Web bengali.cri.cn   

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে নব্যতাপ্রবর্তন ও টেকসই উন্নয়নের পথে চীন
  2018-11-28 15:17:19  cri

টেকসই উন্নয়নে অবিচল থাকার প্রশ্নে বর্তমান বিশ্বে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বহু আগেই। অগ্রসর দেশগুলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উদ্ভাবনকে গুরুত্ব দেয়; সংস্কার ও উন্মুক্তকরণে অবিচল থাকে; টেকসই উন্নয়নের গতিশীল চিন্তাধারা পোষণ করে; এবং জনগণের জীবন ও পরিবেশের মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সর্বদা কাজ করে। চীনও তেমন একটি দেশ। চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী সুই নান পিং গতকাল (মঙ্গলবার) বেইজিংয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

জাতিসংঘের 'এজেন্ডা ২০৩০' বাস্তবায়নের কাজ ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। এতে বিশ্বের সমাজ, অর্থনীতি ও পরিবেশের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন দেশের প্রতি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এর স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে চীন ২০১৭ সালে প্রথম "চীনের 'এজেন্ডা ২০৩০' বাস্তবায়নের রিপোর্ট" প্রকাশ করে। এতে প্রাথমিকভাবে দেশীয় পর্যায়ে চীনের কার্যক্রম ও অভিজ্ঞতার সারসংকলন করা হয়। এ প্রসঙ্গে সুই নান পিং বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে চীনের টেকসই উন্নয়নের চিন্তাধারা বাস্তবায়ন সামাজিক মতৈক্যে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন,

"আগে আমাদের পদ্ধতি ছিল অনেক। তবে ২০১৫ সালের পর, সৃজনশীলতার মাধ্যমে বিশ্বের টেকসই উন্নয়নের পদ্ধতি সকল পদ্ধতির স্থান দখল করে।"

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন বরাবরই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মধ্য দিয়ে সৃজনশীলতা প্রদর্শনকে কেন্দ্রীয় স্থানে রেখে এসেছে। সুই নান পিং মনে করেন, চীনের ব্যাপকভাবে নব্যতাপ্রবর্তন এগিয়ে নিয়ে যাওয়া চীনের অর্থনীতির উন্নয়নের শৃঙ্খলার সঙ্গে এবং বৈশ্বিক উন্নয়নের গতিপ্রবাহের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

তিনি বলেন,

"কেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এতো গুরুত্বপূর্ণ? দেশ নব্যতাপ্রবর্তনকে সমর্থন করে থাকে। আমাদের একে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রাখা উচিত। নব্যতাপ্রবর্তনকে আমাদের উন্নয়নের প্রথম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।"

তিনি বলেন, সংস্কার ও উন্মুক্তকরণের নীতি চালু হওয়ার ৪০ বছরে, চীন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে অব্যাহতভাবে নানা ব্যবস্থাগত প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে, লক্ষ্যণীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে চীন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্মুক্ততার মান সম্প্রসারণ করবে, চিন্তাধারা মুক্ত করবে, নব্যতাপ্রবর্তনকে সমাজের অভ্যাস হিসেবে গড়ে তুলবে।

তিনি বলেন,

"আমাদের বিজ্ঞানী ও শিল্পপ্রতিদের নীতিমালার আওতায় সীমাবদ্ধ করে ফেলা উচিত নয়। কারণ, এমনটা করলে তাঁরা উদ্ভাবনের সাহস হারাবেন।"

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘস্থায়ী অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জানতে পারি, অর্থনীতির উন্নয়নে গতি সঞ্চার করলে, সামাজিক ও পরিবেশগত সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। তাই, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সমাজের সমন্বয় ঘটানো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের উন্নয়নের চিন্তাধারায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। মানবজাতির অভিন্ন লক্ষ্যের কমিউনিটির চেতনা ধারণ করা এবং টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হল মানবজাতির অভিন্ন দায়িত্ব। তিনি বলেন,

"উন্নয়নের গতির সাথে পরিবেশের ভারসাম্য গড়ে তোলা উচিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ক্ষেত্রে আমরা অনেককিছু করেছি। ভবিষ্যতে আমরা জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে উন্নয়নের নতুন চিন্তাধারা বাস্তবায়ন করে যাবো। ফলে উন্নয়নের ব্যাপকতা, গতি, এবং আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের মধ্যে আরও ভালোভাবে সমন্বয় ঘটানো যাবে।" (লিলি/আলিম)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040