Web bengali.cri.cn   
চীনে ২০১৮ সালে স্বর্ণের ভোগ ৫.৭৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১,১৫১.৪৩ টনে (অর্থ-কড়ি; ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)
  2019-02-10 14:10:57  cri


১. সম্প্রতি লন্ডনে, চীনের বসন্ত উত্সব উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে, ব্রিটেনের বাণিজ্য ও রফতানি উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী ব্যারোনেস রনা ফেয়ারহেড বলেন, চীনে যুক্তরাজ্যের রফতানি দিন দিন বাড়তেই থাকবে। চীনের বাজারে ব্রিটিশ পণ্য ও সেবার চাহিদা আছে। 

ফেয়ারহেড আরও বলেন, বর্তমানে চীন-ব্রিটেন বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৬৬০০ কোটি পাউন্ড স্টার্লিং (৮৬২০ কোটি মার্কিন ডলার)। গেল বছরের প্রথম ৯ মাস ব্রিটেনের রফতানি-বাণিজ্য ছিল বিশেষভাবে শক্তিশালী। ওই নয় মাসে ব্রিটেন চীনে ২২৪০ কোটি পাউন্ড স্টার্লিংয়ের পণ্য ও সেবা রফতানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪.৯ শতাংশ বেশি। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির আরও সুযোগ রয়েছে।

ফেয়ারহেড জানান, ব্রিটেন চীনে অনুষ্ঠেয় 'বেইজিং হর্টিকালচার এক্সপো'-তে অংশগ্রহণ করবে, যেটি চলতি বছরের এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এক্সপোতে দেড় কোটির বেশি দর্শনার্থী আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এটি হবে এ ধরনের বৃহত্তম এক্সপো।

২. চীনে ২০১৮ সালে স্বর্ণের ভোগ ৫.৭৩ শতাংশ বেড়ে ১,১৫১.৪৩ টনে দাঁড়ায়। এ নিয়ে টানা ছয় বছর ধরে চীন বিশ্বের শীর্ষ স্বর্ণভোক্তার স্থানটি দখল করে আছে। চায়না গোল্ড এসোসিয়েশান সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রকাশিত তথ্যানুসারে, গত বছর স্বর্ণালঙ্কারের ভোগ ৫.৭১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৭৩৬.২৯ টনে এবং স্বর্ণের বারের ভোগ ৩.১৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ২৮৫.২ টনে। তা ছাড়া, শিল্পখাতে ও অন্যান্য খাতে স্বর্ণের ভোগ ১৭.৪৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১০৫.৯৪ টনে।

এদিকে, গত বছর চীন মোট স্বর্ণ উত্পাদন করেছে ৪০১.১২ টন, যা আগের বছরের চেয়ে ৫.৮৭ শতাংশ কম। এরপরেও, গত ১২ বছর ধরেই চীন বিশ্বের শীর্ষ স্বর্ণ-উত্পাদনকারীর স্থানটি দখলে রেখেছে।

৩. গত বছর চীনের সংস্কৃতি ও সংস্কৃতিসংশ্লিষ্ট খাতে রাজস্ব দাঁড়ায় ৮.৯৩ ট্রিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ১.৩৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার)-এ, যা আগের বছরের চেয়ে ৮.২ শতাংশ বেশি। চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো সম্প্রতি এ তথ্য জানায়।

ব্যুরো জানায়, ৯টির মধ্যে ৭টি সংস্কৃতিসংশ্লিষ্ট খাতে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে সবেচেয়ে বেশি। এগুলোর মধ্যে সংবাদ ও তথ্যসেবা খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৪ শতাংশ। সৃষ্টিশীল নকশা ও সাংস্কৃতিক সম্প্রচার খাতে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় যথাক্রমে ১৬.৫ ও ১২ শতাংশ।

৪. ২০১৮ সালে চীনে ইন্টারনেট ও ইন্টারনেটসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় হয়েছে ৯৫ হাজার ৬২০ কোটি ইউয়ান, যা ২০১৭ সালের চেয়ে ২০.৩ শতাংশ বেশি। চীনের শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৮ সালে চীনে ইন্টারনেটশিল্পে সবচেয়ে বেশি আয় করেছে কুয়াং তুং প্রদেশ, শাংহাই ও বেইজিং। এই তিনটি অঞ্চলের আয় বেড়েছে যথাক্রমে ২৬.৫ শতাংশ, ২০ শতাংশ ও ২৫.৩ শতাংশ।

৫. চলতি বসন্ত উত্সবের সময় তথা ৪ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, চীনের বিমানবন্দরগুলো দিয়ে প্রতিদিন গড়ে যাতায়াত করবেন ১৭ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী, যা গত বছরের চেয়ে ৮.৯ শতাংশ বেশি। চীনের প্রবাসী ব্যবস্থাপনা ব্যুরো সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে।

ব্যুরো জানায়, বেইজিং বিমানবন্দর, শাংহাই ফুতুং বিমানবন্দর, হোংছিয়াও বিমানবন্দর, কুয়াংচৌ পাইইয়ুন বিমানবন্দর, শেংতু শুয়াংলিউ বিমানবন্দরসহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের ভিড় হয় ৪ থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

এদিকে, চীনের প্রবাসী ব্যবস্থাপনা ব্যুরো বসন্ত উত্সবের সময় বিভিন্ন বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে; নিরাত্তাব্যবস্থাও করেছে জোরদার। পাশপাশি, বৃদ্ধ, শিশু, ও প্রতিবন্ধীদের সাহায্য করতে নিয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

৬. চীন ও ভারতে দ্রুত বিভিন্ন তেলজাত রাসায়নিক পণ্যের চাহিদা বাড়ছে, যা এ শিল্পের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ২০১৮ সালের শেষ নাগাদ অনুষ্ঠিত সংশ্লিষ্ট এক সম্মেলনে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

সম্মেলনে বলা হয়, আগামী ১০ বছরে ভারতে তেলজাত রাসায়নিক পণ্যের চাহিদা দ্বিগুণ বেড়ে প্রতিবছর ৪ কোটি টন হবে। এদিকে, আইএমএফের পূর্বাভাস অনুসারে, ২০১৯ সালে ভারতের অর্থনীতিতে ৭.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

৭. গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভারতের অর্থনীতিতে ৭.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো সম্প্রতি এ তথ্য জানায়।

প্রকাশিত তথ্যানুসারে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভারতের জিডিপি দাঁড়ায় ১৩১.৮ ট্রিলিয়ন রুপিতে (প্রায় ১.৮৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার)। তা ছাড়া, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশের অর্থনীতিতে ৭.১ শতাংশ নয়, বরং ৮.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়।

৮. ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (পয়লা অক্টোবর থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত) মিয়ানমারের সমুদ্র-বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৭০ কোটি মার্কিন ডলারে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়কালের চেয়ে ২৩ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার বেশি। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এ তথ্য জানায়।

মন্ত্রণালয় জানায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে সমুদ্রপথে রফতানির পরিমাণ ছিল ২৮৩ কোটি মার্কিন ডলার এবং আমদানি ৪৮৭ কোটি মার্কিন ডলার।

উল্লেখ্য, মিয়ানমার মূলত কৃষিপণ্য, প্রাণীজাত পণ্য, মত্স্য, খনিজ, ও বনজপণ্য রফতানি করে থাকে।

৯. চলতি বছরের প্রথম মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার রফতানি কমেছে। কারণ, আন্তর্জাতিক বাজারে স্থানীয়ভাবে নির্মিত সেমি-কন্ডাক্টর ও তেলজাত পণ্যের চাহিদা কমে গেছে। একটি সরকারি প্রতিবেদনে সম্প্রতি এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুসারে, জানুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়া রফতানি করেছে ৪৬৩৫ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য ও সেবা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫.৮ শতাংশ কম।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জানুয়ারিতে দেশটি আমদানি করেছে ৪৫০২ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য ও সেবা। এর মানে, জানুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যউদ্বৃত্ত ছিল ১৩৩ কোটি মার্কিন ডলার।

১০. ২০১৮ সালে ব্রিটেনে কার উত্পাদন কমেছে আগের বছরের চেয়ে ৯.১ শতাংশ। তবে, কার রফতানি বেড়েছে রেকর্ডপরিমাণ। সোসাইটি অব মোটর ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স সম্প্রতি এ তথ্য জানায়।

প্রকাশিত তথ্যানুসারে, ২০১৮ সালে ব্রিটেনে কার উত্পন্ন হয়েছে ১.৫১ মিলিয়ন ইউনিট। এর ৮১.৫ শতাংশই বিদেশে রফতানি হয়েছে। এর মধ্যে ইইউভুক্ত দেশগুলো আমদানি করেছে ৬৫০,৬২৮ ইউনিট কার, যা ব্রিটেনের মোট রফতানির ৫২.৬ শতাংশ। .

১১. বাজেট ঘাটতি মেটাতে বাংলাদেশ সরকার চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে যে-পরিমাণ অর্থ ধার করার লক্ষ্য ঠিক করেছিল, তার প্রায় পুরোটা নিয়ে ফেলেছে প্রথম ছয় মাসেই।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ২৫ হাজার কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। অথচ এবারের বাজেটে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য ঠিক করেছিল।

পুঁজিবাজারের অস্থিরতা আর ব্যাংকে মেয়াদি হিসাবে সুদের হার কম থাকায়, গত কয়েক বছর ধরেই সঞ্চয়পত্র সাধারণ মানুষের কাছে 'বিনিয়োগের নিরাপদ ক্ষেত্র' হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকগুলো আমানতের সুদহার কিছুটা বাড়ানোর পরও সঞ্চয়পত্র বিক্রি খুব একটা কমেনি।

উল্লেখ্য, আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধের পর যা অবশিষ্ট থাকে, তাকে বলা হয় নিট বিক্রি। ওই অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে এবং সরকার তা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজে লাগায়।

১২. বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পে আরও বড় আকারে বিনিয়োগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে ডামেন। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, এবং বিগত দশ বছরের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ইত্যাদি বিবেচনায় রেখে ডামেন এমন আগ্রহ দেখাচ্ছে। সম্প্রতি এক বৈঠকে ডামেনের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেনে বারকভেন্স নেদারল্যান্ডস-এ নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ মুহম্মদ বেলালের কাছে এই আগ্রহের কথা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রদূত বেলাল দূতাবাসের কর্মকর্তাসহ সেদিন নেদারল্যান্ডস-এর গোরিনচেমে অবস্থিত ডামেন শিপইয়ার্ড পরিদর্শন করেন এবং সমুদ্রগামী বিভিন্ন জাহাজের নমুনা দেখেন।

উল্লেখ্য, সত্তরের দশক থেকে ডামেন বাংলাদেশের শিপিং সেক্টরে কাজ করছে। অনেক বছর ধরেই ডামেন বাংলাদেশে ড্রেজার সরবরাহ করে আসছে। বিআইডব্লিউটিএ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, খুলনা শিপইয়ার্ড, চট্রগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড, বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং বাংলাদেশ কোষ্ট-গার্ডের সাথে এই প্রসিদ্ধ কোম্পানিটির সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে।

(আলিমুল হক)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040