দূষণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এগিয়ে নেবে চীন
  2019-03-12 15:15:25  cri

চীনের প্রাকৃতিক পরিবেশমন্ত্রী লি কান চিয়ে গতকাল (সোমবার) বেইজিংয়ে বলেন, চীনে 'নীল আকাশ রক্ষা যুদ্ধ' শেষ হয়েছে এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। ২০১৯ সালে চীন অব্যাহতভাবে দূষণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ, প্রাকৃতিক পরিবেশের সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার, সবুজ ও পরিবেশবান্ধব শিল্প জোরদার করবে এবং বিশ্বের অনাবিল আবহাওয়া ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কাজে অংশ নেবে।

বেইজিংয়ে চলছে ত্রয়োদশ জাতীয় গণকংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশন এবং দূষণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণসহ নানা বিষয় ইতোমধ্যে ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। চীনের প্রাকৃতিক পরিবেশমন্ত্রী লি কান চিয়ে সোমবার বেইজিংয়ে দেশ-বিদেশের সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ২০১৮ সালে চীনের বায়ুমণ্ডল অনেক উন্নত হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালে চীনের ৩৩৮টি শহরে আবহাওয়া ভালো ছিল এবং তুলনামূলক ভালো দিনের সংখ্যা ২০১৭ সালের তুলনায় ১.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৯.৩ শতাংশে। পিএম ২.৫-এর ঘনত্ব ৯.৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সার্বিক দিক থেকে দেখলে চীনের 'নীল আকাশ রক্ষা যুদ্ধে' বেশ অগ্রগতি ও সফলতা অর্জিত হয়েছে।

চলতি বছরের সরকারি কর্মবিবরণীতে জোর দিয়ে বলা হয়, ২০১৯ সালে চীন অব্যাহতভাবে দূষণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং 'নীল আকাশ রক্ষা'-ব্যবস্থা মজবুত করবে। সালফার ডাই অক্সাইড ও নাইট্রোজেন অক্সাইড নিঃসরণ ৩ শতাংশ কমাবে। গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে পিএম ২.৫-এর ঘনত্ব আরও কমানোর চেষ্টা করা হবে। লি কান চিয়ে বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ মন্ত্রণালয় সবুজ উন্নয়নের নতুন পথ গড়ে তুলবে।

তিনি বলেন, দূষণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ যুদ্ধে জয় লাভ করতে চাইলে তিনটি ভিত্তি জোরদার করতে হয়। এই তিনটি ভিত্তি হলো: সবুজ উত্পাদন বৃদ্ধি ও জীবনযাপনের রীতি গড়ে তোলা, প্রাকৃতিক ব্যবস্থার সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার জোরদার করা এবং অনাবিল প্রাকৃতিক পরিবেশ ও দক্ষতার আধুনিকায়ন জোরদার করা। পরিষ্কার পানি ও সবুজ পাহাড়ি অঞ্চল গড়ে তোলা। প্রকৃতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সবুজ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাওয়া। এমন একটি উচ্চ গুণগত মানের উন্নয়নের পথ তৈরি করা এবং দেশব্যাপী জনপ্রিয় একটি উন্নয়নের পদ্ধতি তৈরি করার কথা বলেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা আন্তর্জাতিক সমাজের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। লি কান চিয়ে বলেন, বৃহত্তম উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে চীন ইতিবাচকভাবে বিশ্বের জলবায়ুসংক্রান্ত কাজে অংশগ্রহণ করছে। ২০০৫ সালের তুলনায় প্রতি ইউনিট জিডিপিতে কার্বন নির্গমন ৪৫.৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল এবং ২০২০ সালে ৪০-৪৫ শতাংশ হ্রাস পাওয়ার উদ্দেশ্য বেশ আগেই বাস্তবায়িত হয়েছে। পাশাপাশি চীনে চালু হয়েছে কার্বন নির্গমন বিনিময় ব্যবস্থা যা গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ভূমিকা পালন করবে। লি কান চিয়ে আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার জাতীয় কৌশলে অবিচল থাকবে চীন। তিনি বলেন,

প্রথমত, চীন নিম্ন কার্বন প্রযুক্তির গবেষণা ও প্রচারণায় সমর্থন দেবে। দ্বিতীয়ত, কার্বন বাজারের ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো নির্মাণ ও দক্ষতা নির্মাণ জোরদার করবে এবং গ্রিণহাউস গ্যাস নির্গমন কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে। তৃতীয়ত, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে খাপ খাইয়ে নেবে, গ্রিণহাউস ও নিম্ন কার্বন উন্নয়ন এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং নতুন জীবনযাপন রীতি প্রবর্তন করবে। চতুর্থত, বিশ্বের অনাবিল জলবায়ু তৈরির কাজে জোরাল অংশগ্রহণ করবে। পঞ্চমত, অর্থনীতি উন্নয়নের নতুন চালিকাশক্তি লালন করবে এবং নিম্ন-কার্বন-অর্থনীতির রূপান্তর, প্রাকৃতিক সভ্যতা নির্মাণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণসহ নানা কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে এবং বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নতুন অবদান রাখবে চীন।

বিশ্বের প্রাচুর্যময় জীববৈচিত্র্যের অন্যতম দেশ চীন। এদেশে ২০২০ সালে জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য চুক্তির ১৫তম স্বাক্ষর-বর্ষ সম্মেলন আয়োজন করা হবে। লি কান চিয়ে বলেন, চীন জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ করবে এবং জীববৈচিত্র্যর পর্যবেক্ষণ ও মূল্যয়নকাজ জোরদার করবে।

(শিশির/তৌহিদ/রুবি)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040