Web bengali.cri.cn   
চীনের সি'আন চিয়েফাং রাস্তায় অবস্থিত পুরনো বইয়ের দোকান
  2019-10-03 15:08:02  cri

২০১৯ সালের পহেলা অক্টোবর হলো গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ৭০তম বার্ষিকী। যদি আপনি চীনে এসে থাকেন, তাহলে আপনি কি খেয়াল করেছেন, চীনের অনেক শহরে 'চিয়েফাং' ও 'চিয়েনকুও' নামে সড়ক বা রাস্তা আছে। এই শহরের মুক্তি ও গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠা-স্মরণে এসব নামকরণ করা হয়। সম্প্রতি সিআরআই'র সাংবাদিকরা দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে 'বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক' স্থাপনকারী কিছু চীনা শহর ঘুরে বেড়ান।

এসব শহরের 'চিয়েফাং রাস্তা' ও 'চিয়েনকুও রাস্তার' গল্পের মাধ্যমে ৭০ বছরের মধ্যে চীনের বিশাল পরিবর্তন প্রদর্শিত হয়। উল্লেখ্য, চীনা ভাষায় চিয়েকুও মানে দেশ প্রতিষ্ঠা, চিয়েফাং মানে মুক্তি পাওয়া।

ভারানসি হলো ভারতের সবচে প্রাচীন শহরের মধ্যে অন্যতম, এটি হিন্দুধর্মের পবিত্র শহর। চীনের থাং রাজবংশের বিশিষ্ট সন্ন্যাসী তীর্থযাত্রা করতে সেখানে গিয়েছিলেন। চীনের সি'আন হলো সুপ্রাচীন রেশমপথের সূচনা, এটি চীনা সভ্যতার জন্মস্থানের মধ্যে অন্যতম। সুপ্রাচীন সভ্যতাসম্পন্ন এ দুটি শহর ২০১৫ সালে পরস্পরের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলে।

চীনের সি'আন শহরে চিয়েফাং রাস্তার মোট দৈর্ঘ্য হলো ১৮৩৩ মিটার। ১৯২৮ সালে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তারপর কয়েকবার নাম পরিবর্তিত হয়। অবশেষে ১৯৪৯ সালে সি'আন মুক্তি পাওয়ার পর এই রাস্তাটি 'চিয়েফাং রাস্তা' এই নাম নির্ধারিত হয়। বর্তমানে 'চিয়েফাং রাস্তা' সি'আন শহরের সবচেয়ে উন্নত ও জাঁকজমকপূর্ণ রাস্তার মধ্যে অন্যতম। 'চিয়েফাং রাস্তায়' অবস্থিত সিনহুয়া বইয়ের দোকান হলো সেই জাঁকজমকপূর্ণ রাস্তার বিশেষ একটি সুন্দর দৃশ্য।

'চিয়েফাং রাস্তায়' অবস্থিত সিনহুয়া বইয়ের দোকান চীনের মুক্তি পাওয়ার শুরুর দিকে নির্মিত। সংস্কার ও উন্মুক্তকরণের পর সমাজের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে বইয়ের প্রতি জনগণের চাহিদা দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে। ১৯৯২ সালে সিনহুয়া বইয়ের দোকানের সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়। ৮ বছর পর ২০০০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে আবার খোলা হয়। যা উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের বৃহত্তম বইয়ের দোকান হয়ে ওঠে। ইয়াং ইয়োং হচ্ছেন সিনহুয়া বইয়ের দোকানের একজন প্রধান ব্যক্তি। সাংবাদিকদের সঙ্গে বইয়ের ইতিহাস শেয়ার করার সময় বলেন, 'আমাদের বইয়ের দোকান আবার চালু করার পর ১৯৯৩ সালে আমাদের বিক্রয় মূল্য ৬ কোটি ইউয়ান রেনমিনপি ছাড়িয়ে গেছে। তিন বছর পর আমাদের বিক্রয় মূল্য ৮ ও ৯ কোটি ইউয়ান ছাড়িয়ে যায়। এই ফল সারা দেশে অত্যন্ত ভালো।'

সমাজের উন্নয়ন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটাল বই দেখা দিচ্ছে। এতে বই বিক্রির পরিমাণ কমে গেছে। তবে সিনহুয়া দোকান নিজের কাজ ভালোভাবে করতে চায়। ইয়াং ইয়োং আশা করেন, সি'আন শহরে যদি শহরবাসীরা বই কিনতে চান, তারা প্রথমে আমাদের দোকানের কথা মনে করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'এখন অনেক বইয়ের দোকানের মালিক নিজের ব্যবসা পরিবর্তন করছে। আমরাও পরিবর্তন করতে চেয়েছিলাম। তবে বহুবার বিশ্লেষণ করার পর আমরা মনে করি, আমাদের বই কেন্দ্রিক ব্যবসার সঙ্গেই যুক্ত থাকা উচিত। আমাদের সেবার উদ্দেশ্য হলো বইয়ের প্রতি ব্যাপক পাঠকদের চাহিদা পূরণ করা। এত বছর ধরে সি'আন বাজারে আমাদের বইয়ের দোকানে বই বিক্রি সবচেয়ে ভালো।'

চু চুন হোং হচ্ছেন সিনহুয়া বইয়ের দোকানের একজন সাধারণ কর্মী। তার দায়িত্ব হলো দোকানের নিরাপত্তা সুরক্ষা করা। প্রতিদিন তিনি দেখেন, পাঠকরা নিজের প্রিয় বই নিয়ে চলে যান। এতে তার মনও অনেক খুশি। তিনি বলেন, 'একজন কর্মী হিসেবে আমি নিজের চাকরি পছন্দ করি। ভবিষ্যতে আমি জনগণকে সেবার এই উদ্দেশ্য কেন্দ্র করে অব্যাহতভাবে নিজের কাজ চালিয়ে যাবো।'

বই বাজারে কাজ করার সঙ্গে সঙ্গে সিনহুয়া বইয়ের দোকানও অব্যাহতভাবে সৃজনশীলতার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দোকানটি নতুন পদ্ধতিতে সংস্কৃতির সঙ্গে বইয়ের সমন্বয় বাস্তবায়ন করে আসছে।

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040