Web bengali.cri.cn   
চীনের পেশাগত প্রশিক্ষণ সম্পর্কে সিপিপিসিসি'র সদস্যদের প্রস্তাব
  2019-03-25 13:23:06  cri

 


বন্ধুরা, চলতি বছর চীনের সরকারি কর্ম-বিবরণীতে আধুনিক পেশাগত শিক্ষার সংস্কার ও উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দক্ষ ব্যক্তিদের প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ এবং আরো বেশি যুবকদের প্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষ হয়ে ওঠার আশা প্রকাশ করেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি খ্য ছিয়াং।

আজকের অনুষ্ঠানে আধুনিক পেশাগত প্রশিক্ষণ নিয়ে চীনের গণরাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলন (সিপিপিসিসি)-র সদস্যদের প্রস্তাব তুলে ধরবো।

'বর্তমানে অনেক পিতামাতা নিজের বাচ্চাদের পেশাগত স্কুলে ভর্তি করতে চান না, কারণ প্রযুক্তির কাজ বেশ ক্লান্তিকর ও এতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় এই শিক্ষাগত যোগ্যতাও অনেক দুর্বল'।

পেশাগত প্রশিক্ষণের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক এ কথা বলেন। এই কথা থেকে চীনের পেশাগত প্রশিক্ষণের সম্মুখীন বড় চ্যালেঞ্জ বোঝা যায়। তাছাড়া, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যদিও চীনের পেশাগত প্রশিক্ষণ উন্নয়নে বিরাট সাফল্য অর্জিত হয়েছে, তবে আরো অনেক সমস্যাও দেখা দেয়। এ সম্পর্কে পেশাগত শিক্ষার গবেষক চীনের কুয়াংতুং প্রযুক্তিবিষয়ক নর্মাল একাডেমির উপ-প্রধান ম্যাডাম স্যু লিং বলেন,

'পেশাগত প্রশিক্ষণ স্কুলের দিক থেকে দেখলে প্রশিক্ষণের গুণ ভারসাম্যহীন। পেশাগত কাঠামোর চাহিদার সাথে তুলনা করলে এতে কিছু ব্যবধান লক্ষ্য করা যায় এবং স্কুলের অবকাঠামোও একটু দুর্বল।'

পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, ২০১৮ সালে চীনে পেশাগত স্কুলের সংখ্যা ১১ হাজার ৭০০টি, শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ কোটি ৬৮ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি। আধুনিক নির্মাণ ও নতুন শিল্পের কর্মসংস্থানের ৭০ শতাংশ লোক পেশাগত স্কুলের। চীনে কর্মসংস্থানের কর্মী সংখ্যা ৭৭ কোটি, তাদের মধ্যে প্রযুক্তিবিষয়ক কর্মী সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ, হাই টেক প্রযুক্তির দক্ষ ব্যক্তি মাত্র ৬ শতাংশ।

চীনের সিনিয়র প্রযুক্তি কর্মীর পরিমাণ জার্মানি ও জাপানের তুলনায় অর্ধেক, যা চীনের নির্মাণকারী বড় দেশ থেকে নির্মাণকারী শক্তিশালী দেশে উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে যথেষ্ট নয়। তাই চীনের পেশাগত শিক্ষার সংস্কার ও উন্নয়ন জোরদারে ব্যাপক মতৈক্যে পৌঁছেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে চীনের পেশাগত শিক্ষার গভীর সংস্কার বিষয়ক প্রস্তাব প্রকাশ করে চীনের রাষ্ট্রীয় পরিষদ। সরকারি কর্ম-বিবরণীতে পেশাগত স্কুলের শিক্ষার্থী নিয়োগ পদ্ধতি পূরণ করে আরো ১০ লাখ ছাত্রছাত্রী গ্রহণ করা হবে বলে নির্ধারণ করা হয়।

সিপিপিসিসি'র সদস্য, চীনের পেশাগত শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের উপ-মহাপরিচালক সু হুয়া মনে করেন, পেশাগত শিক্ষা-ব্যবস্থার পরীক্ষা পূরণ করা পেশাগত শিক্ষা উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন,

'পেশাগত শিক্ষার পরীক্ষা বাস্তবায়ন হলে মাঝারি পেশাগত স্কুলের ছাত্রছাত্রীরাও কলেজে আবেদন করতে সক্ষম হবে, যেন উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মতো। এছাড়া, নিয়োগের পরিমাণ ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশে দাঁড়ালে তখন বলা যাবে যে, পেশাগত শিক্ষার বসন্তকাল এসেছে।'

চলতি বছরের সরকারি কর্ম-বিবরণীতে পেশাগত স্কুলের বৃত্তির পরিমাণ ও মানদণ্ড উন্নীত করা এবং পেশাগত প্রমাণপত্র ও দক্ষতার সনদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ সম্পর্কে সিপিপিসিসি'র সদস্য স্যু লিং বলেন, চীনের পেশাগত শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ছিংহুয়া ও পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শ্রেষ্ঠ স্কুল তৈরি করা অনেক ভালো ব্যাপার। তিনি বলেন,

'আমাদেরকে শিক্ষকতার মানদণ্ড স্থাপন করতে হবে। যোগ্য শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিতে সক্ষম। শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট মানদণ্ড জানানো হয়েছে। যেমন '১ প্লাস এক্স' সনদপত্র রাষ্ট্রীয় মানদণ্ডের কাঠামো অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। শিক্ষার্থীদের দক্ষ জ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ে ভারসাম্যতা তৈরি করতে হবে এবং এতে শিল্প-প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণও প্রয়োজন। এ ব্যবস্থা গঠন করা হচ্ছে।'

পেশাগত শিক্ষায় শিল্প ও প্রশিক্ষণের সংমিশ্রণে বিদেশের অভিজ্ঞতার কথাও বিবেচনা করেছেন সিপিপিসিসি'র সদস্যরা। এ সম্পর্কে সু হুয়া বলেন,

'জার্মানিসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের পেশাগত শিক্ষায় স্কুল ও শিল্প-প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা অনেক ঘনিষ্ঠ, তবে এতে আমাদের দেশের শিল্প-প্রতিষ্ঠানের আবেগ সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ হয় নি। সরকারি কর্ম-বিবরণীতে ব্যাপকভাবে কর হ্রাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ কর কমানোর নীতি স্কুল ও শিল্প-প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় প্রয়োগ করতে চাই, যাতে শিল্প-প্রতিষ্ঠানকে উত্সাহ দেওয়া যায় এবং শিল্প-প্রতিষ্ঠান ও স্কুলের সহযোগিতা গভীরতর করা যায়।'

পেশাগত প্রশিক্ষণ স্কুলের বরাদ্দ বাড়ানো এবং এ ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সরকারের সংশ্লিষ্ট সমর্থন জোরদারের কথা ঘোষণা করা হয় সরকারি কর্ম-বিবরণীতে। এ সম্পর্কে চীনের অর্থমন্ত্রী লিউ খুন বলেন, চলতি বছর চীনের কেন্দ্রীয় সরকার আধুনিক পেশাগত শিক্ষার মান উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিশেষভাবে ২৩.৭ বিলিয়ন ইউয়ান বরাদ্দ দেবে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬.৬ শতাংশেরও বেশি।

আধুনিক পেশাগত প্রশিক্ষণের উন্নয়ন নিয়ে চীন সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ সমাজে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। সবাই এ কাজের সুউজ্জ্বল ভবিষ্যত দেখতে পান। এ সম্পর্কে সিপিপিসিসি'র সদস্য, শাংহাই সিয়াংচিয়াং কোম্পানির মহাপরিচালক মা কুও সিয়াং মনে করেন, চীনে প্রযুক্তিবিষয়ক দক্ষ ব্যক্তি ব্যাপকভাবে প্রয়োজন। তিনি বলেন,

'আমরা জার্মানিসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের অভিজ্ঞতা শিখি ও খেয়াল করি যে, তাদের প্রযুক্তি কর্মীর সংখ্যা অনেক বেশি। চীন সরকারের গুরুত্ব ও উদ্যোগে ভবিষ্যতে পেশাগত শিক্ষা গ্রহণকারীর সংখ্যা অনেক বাড়বে বলে বিশ্বাস করি। আমরা কর্মী নিয়োগের সময় তার কর্ম-অভিজ্ঞতার ওপর মনোযোগ দিয়ে থাকি।'

সিপিপিসিসি'র সদস্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-র দূত পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সাবেক প্রধান ম্যাডাম ইয়াং ইয়ান ই বলেন,

'এবার চীনের সরকারি কর্ম-বিবরণীতে বিভিন্ন পেশার দক্ষ ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন পেশার কর্মীদের সম্মান দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু কর্মকর্তা হওয়া নয়, ইউরোপে শ্রেষ্ঠ হস্তকর্মশিল্পী ও দক্ষ প্রযুক্তি ব্যক্তি হতে পারাটাও লোকজনের কাছে ব্যাপক সম্মানের বিষয়।'

একজন পেশাগত প্রযুক্তি স্কুলের শিক্ষার্থী বলেন,

'দুই অধিবেশনের সরকারি কর্ম-বিবরণীতে পেশাগত শিক্ষার সংস্কারে ধারাবাহিক নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। পেশাগত উচ্চ বিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়ার পর আমিও কলেজে আবেদন করতে পারবো। এমন প্রেক্ষাপটে আমি আমার ভবিষ্যত কর্মসংস্থান নিয়ে অনেক আশাবাদী।'

সুপ্রিয় শ্রোতা, এতক্ষণ আপনারা চীনের পেশাগত শিক্ষা সম্পর্কে সিপিপিসিসি'র সদস্যদের প্রস্তাব ও পরামর্শ বিষয়ক প্রতিবেদন শুনলেন। এখন শুনবেন সিআরআই বাংলার পুরনো শ্রোতা ও বেইজিং ক্যাপিটাল নর্মাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ওয়াসিক ওসমান নাফির সাক্ষাত্কার। (সুবর্ণা/টুটুল/স্বর্ণা)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040