বিদ্যাবার্তা ০১২০
  2020-01-20 16:56:23  cri

 


শুরুতেই শিক্ষাসম্পর্কিত খবর

সম্প্রতি চীনের বেসামরিক মন্ত্রণালয়, জাতীয় বাণিজ্য ও শিল্প ফেডারেশন, কমিউনিস্ট পার্টির যুবদল আর নারী ফেডারেশনসহ বিভিন্ন বিভাগের উদ্যোগে চীনের শ্রমঘন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বাচ্চাদের যত্ন নেওয়া সম্পর্কে পরামর্শমালা পেশ করা হয়। এই পরামর্শের উদ্দেশ্য হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের সেসব দরিদ্র বাচ্চার যত্ন নিশ্চিত করা, যেসব বাচ্চার পিতামাতা তাদের সঙ্গে থাকেন না।

চীনের অনুন্নত এলাকা বা দূরবর্তী গ্রামাঞ্চলের অনেক যুবক চাকরি নিয়ে বড় শহর বা জেলায় চলে যান। তাদের বাচ্চাদের অধিকাংশই গ্রামের বাড়িতে নানা-নানী বা দাদা-দাদীর সাথে থাকে। প্রতিবছর শুধু জাতীয় ছুটির সময় অল্প দিনের জন্য এসব বাচ্চা বাবা-মায়ের সাথে থাকার সুযোগ পায়। শ্রমঘন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মীরা সাধারণত কাজের কারণে কারখানার হোস্টেলে থাকেন এবং শুধু বার্ষিক ছুটিকালে গ্রামের বাড়িতে ফিরতে পারেন। এসব কর্মীর বাচ্চারা যেন স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ পরিবেশে বড় হতে পারে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। চীনের সরকারি বিভাগের উদ্যোগে পিতামাতাদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার কথা পরামর্শমালায় বলা হয়েছে। বাচ্চাদের যত্ন নেওয়ার সঠিক পদ্ধতিও তাদের শেখানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আবার যেসব কর্মী হোস্টেলে থাকেন, তাদের থাকার ব্যবস্থা উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যাতে বাচ্চারা পিতামাতার সঙ্গে থাকতে পারে। বসন্ত উত্সব বা জাতীয় দিবসসহ বিভিন্ন ছুটির সময় বা বাচ্চাদের স্কুলের গ্রীষ্মকালীন ছুটির সময় সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের ট্রেন টিকিট কেনাসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার কথা পরামর্শে উল্লেখ করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য, ছুটিতে তাদের গ্রামাঞ্চলে বাচ্চাদের কাছে যাওয়া সহজতর করা।

পরামর্শে আরও বলা হয়েছে, চীনের চরম দরিদ্র এলাকা, দূরবর্তী পাহাড়াঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় থাকা বাচ্চারা, বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের বাচ্চাদের জীবনমানের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে; বিভিন্ন দাতব্য প্রকল্প বা সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে বাচ্চাদের আরও বেশি যত্ন নিতে হবে।

সি চিন পিংয়ের প্রিয় বাক্য

চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বিদেশে সফরকালে, আন্তর্জাতিক ফোরাম বা শীর্ষসম্মেলন অংশগ্রহণকালে বা চীনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান উপস্থিত থাকাকালে ভাষণ দিয়ে থাকেন। এসব ভাষণে তাঁর নিজস্ব চিন্তাভাবনা প্রকাশিত হয়। বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন স্থানে তার দেওয়া ভাষণ নিয়ে 'দেশ প্রশাসন' শীর্ষক গ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে। আসলে তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাধারা ও প্রস্তাবসমূহ ধারাবাহিকভাবে উত্থাপিত হয়েছে। এসবই তাঁর কাজের অভিজ্ঞতার সাথে সম্পর্কিত। তিনি অনেক সময় প্রাচীন চীনের শ্রেষ্ঠ কবিতা, উপন্যাস বা বিখ্যাত ব্যক্তিদের কথা থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে থাকেন। আমরা তাঁর কিছু কিছু প্রিয় বাক্য বাছাই করে বাংলা ভাষায় অনুবাদ করবো। আশা করি শ্রোতারা অনুষ্ঠান শুনে সি'র চিন্তাভাবনা ভালভাবে বুঝতে সক্ষম হবেন।

আজকে প্রেসিডেন্ট সি'র যেই প্রিয় বাক্যটি নিয়ে কথা বলবো সেটি হচ্ছে '治国有常,而利民为本'যদি বাক্যটি বাংলা ভাষায় অনুবাদ করি, তবে অনেকটা এমন দাঁড়াবে: 'দেশ প্রশাসনে নির্দিষ্ট নিয়মকানুন অনুসরণ করতে হবে। তবে মূল উদ্দেশ্য হবে জনগণের কল্যাণ করা, জনগণের উপকার করা।'

এই কথাটি প্রাচীন চীনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ 'চানকুও কৌশল'-এ উল্লেখ করা হয়েছে। চানকুও আমলে চাও রাষ্ট্রের উলিং রাজা কথাগুলো বলেছিলেন। খ্রিষ্টপূর্ব ৪৭৫ সাল থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ২২১ সাল পর্যন্ত চানকুও আমল। তখন চাও রাষ্ট্রের উলিং রাজাকে প্রায়ই পার্শ্ববর্তী দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হতো। তাদের মূল শত্রু ছিল উত্তরাঞ্চলের পশুপালক জাতি। যুদ্ধে উলিং রাজার সৈন্যদের পোশাক ছিল শত্রুদের তুলনায় দুর্বল। যুদ্ধে জয়ী হতে রাজা অনেক চিন্তা-গবেষণা করলেন। অবশেষে তিনি এই সিদ্ধান্তে এলেন যে, পশুপালক জাতির সৈন্যদের মতো পোশাক তার সৈন্যদেরও পরতে হবে। তবে তত্কালীন চাও রাষ্ট্রের লোকরা বড় সাইজের আরামদায়ক কাপড় পরতে অভ্যস্ত ছিল। তাই অনেকের কাছেই রাজার আইডিয়া গ্রহণযোগ্য হলো না। দেশের অভিজাত লোকরাও দৃঢ় প্রতিবাদ জানালো। তখন উলিং রাজা বলেন, 治国有常,而利民为本'।

রাজার যুক্তি ছিল: শত্রুদের কাপড়চোপড়ের মতো কাপড় পরা যুদ্ধ জয় করার জন্য প্রয়োজন। তাহলে কেন কাপড়ের ডিজাইনে পরিবর্তন আনা যাবে না?! এতে যত বড় বাধাই আসুক না কেন, তা করতে হবে। অবশেষে অভিজাত লোকরা উলিং রাজার কথা মেনে নেন এবং পশুপালক জাতির সৈন্যরা লড়াইয়ে পরাজিত হয়।

প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের কথাও একই। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, জনগণকে কেন্দ্র করার চিন্তাধারা শুধু একটি বির্মূত ধারণা হিসেবে থাকলেই হবে না, একে সমাজ ও অর্থনীতির উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।

এ সম্পর্কে দেশ প্রশাসন শীর্ষক গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে সি চিন পিং বলেন,

'জনগণকে প্রভাবশালী অবস্থানে রাখা, জনগণের সুন্দর জীবনের আকাঙ্খা পূরণ করা, ও জনগণের মৌলিক স্বার্থ রক্ষা করা জরুরি। এতে জনগণের জন্য উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা, জনগণের ওপর নির্ভর করে উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা এবং উন্নয়নের সাফল্য জনগণকে উপভোগ করতে দেওয়া সম্ভব হবে।'

সুপ্রিয় বন্ধুরা, সময় দ্রুত চলে যায়। আজকের 'বিদ্যাবার্তা' অনুষ্ঠানও তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে এলো। আমাদের অনুষ্ঠান সম্পর্কে কোনো মতামত থাকলে আমাদের চিঠি লিখতে ভুলবেন না। আমাদের যোগাযোগ ঠিকানা ben@cri.com.cn,caoyanhua@cri.com.cn

রেডিওতে আমাদের অনুষ্ঠান শুনতে না পারলে বা মিস করলে আপনারা আমাদের ওয়েবসাইটে শুনতে পারবেন। আমাদের ওয়েবসাইটের ঠিকানা হলো- www.bengali.cri.cn

এবার তাহলে বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভালো থাকুন, সুন্দর থাকুন। আবারো কথা হবে। চাইচিয়ান। (সুবর্ণা/আলিম/মুক্তা)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040