Web bengali.cri.cn   
চীনের শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ অনুষ্ঠান
  2018-09-10 14:24:16  cri

 


বন্ধুরা, ১০ সেপ্টেম্বর চীনের শিক্ষক দিবস। একথা স্বীকার করতে হবে যে, বিভিন্ন পেশার মধ্যে শিক্ষকতা পেশা একটু বিশেষ। কারণ শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের রয়েছে বিশেষ অবদান ও ভূমিকা। আজকের অনুষ্ঠানে এই শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের কিছু গল্প তুলে ধরবো এবং শিক্ষা-সম্পর্কিত কয়েকটি খবর শোনাবো।

প্রাচীনকালে চীনের একটি প্রবাদে বলা হয়, 'একদিনের জন্য শিক্ষক হলেও তিনি সারাজীবন পিতার মতো'। এ থেকে বোঝা যায় চীনারা শিক্ষকদের প্রতি কতটা শ্রদ্ধাশীল।

শিক্ষকদের সম্পর্কে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বলেন, 'আমার শিক্ষক সংখ্যা অনেক, এখন পর্যন্ত তাঁদের চেহারা আমার মনে আছে। তাঁরা আমাদের জ্ঞান ও মানুষ হওয়ার পদ্ধতি শিখিয়েছেন। আমি তাদের কাছ থেকে অনেক শিখেছি।'

গত কয়েক বছরে শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ ভাষণ দিয়েছেন সি চিন পিং। ২০১৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তিনি বেইজিং শহরের বা'ই স্কুল পরিদর্শন করেন। এই স্কুলে তিনি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল কাটিয়েছেন। পরিদর্শনকালে বা'ই স্কুলের ইতিহাস প্রদর্শনী, ছোটবেলায় নিজের লেখাপড়ার রেকর্ড এবং সহপাঠী ও শিক্ষকদের সাথে তোলা ছবি দেখেন সি। তিনি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের ফুটবল প্রশিক্ষণ ক্লাসে অংশ নেন। ভবিষ্যতে এই স্কুল থেকে শ্রেষ্ঠ ফুটবল খেলোয়াড় তৈরি হবে বলে আশা করেন তিনি।

বা'ই স্কুলে প্রেসিডেন্ট সি তাঁর ছোটবেলার শিক্ষকদের সাথে দেখা করেন। তিনি হাসিমুখে শিক্ষকদের সাথে হাত মেলান, ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করেন এবং শিক্ষকদের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

সি বলেন, একজন ভালো শিক্ষকের সাথে পরিচিত হওয়া এবং তাঁর কাছ থেকে জ্ঞান শিখতে পারা খুবই সৌভাগ্যের ব্যাপার। একটি স্কুলে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক থাকা অনেক গর্বের বিষয়। একটি জাতির মধ্যে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক থাকা হলো তা জাতির জন্য একটি বড় আশা।

সি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষা মানবজাতির ভবিষ্যতের ওপর প্রভাব ফেলে। চীনের জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় মৌলিক শিক্ষাদানের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। সঠিক দিক নিয়ন্ত্রণ করে বহুব্যবস্থা নিয়ে মৌলিক শিক্ষাদান দিতে হবে। চীনা শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের সুন্দর চরিত্র গঠন, জ্ঞানার্জন, নব্যতাপ্রবর্তনের চিন্তাভাবনা ও দেশকে অবদান রাখার পথনির্দেশক হবেন বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

২০১৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বেইজিং নর্মাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কুইচৌ প্রশিক্ষণ ক্লাসের শিক্ষকদের কাছে চিঠি লিখেন সি চিন পিং। চিঠিতে তিনি চীনের দরিদ্র এলাকার শিক্ষা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন। সি জোর দিয়ে বলেন, ২০২০ সালে চীনের সার্বিক সচ্ছল সমাজ গড়ে তোলা হবে, এ প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে কঠিন বিষয় হলো দরিদ্র এলাকার শিক্ষা গ্রহণ। দারিদ্র্যমুক্ত হতে হলে দরিদ্র এলাকার শিশুদের গুণগতমানের শিক্ষাদান দিতে হবে। এটি দারিদ্র্যমুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য এবং এটি মূল থেকে এ সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা চীনের পশ্চিমাঞ্চলের ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাদানে অবদানকারী, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের অনুশীলনকারী ও শিক্ষার মাধ্যমে দারিদ্র্যমুক্তিতে অংশগ্রহণকারী এবং পশ্চিমাঞ্চলের বাচ্চাদের বড় হওয়ার নির্দেশক হবে বলে আশা করেন সি, যাতে দরিদ্র এলাকার শিক্ষা কর্তব্যের উন্নয়নে নিজের অবদান রাখা যায়।

২০১৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর চীনের ৩০তম শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে বেইজিংয়ে গণ-মহাভবনে বিভিন্ন প্রদেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও স্কুল প্রতিনিধিদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। প্রেসিডেন্ট সি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে চীনের শিক্ষকদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

অনুষ্ঠানের পর সি চিন পিং বেইজিং নর্মাল বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। তিনি শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের সাথে সাক্ষাত্ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'শিক্ষকের দায়িত্ব অনেক গুরুত্বপূর্ণ, মানুষের আত্মা ও চরিত্র গঠনের দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষকরা।' এর সঙ্গে সঙ্গে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হওয়ার চারটি প্রয়োজনীয় শর্ত তুলে ধরেন তিনি। তা হল মহান আদর্শ ও দৃঢ় বিশ্বাস, পবিত্র নৈতিকতা, সমৃদ্ধ জ্ঞান আর উদারতা।

২০১৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর উজবেকিস্তান সফর করেন সি চিন পিং। বিদেশ সফরে থাকলেও চীনা শিক্ষকদের কাছে শুভেচ্ছা-বার্তা পাঠান তিনি। শুভেচ্ছা-বার্তায় চীনের শিক্ষা কর্তব্যের উন্নয়ন, দেশের উন্নয়ন ও জাতীয় পুনরুত্থানে শিক্ষকদের চমত্কার অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন সি এবং শিক্ষকদের প্রতি বড় আশা ব্যক্ত করেন। তা হল চীনের বৈশিষ্ট্যময় সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারা নিয়ে সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধ অনুশীলন করে শ্রেষ্ঠ নৈতিকতা ও সমৃদ্ধ জ্ঞান জানার দক্ষ ব্যক্তি প্রশিক্ষণ দেওয়া, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য উন্নয়নের পথনির্দেশক হওয়া এবং সারাজীবন লেখাপড়ায় অবিচল থাকা, নব্যতাপ্রবর্তন করা, অব্যাহতভাবে কর্ম-দক্ষতা উন্নত করা এবং শিক্ষার্থীদের প্রিয় গুণগতমানসম্পন্ন শিক্ষক হওয়া। যাতে বিশ্বের শিক্ষা কর্তব্যে চীন অবদান রাখতে পারে।

চীনের তৃণমূল শিক্ষকদের চোখে শিক্ষা কর্তব্যের উন্নয়ন

শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে চীনের বিভিন্ন প্রদেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকরা দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের সাথে সাক্ষাত্ করেন। সাক্ষাত্কারে তাঁরা তাঁদের চোখে চীনের শিক্ষা কর্তব্যের উন্নয়ন ও অনুভূতি তুলে ধরেন।

২০১৫ সালে চীনের চেচিয়াং প্রদেশের হাংচৌ স্যুয়েজুন মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান ছেন লি ছুন চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তখন থেকে তিনি দূরবর্তী এলাকার শিক্ষাসহায়তা কাজে অংশ নেন এবং কুইচৌ প্রদেশের ছিয়ানতুংনান মিয়াও আর তুং জাতির অধ্যুষিত এলাকার থাইচিয়াং জেলার মিনজু মাধ্যমিক স্কুলের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চীনের শিক্ষা কর্তব্যের ব্যাপক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে আছেন শিক্ষক ছেন। তিনি বলেন,

'আমার চোখে ১২ বছরের বাধ্যতামূলক শিক্ষাগ্রহণ না করা বাচ্চার সংখ্যা অনেক কমে গেছে, আধুনিক স্কুল ও আধুনিক সরঞ্জাম এখন সহজেই চোখে পড়ে, উচ্চ শিক্ষার শিক্ষকের সংখ্যাও অনেক বেড়েছে। বাচ্চাদের পিতা মাতারা শিক্ষাদানের ওপর অনেক গুরুত্ব দেন। স্কুলে বিভিন্ন শিক্ষা সম্পদ আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে এবং শিক্ষকদের বেতনও অনেক বেড়েছে।'

চীনের সি'আন চিয়াওথুং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক থাও ওয়েন ছুয়ান দীর্ঘকাল ধরে শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত। এ পর্যন্ত তাঁর ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৬০০০ জনেরও বেশি এবং তাদের মধ্যে ১৩০ জনেরও বেশি মাস্টার্স ও ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি বলেন, চীনের বৈদেশিক উন্মুক্তকরণ ও সংস্কার নীতি চালু করার ৪০ বছরের মধ্যে দেশের উচ্চ শিক্ষার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ডিগ্রি ব্যবস্থাও পূরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন,

'১৯৭৬ সালের পর চীনে ব্যাপকভাবে অনার্স, মাস্টার্স ও ডক্টরেট ডিগ্রি ব্যবস্থা চালু করা হয়। ১৯৮৪ সালে চীনের ছিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় ও সি'আন চিয়াওথুং বিশ্ববিদ্যালয়সহ ২২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাস্টার্স পর্যায়ের একাডেমি স্থাপনের অনুমোদন দেয় চীনের রাষ্ট্রীয় পরিষদ। তখন থেকে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। আমি সি'আন চিয়াওথুং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হই এবং ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ১৪ জন, তবে ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ৫২৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে আর ডক্টরেট পর্যায়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪০২ জন, যা ৪০ বছরের তুলনায় ৩০০ গুণেরও বেশি। ব্যাপক গুণগতমানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ চীনের উচ্চ শিক্ষা ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি কর্তব্যের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে।'

চীনের কানসু প্রদেশের লোহা ও ইস্পাত পেশাগত প্রযুক্তি একাডেমির শিক্ষক ল্যু চিয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ঢালাই প্রযুক্তির অনেক সমস্যা সমাধান করেছেন। পেশাগত শিক্ষাদানের সহায়ক নীতি চালু করার পর চীনের পেশাগত প্রশিক্ষণে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে বলে মনে করেন তিনি। শিক্ষক ল্যু চিয়ে বলেন,

'আমাদের স্কুল প্রতিষ্ঠা থেকে এ পর্যন্ত বিশেষ করে ঢালাই বিভাগে ঢালাই সরঞ্জাম আগের ১০টি থেকে বর্তমানে ৪০০টিতে পরিণত হয়েছে। চীন সরকারের দক্ষ প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ ঘাঁটির বিশেষ অর্থায়নে এ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন এআই ঢালাই সম্পন্ন করা যায়। স্কুলের প্রশিক্ষণ ক্লাস আগের চেয়ে ৫ গুণেরও বেশি বড় হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের নিয়মিত ঢালাই প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিশেষ ঢালাই প্রতিযোগিতাও আয়োজন করা হয়। এমন প্রেক্ষাপটে দক্ষ প্রযুক্তি ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের ব্যাপারে তিনি অনেক আশাবাদী।'

চীনের বিভিন্ন প্রদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যত গড়ে তুলতে অবদান রাখেন। তাঁরা নিজ চোখে দেখেছেন কিভাবে গত ৪০ বছরে চীনের শিক্ষা কর্তব্যের উন্নয়ন বাস্তবায়িত হয়েছে।

প্রাথমিক স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের যত্নে শিক্ষক ও বাবা মায়ের যৌথ প্রয়াস

চীনের বিভিন্ন শহর ও প্রদেশের প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন বিকেল সাড়ে তিনটার পর লেখাপড়া শেষে বাসায় ফিরতে হয়। এ সময় বাবা মা তাদের কর্মস্থলে থাকেন। তাই শিক্ষার্থীদের দেখাশুনার দায়িত্ব শুধু দাদা-দাদী, নানা-নানী বা সামাজিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিতে হয়।

সকাল সাতটায় স্কুলে যাওয়া আর বিকেল সাড়ে তিনটায় স্কুল থেকে বের হওয়া এবং বাসায় ফিরে আবার দুই এক ঘন্টার হোমওয়ার্ক করা ছোট বাচ্চাদের জন্য অনেক কঠিন ব্যাপার।

সাড়ে তিনটায় স্কুল শেষ করে সাতটায় ডিনার পর্যন্ত কি করতে পারে শিক্ষার্থীরা? এ সম্পর্কে রাজধানী বেইজিংয়ের শিক্ষা বিভাগের পর্যবেক্ষকরা কিছু পরামর্শ ও প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাস থেকে বেইজিংয়ের বিভিন্ন বাধ্যতামূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাসের পর তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করবেন স্কুলের শিক্ষকরা। তত্ত্বাবধান ক্লাসে ক্রীড়া, শিল্পকলাসহ বিভিন্ন তত্পরতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এভাবে বাচ্চাদের নিরাপত্তার ব্যাপারটি সমাধান করা যাবে এবং বাচ্চারা খেলাধুলার অনেক সুযোগ পাবে।

স্কুলের এই তত্ত্বাবধান ক্লাসের বিস্তারিত বিষয় নিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন করবেন তারা। এটি শিক্ষকদের পালাক্রমিকভাবে বাচ্চাদের লেখাপড়ার ক্লাস দেখাশোনা নয়, বরং এটি গুণগতমানসম্পন্ন শিক্ষাদানের অভাব পূরণ করবে। যেমন বাচ্চাদের ক্লাসরুমে লেখাপড়ার সময় বেশি বলে তারা খেলাধুলার সময় কম পায় এবং নিজের শখ অনুযায়ী প্রিয় কাজ করতে পারে না। বাবা মা অনেক টাকা দিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাচ্চাদের জন্য বাস্কেটবল, ভলিবল, পিংপং, বক্সিং, মার্শাল আর্ট, চিত্রকলা, গান ও নাচসহ বিভিন্ন অতিরিক্ত ক্লাসের জন্য নাম নিবন্ধন করেন। যদি স্কুল সাড়ে তিনটার পর এমন ক্লাস চালু করে, তাহলে মা বাবার খরচ কমে যাবে।

ফ্রান্সে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ

ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাকখোঁর উদ্যোগে ৩ সেপ্টেম্বর থেকে দেশটির প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন, আইপ্যাড, স্মার্ট ঘড়িসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইন্টারনেট, হিংসাত্মক ঘটনা ও পর্নোগ্রাফি সম্প্রচার প্রতিরোধে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। স্কুলে মোবাইল ফোন নিয়ে আসার নিষেধাজ্ঞা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের ওপর কার্যকর হবে।

২০১৬ সালের এক জরিপে দেখা যায়, ফ্রান্সে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯৩ শতাংশ। ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী মনে করেন এ নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে দেশের ১.২ কোটি ছাত্রছাত্রীর আত্মনিয়ন্ত্রণ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। বিজ্ঞান প্রযুক্তির উন্মুক্তকরণ মানে অপরিমিতভাবে বিজ্ঞান প্রযুক্তির প্রয়োগ করা নয় বলে মনে করেন তিনি।

এ নিষেধাজ্ঞার চালু করা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, এটি বন্ধ হলে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক মনোযোগ বাস্তবায়িত সম্ভব। এতে বাচ্চাদের বিশ্রামের সময়ও বেড়ে যাবে।

৪১ বছর বয়সী মা ম্যারি ক্যারোলিন মাদেলেইন মনে করেন, এটি ভালো একটি উদ্যোগ, বাচ্চারা জানবে যে স্কুল লেখাপড়ার জায়গা, মোবাইল নিয়ে খেলার জায়গা নয়। মা বাবা হিসেবেও আমরা আসলে বুঝতে পারিনা বাচ্চারা মোবাইলে কি কি দেখছে বা দেখেছে।'

যারা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেন, তারা মনে করেন, মোবাইল ব্যবহার মানুষের অধিকার। এ সম্পর্কে ফ্রান্সের বিভিন্ন স্কুলে লকার স্থাপন করে মোবাইল রক্ষার প্রস্তাব করেন তারা। আসলে মোবাইল মানুষের জীবনে প্রচলিত হওয়ার পর থেকে এখন বিভিন্ন দেশের মা বাবা বাচ্চাদের মোবাইল ব্যবহারে দৃষ্টিশক্তির দুর্বলতার প্রতি ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

কিভাবে বাচ্চাদের দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করা যায়?

সম্প্রতি চীনের শিশুদের মধ্যে দৃষ্টিক্ষীণতা সমস্যা ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে। কম বয়সেই বাচ্চাদের দৃষ্টিক্ষীণতার অবস্থা দিন দিন গুরুতর হয়ে উঠছে, যা চীনা শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ সম্পর্কে শিশু ও বাচ্চাদের দৃষ্টিক্ষীণতা প্রতিরোধে কিছু প্রস্তাব পেশ করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় জনস্বাস্থ্য কমিটি। যেমন স্কুলের হোমওয়ার্ক কমিয়ে দেওয়া, বহিরাঙ্গনে খেলাধুলার সময় বাড়িয়ে দেওয়া, মোবাইল ফোন ও টেলিভিশন দেখার সময় কমিয়ে দেওয়া, নিয়মিতভাবে দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করা এবং যথাযথভাবে দৃষ্টিক্ষীণতা চিকিত্সা করা ইত্যাদি।

আসলে বিভিন্ন প্রস্তাব বা পরামর্শ থাকলেও প্রতিটি পরিবার তা মেনে চললে তবেই তা থেকে উপকার পাওয়া যাবে। বাচ্চাদের বাবা মা এ বিষয়টি তত্ত্বাবধান না করার কারণে ছোটবেলা থেকে বাচ্চাদের খারাপ অভ্যাস তৈরি হয়, ফলে সহজে দৃষ্টিক্ষীণতায় আক্রান্ত হয় ।

দৃষ্টিশক্তির রক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে কিছু আলোচনা।

সুপ্রিয় শ্রোতাবন্ধুরা, সময় দ্রুত চলে যায়, আমাদের আজকের অনুষ্ঠানও তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে এলো। আমাদের অনুষ্ঠান সম্পর্কে কোনো মতামত থাকলে চিঠি লিখতে ভুলবেন না।

আমাদের যোগাযোগ ঠিকানা ben@cri.com.cn, caoyanhua@cri.com.cn, আমাদের ওয়েবসাইটের ঠিকানা bengali.cri.cn, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট cribangla

তাহলে এবার বিদায় নিচ্ছি, সবাই ভালো থাকুন, সুন্দর থাকুন। আগামী সপ্তাহে একই দিনে একই সময়ে আবারো কথা হবে। যাইচিয়ান। (সুবর্ণা/টুটুল)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040