Web bengali.cri.cn   
"আগামী ১৫ বছরে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য ও সেবা আমদানি করবে চীন" (অর্থ-কড়ি; ১০ নভেম্বর ২০১৮)
  2018-11-10 17:03:46  cri


১. আগামী ১৫ বছরে বিদেশ থেকে ৪০ ট্রিলিয়ন (এক ট্রিলিয়ন=১০০০ বিলিয়ন; এক বিলিয়ন=১০০ কোটি) মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য ও সেবা আমদানি করবে চীন। এর মধ্যে পণ্য আমদানি হবে ৩০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের এবং সেবা ১০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের। সম্প্রতি শাংহাইয়ে আয়োজিত চীনের প্রথম আন্তর্জাতিক আমদানি মেলা (সিআইআইই)-র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ-তথ্য জানান চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং।

প্রেসিডেন্ট সি বলেন, চীন আমদানি বাড়াবে, নিজের বাজারে বিদেশি পণ্য ও সেবা প্রবেশের বিধিনিষেধ শিথিল করবে, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাণিজ্যপরিবেশ সৃষ্টি করবে, উন্মুক্তকরণ সম্প্রসারণে নতুন পরীক্ষামূলক বিশেষ অঞ্চল গড়ে তুলবে, এবং বহুপক্ষীয় ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা গভীরতর করবে।

সি চিন পিং বলেন, উন্মুক্তকরণ প্রক্রিয়াকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যে চীন রফতানিপণ্যের ওপর থেকে শুল্ক কমাবে, আমদানি-প্রক্রিয়া সহজতর কবরে, আঞ্চলিক অনলাইন-বাণিজ্য দ্রুত উন্নত করবে, আর্থিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিজের বাজার ক্রমশ উন্মুক্ত করবে, পরিষেবা শিল্পকে উন্মুক্ত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে, এবং নিজের শিক্ষা ও চিকিত্সা ক্ষেত্রে বিদেশি পুঁজি বিনিয়োগের মাত্রা ও পরিমাণ বাড়াবে।

প্রেসিডেন্ট সি আরও বলেন, সার্বিক আঞ্চলিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের সম্পর্ক চুক্তি, চীন-ইউরোপ বিনিয়োগ আলোচনা, এবং চীন-জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া অবাধ বাণিজ্য অঞ্চলের আলোচনা তাড়াতাড়ি শেষ করে চায় চীন।

২. চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বলেছেন, মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ-ব্যবস্থা চালু করবে তাঁর দেশ। এক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘনকারীর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় করা হবে। তিনি সম্প্রতি শাংহাইয়ে আন্তর্জাতিক আমদানি মেলায় এ-ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, মেধাস্বত্ব আইনের প্রয়োগ পর্যবেক্ষণের মান ও কার্যকারিতা আরও উন্নত করা হবে। এর উদ্দেশ্য হবে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চীনে আরও সন্তোষজনক ব্যবসা-পরিবেশ সৃষ্টি করা।

প্রেসিডেন্ট সি বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবসানীতি ও দেশীয় আইনের ভিত্তিতে, চীনে দেশি-বিদেশি সকল শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতি সমান আচরণ করা হবে। পাশাপাশি, তিনি নিজ নিজ সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট হতে সকল দেশের প্রতি আহ্বান জানান। নিজের সমস্যাকে উপেক্ষা করে, অন্যের সমস্যা খোঁজার প্রবণতার সমালোচনা করেন চীনা প্রেসিডেন্ট।

৩. চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বলেছেন, তাঁর দেশের অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই, ও স্থিতিশীল উন্নয়নের জন্য অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে। চীনের অর্থনীতির উন্নয়ন বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সম্প্রতি শাংহাইয়ে আন্তর্জাতিক আমদানি মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ-কথা বলেন।

প্রেসিডেন্ট সি বলেন, বর্তমানে চীনা অর্থনীতি স্থিতিশীলভাবে উন্নত হচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের প্রবণতা বজায় রেখেছে, এবং সার্বিক সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।

পাশাপাশি তিনি চীনা অর্থনীতির উন্নয়নের পথে বিদ্যমান কিছু সমস্যার কথাও স্বীকার করেন। তিনি বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে চীনা অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। তবে, তা উন্নয়ন-প্রক্রিয়ায় বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না। চীনের অর্থনীতি উন্নয়নের পথেই সামনে এগিয়ে যাবে।

৪. চীনা প্রধানমন্ত্রী লি খ্য ছিয়াং সম্প্রতি বেইজিংয়ে বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টিন লাগার্দে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মহাপরিচালক রবার্তো আজেভেদো, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার মহাসচিব হোসে অ্যান্‌খেলা গুর্‌রিয়া, জি-টোয়েন্টির আর্থিক স্থিতিশীলতা কমিটির চেয়ারম্যান মার্ক কার্নি, এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার উপ-মহাপরিচালক ডেবোরাহ্‌ গ্রিনফিল্ডের সঙ্গে এক গোলটেবিল বৈঠকে মিলিত হন।

বৈঠকশেষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে লি খ্য ছিয়াং বলেন, বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। সবাই একমত হয়েছেন যে, সামষ্টিকভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতি যেমন ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, তেমনি অস্থিতিশীলতাও বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে সব পক্ষের উচিত বহুপক্ষবাদ ও অবাধ বাণিজ্যকে সমর্থন করা।

সাংবাদিক সম্মেলনে আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাসমূহের নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমানে বাণিজ্যে সংরক্ষণবাদের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন পক্ষের উচিত একসঙ্গে বহুপক্ষবাদ ও বহুপক্ষীয় বাণিজ্যিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করা। চীনের সংস্কার ও উন্মুক্তকরণনীতির ব্যাপক সাফল্যের প্রশংসা করে তাঁরা বলেন, বিশ্বের উন্নয়নেও তা অবদান রাখছে। তাঁরা আশা করেন, চীনের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদার করে বিশ্ব অর্থনীতি স্থিতিশীলভাবে উন্নত হতে থাকবে।

৫. চীনের অর্থনীতি স্থিতিশীল আছে বলে জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ব্যাংক জানায়, চীনের অর্থনৈতিক ও আর্থিক ঝুঁকি সাধারণভাবে নিয়ন্ত্রণে আছে।

প্রতিবেদনের বলা হয়, ২০১৯ সালে দেশের ম্যাক্রো-ইকনোমিক ও আর্থিক নীতিমালা আরও আধুনিক, নমনীয় ও সমন্বিত হবে। তা ছাড়া, এসময় দেশে সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ কার্যক্রম সামনে এগিয়ে যাবে।

.

৬. ২০১৭ সালে চীন বিদেশি মেধাস্বত্ব ব্যবহারের পেছনে ২৮৭৪ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ-তথ্য জানায়।

প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৭ সালে চীন সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে মার্কিন মেধাস্বত্বের পেছনে। এর পরেই আছে জাপান ও জার্মানির স্থান।

৭. গেল অক্টোবরে চীনের আমদানি বেড়েছে বিগত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৬.৩ শতাংশ বেশি। আর রফতানি বেড়েছে ২০.১ শতাংশ। সম্প্রতি প্রকাশিত এক সরকারি প্রতিবেদনে এ-তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুসারে, অক্টোবরে চীনের বাণিজ্য-উদ্বৃত্ত ছিল ২৩,৩৬৩ কোটি মার্কিন ডলার। আর সেপ্টম্বরে বাণিজ্য-উদ্বৃত্ত ছিল ২১,৩২৩ কোটি মার্কিন ডলার।

৮. ইউক্রেনের প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী স্টেপান কুবিভ বলেছেন, প্রথম চীনা আন্তর্জাতিক আমদানি মেলা তাঁর দেশের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যে নতুন করে গতি সঞ্চার করবে।

তিনি সম্প্রতি শাংহাইয়ে মেলাপ্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে চীন-ইউক্রেন বাণিজ্য বার্ষিক ১০০০ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত হতে পারে।

৯. যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা কোম্পানি বোয়িং চলতি বছরেই চীনে দুই হাজারতম বাণিজ্যিক বিমানটি সরবরাহ করবে। কোম্পানিটি সম্প্রতি এ তথ্য জানায়।

বোয়িং জানায়, ২০১৮ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে চীনের বিভিন্ন এয়ারলাইন কোম্পানিকে ১৫৩টি বিমান সরবরাহ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে চীন প্রথম বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে ১০টি ৭০৭ বিমান ক্রয় করে। ২০১৩ সালের মার্চে বোয়িং চীনে হাজারতম বিমানটি সরবরাহ করে।

১০. এদিকে, বিশ্বে বাণিজ্যিক বিমানের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। আগামী ২০ বছরে বিশ্বের বিমান নির্মাতা কোম্পানিগুলো ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ৪২ হাজার নতুন উড়োজাহাজ সরবরাহ করবে। চীনের কমার্শিয়াল এয়ারক্রাফ্ট কর্পোরেশান সম্প্রতি এ পূর্বাভাস দিয়েছে।

পূর্বাভাস অনুসারে, ২০৩৭ সালের মধ্যে বিশ্বের যাত্রীবাহী বিমানের সংখ্যা দাঁড়াবে ৪৭ হাজারের বেশি, বর্তমান সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ।

১১. ভিয়েতনাম চলতি বছরের প্রথম দশ মাসে ৫.২ মিলিয়ন টন চাল রফতানি করে আয় করেছে ২৬০ কোটি মার্কিন ডলার। দেশটির কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এ তথ্য জানায়।

মন্ত্রণালয় জানায়, জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যে ভিয়েতনাম থেকে সবচেয়ে বেশি চাল আমদানি করেছে চীন। গত বছর ভিয়েতনাম ২৭০ কোটি ডলার মূল্যের ৫.৯ মিলিয়ন টন চাল বিদেশে রফতানি করেছিল।

১২. চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বাংলাদেশের রফতানি আয় ও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রবৃদ্ধি দুই-ই বেড়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি আয় ১৮.৬৫ শতাংশ বেশি হয়েছে। এ সময় রফতানি আয় ছিল এক হাজার ৩৬৫ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১২.৫৭ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, একক মাস হিসেবে সর্বশেষ অক্টোবর মাসে রফতানি আয় আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৩০.৫৩ শতাংশ বেড়েছে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২১২ কোটি ৭ লাখ মার্কিন ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ১৩৬৫ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। এ ছাড়া, গতবছরের একই সময় আয় হয়েছিল ১১৫০ কোটি ৫৮ লাখ মার্কিন ডলার।

অন্যদিকে, অক্টোবর মাসে রফতানি আয় হয়েছে ৩৭১ কোটি ১৮ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৭৯ কোটি ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় বেড়েছে ৩২.৬৮ শতাংশ। গত বছর অক্টোবর মাসে আয়ের পরিমাণ ছিল ২৮৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

১৩. বাংলাদেশের পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, দেশের অর্থনীতি অসাধারণ গতিতে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০০১ হতে ২০০৬ সময়কালে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল গড়ে ৫.৪০ শতাংশ। গত দশ বছর গড়ে ৬.৭১ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এখন প্রবৃদ্ধি ৭.৮৬ শতাংশ।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর অর্থনীতির আকার ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে ৩৮ বছর লেগেছে। আর মাত্র সাত বছরে তা দ্বিগুণ হয়ে ২০০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। এখন তা ২৭৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। সরকারি বিনিয়োগ উন্নীত হয়েছে জিডিপির ৫.৬ শতাংশ থেকে ৮.২ শতাংশে। বেসরকারি বিনিয়োগ ২০০৫-০৬ এর ৯৯ হাজার ২৭১ কোটি টাকা হতে প্রায় চার গুণ বেড়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪ লাখ ৫০ হাজার ৭৩ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ছিল ৭৪৪ মিলিয়ন ডলার, যা তিনগুণ বেড়ে ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে তিন গুণেরও বেশি। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ ছিল ৫৪৩ মার্কিন ডলার, যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৫১ মার্কিন ডলারে।

(আলিমুল হক)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040