Web bengali.cri.cn   
রোববারের আলাপন-190818
  2019-08-18 15:25:21  cri

আকাশ: সুপ্রিয় শ্রোতা, সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি চীন আন্তর্জাতিক বেতারের বাংলা অনুষ্ঠানে। আপনাদের আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আমাদের সাপ্তাহিক আয়োজন 'রোববারের আলাপন'। আপনাদের সঙ্গে আছি এনামুল হক টুটুল এবং শিয়েনান আকাশ।

বন্ধুরা, অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রথমে ডেঙ্গুর সংশ্লিষ্ট খবর আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় দুই নারীসহ সারাদেশে আরো ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

৬ অগাস্ট ভোরে ঢাকা মেডিকেলে মারা যান মনোয়ারা বেগম নামে একজন নারী। এ নিয়ে শুধু ঢাকা মেডিকেলেই ডেঙ্গুতে মারা গেলেন ১৫ জন। রাজধানীর আনোয়ার খান হাসপাতালে হাফসা লিপি নামে এক প্রবাসী নারীর মারা গেছেন ডেঙ্গুতে। রংপুর, দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মারা গেছেন আরো ৪ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ৬ অগাস্ট পর্যন্ত শেষ ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৩৪৮ জন রোগী।

এদিকে, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন জানিয়েছেন, এডিশ মশা মারার নতুন ওষুধ আনা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শিগগির তা ব্যবহার শুরু হবে এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ নাগাদ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আসবে।

টুটুল: বাংলাদেশে ডেঙ্গুতে সরকারি হিসেবে ২৯ জনের মৃত্যু

ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অগাস্ট ৮ এ তথ্য জানায় তারা।

৭ বিকাল থেকে ৮ অগাস্ট পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরো ২ হাজার ৩২৬ জন। এ নিয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজারের বেশি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে চীন ও ভারত থেকে আনা মশার ওষুধ শিগগির ছিটানো শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দুই সিটি মেয়র। ডেঙ্গু মোকাবেলায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে ৫৩ কোটি টাকা।

এদিকে, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, লন্ডন থেকে ফিরেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডেঙ্গু পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন। কারো জ্বর হলে ঈদে বাড়ি যাবার আগে রক্ত পরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

আকাশ: বন্ধুরা, ডেঙ্গু প্রকোপের কারণে আমরা অনেক চিন্তিত। আমাদের বাংলাদেশের ভাইবোনের কথা মনে পড়ে। আশা করি এডিশ মশা মারার এ নতুন ওষুধ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাড়াতাড়ি ব্যবহার করা হবে এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধের অন্যান্য কার্যকর উপায়ও ব্যবহার করা যাবে।

টুটুল: বন্ধুরা, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিত্সা সংক্রান্ত কিছু বিষয় আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। আশা করি তা থেকে আপনারা উপকৃত হবেন।

জ্বর হওয়া, অতিরিক্ত মাথা ব্যথা, চোখের চারপাশে ব্যথা, পেশিতে ও হাড়ের গিটে ব্যথা, বমি ও বমি বমি ভাব, ত্বকে লাল ছোপ ছোপ দাগ, নাক থেকে রক্তপাত ইত্যাদি হচ্ছে ডেঙ্গুর উপসর্গ। ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হলে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে প্রথম ১০ দিনের মধ্যে এই লক্ষণগুলি দেখা যায় এবং কিছু ক্ষেত্রে বেশি সময় লাগে শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে ।

ডেঙ্গুর চিকিৎসা: বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ। চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা দরকার। ডাক্তারের দেওয়া টেস্ট করিয়ে নেওয়া উচিৎ। নিজে থেকে ঔষুধ খাওয়া উচিৎ নয়। অ্যাসপিরিন জাতীয় ঔষুধ খাওয়া উচিৎ নয়, এগুলি রক্তকে পাতলা করে দেয়।

ডেঙ্গু থেকে বাঁচার উপায়: ঘিঞ্জি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় না থাকার চেষ্টা করুন। বাড়িতে মশারি, মশা তাড়ানোর ঔষধ ব্যবহার করুন। বাইরে যাওয়ার সময় ফুলহাতা জামা ব্যবহার করুন। মোজা পরুন। জানালায় নেট লাগান অথবা দরজা জানালা বন্ধ করে রাখুন। এয়ারকন্ডিশন থাকলে ব্যবহার করুন। ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার দেখান। দিনের বেলা ও সন্ধ্যার সময় ডেঙ্গু মশা কামড়ায়, এ সময়টা অতিরিক্ত সাবধান থাকুন।

ডেঙ্গু রোগীর যত্ন: তরল জাতীয় খাবার খাওয়া উচিৎ; যেমন- পরিষ্কার জল, আখের রস, ডাবের পানি, লেবুর পানি, গ্রীন টি, কমলালেবুর রস ইত্যাদি। দুগ্ধজাতীয় ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিৎ। নিরামিষাশীদের জন্য শাকসবজি ও ফল খাওয়া দরকার। তেল মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। সঠিক পরিমাণ প্রোটিন খান। মাছ, মাংস, ডিম এবং সয়াবিন, চিস,পনির জাতীয় খাবার খান।

আকাশ: বন্ধুরা, ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য দয়া করে সবাই সাবধানে থাকুন। ।

টুটুল: মনে রাখতে হবে, ডেঙ্গুর কোনো ভ্যাক্সিন নেই। যেহেতু ডেঙ্গু ভাইরাস চার টাইপের, তাই চারটি ভাইরাসের প্রতিরোধে কাজ করে, এমন ভ্যাক্সিন এখনো পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি। তাই ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের মূলমন্ত্রই হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এই মশা যেন কামড়াতে না পারে, তার ব্যবস্থা করা। মনে রাখতে হবে এডিস একটি ভদ্র মশা, অভিজাত এলাকায় বড়ো বড়ো সুন্দর সুন্দর দালানকোঠায় এরা বসবাস করে থাকে। স্বচ্ছ পরিষ্কার পানিতে এই মশা ডিম পাড়ে। ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত ড্রেনের পানি এদের পছন্দসই নয়। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী স্থানগুলোকে পরিষ্কার রাখতে হবে এবং একই সাথে মশক নিধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ রোগ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো ব্যক্তিগত সতর্কতা এবং এডিশ মশা প্রতিরোধ করা। আগেই বলেছি, এডিস মশা মূলত দিনের বেলা, সকাল ও সন্ধ্যায় কামড়ায়। তবে রাত্রে উজ্জ্বল আলোতেও এডিস মশা কামড়াতে পারে। যেহেতু এডিস মশা মূলত এমন বস্তুর মধ্যে ডিম পাড়ে যেখানে স্বচ্ছ পানি জমা হয়ে থাকে, তাই সবার আগে ঘরে সাজানো ফুলদানি, অব্যবহৃত কৌটা, বাড়িঘরে এবং বাড়ির আশপাশে যেকোনো পাত্র বা জায়গায় জমে থাকা পানি ৩ থেকে ৫ দিন পরপর ফেলে দিলে এডিস মশার লার্ভা মারা যায়। পাত্রের গায়ে লেগে থাকা মশার ডিম অপসারণে পাত্রটি ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কার করে নিতে হবে। ঘরের বাথরুমে কোথাও জমানো পানি ৫ দিনের বেশি যেন না থাকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। ঘরের এ্যাকুরিয়াম, ফ্রিজ বা এয়ার কন্ডিশনারের নিচে এবং মুখ খোলা পানির ট্যাংকে যেন পানি জমে না থাকে সে ব্যবস্থা করতে হবে। বাড়ির ছাদে অনেকেই বাগান করে থাকেন। সেখানে টবে বা পাত্রে যেন কোনো ধরণের পানি ৫ দিনের বেশি জমে না থাকে সেদিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বাড়ির আশ-পাশে ঝোপঝাড়, জঙ্গল, জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

আকাশ: বন্ধুরা, আশা করি এসব তথ্য আপনাদের জন্য সহায়ক হবে। সবসময় সাবধানে থাক‌বেন। নিজেকে এবং পরিবারকে রক্ষা করবেন।

সংগীত

আকাশ: সম্প্রতি চীনের জাতীয় নারী ভলিবল দলের সাবেক কোচ ইউ চুয়ে মিন হংকংয়ে জানান, চীনের নারী ভলিবল খেলোয়াড়দের আগের প্রজন্মের 'নারী ভলিবলের চেতনা' অব্যাহতভাবে বহন করা উচিত। তিনি আরো বলেন, তিনি আশা করেন আরো বেশি তরুণ তরুণী ভলিবল খেলবে, যাতে চু থিং'র মতো আরো বেশি ভলিবল খেলোয়াড় তৈরি হয়।

আজ আমরা ইউ চুয়ে মিনের সাক্ষাত্কার শুনবো, কেমন?

টুটুল: ইউ চুয়ে মিন সাংবাদিককে বলেন, এবার হংকং ভলিবল সংস্থার আমন্ত্রণে এখানে খেলতে এসেছি। এটি যুব ভলিবল উন্নয়নের জন্য অনেক অর্থপূর্ণ। আমরা সাও সিং যুব ভলিবল দল ২০২২ সালে চে চিয়াং প্রদেশের গেমসে অংশগ্রহণ করবো। আমরা এবার প্রথমবারের মতো হংকংয়ে এসে খেলায় অংশ নিয়েছি। এবারের সুযোগের মাধ্যমে খেলোয়াড়রা আরো বেশি চর্চা করতে পারবে বলে বিশ্বাস করি।

এ দিনের খেলায় সাও সিং দল ০:৩ স্কোরে থাই চোং থান সিউ দলের কাছে পরাজিত হয়। খেলার সময় ইউ চুয়ে মিন মাঝে মাঝে যুব খেলোয়াড়দেরকে নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, "রিলাক্স, নার্ভাস হবে না, আরো জোর দিয়ে খেলবে, আরো টার্গেট করে খেলবে"। তিনি বলেন, এ যুব খেলোয়াড়রা মাত্র ভলিবল খেলতে শুরু করলো। কেউ কেউ মাত্র অর্ধ বছর ভলিবল খেললো।

১৯৭৫ সালে চে চিয়াং ভলিবল দলে প্রবেশ করার পর থেকে ইউ চুয়ে মিন এ খেলার সাথে যুক্ত রয়েছেন। তিনি বলেন, আমি ১৫ বছর বয়স থেকে ভলিবল খেলতে শুরু করি। ইতোমধ্যে তা ৪০ বছরেরও বেশি হয়ে গেছে। ভলিবলের সাথে আমার অনেক ভালোবাসা রয়েছে। আমি এখন তা ছেড়ে দিতে পারবো না।

তিনি জানান, চীনে এখন ভলিবলের জনপ্রিয়তা ফুটবল ও বাস্কেটবলের চেয়ে কম। ভলিবলে অংশগ্রহণকারী মানুষের সংখ্যা খুব বেশি নয়। চীনের ভলিবল সংস্থায় নিবন্ধন করা খেলোয়াড়ের সংখ্যা মাত্র কয়েক শো। কিন্তু চীনের নারী ভলিবলের যুব খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা ও প্রশিক্ষণ ভালো।

তিনি মনে করেন, চীনের নারী ভলিবল একটা পর একটা ভালো ফলাফল অর্জন করে আসছে। এর কারণ হলো নারী ভলিবলের চেতনা।

তিনি বলেন, যদিও যুগ এখন বিভিন্ন, ১৯৮০ সালের দিকের কঠোর প্রশিক্ষণের অবস্থার চেয়ে এখনকার প্রশিক্ষণের অবস্থা অনেক ভালো। কিন্তু চীনের নারী ভলিবলের চেতনা আগের প্রজন্মের হাত থেকে অব্যাহতভাবে বহন করতে হবে। চীনের নারী ভলিবলের প্রত্যেক কোচ ও খেলোয়াড়ের দায়িত্ব ও সম্মান রয়েছে। তা দলের সবাইকে উত্সাহিত করে আসছে যে মাতৃভূমির জন্য গৌরব বয়ে আনতে হবে, অলিম্পিক গেমস বা বিশ্ব প্রতিযোগিতায় স্বর্ণ অর্জন করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রত্যেক খেলোয়াড় দলে প্রবেশ করার পর পুরনো নারী ভলিবল খেলোয়াড়দের কাছ থেকে তাদের কঠোর প্রশিক্ষণ ও সব শক্তি দিয়ে চেষ্টা চালানোর চেতনা অনুসরণ করে আসছে।

২০১৮ সালের মার্চ মাস থেকে তিনি সাও সিং শহরের ভলিবল দলের কোচের দায়িত্ব পালন করতে শুরু করেন। তখন থেকে তিনি যুব ভলিবল সংক্রান্ত কাজের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, তার জন্য যুব ভলিবল প্রশিক্ষণের কাজ একটি চ্যালেঞ্জ।

তিনি মনে করেন, এখনকার তাঁর কাজ অনেক অর্থপূর্ণ। কারণ এটি চীনের ভলিবল উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে। তিনি বলেন, তিনি আশা করেন আরো তরুণ তরুণীরা এ ভলিবল খেলা ভালোবাসবেন এবং চু থিং'র মতো আরো বেশি খেলোয়াড় তৈরি হবে।

আকাশ: বন্ধুরা, কোচ ইউ চুয়ে মিনের একটি কথা আমি অনেক পছন্দ করি। তিনি মনে করেন, চীনের নারী ভলিবল একটার পর একটা ভালো ফলাফল অর্জন করে আসছে, এর কারণ নারী ভলিবলের চেতনা। এই চেতনা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। চেতনা থাকলেই মানুষ এগিয়ে যেতে পারে।

মোট কথা, জীবনে স্বপ্ন পূরণ যত কঠিনই হোক না কেন, যদি চেতনা থাকে, মনে আগুন বা শক্তি থাকে, তাহলে স্বপ্নে পৌঁছানোর পথ যত আঁকাবাঁকাই হোক না কেন মানুষ এ পথে আনন্দ পাবে, সুফল অর্জন করবে

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040