেয়র ছেন চি নিংকে সঙ্গে নিয়ে বেইজিংয়ের কমিউনিটি, হাসপাতাল ও রোগ নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে গিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে মহামারী প্রতিরোধের কাজ পর্যবেক্ষণ করেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। পাশাপাশি তিনি ফ্রন্টলাইনের সকল মেডিকেল স্টাফ, ক্যাডার ও কর্মীদেরকে উত্সাহিত করেন।
চাও ইয়াং এলাকার আন চেন রাস্তার আন হুয়া লি কমিউনিটির মহামারী প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে আসেন সি চিন পিং। তিনি যৌথ বিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন। বাসা পরিদর্শন ও গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপের ওপর তত্ত্বাবধান জোরদার করাসহ নানা পদক্ষেপের প্রশংসা করেন সি চিন পিং। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কমিউনিটি পর্যায়ে কার্যকর প্রতিরোধ কাজ করলে মহামারী নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কমিউনিটিতে সব প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদার করতে হবে এবং সকল কমিউনিটিকে মহামারীর বিরুদ্ধে ফ্রন্টলাইনে রূপান্তর করতে হবে।
কমিউনিটির বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদেরকে উত্সাহ দেন প্রেসিডেন্ট সি। তিনি বলেন, 'বিশেষ এ সময়ে আমরা করমর্দন করব না, তবে এ মহামারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করার দৃঢ়প্রতিজ্ঞা আছে আমাদের।'
১২ জানুয়ারি থেকে বেইজিং তিথান হাসপাতালে নভেল করানোভাইরাস নিউমোনিয়া (এনসিপি)-র রোগীদেরকে চিকিত্সা দেওয়া শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট সিচিনপিং আসেন তিথান হাসপাতালে এবং মনিটরের মাধ্যমে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের অবস্থান দেখেন। তিনি ওয়ার্ডে কর্মরত চিকিত্সক ও নার্সের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। চিকিত্সা পরিকল্পনা আরও সম্পূর্ণ করে গড়ে তুলতে, রোগীদের যথাযথ চিকিত্সা নিশ্চিত করতে, মৃত্যুহার ও আক্রান্তের হার কমিয়ে আনতে সম্ভাব্য সবকিছু করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সকল মেডিকেল স্টাফের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
হুপেই প্রদেশের অবস্থার ওপর গুরুত্ব দেন প্রেসিডেন্ট। তিথান হাসপাতালে তিনি ভিডিও ফোনের মাধ্যমে উহান শহরের চিন ইন থান হাসপাতাল, সিয়েহ্য হাসপাতাল ও হুওশেনশান হাসপাতালের মেডিকেল স্টাফ, গণমুক্তি ফৌজের কমান্ডার ও সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের কাছ থেকে পরামর্শ শুনেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চীনের মেডিকেল স্টাফরা নিজেদের দায়িত্ব মনে রেখে বিনা দ্বিধায় মহামারী-বিরোধী ফ্রন্টলাইনে আছেন। প্রেসিডেন্ট সি বলেন, (রে)
'আমি সিপিসির কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে আপনাদের এবং আপনাদের মতো মহামারী-বিরোধী ফ্রন্টলাইনে কর্মরত সকল মেডিকেল স্টাফকে জানাই সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও ধন্যবাদ।' সি চিন পিং বলেন, এখন মহামারীর প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কাজ গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়ে আছে। সকল মেডিকেল স্টাফকে কাজে অবিচল থাকতে হবে। তাদেরকে কষ্টসহিষ্ণু ও পরিশ্রমী হতে হবে। রোগীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে প্রথম স্থানে রাখতে হবে।
পরে সি চিন পিং একটি ভিডিও সম্মেলনে যোগ দেন। চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী সুন ছুন লান ও হুপেই সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক চিয়াং ছাও লিয়াং যথাক্রমে সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচালনা গ্রুপ ও হুপেই সদর দফতরের পক্ষ থেকে কর্মপ্রতিবেদন পেশ করেন। সি চিন পি প্রথমে সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে হুপেই প্রদেশের সিপিসি সদস্য, ক্যাডার ও সাধারণ মানুষদেরকে জানান শুভেচ্ছা। মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে থাকা সকল মেডিকেল স্টাফ, সৈনিক ও কর্মীদের জানান ধন্যবাদ। মহামারীতে নিহতদের প্রতি জানান শোক এবং নিহতদের পরিবার, আক্রান্ত রোগী ও তাদের পরিবারকে জানান সমবেদনা। সি চিন পিং বলেন, হুপেই প্রদেশ বিশেষ করে উহান শহরের সিপিসি সদস্য, ক্যাডার ও নাগরিকরা সিপিসির আহ্বানে সক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেয় এবং অদম্য লড়াই করে। চীনের অন্যান্য স্থান হুপেই প্রদেশ ও উহান শহরের সাহায্যে এগিয়ে আসে। বিভিন্ন জায়গা থেকে হুপেই ও উহানে আসেন মেডিকেল স্টাফ ও সৈনিক। সবাই মহামারী প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বড় অবদান রাখছেন।
সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, 'সিপিসি, চীনা গণমুক্তি ফৌজ ও চীনা মানুষ হুপেই ও উহানের মানুষের পাশে আছে। উহানে একটি পরিচালনা গ্রুপ পাঠিয়েছে সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটি। এ গ্রুপ যেমন ফ্রন্টলাইনে কাজ পরিচালনা করছে, তেমননি হুপেই ও উহানের মানুষের সঙ্গে থেকে যুদ্ধ করছে ভাইরাসের বিরুদ্ধে। উহান একটি মহান শহর। হুপেই ও উহানের মানুষ বীর। ইতিহাসে কখনও পরাজিত হয়নি এ শহর ও শহরের মানুষ। আমরা মহামারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে চুড়ান্ত জয় লাভ করব।'
উহান শহরের অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আসলে হুপেই প্রদেশের অবস্থাও নিয়ন্ত্রণে আসবে, সারা দেশের অবস্থা ভাল হবে। বর্তমানে হুপেই ও উহানের অবস্থা গুরুতর। আরও কঠোর ও নিষ্পত্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে মহামারী দমন করা হবে বলে উল্লেখ করেন সি চিন পিং। (শিশির/আলিম)






