Web bengali.cri.cn   
সুরের ধারায়: ওয়াং ফেং-প্রস্ফুটিত জীবন চাই
  2018-09-07 15:37:29  cri


প্রিয় শ্রোতা, আশা করি ভাল আছেন। বেইজিং থেকে প্রচারিত চীন আন্তর্জাতিক বেতারের বাংলা অনুষ্ঠান 'সুরের ধারায়' আপনাদের সবাইকে আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি আমি ইয়াং ওয়েই মিং স্বর্ণা।

সঙ্গীত কোনো দেশের সীমা মানে না। আপনি কি এখন গাড়ি চালাচ্ছেন, নাকি বাসার কোনো কাজ করছেন? আপনি এখন একা, নাকি সাথে সঙ্গী আছে? আপনার মন আজকে পেইচিংয়ের শরত্কালের নীল আকাশের মতো স্বচ্ছ, নাকি ঢাকার কালবৈশাখী সময়ের মতো মেঘলা? যে যেখানে যেভাবেই থাকুন না কেন, আসুন সঙ্গীত উপভোগ করি। সঙ্গীতের জগতে ডুব দেওয়ার আনন্দই আলাদা। কী বলেন? (গান ১, পেইচিং, পেইচিং)

বন্ধুরা, এখন যে গানটি আপনারা শুনছেন, সেটা হল গায়ক ওয়াং ফেংয়ের রচিত গান 'বেইজিং, বেইজিং'। ওয়াং ফেং চীনের রক অ্যান্ড রোল গায়ক এবং বিশ্ববিখ্যাত অভিনেত্রী জাং জি ই'র স্বামী। বেইজিংয়ের মানুষের কাছে গানটি খুবই মর্মস্পর্শী। গানে বলা হয়েছে: 'এখানে আমি হাসি, এখানে আমি কাঁদি। এখানে আমি প্রার্থনা করি, এখানে আমি দিশাহারা হই। এখানে আমি খুঁজি, এখানে আমি হারাই। একদিন যদি আমি মারা যাই, আশা করি এখানেই আমাকে সমাহিত করা হবে। এখানেই আমি নিজের অস্তিত্ব বোধ করতে পারি, এখানকার জন্যই আমার যতো টান। বেইজিং, বেইজিং!'

এখন ওয়াং ফেংয়ের আরেকটি গান শুনুন। গানের নাম 'ছাং লাং জ্যি গ্য' বা মুক্তির গান। (গান ২, মুক্তির গান)

এটি ছিল চলচ্চিত্র 'ওয়াল্ফ টোটেম'-এর থিম সঙ্গীত। এ গানে বিশাল পৃথিবীর মধ্যে থাকা প্রাণীর একাকী অনুভূতি এবং মানুষ ও পৃথিবীর সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে। পৃথিবীর মধ্যে একটি প্রাণী কতো ক্ষুদ্র! অথচ এই প্রাণীই আবার কতো কঠিন হতে পারে!! (গান ৩, বসন্তকালে)

ওয়াং ফেংয়ের অনেক গান আছে, কিন্তু একটি গানের মধ্যে তার বিশেষ স্মৃতি রয়েছে। এ গানের নাম 'ছুন থিয়েন লি' বা বসন্তকালে। এ গানে যুগ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মনের অবস্থা পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সময় বদলের সঙ্গে জীবনের সবচেয়ে মৌলিক জিনিস, সবচেয়ে রঙিন স্বপ্ন ধরে রাখা উচিত। গানে বলা হয়েছে: 'অনেক বছর আগেকার বসন্তকালের কথা মনে পড়ছে। তখন আমার ক্রিটিক কার্ড ছিল না, আমার সাথে প্রেমিকা ছিল না, ২৪ ঘন্টা গরম পানির বাড়িও ছিল না। আমার সাথে শুধু একটি ভাঙা গিটার ছিল। আমি রাস্তাঘাটে, নদীর তীরে ও মাঠে পুরাতন গানগুলো গাইতাম। কিন্তু তখন আমি খুব সুখী ছিলাম। যেদিন আমি বৃদ্ধ হব, সঙ্গে থাকবে না কেউ, সেদিন আমি সেই বসন্তকালে ফিরে যেতে চাই। আমার আকস্মিক মৃত্যু ঘটলে, আমাকে সেই বসন্তকালে সমাহিত করো।' (গান ৪, ছুন জাই, অস্তিত্ব)

'ছুন জাই' মানে অস্তিত্ব। আমরা সবাই এ পৃথিবীতে জীবিত আছি, বেঁচে আছি। কিন্তু আমরা কিভাবে থাকতে চাই? কেমন জীবন যাপন করা আমাদের স্বপ্ন ছিল? আমাদের অস্তিত্ব কিভাবে প্রমাণ করা যায়? এসব প্রশ্ন আমাদের ভাবায়। কিন্তু প্রশ্নের তাত্ক্ষনিক উত্তর সবসময় পাওয়া যায় না। কিন্তু তবুও ভাবতে হয়; প্রশ্ন করতে হয়। জবাব খুঁজতে খুঁজতে আমরা হয়তো জীবনকে নতুন একটি পর্যায়ে উন্নীত করতে পারি। গানে বলা হয়েছে: 'কত মানুষ হাঁটছে, কিন্তু তারা আসলে অচল। কত মানুষ জীবিত আছে, অথচ তারা মৃতের মতো। কত মানুষ ভালবাসছে, অথচ তারা পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন। কত মানুষ হাসছে, অথচ তাদের চোখে জল। কে জানে আমাদের কোন দিকে যাওয়া উচিত! কে জানে জীবন কি জিনিস! স্রেফ পশুপাখির মতো কোনোভাবে বেঁচে থাকবো, নাকি মনের পাখা খুলে আকাশে উড়ে বেড়াবো? আমি কিভাবে থাকব? কত বার অপমান বোধ করি! কত বার উচ্ছ্বাসের সময় বেদনা সহ্য করতে হয়! কত বার সুখী সুখী ভাব নিয়ে মনের মধ্যে যন্ত্রণায় কাতর হই! কত বার উজ্জ্বল সময়ে মনে মনে নষ্ট হয়ে যাই! কে জানে আমাদের স্বপ্ন কোথায় হারিয়ে গেছে! কে জানে আমাদের জীবন কত সস্তা হয়ে গেছে! পশুপাখির মতো স্রেফ বেঁচে থাকবো, নাকি সাহস নিয়ে বাধা ভেঙে সামনে এগুবো? আমি কিভাবে বেঁচে থাকব?' (গান ৫, নু ফাং ত্য শেং মিং, প্রস্ফুটিত জীবন)

এখন শুনুন ওয়াং ফেংয়ের আরেকটি গান 'নু ফাং ত্য শেং মিং' বা প্রস্ফুটিত জীবন। গানে বলা হয়েছে: 'কত বার রাস্তায় পড়ে যাই! কত বার পাখা ভেঙে যায়! কিন্তু এখন আর অবাক হই না। আমি এ অতি স্বাধারণ জীবনকে অতিক্রম করতে চাই। আমি প্রস্ফুটিত জীবন চাই, অসীম আকাশে উড়ে বেড়াতে চাই, বিশাল পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াতে চাই। সবকিছু ভেঙে দেওয়ার শক্তি আমার আছে। আমি প্রস্ফুটিত জীবন চাই, রংধনুর উপরে দাঁড়াতে চাই, ঝিকিমিকি ছায়াপথে হাঁটতে চাই। সাধারণ জীবনকে ছাপিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা আমার আছে।' (গান ৬, জাই চিয়েন ছিং ছুন, বিদায়, যৌবনকাল)

প্রিয় শ্রোতা, গান শুনতে শুনতে অনুষ্ঠানের শেষ প্রান্তে চলে এলাম। তবে বিদায় নেওয়ার আগে ওয়াং ফেংয়ের আরেকটি গান শোনবো। গানের নাম 'জাই চিয়েন ছিং ছুন' বা বিদায়, যৌবনকাল। গানে বলা হয়েছে: 'আমি শরত্কালের এক ভোরবেলায় রওয়ানা দেবো; ট্রেনের ঝাঁকে, ফুলের স্নিগ্ধতায় স্বপ্নভাঙ্গা ভোরবেলায় রওয়ানা দেবো। বিদায়, যৌবনকাল। বিদায়, মধুর বেদনা। বিদায় যৌবনকাল। চিরকালের অজ্ঞতা।'

(স্বর্ণা/আলিম)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040