Web bengali.cri.cn   
মিসরে মাইক পম্পেওর ভাষণ
  2019-01-11 11:09:23  cri
মধ্যপ্রাচ্য সফর উপলক্ষ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও গত বুধবার মিসরের রাজধানী কায়রোতে পৌঁছান। গত বৃহস্পতিবার মিসরের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নিয়ে ভাষণ দিয়েছেন মাইক পম্পেও। আজকের সংবাদ পর্যালোচনায় আমরা এ বিষয় নিয়েই আলোচনা করবো।

কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ভাষণ দেন মাইক পম্পেও। মিসর হচ্ছে এবারের সফরের এক গুরুত্বপূর্ণ দেশ। ভাষণে মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ধারণা সার্বিকভাবে উল্লেখ করা হয়।

ভাষণে বলা হয়, 'মধ্যপ্রাচ্য-সংক্রান্ত কৌশলগত জোট' অর্থাত্ 'আরব সংস্করণের ন্যাটো' সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। একে 'আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি বাস্তবায়নের' উপায় বলে অভিহিত করা হয়। এই জোট গড়ে তুলতে পরবর্তী উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মিসর ও এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের দৃঢ় সহযোগী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আরও প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের কল্যাণকর শক্তি ।

সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য সরিয়ে নেয়া সম্পর্কিত আলোচনায় মাইক পম্পেও বলেন, সিরিয়ায় সন্ত্রাস দমন তত্পরতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত, সিরিয়া থেকে সেনা সরিয়ে নেবে না যুক্তরাষ্ট্র। চরমপন্থী সংস্থা ইসলামিক স্টেট ও অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দমনে অন্যান্য সহযোগীদের সঙ্গে আরও অব্যাহতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ইরান হচ্ছে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের সর্বোচ্চ হুমকি। তিনি বলেন, ইরান চলমান অবস্থাতে অবিচল থাকতে চাইলে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা কখনো নিশ্চিত হবে না এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও কখনো বাস্তবায়িত হবে না। এই অঞ্চলসহ বিশ্বে ইরানের নেতিবাচক প্রভাব দূর করতে ইরানের উপর অবরোধ আরও বাড়িয়ে দেবে যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি আরও বলেন, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের স্থায়ী শান্তি বাস্তবায়নে আরও কাজ করতে দু'পক্ষকে তাগিদ দেবে ট্রাম্প প্রশাসন। ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে জেরুসালেমকে স্বীকারও করতে থাকবে ওয়াশিংটন।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে, মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মিসর সফর করেন। ওই সফরে মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে কায়রোতে ভাষণও দেন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু এবার মাইক পম্পেও'র ভাষণে অনেক পরিবর্তন দেখা যায়, যাতে ২০০৯ সালের ভাষণের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।

মিসরের শীর্ষনেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠককালে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং দু'দেশের কৌশলগত সহযোগিতা গভীরতর করতে একমত হয়েছে দু'পক্ষ। মিসরের প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে এবং সুদীর্ঘকালের কৌশলগত সম্পর্ক গভীরতর করতে মিসর ইচ্ছুক। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অভিন্ন স্বার্থ জড়িত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সমস্যায় সমন্বয় করার প্রত্যাশায় রয়েছে মিসর। মিসরের প্রেসিডেন্টকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুভেচ্ছা জানিয়ে পম্পেও বলেন, মিসরের অবিরাম উন্নয়ন বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন ধর্মের লোকজনের সুষ্ঠু বসবাসের জন্য যে প্রচেষ্টা, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠককালে এক গুরুত্বপূর্ণ মতৈক্যে পৌঁছেছে দু'পক্ষ। তা হল মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের অতীতকালের সংলাপের ভিত্তিতে দু'পক্ষের '২+২'সংলাপ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। অর্থাত্, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সংলাপ ব্যবস্থা ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সংলাপ ব্যবস্থা। দু'পক্ষ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক ও উন্নয়ন ক্ষেত্রের সহযোগিতা জোরদার করতে চায়।

সেই সঙ্গে, ইসরাইল-ফিলিস্তিন সমস্যা, সন্ত্রাস দমন, সিরিয়া, লিবিয়া ও ইয়েমেন সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ও বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। (ওয়াং হাইমান/টুটুল)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040