Web bengali.cri.cn   
শিক্ষা-সম্পর্কিত খবর ও হংকং বিশেষ প্রশাসনিক এলাকার শিক্ষার্থীদের ২০১৮ সালের গ্রীষ্মকালীন ছুটি
  2018-08-27 15:23:37  cri


বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার উন্নয়নে ৫১ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দের ঘোষণা বিশ্ব ব্যাংকের

সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় বাংলাদেশ সরকারের সাথে সহযোগিতামূলক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বিশ্ব ব্যাংক। দেশটির মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নে বিশ্ব ব্যাংক ৫১ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে, যা দেশটির ১.৩ কোটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার উন্নয়নে কল্যাণ বয়ে আনবে।

জানা গেছে, বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাদানের মান ও সর্বব্যাপী শিক্ষা উন্নত করার উদ্দেশ্যে বিশেষ করে মেয়ে ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এ প্রকল্পে। প্রকল্পটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা হবে এবং দেশের ৫ লাখ শিক্ষক ও বিদ্যালয় প্রধানদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে বিভিন্ন শ্রেণীর ক্লাসের লেখাপড়া পর্যালোচনা এবং মাধ্যমিক শিক্ষাদান জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়।

বিশ্ব ব্যাংকের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সর্বব্যাপী শিক্ষায় আকর্ষণীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাদানে লিঙ্গ সমতাও বাস্তবায়ন করেছে দেশটি। তাই এ খাতে বরাদ্দ দেওয়া বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়নের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের উন্নয়নে গত কয়েক বছরে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক।

চীনের সরকারি বৃত্তিপ্রাপ্ত বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সবচেয় বেশি

সম্প্রতি পাকিস্তানে চীনা দূতাবাসে ২০১৮ সালে চীনের সরকারি বৃত্তিপ্রাপ্ত অর্থাত্ সিএসসি (চায়না স্কলার কাউন্সিল) বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের এক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। পাকিস্তানের প্রাদেশিক যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও চীনা দূতাবাস যৌথভাবে ১৪০ জন শিক্ষার্থীকে বাছাই করে।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে চীন যোগাযোগ বিশ্ববিদ্যালয়, শানতুং বিশ্ববিদ্যালয়, চেচিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়, উহান বিশ্ববিদ্যালয় ও সি'আন চিয়াওথুং বিশ্ববিদ্যালয়সহ চীনের ১০টিরও বেশি শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স, মাস্টার্স ও ডক্টরেট পর্যায়ে লেখাপড়া করতে আসবেন তারা। তাদের সবাই কম্পিউটার, শিল্প ব্যবসা প্রশাসন, আইন, চিকিত্সা, টেলি যোগাযোগ, স্থাপত্য ও চলচ্চিত্র নিয়ে লেখাপড়া করবেন।

পাকিস্তানে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও জিং এবারের সিএসসি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, চীন-পাক অর্থনৈতিক করিডোর নির্মাণ ও পাকিস্তানের উন্নয়নে সমর্থন দিতে দেশটির শিক্ষার্থীদের জন্য সিএসসির বৃত্তির পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে চীন সরকার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের জন্য সিএসসির বৃত্তির পরিমাণ অব্যাহতভাবে বেড়েছে এবং এই সংখ্যা একটানা বহু বছর ধরে শীর্ষস্থানে রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের বিভিন্ন খাতে দক্ষ ব্যক্তি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, চীনা দূতাবাস দ্বিপাক্ষিক সাংস্কৃতিক ও শিক্ষার বিনিময়ের ওপর অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। তাঁর দেশ আগের মতো ভবিষ্যতেও পাকিস্তানি শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের চীনে লেখাপড়ার সুযোগ সুবিধা দেবে। এসব শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া শেষ স্বদেশের নির্মাণ ও চীন-পাক মৈত্রীতে নিজের অবদান রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত ইয়াও।

পাকিস্তানে নিযুক্ত চীনা কনসুলার চাও লি চিয়ান বৃত্তিপ্রাপ্তদের ভর্তিপত্র বিতরণ করেন। তিনি মুসলমানদের নবী হযরত মোহাম্মদ (সা:)-এর কথার উদ্ধৃতি দিয়ে শিক্ষার্থীদের বলেন, 'জ্ঞান অর্জন করতে চাইলে সুদূর চীনে যেতে হবে'। শিক্ষার্থীরা এ কথার অনুশীলনকারী ও পাকিস্তানি শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীর প্রতিনিধি হিসেবে চীনে ভালোভাবে লেখাপড়া করবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

পাক-চীন মৈত্রী এবং দীর্ঘকাল ধরে পাকিস্তানকে সহায়তা করায় চীনের ভূয়সী প্রশংসা করে পাক কর্তৃপক্ষ। তারা চীনের সাথে শিক্ষা খাতের সহযোগিতা জোরদার করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের সিএসসির বৃত্তির সুযোগ দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। পাকিস্তানি শিক্ষার্থীরা শ্রেষ্ঠ সুযোগ কাজে লাগিয়ে চীনে ভালোভাবে লেখাপড়া করবে বলে বিশ্বাস করে পাক সরকার।

 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনে অধ্যয়নকারী বিদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে পাকিস্তানের শিক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, পৌর সরকার, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানও পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বৃত্তি প্রদান করে থাকে। ২০১৭ সালের হিসেবে দেখা যায়, চীনে পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার, তাদের মধ্যে ৭০০০ জনেরও বেশি বৃত্তি লাভ করেন।

চীন সরকারও চীনা শিক্ষার্থীদের পাকিস্তানে লেখাপড়া করতে উত্সাহ দেয়। পাকিস্তানের ভাষা, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও শিক্ষা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করলে বা জানলে তা দ্বিপাক্ষিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ে সহায়ক হবে বলে মনে করে চীন সরকার। গত কয়েক বছরের এক হিসেবে দেখা যায়, পাকিস্তানে চীনা শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১০০০ জনে দাঁড়িয়েছে।

হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চীনা সেনাবাহিনীর জীবনযাপন অনুভব

২০১৮ সালের গ্রীষ্মকালীন ছুটি চীনের হংকংয়ের কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ তাত্পর্যপূর্ণ। এ ছুটিতে হংকংয়ের ১০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের ১৬০ জন শিক্ষার্থী ১৩ দিনের মতো সামরিক জীবন কাটান। হংকংয়ে নিযুক্ত চীনা গণমুক্তি ফৌজের সদরদপ্তরে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্সে তারা অংশ নেন এবং চীনা সৈন্যদের জীবনযাপন অনুভব করেন।

সামরিক প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রচণ্ড বৃষ্টিতে ১৩ দিনের প্রশিক্ষণের ফলাফল তুলে ধরেন ১৬০ জন শিক্ষার্থী। তারা ছদ্মবেশে ইউনিফর্ম পড়ে সুশৃঙ্খল গতিতে প্রদর্শনী কক্ষে প্রবেশ করেন এবং মার্শাল আর্ট প্রদর্শন করেন।

একটানা ১৩ দিনের সামরিক প্রশিক্ষণকোর্সে শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে চরিত্র ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি গঠন নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করেন, যাতে তারা যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হন।

হংকং শুরেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সু ছিয়াও বলেন, এই স্বল্পসময়ের সামরিক জীবনের মাধ্যমে তিনি চীনা গণমুক্তি ফৌজের ইতিহাস ও বৈশিষ্ট্য জানতে পেরেছেন। এমন শ্রেষ্ঠ অভিজ্ঞতা তার জীবনে অবিস্মরণীয়। তিনি বলেন,

'আসলে চলতি বছর আমার অনার্স কোর্স শেষ হবে। পরিকল্পনা করছিলাম শেষ গ্রীষ্মকালীন ছুটি অসাধারণভাবে কাটাবো। তাই সামরিক প্রশিক্ষণ কোর্সের বিজ্ঞাপন দেখে অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করি। এখন আমি এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমার দক্ষতা নিয়ে অনেক আত্মবিশ্বাসী'।

চীনের হংকং বিশেষ প্রশাসনিক এলাকার প্রধান লিন চেং ইউয়ে এ সমাপনী অনুষ্ঠানে বলেন, ক্যাম্পে সামরিক জীবনযাপন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শ্রেষ্ঠ সুযোগ। কারণ এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শরীর চর্চা করার পাশাপাশি চীনা সেনাবাহিনীর পরিশ্রমী চরিত্র, দৃঢ় বিশ্বাস ও দেশপ্রেমিক চেতনা অনুভব করতে সক্ষম, যাতে কঠোর সমস্যার সম্মুখীন হলেও তা সমাধানের দক্ষতা উন্নত করা যায়, ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতার গুরুত্ব বোঝা যায় এবং দেশপ্রেম অনুভব করা যায়। বলতে পারি, এমন ঘটনা শিক্ষার্থীদের জীবনে একটি শ্রেষ্ঠ অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন,

'আমি বিশ্বাস করি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণকারীরা সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে মৈত্রী ও সুসম্পর্ক তৈরি করেছে এবং হংকংয়ের সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা এবং 'এক দেশে দুই ব্যবস্থা' সংরক্ষণে চীনা গণমুক্তি ফৌজের প্রচেষ্টাকে বুঝতে পেরেছে। আজকের প্রবল বৃষ্টিতে তোমাদের দৃঢ় ও শক্তিশালী সংগ্রামী চেতনা অনুভব করেছি। তোমরা আত্মবিশ্বাস, সহনশীলতা ও দৃঢ় সামরিক চেতনা ধরে রেখে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে বলে আশা করি।'

গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পে সামরিক জ্ঞানের ক্লাস, শরীর গঠন, মার্শাল আর্ট ও মার্চিং প্রশিক্ষণের পাশাপাশি শুটিং, জঙ্গলে বেঁচে থাকা ও প্রতীকী ভাষা শিখেছে শিক্ষার্থীরা। তারা হংকংয়ে চীনা গণমুক্তি ফৌজের বিমান বাহিনীর নিয়মিত প্রশিক্ষণ সম্পর্কেও জানতে পেরেছে। তাছাড়া, সার্বিকভাবে সামরিক জ্ঞান লাভের জন্য তারা ফ্রিগেটে সমুদ্র ভ্রমণ করেছে।

হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ ছাত্র জেং সিন তা বলেন, এ ক্যাম্পে অংশ নেওয়ার আগে হংকংয়ের চীনা সেনাবাহিনী তার কাছে ছিলো অতি রহস্যময় ও গম্ভীর। তবে ১৩ দিনের সামরিক জীবনে সৈন্যদের সাথে সরাসরি বিনিময়ের সুযোগের ফলে তার এ ধারণার পরিবর্তন ঘটেছে। তিনি দেশের জন্য সৈন্যদের অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,

 

'ক্যাম্পে অংশ নেওয়ার আগে সামরিক জীবনের কষ্ট তেমন বুঝতে পারতাম না। মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ অতি জটিল ও কঠোর। প্রতিদিন ৬টায় ঘুম থেকে জেগে ওঠা এবং রাত ১০টায় ঘুমাতে যাওয়া আমার জন্য অনেক কঠিন। তাই চীনা সেনাবাহিনীর সৈন্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তাদের প্রতিরক্ষা কাজের কারণে হংকংয়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিরাজমান। তাদের কঠোর প্রশিক্ষণে আমি অংশ না নিলে তাদের সামরিক জীবন অনুভব করতে পারতাম না।'

হংকংয়ে নিযুক্ত চীনা গণমুক্তি ফৌজের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল থান বেন হং সমাপনী অনুষ্ঠানে বলেন, শিক্ষার্থীরা ১৩ দিনের প্রশিক্ষণে বিভিন্ন দক্ষতা চর্চা করেছে। তারা শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন ও দেশপ্রেমের চেতনা অনুভব করেছে। তিনি তাদের সুন্দর ভবিষ্যত কামনা করেন। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশের জন্য অবদান রাখবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

সফর, বিনিময় ও কর্ম-অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে হংকংয়ের শিক্ষার্থীদের গ্রীষ্মকালীন ছুটি পার

সময় দ্রুত চলে যায়, প্রায় আড়াই মাসের গ্রীষ্মকালীন ছুটি এখন শেষের দিকে। এ গ্রীষ্মকালে উষ্ণ আবহাওয়া সহ্য করে হলেও বিভিন্ন সুযোগে চীনের মূলভূভাগে সফর, অনুশীলন ও বিনিময় করতে আসেন হংকংয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী। তারা বিভিন্ন শহরে লেখাপড়া ও বিনিময়ের মাধ্যমে চীনের ইতিহাস ও উন্নয়ন অনুভব করেন।

সিয়াংতাও মাধ্যমিক স্কুলের ছাত্রী ইয়াও শু মিন বলেন, এবার চেচিয়াং প্রদেশের সফর তার জন্য একটি শ্রেষ্ঠ সুযোগ। এ সফরের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় অঞ্চলের যুবক ও স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে মতবিনিময় করতে পেরেছেন। এ মতবিনিময়ের ফলে তার মধ্যে অনেক অনুভূতি তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের জুলাই মাসের শেষ দিকে হংকংয়ের ১৫-২৩ বছর বয়সী ১০০০ জন শিক্ষার্থী চেচিয়াং প্রদেশ সফরে আসেন। তাদের মধ্যে একজন হলেন ইয়াও শু মিন।

এবারের এই বিনিময় ও সফর ইয়াও'র মনে দেশের প্রতি অবদান রাখার বিশ্বাস তৈরি করেছে। মাতৃভূমির দ্রুতগতির উন্নয়ন ও বিজ্ঞান প্রযুক্তির নব্যতাপ্রবর্তনের সাক্ষী হয়ে দেশের ভবিষ্যত উন্নয়নের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসী তিনি।

হংকং-চেচিয়াং বিনিময় সমিতি এবারের এ সফর আয়োজন করে। সমিতির প্রধান চান ইয়াও লিয়াং বলেন, হংকংয়ের শিক্ষার্থীরা স্বচোখে পরিদর্শনের মাধ্যমে চেচিয়াংয়ের যুবকদের সাথে বিনিময় করেছে। তারা ভবিষ্যতে দুই এলাকার অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে অবদান রাখবে। শিক্ষার্থীরা চেচিয়াং প্রদেশের দর্শনীয় স্থান ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের মাধ্যমে চীনা সংস্কৃতি ও ইতিহাসের মূল্য অনুভব করতে সক্ষম হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অগাস্ট মাসের শুরুতে হংকংয়ের ৮০০ শিক্ষার্থী দ্রুতগতির ট্রেনে শাআনসি-হংকং যাতায়াত করেন। ৬ দিনের সফরে তারা ছিন রাজবংশের টেরাকোটা আর্মি, হুয়াছিং হ্রদ ও তামিং প্রাসাদসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক নিদর্শন ও ঐতিহ্য পরিদর্শন করেন। তারা সি'আন বিজ্ঞান প্রযুক্তিবিষয়ক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও উদ্যান ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শন শেষে চীনের মূলভূভাগের গভীর ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে বিস্ময়কর মনে করেন তারা। ২৪ বছর বয়সী ছাত্রী হুয়াং ইয়ান ইউ বলেন, 'সি'আন চীনের ঐতিহ্যবাহী পুরনো শহর। এখানে থাং রাজবংশের সংস্কৃতি ও প্রাচীনকালে চীনাদের বুদ্ধিমত্তা অনুভব করা যায়। তবে চীনা ইতিহাসের আরো অনেক কিছু জানতে হবে বলে মনে করেন তিনি। এবার সফরের মাধ্যমে চীনের ইতিহাসের প্রতি তার ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।

সফর ও বিনিময় ছাড়াও বেইজিং ও শেনচেনে কোম্পানিতে কর্ম-অভিজ্ঞতা লাভ করেন তারা। এমন অভিজ্ঞতা তাদের ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনায় সহায়ক বলে তারা মনে করেন।

হংকং সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের ছাত্রী লিন হাই থিং রাজপ্রাসাদে পুরনো স্থাপত্য মেরামত কাজে অংশ নেন। তিনি মনে করেন, এমন শ্রেষ্ঠ সুযোগ তার জন্য অতি সৌভাগ্যের। কারণ কর্ম-অভিজ্ঞতায় রাজপ্রাসাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সঠিক ও গভীরভাবে জানতে পেরেছেন তিনি। এই অভিজ্ঞতা তার মধ্যে কর্মসংস্থানের ব্যাপারে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা তৈরি করেছে। তিনি মনে করেন, স্কুলে শুধু লেখাপড়ার মাধ্যমে স্থাপত্য বিষয়ে গবেষণা ও জ্ঞান লাভ করা যায়, তবে অনুশীলনে নিজস্বভাবে স্থাপত্য স্পর্শ ও অনুভব করা যায়। ৬ সপ্তাহের কর্ম-অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি সাংস্কৃতিক ধ্বংসাবশেষ খাতে চাকরি খুঁজবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

চলতি বছর হংকংয়ের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেয় চাইনিজ একাডেমি অফ সায়েন্সেস। হংকংয়ের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে উন্নত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিষয় অনুভব ও গবেষণা করতে পারেন। হংকং চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র লিয়াং চিং চিন মনে করেন, এ ইন্টার্নশিপের সুযোগে তিনি চীনের বৈদেশিক উন্মুক্তকরণ ও সংস্কারের সাফল্য অনুভব করতে পেরেছেন। তিনি চীনাদের সাথে যৌথভাবে মাতৃভূমির নির্মাণে অবদান রাখতে আগ্রহী। বর্তমানে হংকং, কুয়াংতুং ও ম্যাকাওয়ের যৌথ নির্মাণকাজের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে চীন সরকার। তিনি স্নাতক হওয়ার পর এতদাঞ্চলে চাকরি খুঁজবেন এবং স্বদেশীদের সাথে যৌথভাবে অবদান রাখবেন।

হংকংয়ে ইন্টার্নশিপ করা হংকংয়ের শিক্ষার্থীরা মনে করেন, ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে ভিন্ন শিল্পের ভিন্ন চাকরির বাস্তব অবস্থা ও মূলভূভাগের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ব্যবস্থা বুঝতে পেরেছেন। এর ফলে তাদের ভবিষ্যত কর্মসংস্থানের দক্ষতা ও দর্শন উন্নত হয়েছে।

উল্লেখ্য, চীনের হংকং বিশেষ প্রশাসনিক এলাকার উদ্যোগে 'মূলভূভাগে হংকং শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ সহায়তা পরিকল্পনা' চালু হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত হংকংয়ের ১৪ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী এ ইন্টার্নশিপের সুযোগ পেয়েছেন। চলতি বছর সহায়তার অর্থের পরিমাণ ১০ কোটিরও বেশি হংকং ডলার, যা হংকং শিক্ষার্থীদের বেইজিং, শাংহাই, ছোংছিং ও ইনারমঙ্গোলিয়ার ইন্টার্নশিপে ব্যয় করা হয়েছে। এবার অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩৬০০ জন।

প্রিয় শ্রোতা, সময় দ্রুত চলে যায়, তাইনা? আমাদের অনুষ্ঠানও প্রায় শেষ হয়ে এলো। এ অনুষ্ঠান সম্পর্কে কোনো মতামত থাকলে আমাদের কাছে চিঠি লিখবেন। আমাদের যোগাযোগ ঠিকানা ben@cri.com.cn, caoyanhua@cri.com.cn

রেডিও'র মাধ্যমে আমাদের অনুষ্ঠান শুনতে না পারলে বা শুনতে মিস করলে বাংলা বিভাগের ওয়েবসাইটে শুনতে পারবেন। আমাদের ওয়েবসাইটের ঠিকানা www.bengali.cri.cn

এবার তাহলে বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভালো থাকুন, সুন্দর থাকুন। আগামী সপ্তাহে একই দিনে একই সময়ে আবারো কথা হবে। যাইচিয়ান। (সুবর্ণা/টুটুল)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040