Web bengali.cri.cn   
দ্বিতীয় 'রাষ্ট্রদূত কাপ' চীন-বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট সম্মেলন
  2018-12-12 09:20:05  cri

প্রতিটি শিশুর নিজস্ব স্বপ্ন থাকে। বড় হবার প্রক্রিয়ায় আমরা বার বার ভবিষ্যতে কী কী করব, কে কী হতে পারব—ভেবেছি। নিশ্চয় কুংফু সিনেমাও আমাদের কারো কারো স্বপ্নে বড় ভূমিকা পালন করেছে বা করে! অনেক শিশু ব্রুস লি, জ্যাকি চ্যানের সিনেমা দেখে বড় হয় এবং তাদের মতো কংফু মাস্টার হবার স্বপ্ন দেখে। বাংলাদেশেও এমন শিশু-কিশোর আছে। গত ১ ডিসেম্বর বিকেলে, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জিমন্যাসিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ২০১৮ দ্বিতীয় 'রাষ্ট্রদূত কাপ' চীন-বাংলেদেশ মার্শাল আর্ট সম্মেলন। বাংলাদেশের বাহিনী, স্থানীয় ফ্লাব ও কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট থেকে আসা ২৫টি প্রতিনিধিদল এতে অংশ নেয়। তারা যথাক্রমে মার্শাল আর্ট রুটিন ও sanda (free-style grappling) প্রদশর্ন করে।

মার্শাল আর্ট সম্মেলনে, বাংলাদেশের বিখ্যাত কংফু তারকা ও চলচ্চিত্র পরিচালক রুবেল বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের প্রশংসা করেন এবং তাদেরকে আরও পরিশ্রম করতে উত্সাহ দেন। তিনি বলেন ( রে ১ বাংলা)

বাংলাদেশে মার্শাল আর্ট চালু হয়েছে খুব বেশি সময় আগে নয়। ২০০৯ সালে বাংলাদেশের কিছু মাধ্যমিক স্কুল ও প্রাথমিক স্কুলে চালু হয় মার্শাল আর্ট ক্লাস। ২০১০ সালে, বাংলাদেশ ক্রীড়া একাডেমি বিষয় হিসেবে মার্শাল আর্টকে সংযুক্ত করে। কিন্তু তখন অনেক স্কুলে পেশাদার যন্ত্রপাতি ও সাজসরঞ্জাম ছিল না এবং শিক্ষকরাও ছিলেন না পেশাদার মার্শাল আর্ট ক্রীড়াবিদ।

Dimond fitness & aerobic center-এর প্রতিষ্ঠাতা দিলদার হাসান কাবাডি খেলোয়াড় ছিলেন। ১৯৯১ সালে তিনি প্রথম মার্শাল আর্ট সম্পর্কে জানেন এবং এই ক্রীড়া সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এর পর তিনি ৭ বার চীনে আসেন এবং চীনা মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষকদের কাছে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এখন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে তার জিমে বহু শিক্ষার্থী মার্শাল আর্ট শিখছে। এখন পর্যন্ত ৪০ হাজার শিক্ষার্থী তার প্রতিষ্ঠানে মার্শাল আর্ট শিখেছেন। শিক্ষার্থীরা তাঁকে উস্তাদ দিলু নামে ডাকে। চলতি বছরের মার্শাল আর্ট সম্মেলনে তার ক্লাব প্রতিনিধিদল পাঠায় এবং তার শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণও করে। তিনি বলেন (রে বাংলা),

মার্শাল আর্ট দ্রুত বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং উন্নতও হচ্ছে। বাংলাদেশে চীনা দূতাবাস এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং করছে। ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে, চীনের সাহায্যে বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কমিটি প্রথম 'রাষ্ট্রদূত কাপ' চীন বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট সম্মেলন আয়োজন করে। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে, চীনা মার্শাল আর্ট কমিটি দু'জন কোচ বাংলাদেশে পাঠায় এবং তারা বাংলাদেশ জাতীয় মার্শাল আর্ট দলকে ২ মাসের প্রশিক্ষণ দেয়। আগামী জানুয়ারিতে চীনা মার্শাল আর্ট কমিটি ৫ লাখ ইউয়ান মূল্যের প্রশিক্ষণ যন্ত্রপাতি বাংলাদেশে পাঠাবে। এ ব্যবস্থাগুলো বাংলাদেশে কিশোর ও তরুণদের মার্শাল আর্ট শিখতে সাহায্য করবে।

দ্বিতীয় 'রাষ্ট্রদূত কাপ' চীন-বাংলেদেশ মার্শাল আর্ট সম্মেলনে ১০ বছর বয়সী কয়েকজন খেলোয়াড় খুব ভাল করছে। পাশাপাশি মেয়ে খেলোয়াড়ে

র সংখ্যাও কম নয়। লাঠি, তরবারি বা ফ্রিস্টাইল যে-কোন ইভেন্টে তারা ভাল করেছে। বাংলাদেশের সান্ডা (sanda) কোচ মুহাম্মাদ আব্দুল কাদের বলেন (রে বাংলা)

বাংলাদেশে চীনা রাষ্ট্রদূত চাও চুও এবার সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, মার্শাল আর্টের প্রতি দু'দেশের জনগণের ভালবাসা দেখে তিনি খুব খুশি। তেজস্বী তরুণ মানুষ দেশের ভবিষ্যত উন্নয়নের আশা এবং চীন-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সেতু। তিনি আশা করেন, মার্শাল আর্টের মাধ্যমে চীন ও বাংলাদেশের জনগণ পাস্পরকে আরও জানতে পারবে এবং তাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতর হবে।

এবার সম্মেলনের উদ্যোক্তাদের প্রতিনিধি হিসেবে, বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মাদ কামাল হোসেইন তার ভাষণে বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কমিটি, সকল ক্রীড়াবিদ ও বাংলাদেশ জনগণের পক্ষ থেকে চীন সরকার ও চীনা দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, "চীনা দূতাবাস বাংলাদেশে মার্শাল আর্ট উন্নয়নে বেশ সাহায্য দেয়। তারা যন্ত্র সরবরাহ করে ও অভিজ্ঞ চীনা কোচ পাঠিয়ে আমাদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়। এতে বাংলাদেশ দলও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করে। আশা করা যায় ভবিষ্যতে চীনা কুংফু বাংলাদেশের সব জায়গায় ছড়িয়ে যাবে।" (শিশির/আলিম)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040