Web bengali.cri.cn   
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে স্কুল ছুটির পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা কি করে?
  2018-10-15 15:55:53  cri

 


সম্প্রতি চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে ছুটির পর একটি অতিরিক্ত ক্লাস চালু হয়েছে। এই ক্লাসে শিক্ষার্থীরা তাদের হোমওয়ার্কসহ অন্যান্য পছন্দের বিষয় শিখতে বা চর্চা করতে পারে। মূলত চাকরিজীবী পিতামাতার সন্তানদের স্কুল ছুটির পর অর্থাত্ বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত দেখাশোনার সমস্যা সমাধানে এই ক্লাস চালু হয়। নতুন নীতিমালা চালুর এক মাস পর এখন কি অবস্থা, পিতামাতা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এ ব্যবস্থা থেকে কতটা উপকৃত হচ্ছেন? এ সম্পর্কে সাংবাদিকরা সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাত্কার নিয়েছেন।

একদিন বুধবার। বেইজিং তুংছেং এলাকার নম্বর ফাইভ মাধ্যমিক স্কুলের শাসনে ফাংচিয়া হুথুং প্রাথমিক স্কুল বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ছুটি হয়। তখন শিক্ষার্থীরা নিজেদের ব্যাগ গুছিয়ে শিক্ষকদের নির্দেশনায় বিভিন্ন ক্লাসরুমে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নাটকের ক্লাস, কেউ কেউ নাচের ক্লাস আর কেউ কেউ মাটির ভাস্কর্য ক্লাসে যায়। অন্যরা স্কুলের মাঠে খেলাধুলার প্রস্তুতি নেয়। এদিন স্কুলটির বিভিন্ন শ্রেণীর পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী বিভিন্ন ধরনের ক্লাসে যোগ দেয়, যা স্কুলের মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যার ৬০ শতাংশেরও বেশি।

এ সম্পর্কে স্কুলের নৈতিকতা শিক্ষা বিভাগের পরিচালক স্যু ইয়ান ইং বলেন, স্কুলে ক্লাসের পর বিজ্ঞান প্রযুক্তি, শিল্পকলা, ঐতিহ্যিক সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত ক্লাস চালু হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসের পর বাসায় ফিরে যাওয়ার আগে বিভিন্ন বিষয় শিখতে পারে এবং চাকরিজীবী পিতামাতা অফিস শেষ করে বাচ্চাদের বাসায় নিয়ে যেতে পারে।

প্রাথমিক স্কুলে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণীর বাচ্চাদের বয়স অনুযায়ী বিভিন্ন ক্লাসে ভাগ করা হয়, তবে চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা নিজের পছন্দ ও শখ অনুযায়ী বিভিন্ন ক্লাস বাছাই করতে পারে। এর মধ্যে কিছু কিছু ক্লাসে শিক্ষার্থীরা তাদের হোমওয়ার্ক সম্পন্ন করে।

বেইজিংয়ের ছাওইয়াং এলাকার হোপিংলি নম্বর ফোর প্রাথমিক স্কুলের ভাইস প্রেসিডেন্ট চাও রুই সিয়া বলেন, তাদের স্কুলের নিয়মিত ক্লাসের পর অতিরিক্ত ক্লাসকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সাড়ে তিনটা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত খেলাধুলা, বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও শিল্পকলা-সংক্রান্ত ক্লাস, সাড়ে চারটা থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত হোমওয়ার্ক-সম্পর্কিত ক্লাস। এসব ক্লাস শিক্ষার্থীরা নিজের পছন্দ অনুযায়ী বাছাই করতে পারে। তাছাড়া, সাড়ে তিনটা থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত বিভিন্ন কমিউনিটির তত্পরতাও চালু হয়।

পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে স্কুলে প্রথম ঘণ্টায় ৩৪টি অতিরিক্ত ক্লাস চালু হয়, এতে ৮৩৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়, আর দ্বিতীয় ঘণ্টায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী হোমওয়ার্ক-সংক্রান্ত ক্লাসে অংশ নেয়। এ ছাড়া, দুই ঘণ্টার কমিউনিটি তত্পরতায় ২৭টি কমিউনিটিতে ৬৭০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

সাড়ে তিনটার পর বিভিন্ন সেবা ও ক্লাস চালু করার বিষয়ে বেইজিং শিক্ষা কমিটির কর্মকর্তা জানান, স্কুলের শিক্ষকদের ইচ্ছাকে সম্মান করে বিভিন্ন ক্লাসের দায়িত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি সমাজে সুপরিচিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের পেশাগত শিক্ষকদেরকে সংশ্লিষ্ট সেবামূলক ক্লাসে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো উচিত বলে মনে করেন তিনি।

সাংবাদিকদের জরিপে দেখা যায়, বেইজিংয়ের অনেক স্কুলের অতিরিক্ত ক্লাসে পেশাগত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ফাংচিয়া হুথুং প্রাথমিক স্কুলের নৈতিকতা শিক্ষা বিভাগের পরিচালক শিক্ষক স্যু বলেন,সাড়ে তিনটার পর ক্লাসের সেবার মান নিশ্চিত করার জন্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ক্লাস শুরুর ১০ মিনিট আগে পৌঁছতে হবে এবং ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীদের পিতামাতার হাতে তুলে দিতে হবে, এছাড়া, ক্লাস চলাকালে স্কুলের শিক্ষকদেরও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

অন্যদিকে, হোপিংলি নম্বর ফোর প্রাথমিক স্কুলও সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে। স্কুলের ভাইস প্রেসিডেন্ট চাও বলেন, অতিরিক্ত দেখাশোনা ও সেবামূলক ক্লাস চালু করার প্রথম সপ্তাহে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সাথে বৈঠক করেন স্কুলের শিক্ষকরা। বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের গুণগতমান বিবেচনা করতে হবে এবং শিক্ষকদের যোগ্যতাও যাচাই করতে হবে। এভাবে বিভিন্ন ক্লাসের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও জ্ঞান অর্জন নিশ্চিত করা সম্ভব।

সাড়ে তিনটার পর স্কুলের বিভিন্ন সেবামূলক ক্লাসের বেশিরভাগ দায়িত্ব স্কুলের শিক্ষকদের। এ ধরনের একটি ক্লাসে সাধারণত ৩০ জন শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত। তাই, কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষকের জন্য এ কাজ বেশ কঠিন। তবে সাড়ে তিনটার পর এমন সেবামূলক ক্লাস নিয়মিত চালু হলে অবশ্যই শিক্ষকদের চাপ অনেক বেড়ে যাবে। হোপিংলি প্রাথমিক স্কুলের উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, প্রতিদিন ৩৪টি অতিরিক্ত ক্লাসের জন্য ৩৪ জন শিক্ষক আর ১৫টি হোমওয়ার্ক-সংক্রান্ত ক্লাসের জন্য ১৫ জন শিক্ষক এবং ২৯টি কমিউনিটি তত্পরতায় ২৯ জন প্রশাসনিক শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে, এতে স্কুলের তিন ভাগের এক ভাগ শিক্ষকদের এমন কাজে অংশ নিতে হবে।

কৃতজ্ঞতা চিঠি

একদিন ফাংচিয়া হুথুং প্রাথমিক স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর একজন ছাত্রের নানী শিক্ষককে একটি চিঠি লিখেন। তাতে তিনি স্কুলের এ ধরনের সেবামূলক ক্লাসের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। চিঠিটি শিক্ষকদের মনে অনেক আনন্দ সঞ্চার করে।

যদিও এই নতুন ব্যবস্থা চাকরিজীবী পিতামাতার জন্য অনেক সহায়ক, তবে বিভিন্ন পিতামাতার বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কারণে এতে কিছুটা সমস্যাও তৈরি হয়।

এ সম্পর্কে শিক্ষক স্যু বলেন, মাটির ভাস্কর্যবিষয়ক ক্লাসের উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, কেউ কেউ মনে করেন এ ক্লাস শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও নব্যতাপ্রবর্তনের জন্য সহায়ক, কেউ কেউ মনে করেন এটি শুধুমাত্র মাটি দিয়ে খেলার ব্যাপার। এতে ভিন্ন পিতামাতার ভিন্ন প্রতিক্রিয়ায় শিক্ষকরা কিছুটা কষ্ট পান। এ প্রেক্ষাপটে যথাযথভাবে পারস্পরিক সমঝোতার আশা প্রকাশ করেন শিক্ষকরা।

সাংবাদিকরাও খেয়াল করেন যে, যদিও বিভিন্ন স্কুলের অতিরিক্ত ক্লাসের বিষয় ভিন্ন এবং এতে মজার বিষয়ও যুক্ত, তবে কিছু কিছু বাচ্চার মধ্যে আগ্রহ দেখা যায় না, বিশেষ করে কমবয়সী শিক্ষার্থীরা স্কুলের ক্লাস শেষ করে যত দ্রুত সম্ভব বাসায় ফিরে যেতে চায়। এ সম্পর্কে কমবয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য বহিরাঙ্গন তত্পরতার ব্যবস্থা করার কথা বিবেচনা করছে স্কুল।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্কুলের ক্লাস শেষের বিভিন্ন ব্যবস্থা

ভোরে বাচ্চাকে স্কুলে পাঠানো আবার ক্লাস শেষ বাচ্চাকে বাসায় নিয়ে আসা- এ ব্যাপারটি শুধু চীনা চাকরিজীবী পিতামাতার সঙ্গেই সম্পর্কিত নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চাকরিজীবী পিতামাতার সঙ্গেই এ ব্যাপারটি জড়িত। এখন আমরা এ সম্পর্কিত বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কিছু ব্যবস্থা তুলে ধরবো।

পাশ্চাত্য দেশগুলোর আইন অনুযায়ী বাচ্চারা আলাদাভাবে বাসায় থাকতে পারে না, পরিবারের অবশ্যই একজনকে তাদের দেখাশোনা করতে হয়।সেজন্য বিদেশের অনেক পিতামাতা বলেন, কিন্ডারগার্টেনের সময় তারা সময় মতো অফিসে কাজ করতে পারেন, তবে বাচ্চা প্রাথমিক স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর পিতামাতার এমনভাবে চাকরি করা সম্ভব নয়। চাকরিজীবী পিতামাতার সময়ের চাপ কমানোর জন্য বিশ্বের অনেক দেশের স্কুলে ভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ বাচ্চাদের ইচ্ছাপূরণে সহায়ক

স্কুল বা অন্যান্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্থাপিত ভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ কোর্স বা তত্পরতা বাচ্চাদের শরীর চর্চা, সামাজিক দক্ষতা ও মানসিক উন্নয়নের জন্য সহায়ক। ব্যাপকভাবে নানা ধরনের প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণ বাচ্চাদের মানসিক ও আত্মার ভারসাম্য উন্নয়ন ও আত্মবিশ্বাস তৈরিতে অনেক উপকারী। এমন প্রশিক্ষণে রয়েছে খেলাধুলা, সৃজনশীল শিল্প, উপন্যাস পড়া, বহিরাঙ্গন প্রশিক্ষণ ও ব্যবসার প্রাথমিক শিক্ষা ইত্যাদি। শিক্ষাবিদরা বহু বছর ধরে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ কোর্সের ভূমিকা নিয়ে গবেষণা করে আসছেন এবং ২০০৫ সাল থেকে গবেষণার প্রতিবেদন নিয়ে পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়ে আসছে। তা থেকে বোঝা যায়, স্কুল ও বিভিন্ন আবাসিক কমিউনিটির যৌথ উদ্যোগে গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন ছুটিতে বাচ্চাদের বয়স অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান বা তত্পরতায় অংশগ্রহণ পিতামাতাদের দেখাশোনার দায়িত্ব কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে। এসময় বাচ্চারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী নানা ধরনের কাজ করতে পারে। অপরাধপ্রবণ দেশ বা অঞ্চলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে এমন ক্লাস বা প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার কারণে বাচ্চাদের অপরাধের হার ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে, তারা সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখছে।

অতিরিক্ত ক্লাসের কারণে নিজের পছন্দের বিষয়ে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা

স্কুলের ক্লাসের পর শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ক্লাসে নিজের প্রিয় বিষয় বাছাই করতে পারে এবং এমন ক্লাসের মাধ্যমে নিজের আগ্রহের বিভিন্ন বিষয় শিখতে পারে।

হোমওয়ার্ক ক্লাসে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মুখোমুখিভাবে হোমওয়ার্কের বিভিন্ন জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারে। দরিদ্র এলাকার বা নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের ক্লাস আরো কার্যকর। এভাবে কম সময়ের মধ্যে সব শিক্ষার্থীদের প্রায় একই মানে উন্নীত করা সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রের 'চাবি তত্পরতা'

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সেনা প্রাণ হারান, তখন পরিবারে শুধু মা একাই বাচ্চাকে দেখাশোনা করেন। ফলে স্কুল থেকে বাসায় ফিরে বাচ্চাকে একা একা থাকতে হয়, এবং প্রত্যেক বাচ্চার গলায় বাসার চাবি ঝুলানো থাকে।

মনোবিজ্ঞানীদের গবেষণা থেকে প্রমাণিত হয় যে, ৫ থেকে ১০ বছর বয়সী বাচ্চারা বাসায় আলাদাভাবে দুই বা তিন ঘণ্টা থাকলে তাদের মনে অনেক ভয় ও অসহায়ত্ব কাজ করে। এমন বাচ্চাদের মনে পরে নানান জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়। এমন প্রেক্ষাপটে মার্কিন সরকারি গ্রন্থাগারে প্রতিদিন স্কুলের ক্লাসের পর বাচ্চাদের হোমওয়ার্ক করা ও বই পড়ার বিশেষ সেবা দেওয়া হয়। পরে স্কুলেও এমন সেবামূলক ক্লাস চালু হয়, যাতে পিতামাতার অফিস শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাচ্চারা স্কুলে থাকতে পারে। এ ক্লাসের খরচও তেমন ব্যয়বহুল নয়, প্রতি ঘণ্টা মাত্র কয়েক ডলার, এর মধ্যে রয়েছে নাস্তা ও চা, এছাড়া ১০ থেকে ২৫ ডলার নিবন্ধন ফি দিতে হয়। তবে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের এ খরচ দিতে হয় না।

স্কুল বা কমিউনিটির প্রশিক্ষিত শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও স্বেচ্ছাসেবকরা এ সেবামূলক ক্লাসের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এখানে স্কুলের ক্লাসের অতিরিক্ত পড়াশোনা, হোমওয়ার্ক আর বহিরাঙ্গন খেলাধুলাসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, বহুজাতিক অভিবাসী দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে দোভাষী শিক্ষকও ব্যাপক জনপ্রিয়।

ব্রিটেনের 'ক্লাব'

ব্রিটেনে স্কুলের বাইরে ক্লাসকে 'ক্লাব' বলে ডাকা হয়। ব্রিটিশ পিতামাতা ক্লাবকে প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও মজার জায়গা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বাচ্চারা স্কুলের ক্লাস শেষ করে ক্লাবে নাচ, খেলাধুলা ও সংগীতসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণে যোগ দেয় এবং পিতামাতা অফিস শেষে তাদের বাসায় নিয়ে যান।

সন্ধ্যাকালীন ক্লাব ছাড়াও নাস্তার ক্লাবও চালু হয়েছে ব্রিটেনে। এসব ক্লাব বাচ্চাদের ক্লাসের আগে তাদের নাস্তা প্রদান করে এবং বিকেলে স্কুলের পর তাদের ক্লাবে নিয়ে হোমওয়ার্ক শেষ করতে সহায়তা করে।

ব্রিটেনের অধিকাংশ প্রাথমিক স্কুলে এমন ক্লাব চালু আছে। সরকার এ স্কুলে ভর্তুকি দেয়।এভাবে ব্রিটিশ পিতামাতা অল্প টাকা দিয়ে বাচ্চাদের জন্য সেবা পেতে পারেন। তবে স্কুলের ছুটি এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে তা বন্ধ থাকে। সেই সময় পিতামাতাকে অন্য পদ্ধতিতে বাচ্চাদের দেখাশোনার সমস্যা সমাধান করতে হয়।

ভারতের অতিরিক্ত ক্লাস

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের কিছু কিছু আধুনিক শহরে স্কুলের বাইরে অতিরিক্ত ক্লাস চালু হয়েছে। নদাদিল্লিসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের শিল্প ও নব্যতাপ্রবর্তন-বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বাচ্চাদের জন্য এমন ক্লাসের আয়োজন ভারতীয় পিতামাতার কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

জাপানের কমিউনিটি ক্লাস

জাপানি পরিবারে সাধারণত বাবা একাই চাকরি করেন এবং মা বাসায় থাকেন। তাই শিক্ষার্থীদের স্কুল শেষে বাসায় দেখাশোনার জন্য কোনো চিন্তা করতে হয় না। তবে সমবয়সী বাচ্চাদের সাথে সহাবস্থানের সুযোগ কম, তাই জাপানি বাচ্চারা সবসময় একাকীত্ব বোধ করেন। এ সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন আবাসিক এলাকার কমিউনিটিতে হোমওয়ার্ক সম্পন্ন করার ক্লাস ছাড়াও বাচ্চাদের গান গাওয়া, ছবি আঁকা ও খেলাধুলার অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। জাপানের নিরাপদ সামাজিক পরিস্থিতির কারণে বাচ্চারা নিজস্বভাবে বাসায় ফিরে যেতে পারে। কমিউনিটিতে এমন ক্লাসে অংশ নেওয়ার জন্য বাসায় মা কিছুটা বিশ্রামের সময় পান এবং বাচ্চারাও অন্যদের সাথে খেলতে পারে, তখন তাদের মনে অনেক আনন্দ থাকে।

সুপ্রিয় বন্ধুরা, সময় দ্রুত চলে যায়। আজকের 'বিদ্যাবার্তা' অনুষ্ঠানও তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে এলো। আমাদের অনুষ্ঠান সম্পর্কে কোনো মতামত থাকলে আমাদের চিঠি লিখতে ভুলবেন না। আমাদের যোগাযোগ ঠিকানা ben@cri.com.cn,caoyanhua@cri.com.cn

রেডিওতে আমাদের অনুষ্ঠান শুনতে না পারলে বা মিস করলে আপনারা আমাদের ওয়েবসাইটে শুনতে পারবেন। আমাদের ওয়েবসাইটের ঠিকানা হলো- www.bengali.cri.cn

এবার তাহলে বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভালো থাকুন, সুন্দর থাকুন। আবারো কথা হবে। চাইচিয়ান। (সুবর্ণা/টুটুল)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040