Web bengali.cri.cn   
২০১৯ সালে দৃষ্টিপাত: কাউকে দেখতে পাচ্ছেন কি!
  2020-01-03 19:03:41  cri

 

সকালের সোনালি মেঘ, দুপুরের উষ্ণতা মাখা সূর্য, রাতের ঝকঝকে উজ্জ্বল চাঁদ, আকাশের ঝিকমিক তারা...এই প্রকৃতি প্রতিদিন এভাবেই পার হয়ে যায়। যখন বছরের শুরুতে ছোট ছোট লক্ষ্য অর্জিত হয়েছিল, তখন আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা তা নিয়ে আলোচনা করেছিল। তারপর যখন পঞ্জিকার শেষ পাতা চলে এলো, তখন হঠাত্ উপলব্ধি করলাম যে, ২০১৯ সাল শেষ হয়ে যাচ্ছে!

হায়, সময় কত দ্রুত চলে যায়!

উড়ে যাওয়া সময়ে নিজের ছাপ রয়ে যায়। বিগত বছরে হাসি ছিল, অশ্রু ছিল, অর্জন ছিল, ব্যর্থতাও ছিল। কিছু কিছু মুহূর্ত আমাদেরকে মুগ্ধ করেছিল, কিছু মানুষের শ্রদ্ধা ও সম্মান অর্জন আমাদের আনন্দিত করেছিল। ২০১৯ সালের দিকে ফিরে তাকালে অনেক মানুষ, অনেক মুহূর্ত আমাদের মনের পর্দায় ভেসে ওঠে। যা আমরা কখনওই ভুলবো না; তা আমাদেরকে বসন্তের মতো উষ্ণ অনুভূতি দেয়।

১. গত বছর চীনের বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করলে, সবার স্মৃতিতে ভাসবে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ৭০তম বার্ষিকীর উদযাপনী অনুষ্ঠানের কথা।

২০১৯ সালের ১ অক্টোবর, গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ৭০তম বার্ষিকীর উদযাপনী অনুষ্ঠান বেইজিংয়ের থিয়ান-আন-মেন মহাচত্বরে আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বলেন : 'মানবজাতির ইতিহাসে চীনের গতকালের ইতিহাস লেখা আছে আছে; চীনের বর্তমান কোটি কোটি চীনা মানুষের হাতে সৃষ্টি হচ্ছে; চীনের আগামীকাল নিশ্চয়ই আরও সুন্দর হবে'।

সেই মুহূর্তে চীনের বিভিন্ন জাতির মানুষ ও প্রবাসী চীনারা অনেক আনন্দের সঙ্গে মাতৃভূমির জন্য গর্ব বোধ করেন এবং মাতৃভূমির প্রতি শুভকামনা জানান।

আমরা এবার এই উদযাপনী অনুষ্ঠানের কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারী ১৫ হাজার সেনার দিকে দৃষ্টি দেবো। চীনের বৈশিষ্ট্যময় সমাজতন্ত্রের নতুন যুগ শুরুর পর আয়োজিত প্রথম জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজ। চীনের সশস্ত্র বাহিনী সংস্কারের পর প্রথমবারের মতো সবার সামনে তারা হাজির হয়েছে।

এ ছাড়া উদযাপনী অনুষ্ঠানে 'একীভূত হৃদয়ে চীনা স্বপ্ন বাস্তবায়ন' নামে গণমানুষের মিছিলকারী দলও ছিল। ১ লাখ সাধারণ মানুষ ও ৭০টি সুন্দরভাবে সাজানো গাড়ি দিয়ে দলটি গঠিত হয়েছিল। এই মিছিলে তিনটি অংশ দেখা যায়। দেশ প্রতিষ্ঠা, সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ এবং মহান পুনরুত্থান। এতে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে চীনা জনগণের সমৃদ্ধির মহান প্রক্রিয়া তুলে ধরা হয়েছে।

মনোমুগ্ধকর সুর, সুন্দর নাচ, প্রত্যেকের মুখে দেখা যায় হাসি। প্রত্যেক দর্শকের হাতে জাতীয় পতাকা আছে, তাদের হাসি মুখই বর্তমানে চীনা জনগণের সুন্দর এবং সুখী জীবনের প্রতিফলন।

আশা করি, এসব লোকজন, এসব হাসি মুখ, শুধুই আমাদের ২০১৯ সালের স্মৃতিকে উজ্জ্বল করবে না, বরং আরও দীর্ঘ সময় আমাদের স্মৃতিতে রয়ে যাবে।

২. ২০১৯ সালে চীন প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় পদক ও রাষ্ট্রীয় গৌরবময় সম্মাননা দিয়েছে

গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের রাষ্ট্রীয় পদক ও রাষ্ট্রীয় গৌরবময় মর্যাদা অর্জনকারীরা গণ-মহাভবনে হাজির হন। ভবনে প্রবেশের সময়, তাদের মধ্যে কেউ হুইলচেয়ারে বসে ছিলেন, কেউ অন্যের সাহায্যে হাঁটছিলেন। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং তাদের প্রত্যেককে পদক প্রদান করেন। তাদের প্রত্যেকের নাম আমাদের মনে রাখা উচিত।

চীনের সংকর ধানের পিতা ইউয়ান লুং পিং, ৫০ বছর ধরে সংকর ধান প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা, প্রয়োগ ও জনপ্রিয়করণের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। তিনি চীনের খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষির বৈজ্ঞানিক উন্নয়ন এবং বিশ্বের খাদ্য সরবরাহের জন্য বিরাট অবদান রেখেছেন। এখন ৯০ বছর বয়সী ইউয়ান লুং পিয়ের জন্য সবচেয়ে আনন্দের ব্যাপার হলো ধান ক্ষেতে যাওয়া।

চীনের 'দুই রকেট ও এক উপগ্রহের' পিতা সুন চিয়া তুং। চীনের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ, চীনের পেইতৌ উপগ্রহ ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা, চাঁদ অনুসন্ধান প্রকল্প প্রযুক্তির প্রধান দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চীনের মহাকাশ কর্মকাণ্ডে নিজের অবদান রেখেছেন। চীনারা ভুলবে না যে, ২০০৭ সালে চীনের ছাংএ্য ১ নং উপগ্রহ সফলভাবে চাঁদ অনুসন্ধানের কাজ সম্পন্ন করেছিল। সবাই যখন উল্লসিত ছিল, তখন এক বৃদ্ধ চুপচাপ চোখের অশ্রু মুছছিলেন। তিনিই হলেন চীনের 'দুই রকেট ও এক উপগ্রহের' পিতা সুন চিয়া তুং।

সারা জীবন চীনের কমিউনিস্ট পার্টি অনুসরণকারী চাং ফু ছিংয়ের বয়স ৯৫ বছর, তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হিসেবে আছেন ৭১ বছর ধরে। তিনি চীনের মুক্তিযুদ্ধে বিরাট অবদান রেখেছেন, তিনি একজন বীর যোদ্ধা। নয়া চীন প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি নিজের জীবনও উত্সর্গ করতে পারেন। সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর ৬০ বছরে তিনি যুদ্ধে তার নিজের অবদানের কথা প্রচার করেন নি। বরং দরিদ্র পাহাড়ি এলাকায় গিয়ে দেশের দারিদ্র্যবিমোচনের জন্য অব্যাহতভাবে কাজ করতে থাকেন।

কেউ কেউ বলে, যদিও রাষ্ট্রীয় পদক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা অর্জনকারীদের জীবন ও জীবনের ঘটনাগুলো ভিন্ন; তবে অভিন্ন বিষয় হলো, তাদের সবার মনে দৃঢ় আস্থা বহাল রয়েছে সবসময়।

একটি জাতি, বীরদের সম্মান করলেই কেবল নতুন বীর তৈরি হয়। ২০১৯ সালে চীনের এসব বীর অনেক চীনার মনে গভীর ছাপ ফেলেছে; তাদেরকে দেশের জন্য কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

৩. এ বছর আমরা অনেককে বিদায় জানিয়েছি

২০১৯ সালে চীনের সিছুয়ান প্রদেশের লিয়াং শানের মুলি জেলার একটি বন অগ্নিকাণ্ডে ২৭ জন দমকলকর্মী এবং তিন স্থানীয় কর্মকর্তা প্রাণ হারায়। খবর থেকে জানা যায়, ওই ২৭জন দমকলকর্মীর মধ্যে সবচেয়ে তরুণের বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। অনেক দমকলকর্মীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের শেষ পোস্টটি ছিল অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থলে যাওয়ার দৃশ্য। তবে, আমরা আর তাদেরকে দেখতে পাবো না।

আগুন নেভানোর কাজ পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ পেশা। চীনের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী 'আগুনের দিকে এগিয়ে যাওয়া বীরদের' সবসময় শ্রদ্ধা জানায়। চীনের বেশ কয়েক জায়গার দমকলকর্মীদের অফিসের দরজার সামনে, কিছু রহস্যময় উপহার পাওয়া যায়। কে পাঠিয়েছে, কেউ জানে না। শুধু এরকম একটি নোট থাকে, তাতে লেখা আছে: আসলে আমরা বলতে চাই, আমাদের জীবন রক্ষায় তোমাদের অবদান আমরা ভুলবো না। আরও লেখা থাকে: নিজেকে ভালোভাবে রক্ষা করো। আশা করি তোমরা নিরাপদে ফিরে আসবে।

২০১৯ সালে, আমরা আরও একজন সাহসী মেয়েকে মনে রেখেছি। তিনি বেইজিং নর্মাল ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি বড় বড় শহরের চাকরির সুযোগ ছেড়ে পাহাড়ি এলাকায় যান ও স্থানীয় মানুষের দারিদ্রমুক্তকরণের জন্য চেষ্টা করতে থাকেন। তার বাবা অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে থাকলেও তিনি গভীর রাতে ভীষণ বৃষ্টিতে দুর্যোগ-কবলিত জনগণের কাছে দৌড়ে যান। তবে, যাত্রাপথে আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের কারণে মাত্র ৩০ বছর বয়সে তিনি প্রাণ হারান। তিনি হলেন, চীনের কুয়াংসি চুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের পাই স্য শহরের ল্য ইয়ে জেলার সিনহুয়া থানার পাই নি গ্রামের কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদক হুয়া ওয়েন সিউ।

আসলে দারিদ্র্যবিমোচনের পথে প্রাণ হারানো মানুষ হুয়া ওয়েন সিউ একাই নয়। অনেকেই দারিদ্র্যবিমোচনের কাজে নিজের প্রাণ উত্সর্গ করেছেন। ২০২০ সালে চীন সার্বিকভাবে দারিদ্র্যবিমোচনের কর্তব্য সম্পন্ন করবে, দারিদ্র্যবিমোচনের সফলতা উদযাপনের সময় আমরা এসব মহান মানুষদের ভুলে যাবো না।

৯০, ৮৯, ৮৮, ৮৭ থেকে ৭৮; এ পর্যন্ত হানাদার জাপানি বাহিনীর নানচিং হত্যাযজ্ঞ থেকে বেঁচে যাওয়া লোকজনের সংখ্যা মাত্র ৭৮জন। ২০১৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর হলো ষষ্ঠ রাষ্ট্রীয় উত্সর্গ দিবস। ১৮৮২ সালের ১৩ ডিসেম্বর চীনের নানচিং শহরের ৩ লাখেরও বেশি মানুষ জাপানি হানাদার বাহিনীর হাতে প্রাণ হারায়। যা চীনা জাতির ভীষণ দুঃখের স্মৃতি, যা মানবজাতির ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন অধ্যায়। যদিও সেই ইতিহাসের সাক্ষীরা পৃথিবী থেকে বিদায় নিচ্ছেন, তবে ইতিহাস মুছে যাবার নয়, চীনা জাতি তা সবসময় হৃদয়ে ধারণ করে রাখবে।

চীনের সাংস্কৃতিক মহলের বিখ্যাত ব্যক্তিদের মৃত্যুর খবরেও মানুষ মর্মাহত। ২০১৯ সালে চীনের বিখ্যাত লেখক লিন ছিং সুয়ান মারা যান। তিনি বলেন, 'কখনই ওড়ার মতো হৃদয় হারাবেন না, ওড়ার পদ্ধতিকে ভুলে যাবেন না'। ২০১৯ সালে চীনের বিখ্যাত কবি লিউ সা হ্য মারা যান। তা চীনাদের জন্য বিরাট এক ক্ষতি। তবে সবাই মনে রেখেছেন এমন একটি কথা 'চীনাদের নিজস্ব মনোভাব আছে, চীনাদের নিজস্ব কান আছে'।

বিদায় কখনই আনন্দের নয়; তবে অনেক মানুষকে বিদায় জানিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হয়।

৪. ২০১৯ সালে আমরা নতুন বন্ধুর সঙ্গে পরিচিত হয়েছি

২০১৯ সালের শেষ নাগাদ, একজন লাল কাপড়ে মুখ ঢাকা মেয়ে–লি জি ছি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মার্চ মাসে পিচ ফুল ফুটে, তিনি তা নিয়ে পিচ ফুলের মদ তৈরি করেছেন। মে মাসে, চীনে loquat ফল পাকে, তিনি তা থেকে মিষ্টি তৈরি করেন। বাসার সামনে তিনি ফুল চাষ করেন, বাড়িঘরের পিছনে তিনি ক্ষেতে বিভিন্ন শাকসবজি চাষ করেন। এ ছাড়া তিনি চীনের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যময় হস্তশিল্পও তৈরি করতে পারেন। ভিডিওতে তিনি যেসব গল্প সবাইকে জানিয়েছেন, তা চীন সম্পর্কে সবার আগ্রহ বাড়িয়ে তুলেছে। বিদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর ফোলোয়ারের সংখ্যা ৭৫ লাখেরও বেশি।

লি জি ছি'র বিখ্যাত হওয়া আসলে বিস্ময়কর কোনো ব্যাপার না। বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিদেশের দর্শকের কাছে, তাঁর স্বাধীন, দৃঢ়, সত্য ও প্রতিভাবান মনোভাব চীনা সংস্কৃতির রহস্য ও বৈচিত্র্যময়তার প্রতীক। ২০১৯ সালের মে মাসে আয়োজিত এশীয় সভ্যতা সংলাপ সম্মেলনে লি জি ছি বিশেষ অতিথি হিসেবে যুবক ফোরাম এবং এশীয় সভ্যতা কার্নিভালেও অংশ নিয়েছেন। লি জি ছিকে বিদেশের দর্শকরা পছন্দ করেন, এর কারণ হলো তার সহজ-সরল জীবন। এটি চীনের সংস্কৃতির প্রতি তাদের ভালোবাসার প্রতিফলন।

লি জি ছি'র মতো, ছোট ভিডিওর মাধ্যমে সবার মনে গভীর ছাপ ফেলা আরেকজন মানুষ আছেন। তিনি হলেন চীনের থাও পাও অনলাইন কেনাকাটা ওয়েসবাইটের 'লিপস্টিক ভাই' লি জিয়া ছি'। এই বছরে অনেকেই 'লি জিয়া ছি মেয়ের' মতো সেজেছেন। তাঁরা লি জিয়া ছি'র সুপারিশে বিভিন্ন জিনিস অনলাইন থেকে কিনেন।

 আসলে চীনের বিভিন্ন আদালত সরাসরি অনলাইন লাইভে আইনগত কাজ সম্পন্ন করে। বেশ কয়েকজন স্থানীয় বিচারপতি লাইভের উপস্থাপক হিসেবে কাজ করেছেন। আর অনেক জেলা ও গ্রামের প্রধানরাও অনলাইন লাইভে স্থানীয় কৃষিজাত দ্রব্য বিক্রি করতে উপস্থাপক হিসেবে কাজ করছেন। এতে স্থানীয় কৃষকদের আয় বাড়ছে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা বলেন, এটি হলো নতুন যুগে জনগণকে সেবা দেওয়ার নতুন পদ্ধতি।

২০১৯ সালের ডাবল ইলেভেন অনলাইন কেনাকাটা কার্নিভালে লি জিয়া ছি একাই বিক্রি করেছেন ১ বিলিয়ন ইউয়ান মূল্যের পণ্যদ্রব্য। এর পিছনে রয়েছে চীনের নতুন ভোগশক্তি বৃদ্ধি। ভোগ বাজারের এসব নতুন শক্তি সুন্দর জীবনের প্রতি জনগণের আরও উচ্চ মানের চাহিদা, চীনের বড় বাজার এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিরাট সুযোগের প্রতিফলন।

২০১৯ সালে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন খেলাধুলার পাশাপাশি ভিডিও গেম প্লেয়াররাও অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। লোকজন ভিডিও গেমকে আর খারাপ মনে করছে না। বরং তা এখন দেশের জন্য গৌরব অর্জনকারী বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এটি একটি নতুন শিল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে, চীনের মানবসম্পদ ও সামাজিক নিশ্চয়তা মন্ত্রণালয়সহ তিনটি মন্ত্রণালয় ১৩টি নতুন পেশার ঘোষণা দেয়। এর মধ্যে রয়েছে ভিডিও গেম প্লেয়ার।

নতুন পেশায় তরুণ চীনা মুখ দেখা যায়। নতুন উন্নয়ন নিশ্চয় নতুন চীনের গল্প বলবে। আর ভালো চীনা গল্পের জন্য কখনই পাঠকের অভাব হয় না।

৫. আরও অনেক সাধারণ লোক আমাদের ২০১৯ সালকে উজ্জ্বল করেছেন

বাসার আসবাবপত্রগুলো অন্যের ফেলা দেওয়া জিনিস, গায়ের কাপড় হল মায়ের পুরনো কাপড়। চিনের শানতুং প্রদেশের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিন কানের কথা বলছি। তিনি খুব মিতব্যয়ী মানুষ। নিজের জন্য অল্প টাকাও খরচ করতে চান না। তবে তিনি মোট ৩ লাখ ইউয়ান জনকল্যাণে দান করেছেন। মৃত্যুর পর তার দেহ শানতুং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছিলু হাসপাতালে চিকিত্সা গবেষণার জন্য দান করেছেন। তিনি বলেন, যা আমি দিতে পারি তা সবটুকো দিয়েছি। এখন আমি শুধু নিজেই আছি, এখন আমি নিজেকেও দান করবো। অঙ্গপ্রত্যঙ্গ হোক, মৃতদেহ হোক, আশা করি তা দেশ ও সমাজে কিছু ভূমিকা পালন করবে।

গভীর রাতে, নিরাপত্তা হেলমেট ও কাজের ইউনিফর্ম পরা একজন নির্মাণকর্মী রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন। বয়স ৫০-এরও বেশি। তবে তিনি শিশুর মতো হেলেদুলে আনন্দিত ভঙ্গিতে এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, 'কাজ করতে করতে ক্লান্ত লাগে, তাই কাজ শেষে খুশি থাকা উচিত'।

এসব মানুষ, হয়ত আমরা তাদের আসল নাম মনে রাখতে পারি না; তবে আমরা তাদের ভাবমূর্তিকে মনে রেখেছি, তাদের উষ্ণ হৃদয়ের গল্প প্রকাশ করেছি, তাদের নিঃস্বার্থ সদিচ্ছা ও আশাবাদের কথা জানিয়েছি।

আসলে এমন লোকজন সবসময় আমাদের পাশেই আছি। গোপনে প্রত্যেক পরিবারের নিরাপত্তা রক্ষা করছে পুলিশের লোকজন; বাতাস, বৃষ্টি বা তুষারপাত হলেও আপনাকে পণ্য ডেলিভারি দিতে দেরি করেন না ডেলিভারি ভাই; মাইনাস ৩০ ডিগ্রির ভীষণ ঠান্ডা আবহাওয়াতেও প্রশিক্ষণ বন্ধ করেন না সেনারা। তারা নিজ নিজ পদে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা সাধারণ মানুষ, তারা নিজের আচরণের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন 'মহান মানুষের জন্ম হয় সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে, সাধারণ মানুষই মহান মানুষে পরিণত হয়'। তারা প্রত্যেকেই সাধারণ বীর।

৬.

আমরা যাদের কথা বললাম, তারাই সব মানুষ নয়। আরও অনেক মানুষ আছেন, তারা হয়তো আমাদেরই ভালো বন্ধু, কোনো শিক্ষক, হয়তো অপরিচিত মানুষ যাকে আমরা এখনও দেখিনি! তারা যেন সূর্যের আলোর মত আমাদের সঙ্গে থাকেন।

প্রত্যেকের জীবনই ভিন্ন রকম। চলুন, আমরা গেল বছরটি পর্যালোচনা করি; আমরা নিশ্চয়ই নিজের অগ্রগতি দেখতে পাবো।

এ বছর, আমরা প্রত্যেকে দিনের পর দিন কাজ করে স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি; আমাদের স্বপ্নগুলো আরও মজবুত হচ্ছে।

২০১৯ সাল শেষ হয়ে গেছে; তবে স্মৃতি এখনও রয়ে গেছে। আমরা আশা সঙ্গে নিয়ে ২০২০ সালের দিকে এগিয়ে যাবো, আরও ভালো মানুষের সঙ্গে, আরও নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হবো ও সুন্দর মুহূর্ত তৈরি করবো।

(শুয়েই/তৌহিদ/সুবর্ণা)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040