Web bengali.cri.cn   
রোববারের আলাপন-190721
  2019-07-21 14:19:33  cri

আকাশ: সুপ্রিয় শ্রোতা, সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি চীন আন্তর্জাতিক বেতারের বাংলা অনুষ্ঠানে। আপনাদের আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আমাদের সাপ্তাহিক আয়োজন 'রোববারের আলাপন'। আপনাদের সঙ্গে আছি এনামুল হক টুটুল এবং শিয়েনান আকাশ।

বন্ধুরা, এখন বেইজিংয়ে ভীষণ গরম। কিন্তু আমি আসলে গ্রীষ্মকাল অনেক পছন্দ করি।

টুটুল: কেন ভাই?

আকাশ: আমি যখন বাংলাদেশে ছিলাম, তখন গরম হলেও অনেক সকালে পার্কে গিয়ে ৫ বা ১০ কিলোমিটার রানিং করতাম। রানিংয়ের সময় শরীর একদম ঘেমে যেতো, কিন্তু রানিং শেষে একসাথে দু'টি ডাব খেতাম। তখন অনেক শান্তি এবং আরাম পেতাম।

টুটুল: ভাই, আমারও এরকম অভিজ্ঞতা আছে।.....

আকাশ: আমি মনে করি এটি হচ্ছে গ্রীষ্মকালের সৌন্দর্য। জীবন আসলে গ্রীষ্মকালের মতো করা উচিত, তাইনা? এত ছোট জীবনে শুধু অপেক্ষা করবো, অপেক্ষা করবো, এরকম করলে চলবে?স্বপ্নের পিছনে রানিং করতে হবে। যেন তাড়াতাড়ি তা হাত দিয়ে ধরা যায়।

টুটুল:....

আকাশ: বন্ধুরা, আমাদের গ্রীষ্মকালের মতো জীবন কাটানো উচিত, তাইনা? যদি আপনার স্বপ্ন থাকে, তাহলে সাহসের সাথে আগ্রহ নিয়ে সেদিকে রানিং করবেন। যতো কষ্টই হোক নে কেন, স্বপ্নের পিছনে রানিং করা বন্ধ করবেন না। স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যান বন্ধুরা।

টুটুল: আচ্ছা, বন্ধুরা, আপনারা গ্রীষ্মকালের কি কি স্পোর্টস পছন্দ করেন? আপনারা এসব স্পোর্টসের গল্প আমাদের সবার সাথে শেয়ার করতে পারবেন। আমাদের ইমেইল হচ্ছে..., আপনারা এসব গল্প লিখে ইমেইলে পাঠাতে পারেন, কেমন?

সংগীত

আকাশ:বন্ধুরা, এখন আমরা চীনের সাবেক নারী ফুটবলার সুন ওয়েনের সাক্ষাত্কার শুনবো।

বন্ধুরা, ১৯৯৯ নিরানব্বই সালে সুন ওয়েন চীনের নারী ফুটবল দলের ক্যাপ্টেইন ছিলেন। সেই বছর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তারা চীনের ফুটবলের সেরা রেকর্ড সৃষ্টি করেন। চীন সেই বিশ্বকাপে রানার আপ হয়।

আমার এখনো মনে আছে, ঐ খেলা আমি টেলিভিশনে সরাসরি দেখেছি, সারা দেশের মানুষ তখন তাদের জন্য গর্বিত। ২০ বছর পর তিনি এবার প্রযুক্তি বিশ্লেষকের দায়িত্ব পালন করেন নারীদের বিশ্বকাপ ফুটবলে। আজ আমরা তার একটি সাক্ষাত্কার শুনবো, কেমন?

টুটুল: চীনের জাতীয় দলের খেলোয়াড় থেকে তিনি এখন ফিফার প্রযুক্তি বিশ্লেষকের দায়িত্ব পালন করছেন। সিন হুয়া বার্তাসংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি চীনের নারী ফুটবলসহ অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

নারী ফুটবল বিশ্বকাপের প্রযুক্তি বিশ্লেষক গ্রুপের একজন সদস্য হিসেবে, সুন ওয়েনের প্রতিদিনের কাজ হচ্ছে প্রযুক্তির মাধ্যমে খেলার সব তথ্য রেকর্ড করা। তিনি জানান, তিনি চীনের নারী ফুটবল দলের পারফর্মেন্স দেখেছেন। তিনি মনে করেন, চীনা দলটির পারফর্মেন্স বেশ ভালো, কোচের দাবী তারা অনুসরণ করেছে।

কিন্তু তিনি আরো জানান, খেলোয়াড়দের শক্তিমত্তা আরো উন্নত করতে হবে। খেলার মধ্যে গোলের জন্য চূড়ান্ত শটের দক্ষতাও তাদের উন্নত করতে হবে। তিনি বলেন, "ইউরোপীয় দলের খেলোয়াড়দের চেয়ে চীনা নারী ফুটবল দেলের খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত দক্ষতার দূরত্ব রয়েছে।"

তিনি আরো বলেন, এবারের বিশ্বকাপ দেখার পর, আরো ভালোভাবে সংকট অনুভব করি। আমি মনে করি বর্তমানে দেশের খেলোয়াড় ও খেলার মানের ক্ষেত্রে সত্যিই পার্থক্য রয়েছে। তার জবাবে আমাদের দেশের খেলার গুনগত মান উন্নত করা উচিত এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও সুষ্ঠুভাবে স্থাপন করা উচিত। এটা বড় একটা চ্যালেঞ্জ।

সম্প্রতি চীনের নারী ফুটবল দলের কোচ ঘনঘন পরিবর্তন করা হয়। সাংবাদিক সুন ওয়েনকে জিজ্ঞাস করেন, তিনি একজন কোচ হতে চান কিনা। তিনি বলেন, তিনি প্রাপ্তবয়স্ক দলের চেয়ে তরুণ দলের কোচ হওয়া অনেক পছন্দ করেন। কারণ তিনি মনে করেন, তরুণ দলের কোচের কাজ হচ্ছে "আরো চ্যালেঞ্জিং, আরো মজার, আরো স্বাধীন"।

তিনি বলেন, তরুণ খেলোয়াড়দের উন্নতির জন্য ভালো কোচ দরকার।

একজন ভালো কোচের একটি সুষ্ঠু প্রশিক্ষণ-ব্যবস্থা ডিজাইন করা উচিত। কিন্তু যদি খেলা না থাকে তাহলে চর্চার সুযোগ থাকবে না। খেলা হচ্ছে সবচেয়ে ভালো শিক্ষক। যদি খেলা না থাকে, তাহলে খেলোয়াড়দের দক্ষতা উন্নত করা যাবে না।

১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপের পর, চীনের নারী ফুটবল দলের খেলার গুনগতমানে অনেক উত্থান-পতন দেখা যায়। কিন্তু ঐ বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের নারী ফুটবল দল বিগত ২০ বছর ধরে সবসময় একটি উচ্চমান বজায় রেখে আসছে।

সুন ওয়েন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লিগে খেলেছেন। তিনি মনে করেন, মার্কিন টিমের এত বছর ধরে ভালো পারফর্মেন্স বজায় রাখার কারণ হলো তাদের মূল দলের খেলার ব্যবস্থা। তিনি বলেন, "১৮ থেকে ২২ বছর বয়স পর্যন্ত, মার্কিন খেলোয়াড় ন্যাশনাল কলেজিয়েট অ্যাথলেটিক অ্যাসোসিয়েশনের উচ্চমানের লিগে খেলার মাধ্যমে নিজের খেলার মান অনেক উন্নত করে। অন্যদিকে, চীনের তরুণ খেলোয়াড়দের এ বয়সে খেলার ভালো সুযোগ নেই। যদি আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিযোগিতার মান উন্নত করি, তাহলে খেলোয়াড়রা ফুটবলের দক্ষতা উন্নত করা ছাড়াও, তারা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাও অর্জন করতে পারবে। টেকসই উন্নয়নের দিকে যদি বলি, ভবিষ্যতে যখন খেলোয়াড়রা অবসর নেবেন, তখন তাদের শিক্ষার ক্ষমতা, চিন্তার ক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক উন্নত হবে"।

১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে, চীনের নারী ফুটবল দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, যেমন- লিউ আই লিং, ওয়েন লি রং, তাদের বয়স ৩০বছরের বেশি। কিন্তু সুন ওয়েন আবিষ্কার করেন যে, এখন চীনের নারী ফুটবলারদের বয়স ২৪ বছরের কাছাকাছি হলেই তারা অবসর নেন। তিনি মনে করেন এটি অবিশ্বাস্য এবং তা দলের জন্য অনেক ক্ষতি বয়ে আনবে।

তিনি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের কার্লি অ্যান্নি লিয়ড হলেন ফিফার ২০১৫ সালের নারী বিশ্বকাপ ফুটবল বিজয়ী খেলোয়াড়। বর্তমানে তার বয়স ৩৭ বছর। তিনি এখনও খেলছেন। আমরা ৩০ বছর বয়স হওয়ার পর থেকে খেলা বুঝতে পারি এবং নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। এখন আমাদের অনেক খেলোয়াড় অনেক আগেই অবসর নিচ্ছেন, এটি চীনা ফুটবলের জন্য ক্ষতি বয়ে আনবে।"

বর্তমানে চীনের ফুটবল ক্লাবকে একটি নীতি পালন করতে হচ্ছে। যা নারী ফুটবলের জন্য কল্যাণকর। এ নীতি অনুযায়ী, ২০২০ সালে চীনা ফুটবল সংস্থা কর্তৃক আয়োজিত সুপার লিগে প্রবেশের যোগ্যতা অর্জনের আবেদনের জন্য সব ক্লাবের একটি নারী ফুটবল দল থাকতে হবে এবং এই নারী দলটিকে দেশের নারী সুপার লিগসহ দেশের সব লিগে অংশ নিতে হবে।

এ নীতি সম্পর্কে সুন ওয়েন বলেন, "পুরুষ ফুটবলের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে নারী ফুটবলেরও উন্নয়ন হচ্ছে। তা খুব ভালো একটি ব্যবস্থা। একটি খেলাধুলার সংস্থা হিসেবে ক্লাবের নিজের সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে।"

আকাশ: বন্ধুরা, ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে, সুন ওয়েনসহ চীনের নারী ফুটবল দলের প্রত্যেকের ভালো পারফর্মেন্সের কথা আমার এখনো মনে আছে। সেই বিশ্বকাপে চীন ফাইনাল খেলায় পরাজিত হয়। খুবই দু:খের ব্যাপার হচ্ছে এর পর চীনের নারী ফুটবল দল তাদের আগের ওই অবস্থান ধরে রাখতে পারে নি। বর্তমানে অনেক কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চীনের নারী ফুটবল দল আবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

এবার ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ থেকে চীনা নারী ফুটবল দল যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে দলটি সামনে এগিয়ে যাবে এবং নিজেদের খেলার মান উন্নত করতে পারবে বলে আশা করি।

টুটুল:...

আকাশ: বন্ধুরা, আমরা এখন খেলাধুলার অন্যান্য কিছু খবর আপনাদের সাথে শেয়ার করবো, কেমন?

টুটুল:..

আকাশ: বন্ধুরা, অনুষ্ঠান শেষে ‌আপনাদেরকে চীনের জিমনেস্টিকস সংক্রান্ত একটি চলচ্চিত্রের গান শোনাবো। গানটির নাম হচ্ছে: 'জাম্প'।

আশা করি গ্রীষ্মকালের এই গরমে স্বপ্নের দিকে যাওয়ার পথে, এ গান একটি ডাবের মতো, আপনাদেরকে শক্তি দিতে পারবে, সঙ্গ দিতে পারবে।

টুটুল: হ্যান্ডস্ট্যান্ড করে বিশ্বকে দেখি, যাতে চোখের পানি না ঝরে

পৃথিবী আকাশ হয়ে যায়,

পৃথিবী উল্টো হয়ে যায়,

কিন্তু আসলে বিশ্ব পরিবর্তন হয়নি।

আমি আমার স্বপ্নের পিছনে যথাসাধ্য চেষ্টা করছি

দিগন্ত বরাবর

সব প্রচেষ্টায় সামনে এগিয়ে যাও

এই পৃথিবীতে কোন্ জিনিস থাকতে পারে?

প্রচেষ্টার ঘামের পানি এবং পরিশ্রম

এখন কি এটার কোনো পরিবর্তন আছে?

আমি আমার স্বপ্নের পিছনে যথাসাধ্য চেষ্টা করছি,

দিগন্ত বরাবর

সব প্রচেষ্টায় অব্যাহতভাবে সামনে এগিয়ে যাও

জাম্প

সুন্দর ঘূর্ণায়মান বিশ্ব

জোর দিয়ে জাম্প

যাই ঘটুক না কেন

জাম্প

উষ্ণ রক্ত ব্যবহার করে নীল আকাশে উড়তে

জাম্প

তারপর আমরা পৃথিবীকে আকাশে পরিবর্তন করতে পারবো।

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040