Web bengali.cri.cn   
চীনের রাজপথ ও পানিপথে এফএআই স্থিতিশীলভাবে বাড়ছে (অর্থ-কড়ি; ০৫ অক্টোবর ২০১৯)
  2019-10-05 13:11:22  cri

১. চীনের রাজপথ ও পানিপথে ফিক্সড অ্যাসেট ইনভেস্টমেন্ট (এফএআই) চলতি বছরের প্রথম আট মাসে স্থিতিশীলভাবে বেড়েছে। সরকারি তথ্যানুসারে, জানুয়ারি থেকে অগাস্ট পর্যন্ত সময়কালে চীনের রাজপথ ও পানিপথে এফএআই হয়েছে ১.৪২ ট্রিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ১৯৯.৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার), যা আগের বছরের একই সময়কালের তুলনায় ৩.৭ শতাংশ বেশি। চীনের পরিবহন মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, উক্ত সময়কালে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীপথে বিনিয়োগ ০.৬ শতাংশ বেড়ে হয় ৩৬.৮৩ বিলিয়ন ইউয়ান। অন্যদিকে, রাজপথ নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে ১.৩৫ ট্রিলিয়ন ইউয়ান, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩.৮ শতাংশ বেশি।

মন্ত্রণালয় জানায়, ২০১৯ সালে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ আরও বাড়াবে। চলতি বছর রেলপথ নির্মাণে ৮০০ বিলিয়ন ও সড়ক নির্মাণে ১.৮ ট্রিলিয়ন ইউয়ান বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

২. দারিদ্র্যবিমোচনে গ্রামাঞ্চলে শিল্পায়ন ও নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাকে উত্সাহিত করবে চীন। এক্ষেত্রে স্থানীয় সম্পদের সুবিধা কাজে লাগানো হবে। সম্প্রতি চীনের কৃষি মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়।

মন্ত্রণালয় জানায়, বিগত দশকগুলোতে চীন চরম দারিদ্র্য থেকে মুক্ত হয়েছে। উন্মুক্তকরণ ও সংস্কার কার্যক্রম শুরুর আগে যেখানে দেশে প্রায় ৭৭ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিল, ২০১৮ সালে সে সংখ্যা কমে দাঁড়ায় মাত্র এক কোটি ৬৬ লাখে।

৩. অগাস্টে চীনের প্রধান প্রধান শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ শতাংশ কমেছে। চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো এ তথ্য জানিয়েছে। জুলাইতে প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা বেড়েছিল ২.৬ শতাংশ।

সরকারি ভাষ্য অনুসারে, অগাস্টে প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা কমেছে মূলত শিল্প-উত্পাদন কমে যাওয়ায় ও শিল্পপণ্যের বিক্রয় হ্রাস পাওয়ায়। টাইফুনের মতো ফ্যাক্টরগুলোর এর জন্য খানিকটা দায়ী।

প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে চীনের প্রধান প্রধান শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা ১.৭ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪.০২ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে (৫৬৭.২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে)। এসময় বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা ৮.৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ১.২‌১ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে।

উক্ত সময়কালে মাইনিং শিল্পে মুনাফা বেড়েছে ২.১ শতাংশ এবং উত্পাদন শিল্পে মুনাফা কমেছে ৩.২ শতাংশ।

৪. বাজারে বিভিন্ন পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে নির্দেশনা জারি করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় পরিষদ তথা মন্ত্রিসভা। জনগণের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা মেটাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পরিষদের এক বৈঠকে সম্প্রতি চীনা প্রধানমন্ত্রী লি খ্য ছিয়াং বলেন, পণ্যের মূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে বাজারমুখী ব্যবস্থার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

৫. গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ৭০তম বার্ষিকীতে চীনের রাষ্ট্রীয় পরিষদের তথ্য-কার্যালয় থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত এক শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, ৭০ বছরে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি)'র নেতৃত্বে, চীনে আকাশ-পাতাল পরিবর্তন ঘটেছে। চীন মানবজাতির ইতিহাসে উন্নয়নের অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিশেষ করে চীনের অষ্টাদশ কংগ্রেসের পর চীনের উন্নয়নে ঐতিহাসিক সাফল্য ও সংস্কার ঘটেছে। বিশ্বের ওপর চীনের প্রভাব কখনই আজকের মতো এত সার্বিক, এতো গভীর ছিল না। তা ছাড়া, চীনের ওপর বিশ্বের মনোযোগ আজকের মতো এত গভীরও ছিল না।

শ্বেতপত্রে পরিসংখ্যানের মাধ্যমে বিগত ৭০ বছরে চীনের অর্জিত উন্নয়নের বিরাট সাফল্য ও বিশ্বে দেশটির অবদান বর্ণনা করা হয়েছে। শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। প্রায় ১৪০ কোটি চীনা চরম দারিদ্র্যাবস্থা থেকে মুক্ত হয়েছে এবং মোটামুটি সচ্ছল সমাজের মানে পৌঁছেছে চীনা সমাজ। চীনা জনগণ এখন বিশ্বে অভূতপূর্ব মর্যাদা এবং অধিকার উপভোগ করছে। শ্বেতপত্রে আরও বলা হয়েছে, ৭০ বছরে বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ ও বিনিময়ের মাধ্যমে চীন উন্নত হচ্ছে, বিশ্বের জন্য অবদান রাখছে।

শ্বেতপত্রে আরও বলা হয়, ৭০ বছর ধরে চীনের উন্নয়ন-কার্যক্রম সফল হওয়ার মূল কারণ হলো চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে চীনা জনগণ চীনের বৈশিষ্ট্যময় সমাজতন্ত্রের সঠিক পথ খুঁজে পেয়েছে এবং সেই পথে অবিচল থেকেছে। চীনের বৈশিষ্ট্যময় সমাজতন্ত্রের পথ চীনের নিজস্ব অবস্থার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। এ পথ জনগণের স্বার্থকে শীর্ষে রাখার পথ, সংস্কার ও উদ্ভাবনের পথ, একটি সার্বিকভাবে আইনানুসারে দেশ পরিচালনার পথ। চীনের এই উন্নয়নের পথ, চীনের অবস্থা ও যুগের চাহিদার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

৬. সম্প্রতি চীনের ইনার মঙ্গোলিয়ায় একটি বায়ু-বিদ্যুত প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। স্টেট পাওয়ার ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশান লিমিটেড প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে বিনিয়োগ করবে। কর্পোরেশানের চেয়ারম্যান জানান, প্রকল্পে তার কোম্পানি ৪০০০ কোটি ইউয়ান বিনিয়োগ করবে। প্রকল্পের বিদ্যুত উত্পাদন ক্ষমতা হবে ৪.১৬ মেগাওয়াট।

বাস্তবায়িত হলে, প্রকল্পটি প্রতিবছর বেইজিংয়ে ২০০০ কোটি কিলোওয়াট বিদ্যুত সরবরাহ করবে এবং ২০২২ সালের বেইজিং শীতকালীন অলিম্পিকের জন্য সবুজে জ্বালানি সরবরাহ করবে। প্রকল্প থেকে উত্পাদিত বিদ্যুতের কারণে, ৬০ লাখ টন কয়লা পোড়ানো কমবে এবং বছরে এক কোটি ৬০ লাখ টন কার্বন গ্যাস নিঃসরণ কমবে।

৭. দক্ষিণ কোরিয়ার রফতানি আবার কমেছে। এ নিয়ে টান চার মাস দেশটির রফতানি কমেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসেব অনুসারে, অগাস্টে দেশটির রফতানি আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে কমেছে ৫.৮ শতাংশ। এর জন্য মূলত দুর্বল বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি দায়ী।

৮. চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এশীয় অঞ্চলে অন্যান্য দেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে নির্ধারণ করলেও বাংলাদেশে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের রফতানি বাড়তে পারে। এর পাশাপাশি প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে বলে মনে করছে এডিবি। একইসঙ্গে মুদ্রানীতির কারণে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহও বাড়বে। ব্যবসায় পরিবেশ উন্নত করতে চলমান সংস্কার এবং অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের সুবাদেও বাড়বে প্রবৃদ্ধি। তবে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন এবং ভ্যাটের আওতা বাড়ার কারণে পণ্য ও সেবার দাম সামনের দিনগুলোতে বাড়বে। এতে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা এডিবির।

সম্প্রতি আগারগাঁওয়ে এডিবির ঢাকা অফিসে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকের হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এই প্রতিবেদনেই এসব পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭.২ শতাংশ, পাকিস্তানের ২.৮ শতাংশ, চীনের ৬ শতাংশ, কোরিয়ার ২.৪ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের ১.৪ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ৫.২ শতাংশ, মালয়েশিয়ার ৪.৭ শতাংশ, ফিলিপিন্সের ৬.২ শতাংশ, থাইল্যান্ডের ৩.২ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের ৬.৭ শতাংশ। তবে সার্বিকভাবে এশিয়ার প্রবৃদ্ধি হবে ৫.৫ শতাংশ।

৯. পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালে মাত্র ২৪ লাখ ডলার বা প্রায় ৩৬ কোটি টাকার রেমিটেন্স এসেছিল বাংলাদেশে৷ আর গত বছর রেমিটেন্স এসেছে ১৫৫৫ কোটি ডলার বা এক লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা৷ সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ৩৭৪ কোটি ডলার বা ১৪ লাখ ৬৭ হাজার কোটি টাকা দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা৷

সবচেয়ে বেশি ৩৮ লাখ ৮৪ হাজার বাংলাদেশি প্রবাসী আছেন সৌদি আরবে। ১৯৭৬ সালে মাত্র ২১৭ জন দিয়ে এই শ্রমবাজারের যাত্রা শুরু৷ ২০১৭ সালে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ৫১ হাজার কাজ নিয়ে গেছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে৷ আর চলতি অগাস্ট পর্যন্ত পাড়ি জমিয়েছেন দুই লাখ ৩৪ হাজার জন৷

১০. দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটিয়ে দেশে টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্য দিয়ে ঢাকায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয় অষ্টম এশীয় পর্যটন মেলা। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটিতে তিন দিনব্যাপী এশীয় পর্যটন মেলা-২০১৯ উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠনে তিনি পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার, সুন্দরবন, সিলেটের চা বাগান এবং তিন পার্বত্য জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা উল্লেখ করে মেলায় অংশগ্রহণকারী এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর পর্যটকদের কাছে তা তুলে ধরতে অনুরোধ জানান। দেশে পর্যটন খাতের প্রসারে ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার ওপরও গুরুত্ব দেন পর্যটন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ পেলে এই শিল্পে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রুপ দিতে প্রাইভেট সেক্টরকে এগিয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, ভূটান, চীন, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স ও থাইল্যান্ডের হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল শপ, থিম পার্ক অংশ নেয় এই পর্যটন মেলায়। মেলায় মোট ১৫০টি স্টল ছিল।

১১. আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্রবিমা সম্মেলন নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।

৪ নভেম্বর রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। সম্মেলন শেষ হবে ৮ নভেম্বর।

বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) এবং মাইক্রো ইন্স্যুরেন্স নেটওয়ার্ক এই সম্মেলনের আয়োজন করছে। এটি হবে ১৫তম আন্তর্জাতিক মাইক্রো ইন্স্যুরেন্স (ক্ষুদ্রবিমা) সম্মেলন।

সম্প্রতি রাজধানীর পুরানা পল্টনের বিআইএর কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলন সংগঠনের সভাপতি শেখ করিব হোসেন এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, এবারের সম্মেলনে বিশ্বের ৪৫টি দেশের ৪৫০ জন প্রতিনিধি ও বিমা-বিশেষজ্ঞ অংশগ্রহণ করবেন। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে কৃষি বিমা, স্বাস্থ্য বিমা ও ক্ষুদ্র বিমার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সর্বজনস্বীকৃত। এ কারণে কৃষি ও ক্ষুদ্র বিমার ওপর আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজনের র উদ্যোগ গ্রহণ নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ক্ষুদ্রবিমা সম্মেলনে ২০টির মতো সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

(আলিমুল হক)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040