Web bengali.cri.cn   
চীনকে 'মুদ্রার বিনিময়হার নিয়ন্ত্রক' আখ্যায়িত করে মার্কিন সমালোচনা ও বাস্তবতা
  2019-08-14 14:40:57  cri
সম্প্রতি মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় চীনকে 'মুদ্রা বিনিময়হার নিয়ন্ত্রকদেশ' হিসেবে চিহ্নিত করে। আর এই অযৌক্তিক প্রয়াসকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-সহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এদিকে, অনেক চীনা বিশেষজ্ঞ গতকাল (মঙ্গলবার) বেইজিংয়ে বলেন, চীনের নিন্দা করার কোনো কারণ যুক্তরাষ্ট্রের নেই। যেকোনো মানদণ্ড অনুসারেই, চীন মুদ্রা বিনিময়হার নিয়ন্ত্রকদেশ নয়। চীনের উচিত দেশের সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ কার্যক্রম দিয়ে বাইরের অনিশ্চয়তার ধাক্কা মোকাবিলা করা।

এক সেমিনারে অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক একপক্ষবাদ ও বাণিজ্যিক সংরক্ষণবাদ আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। রেনমিন ইউনির্ভাসিটি অব চায়না'র ছংইয়াং আর্থিক গবেষণালয়ের গবেষক ও জাতীয় বৈদেশিক মুদ্রা পরিচালনা ব্যুরোর সাবেক পরিচালক ওয়েই পেন হুয়া বলেন, মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের চীনকে 'মুদ্রা বিনিময়হার নিয়ন্ত্রক' বলে নিন্দা করার যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। তিনি বলেন,

"আরএমবি'র বিনিময়হার আসলে বেশি পরিবর্তন হয়নি—মাত্র ১ শতাংশ পরিবর্তন হয়েছে। এ অবস্থায় চীনের নিন্দা জানানোর কোনো যুক্তি নেই।"

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ৯ অগাস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেছে, ২০১৮ সালে চীনের নিয়মিত অ্যাকাউন্টের অনুকূল উদ্ধৃত্ত হ্রাস পেয়েছে। এ অবস্থায় আরএমবির বিনিময়হার চীনা অর্থনীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সমাজ মনে করে, এ প্রতিবেদন চীনের মুদ্রা বিনিময়হার নিয়ন্ত্রক না-হবার বিষয়টি প্রমাণ করে।

চীনা গণব্যাংকের গবেষণা ব্যুরোর উপ-পরিচালক মাদাম চাং স্যুয়ে ছুন ১৩ অগাস্ট বেইজিংয়ে বলেন, যেকোনো মানদণ্ডে চীন মুদ্রা বিনিময়হার নিয়ন্ত্রকদেশ নয়। তিনি বলেন,

"চীনের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত সাম্প্রতিক বছরগুলোয় স্থিতিশীল ছিল। আইএমএফ'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে আরএমবির বিনিময়হার স্থিতিশীল। আরএমবি'র বিনিময়হার মূলত চীনা অর্থনীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। চীনা গণব্যাংক কখনো ব্যাপকভাবে মুদ্রার বিনিময় হারের ওপর হস্তক্ষেপ করেনি।"

চায়না মিনশেং ব্যাংকের প্রধান গবেষক ওয়েন বিন মনে করেন, চীনা অর্থনৈতিক কাঠামো থেকে বুঝা যায় যে, চীনের আরএমবি'র কৃত্রিম অবমূল্যায়নের প্রয়োজন নেই।

চীনা গণব্যাংকের গবেষণা ব্যুরোর উপপরিচালক চাং স্যুয়ে ছুন বলেন, চীনের উচিত দেশের সংস্কার ও উন্মুক্তকরণের নিশ্চয়তা দিয়ে বাইরের সকল অনিশ্চয়তা মোকাবিলা করা। তিনি বলেন,

"চীনের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো অভ্যন্তরীণ চাহিদা। এক্ষেত্রে আমদানি-রফতানির ওপর চীনের নির্ভরশীলতা আগের চেয়ে কমেছে। যদি অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো ভালভাবে হ্যান্ডেল করা যায়, তাহলে চীনা অর্থনীতির সমস্যা হবে না। কারণ, আমাদের বিরাট উন্নয়নের সুপ্তশক্তি আছে। আমরা আরেক ধাপে শহরায়নকে এগিয়ে নিতে পারবো। আমাদের উচিত সুপ্তশক্তি ব্যবহার করা এবং কাঠামোমূলক সংস্কার-কার্যক্রম জোরদার করা।"

চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি)-এর পার্টিস্কুলের আন্তর্জাতিক কৌশল গবেষণা একাডেমির আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক গবেষণালয়ের লিয়াং ইয়া পিন বলেন, কোনো দেশ অন্য দেশের ওপর একতরফাভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রের চাপের বিপরীতে চীনের উচিত আত্মবিশ্বাস বজায় রাখা। তিনি বলেন,

"ইতিহাসে এ পর্যন্ত যত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছে, তার ৯০ শতাংশই ব্যর্থ হয়েছে। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে কোনো দেশের নীতি ও ধারণা পরিবর্তন করা যায় না।"(ছাই/আলিম/ফেই)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040