Web bengali.cri.cn   
'চীনা রফতানিপণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর মার্কিন সিদ্ধান্ত আধিপত্যবাদের স্পষ্ট নিদর্শন'(অর্থ-কড়ি; ২২; সেপ্টেম্বর ২০১৮)
  2018-09-22 15:33:12  cri


১. চীনা প্রধানমন্ত্রী লি খ্য ছিয়াং বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য-আলোচনার উদাহরণ কম নয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সকলের উচিত বহুপক্ষীয় বাণিজ্যের মৌলিক নীতি রক্ষা করা। সম্প্রতি তিনি থিয়েন চিন শহরে গ্রীষ্মকালীন দাভোস ফোরামে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন মহলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপকালে এ-মন্তব্য করেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী লি আর্থিক সেবা খাতকে উন্মুক্ত করা, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা করা, এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ কমানোসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মন্তব্য করেন। আগামী কয়েক বছরে বীমা ও স্টকসহ বিভিন্ন খাতে শেয়ার রেস্ট্রিকশন বাতিল করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মেধাস্বত্ব সুরক্ষা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী লি বলেন, চীন মেধাস্বত্ব সুরক্ষা-ব্যবস্থা ক্রমশ জোরদার করছে। এ-সংশ্লিষ্ট আইন লঙ্ঘনকারীদের শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ কমানো প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী লি বলেন, চীনে নিবন্ধিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরকার সমান আচরণ করে থাকে। বাইরের দুনিয়ার প্রতি চীন বরাবরই উন্মুক্ত দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে আসছে।

২. 'নবম চীন-দক্ষিণ এশিয়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্মেলন' সম্প্রতি সিছুয়ান প্রদেশের ছেং তু শহরে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ও শ্রীলংকাসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অনলাইন বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক উৎপাদন-ক্ষমতা, ও অবকাঠামো সহযোগিতা নিয়ে চীনা প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

সম্মেলনে সিছুয়ানের অন্তত ৩০০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং দেড় শতাধিক দক্ষিণ এশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিনিময় করেন এবং এসময় মোট ৫টি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতাচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

৩. ২০,০০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের চীনা রফতানিপণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত একতরফাবাদ ও আধিপত্যবাদের স্পষ্ট নিদর্শন। চীনের সাবেক উপ-অর্থমন্ত্রী চু কুয়াং ইও বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত 'চীন-যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ আর্থ-বাণিজ্যিক সম্পর্কবিষয়ক সেমিনার'-এ এ-কথা বলেন।

তিনি বলেন, চীন হচ্ছে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তথা গোটা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অংশগ্রহণকারী, নির্মাণকারী, ও সুরক্ষাকারী। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, বিশ্বব্যাংক ইত্যাদি বৈশ্বিক সংস্থায়ও চীন অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগেই প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই যুক্তরাষ্ট্রই এখন এ-ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় ক্ষতি করছে।

৪. যুক্তরাষ্ট্র সেদেশের অধিকাংশ মানুষের বিরোধিতা উপেক্ষা করে, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে চীনের ২০,০০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের রফতানিপণ্যের ওপর ১০ শতাংশ হারে শুল্ক বাড়ানোর যে-সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বেইজিং তাতে হতাশ। সম্প্রতি চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র এ-কথা বলেন।

মুখপাত্র বলেন, নিজের বৈধ স্বার্থ এবং বিশ্বের উন্মুক্ত বাণিজ্য-ব্যবস্থাকে রক্ষা করতে চীনও পাল্টা জবাব দিতে বাধ্য হবে।

মুখপাত্র আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে শুল্ক আরোপ করায় দু'দেশের মধ্যে আলোচনায় নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। চীন আশা করে, মার্কিন সরকার এ-সিদ্ধান্তের কুফল সম্পর্কে উপলব্ধি করবে এবং তা পরিবর্তন করবে।

৫. এদিকে, সিআরআইয়ের ভাষ্যকাররা বলছেন, বাণিজ্যযুদ্ধকে আরও উস্কে দেওয়ার এই মার্কিনি নীতি দু'দেশের মধ্যে বিরাজমান বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোর সমাধানে মোটেই সহায়ক প্রমাণিত হবে না।

তাঁরা মনে করেন, এতে চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের তীব্রতা বাড়বে এবং সকল পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি, যে-উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর বাণিজ্যযুদ্ধ চাপিয়ে দিচ্ছে, তা-ও সফল হবে না।

নতুন করে চীনের ২০,০০০ কোটি মার্কিন ডলারের রফতানিপণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর চাপ বৃদ্ধি করতে চায়। কিন্তু দেশের কেন্দ্রীয় স্বার্থ ও জনগণের মৌলিক স্বার্থ সুরক্ষা করার সাহস ও সামর্থ্য চীন সরকারের আছে।

ভাষ্যকাররা আরও বলেন, নতুন করে চীনের রফতানিপণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করায় মার্কিন ভোক্তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব বাড়বে। এতে মার্কিন ভোক্তাদের নানানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে। বিশেষ করে, আসন্ন ক্রিসমাসের সময় ভোক্তারা অতিরিক্ত শুল্কের কুফল বেশি মাত্রায় ভোগ করবেন।

৬. বিদ্যমান বাণিজ্য-সংঘাত বৈশ্বিক বহুপক্ষীয় বাণিজ্য-ব্যবস্থাকে দুর্বল করে তুলছে। এতে বিশ্বে আর্থিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির পুনরুদ্ধার-প্রক্রিয়াও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সম্প্রতি বেইজিংয়ে চীনের উন্নয়নবিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের ফোরামে অর্থনীতিবিদরা এমন মন্তব্য করেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় পরিষদের উন্নয়ন গবেষণালয়ের উপ-মহাপরিচালক ওয়াং ই মিং তার ভাষণে বলেন, ২০১৮ সালের ৫ জুন প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের 'গ্লোবাল ইকনোমিক আউটলুক' অনুযায়ী, কোনো কোনো ক্ষেত্রে শুল্ক ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাণিজ্যে তার গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য-সংঘাতের আওতা সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে নানান ধরনের চ্যালেঞ্জেরও সম্মুখীন হতে হচ্ছে, যা বিশ্বের অর্থনীতির পুনরুদ্ধার-প্রক্রিয়ায় অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

চীনের সমাজবিজ্ঞান অ্যাকাডেমির সাবেক মহাপরিচালক লি ইয়াং বলেন, বাণিজ্য-সংঘাত অর্থনৈতিক উন্নয়নের চালিকাশক্তিকে দুর্বল করবে এবং বিশ্বে বড় ধরনের আর্থিক সংকট বয়ে আনবে।

৭. আন্তর্জাতিক উত্পাদন-ক্ষমতা ফোরাম-২০১৮ এবং চীনের দশম বৈদেশিক বিনিয়োগ মেলা সম্প্রতি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হয়। দু'দিনব্যাপী এই ফোরামে 'এক অঞ্চল, এক পথ'-এর আওতায় নতুন জ্বালানি খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং 'এক অঞ্চল, এক পথ' উদ্যোগসংক্রান্ত বিনিয়োগের বাণিজ্যিক ঝুঁকি প্রতিরোধসহ বিভিন্ন ইস্যুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রুশ প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা বলেন, এবারের মেলা চীনের 'এক অঞ্চল, এক পথ' উদ্যোগকে তার দেশের 'ইউরেশিয়া অর্থনৈতিক জোট'-এর সঙ্গে সংযুক্ত করার উপযুক্ত প্লাটফর্ম যুগিয়েছে।

চীনের জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মেলায় চীনের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা এবং 'এক অঞ্চল, এক পথ' উদ্যোগের সাফল্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বৈদেশিক বিনিয়োগকে বরাবরই উত্সাহ দিয়ে আসছে চীন। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এই খাতে বিনিয়োগকারীদের আরও সুবিধা দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, মেলার মূল প্রতিপাদ্য ছিল: 'বৈদেশিক বিনিয়োগে সৃজনশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি'। মেলায় শতাধিক দেশ ও অঞ্চলের শিল্পপতি, বিশেষজ্ঞ ও পণ্ডিত অংশগ্রহণ করেন।

৮. সম্প্রতি চীনের শাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত হয় 'বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন, ২০১৮'। সম্মেলনের সফলতা কামনা করে শুভেচ্ছাবাণী পাঠান চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং।

শুভেচ্ছাবাণীতে প্রেসিডেন্ট সি বলেন, নতুন প্রজন্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্বের অর্থনীতি ও সমাজ উন্নয়নের নতুন চালিকাশক্তি যুগিয়েছে এবং মানুষের উত্পাদন ও জীবনপদ্ধতি পরিবর্তন করেছে। এ-খাতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক জোরদার করা উচিত।

বাণীতে সি চিন পিং আরও বলেন, চীন অন্যান্য দেশের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুফল ভাগাভাগি করতে এবং এ-খাতের নিরাপত্তা সুনিশ্চিতের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি)-র কেন্দ্রীয় কমিটির পলিট ব্যুরোর সদস্য ও উপ-প্রধানমন্ত্রী লিউ হো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং ভাষণ দেন।

উল্লেখ্য, সম্মেলন চলে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ৪০টি দেশ ও অঞ্চলের বিশেষজ্ঞ ও শিল্পপতিরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা করেন।

৯. 'বিশ্ব বিমানপথ উন্নয়ন সম্মেলন-২০১৮' সম্প্রতি চীনের কুয়াং চৌয়ে অনুষ্ঠিত হয়। ১১০টিও বেশি দেশের তিন শতাধিক বিমানপরিবহন কোম্পানি এতে অংশ নেয়।

এ-সম্মেলনকে বৈশ্বিক বেসামরিক বিমান চলাচল জগতের 'অলিম্পিক গেমস্‌', 'বিশ্ব মেলা' ইত্যাদি নামেও ডাকা হয়। দু'দিনব্যাপী মেলায় তিনটি আলাদা ফোরামের আয়োজন করা হয়।

মেলার উদ্বোধনী দিনে কুয়াং তুং প্রদেশের বিমানবন্দর গ্রুপ এবং চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনস, ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসসহ ৭টি এয়ারলাইন কোম্পানি ফ্লাইট-রুট উন্নয়নসংক্রান্ত সহযোগিতাস্মারক স্বাক্ষর করে।

১০. রোবটের কারণে ২০২২ সাল নাগাদ বিশ্বে কাজ হারাবে সাড়ে ৭ কোটি মানুষ। আবার ওই একই সময়ে নতুন প্রযুক্তির কারণে সৃষ্টি হবে ১৩ কোটি ৩০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম তাদের এক রিপোর্টে এই ভবিষ্যদ্বাণী করছে।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে মানুষের সময় বেঁচে যাবে অনেক, আর সেটা তাদের অন্য কাজ করার সুযোগ করে দেবে। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, যেসব কাজ উঠে যাবে, সেগুলোর জায়গায় নতুন কাজ সৃষ্টি হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

১১. বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ. স. ম ফিরোজ বলেছেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ব্রাজিল বাংলাদেশকে প্রায় ৩০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা দিয়েছে। বাংলাদেশ চিনিসহ বিভিন্ন পণ্য ব্রাজিল হতে আমদানি করে। তিনি ব্রাজিলের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বানও জানান। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার বিজিএমইএ ভবনের এক্সিম ব্যাংক অডিটোরিয়ামে এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ-আহ্বান জানান।

আর্ন্তজাতিক উন্নয়ন ও গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ইকোনমিস্ট ফোরাম জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের স্থায়ী পরামর্শক সদস্যপদ লাভ উপলক্ষ্যে এবং ব্রাজিল ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে এই আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়।

(আলিমুল হক)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040