Web bengali.cri.cn   
রোববারের আলাপন-190203
  2019-02-03 15:43:33  cri


আকাশ: সুপ্রিয় শ্রোতা, সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি চীন আন্তর্জাতিক বেতারের বাংলা অনুষ্ঠানে। আপনাদের আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আমাদের সাপ্তাহিক আয়োজন 'রোববারের আলাপন'। আপনাদের সঙ্গে আছি এনামুল হক টুটুল এবং শিয়েনান আকাশ।

আকাশ: হ্যাপি চাইনিজ নিউ ইয়ার

টুটুল: হ্যাপি চাইনিজ নিউ ইয়ার

আকাশ: বন্ধুরা, আগামীকাল হচ্ছে চীনের 'সান সি', মানে চীনের চান্দ্রনববর্ষের আগের দিন। এ দিন চীনারা যত দূরেই থাকুক না কেন, সবাই জন্মস্থানে পরিবারের কাছে ফিরে যান। আসলে আমার কাছে এ বছরের 'সান সি'র বিশেষ অর্থ আছে।

টুটুল: কি অর্থ আছে ভাই?

আকাশ: তুমি তো জানো, আমি দু'বছরেরও বেশি সময় বাংলাদেশে ছিলাম। গত বছরে আমি চীনে ফিরে এসেছি। এজন্য আমি দুই বছর বাসায় বসন্ত উত্সব পালন করতে পারিনি। যদি পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে না পারি, তাহলে বসন্ত উত্সব প্রায় অর্থহীন। অনেক সুস্বাদু খাবার খেলেও যদি পরিবার সঙ্গে না থাকে তাহলে এ উত্সব একেবারে অর্থহীন। তাইনা ভাই? এজন্য এ বছরের 'সান সি' নিয়ে আমি খুব উদ্দীপিত এবং আনন্দিত।

টুটুল:...

ভাই, চীনারা 'সান সি'তে কি কি করে ভাই?

আকাশ: আচ্ছা। বন্ধুরা, আমি তাহলে আমার আগের বসন্ত উত্সবের গল্প আপনাদের সাথে শেয়ার করি, তাহলে 'সান সি'সহ আপনারা বুঝতে পারবেন চীনারা কিভাবে বসন্ত উত্সব কাটায়, কেমন?

বন্ধুরা, আমি প্রথম কয়েক বছর চীন আন্তর্জাতিক বেতারে কাজ করার সময় বসন্ত উত্সবের মধ্যে অফিস করেছি, মানে জন্মস্থানে ফিরে যেতে পারি নি। তারপর এক বছর বসন্ত উত্সবের সময় ছুটি পাই। আসলে ভাই, বসন্ত উত্সবের সময় ট্রেন বা বিমানের টিকিট কেনা অনেক অনেক কঠিন। ভাই, ঈদের সময় বাংলাদেশের অবস্থাও একইরকম, তাইনা?

টুটুল:...

আকাশ: এজন্য অনেক কষ্ট করে প্রতিদিন সকালে টিকিট কাউন্টারে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরও আমার জন্মস্থান হান তানে ফিরে যাওয়ার টিকিট পাইনি। তখন ট্রেনের টিকিট কেনার কোনো মোবাইল অ্যাপ ছিলোনা। এজন্য ট্রেন স্টেশন বা টিকিট কাউন্টারে গিয়ে টিকিট কিনতে হতো।

টুটুল: তারপর কি হলো ভাই?

আকাশ: আমি আশা ছেড়ে দেইনি। অনেক চেষ্টার পর 'সান সি' অর্থাত্ বসন্ত উত্সবের আগের দিন বিকেলে হান তানে ফিরে যাওয়ার একটি টিকিট পাই। কিন্তু কোনো সিট নেই। আসলে তখন সিট কোনো ব্যাপার না, টিকিট পাওয়াটাই বড় ব্যাপার। টিকিট পাওয়ার পর, আমি খুশিতে পাগল হয়ে যাই। কারণ সবাই 'সান সি'র আগে বাসায় ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এজন্য 'সান সি'র দিন বিকেলে বা সন্ধ্যায় টিকিট তুলনামূলকভাবে একটু সহজে কিনতে পারা যায়।

টুটুল: ভাই আপনি তখন কয়টার সময় হান তানে পৌঁছালেন?

আকাশ: বেইজিং থেকে হান তানের দূরত্ব ৪৪০ কিলোমিটার। দ্রুতগতির ট্রেনে বেইজিং থেকে হান তানে প্রায় দু ঘন্টায় পৌঁছানো যায়। যাইহোক আমি প্রায় পাঁচটার সময় দাদার বাড়ি পৌঁছাই। তার পর প্রথমে আমি এবং আমার বাবা একসাথে দাদীর স্মরণে একটা অনুষ্ঠান করি। এরপর আমরা বাসায় ফিরে যাই। বিকালে ইতোমধ্যে সবাই সব চিয়াও জি বা ডাম্পলিং তৈরি করা সম্পন্ন করেছেন। টুটুল, তুমি আমাদের ভাইবোনদেরকে চিয়াও জি সম্পর্কে কিছু বলতে পারবে?

টুটুল:

আকাশ: বন্ধুরা, চীনে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে বসন্ত উত্সবের সান সি, চু ই, ফো উ, মানে চীনের চান্দ্র নববর্ষের আগের দিন, প্রথম দিন এবং পঞ্চম দিন সবাই চিয়াও জি তৈরি করে খান। এ বিশেষ সময়ে সবাই যত দূরেই থাকুক না কেন, সবাই জন্মস্থানে ফিরে যান এবং একসাথে চিয়াও জি তৈরি করেন। টুটুল, বাংলাদেশে ঈদের সময় চীনের চিয়াও জি'র মতো একরকম বিশেষ কোনো খাবার আছে?

টুটুল:... ভাই, আমার একটি প্রশ্ন আছে, চীনারা বসন্ত উত্সব ছাড়া অন্যসময়ে কি চিয়াও জি খান?

আকাশ: হ্যাঁ। অবশ্যই। ইচ্ছা মতো খেয়ে থাকেন। যেমন আমার বাবা চিয়াও জি খেতে অনেক পছন্দ করেন। এজন্য মা প্রায় প্রতি সপ্তাহে চিয়াও জি তৈরি করেন। এজন্য ছোটবেলায় চিয়াও জি খেতে আমার অনেক বিরক্ত লাগতো।

টুটুল: কারণ তখন অনেক খেয়েছেন, হাহা।

আকাশ: জ্বি। কিন্তু, জন্মস্থান থেকে বেইজিংয়ে যাওয়ার পর, বিশেষ করে চীন থেকে বাংলাদেশের উত্তরায় থাকার সময়, আমি আমার বাবার মতো চিয়াও জি খেতে অনেক পছন্দ করি। আসলে চিয়াও জি আমার কাছে শুধু একটি সুস্বাদু খাবারই নয়, এটা মানে বাড়ি, পরিবারের সম্মিলন।

টুটুল: ভাই, আমার মনে কিছু দু:খ বোধ করি।...

আকাশ: ভাই, তুমি দু:খ বোধ করবে না, চীনে আমি তোমাকে যত্ন নেবো। এখানে তুমি একা না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, আমরা যখন যেখানেই থাকি না কেন, আমাদের পরিবার সবসময় আমাদের সাথে থাকে। পরিবার সবসময় আমাদের পাশে থাকে, আমাদের মনে থাকে। পরিবার সবসময় আমাদেরকে সমর্থন করে এবং সঙ্গ দেয়।

টুটুল: ভাই, তাহলে আন্টি সব চিয়াও জি তৈরি করার পর সিদ্ধ করেন, তাইনা?

আকাশ: জ্বি। তবে চিয়াও জি সিদ্ধ করার আগে, চীনে একটি রীতি আছে, পরিবারের বড় ছেলে আতশবাজি ফোটাবেন। আতশবাজি ফোটানোর সাথে সাথে চিয়াও জি সিদ্ধ করা শুরু হবে।

টুটুল: তার মানে, আতশবাজি না ফোটালে চিয়াও জি সিদ্ধ করা হবেনা,তাইনা ভাই?

আকাশ: হ্যাঁ। তুমি ঠিকই বলেছো। আমি তখন অনেক দিন জন্মস্থানে বা দাদার বাড়িতে বসন্ত উত্সব কাটাই নি। এ জন্য মন অনেক উদ্দীপিত। চিয়াও জি সিদ্ধ করার পর দাদা, বাবা, মা এবং আমি টেবিলে গোল হয়ে বসে খেতে শুরু করি।

তখন ওই মুহূর্তে আমার চোখে পানি চলে আসে। আমার পরিবার যেন আমার চোখের পানি না দেখতে পারে সেজন্য আমি আমার মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নেই।

ভাই, ওই মুহূর্তটি আমি কখনোই ভুলতে পারবো না। ভাই, ঈদে তোমার বাড়ি ফিরে যাওয়ার গল্প আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারো?

টুটুল:....

টুটুল: ভাই, সান সি সন্ধ্যায় চিয়াও জি খাওয়ার পর আপনারা কি কি করেছেন?

আকাশ: তখন আমরা চিয়াও জি খাওয়ার পর, দাদার সাথে একসাথে সিসিটিভি'র বসন্ত উত্সবের 'গালা ইভিনিং' দেখি। তারপর দাদা ঘুমানোর পর, আমি মা বাবার সাথে নিজের বাসায় ফিরে গিয়ে অব্যাহতভাবে বসন্ত উত্সবের 'গালা ইভিনিং' দেখতে থাকি।

টুটুল: তারপর কি করেছেন?

আকাশ: রাত ১২টার জন্য অপেক্ষা করতে থাকি। অর্থাত্ আমরা গালা ইভিনিং দেখতে দেখতো নতুন বছরের শুরুর জন্য অপেক্ষা করি। তারপর নতুন বছর শুরু হবার ঠিক ওই মুহূর্তটিতে সবাই বাইরে গিয়ে আতশবাজি ফোটাই। তখন সারা শহর আতশবাজির শব্দে ভরে ওঠে।

টুটুল: কিন্তু এখন আতশবাজির শব্দ এতো বেশি নেই কেন?

আকাশ: এখন পরিবেশ বা বায়ু দূষণ বন্ধ করতে চীনের অধিকাংশ শহরে আতশবাজি নিষেধ করা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষার জন্য এটা অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। কিন্তু আতশবাজি ছাড়া বসন্ত উত্সবের আবহ অনেক কমে যায়। ভাই, তুমি জান, ছোটবেলায় আমরা অনেক লম্বা সময় আগে থেকেই বসন্ত উত্সবের অপেক্ষায় থাকতাম। কারণ তখন আতশবাজি ফোটাতে পারি। হাহাহহা, আর এটা ছিলো ভীষণ মজার এবং আনন্দের।

টুটুল:...

আকাশ: বন্ধুরা, আজ এ পর্যন্তই, আগামী অনুষ্ঠানে অব্যাহতভাবে বসন্ত উত্সবের রীতিনীতি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করবো, কেমন? নতুন বছরে আপনারা সুস্থ, সুন্দর ও আনন্দে থাকুন, এই প্রত্যাশা করছি। নতুন বছরে আমরা একসাথে অব্যাহতভাবে সুন্দর জীবনের জন্য সময়ের সঠিক ব্যবহার করবো এবং বেশি বেশি পরিশ্রম করবো।

করি।

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040