Web bengali.cri.cn   
বছরের প্রথম ৬ মাসে চীনে নতুন বিদেশি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩০ হাজার (অর্থ-কড়ি; ১৮ অগাস্ট ২০১৮)
  2018-08-18 15:43:30  cri


১. চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে চীনে নতুন গড়ে ওঠা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২৯৫৯১টি, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৯৬.৬ শতাংশ বেশি। এসময় বিদেশি মূলধনের প্রকৃত ব্যবহার ছিল ৬৮৩২ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪.১ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৯.১ শতাংশ বেশি ছিল। সম্প্রতি চীনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এসব তথ্য জানায়।

এদিকে, চীনে বিদেশি বিনিয়োগের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব কিছুটা হলেও পড়েছে। তবে পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, চীনের ওপর বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখনও অটুট আছে।

২. অদূর ভবিষ্যতে ব্রাজিলে স্থানীয়ভাবে তৈরি হবে চীনের দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট যাত্রীবাহী বিমান 'হারবিন'। সম্প্রতি এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন অব চায়না (এভিআইসি)-র ব্রাজিলীয় প্রতিনিধি হোসে সান্তোস সিনহুয়াকে বলেন, চীনে তৈরি কোনো বিমানকে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকিকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ব্রাজিলে এ-লক্ষ্যে একটি কারখানাও প্রতিষ্ঠা করার চিন্তাভাবনা চলছে।

৩. আমদানিকৃত ফটোভোল্টাইক পণ্যের ওপর সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করায়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)-তে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য যথাযথ প্রক্রিয়া শুরু করেছে চীন। চীনের বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ-তথ্য জানিয়ে বলেন, মার্কিন ব্যবস্থা চীনের বৈধ বাণিজ্য-স্বার্থের পরিপন্থি এবং বহুপক্ষবাদনীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। মুখপাত্র আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ডব্লিউটিও-র নীতিমালাকে সম্মান করতে ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সঠিক পথে ফিরে আসতে চীন আহ্বান জানায়।

৪. চীনের জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিটির কর্মসংস্থান বিভাগের পর্যবেক্ষক হা চেং ইয়ৌ বলেছেন, নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য অনেক নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এসব উদ্যোগের মধ্যে আছে অর্থনীতিতে নতুন চালিকাশক্তির যোগান, ঐতিহ্যবাহী শিল্পের রূপান্তর, এবং কৃষির সরবরাহ-কাঠামোতে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কারসাধন।

তিনি সম্প্রতি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি)-র কেন্দ্রীয় কমিটির পলিট ব্যুরোর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্মেলনে এসব কথা বলেন। সম্মেলনে দেশের কর্মসংস্থান-পরিস্থিতি উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের প্রথমার্ধে চীনে কর্মসংস্থান-পরিস্থিতি ভালো ছিল। তবে, চীনা অর্থনীতির রূপান্তর ও বাণিজ্যযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কর্মসংস্থান-পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার উপায় খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ।

৫. চীনে স্থাবর সম্পত্তিতে বিনিয়োগ (এফএআই) বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম ৭ মাসে এই খাতে বিনিয়োগ গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫.৫ শতাংশ বাড়ে। চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (এনবিএস) এ-তথ্য জানিয়েছে।

ব্যুরোর তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে ৫.৭ শতাংশ। অন্যদিকে, উচ্চ-প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে যথাক্রমে ১২.২ শতাংশ ও ১০ শতাংশ।

৬. চীনের আলিবাবা গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কার পর্যটন উন্নয়ন ব্যুরো। আলিবাবার অঙ্গসংস্থা 'ফ্লিগি'র সঙ্গে চুক্তি করবে ব্যুরো। এই চুক্তির উদ্দেশ্য হবে লঙ্কান পর্যটন খাতকে চাঙ্গা করা। দেশটির পর্যটনমন্ত্রীর বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো এ-খবর দিয়েছে।

মন্ত্রী জানান, চলতি বছর শ্রীলঙ্কার লক্ষ্য ২৫ লাখ পর্যটক আকর্ষণ করা, যা সহজে অর্জিত হবে বলে সরকার আশা করছে। তা ছাড়া, ২০১৯ সালে ৩৫ লাখ বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্পর্কেও লঙ্কান সরকার আশাবাদী।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে শ্রীলঙ্কায় বিদেশি পর্যটক এসেছে ১৩ লাখ, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩.৭ শতাংশ বেশি।

৭. চলতি মাসের শেষ দিকে চীনের বাজারে আসতে যাচ্ছে স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি নোট নাইন স্মার্টফোন। সম্প্রতি শাংহাইয়ে এক অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং ইলেক্ট্রনিক্স জানায়, চীনা ভোক্তারা ৩১ অগাস্ট থেকে গ্যালাক্সি নোট নাইন কিনতে পারবেন।

এক হিসেব অনুসারে, চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে স্যামসাং আট লাখ স্মার্টফোন চীনে রফতানি করে, যা চীনের স্মার্টফোনের বাজারের চাহিদার মাত্র ০.৮ শতাংশ।

৮. চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সিঙ্গাপুরের অর্থনীতিতে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে অর্জিত হয়েছিল ৪.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। সম্প্রতি দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এ-তথ্য জানায়।

এর মধ্যে উৎপাদন খাতে ১০.২ শতাংশ, নির্মাণ খাতে ৪.৬ শতাংশ, পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য খাতে ১.৫ শতাংশ, পরিবহন ও মজুত খাতে ১.৩ শতাংশ আবাসন ও খাদ্যসেবা খাতে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও দেশের অভ্যন্তরীণ অবস্থা বিচারে, চলতি বছর সিঙ্গাপুরের অর্থনীতিতে ২.৫ থেকে ৩.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

৯. চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ৪৪০০ কোটি ডলার নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ সরকার। এর মধ্যে পণ্য-রফতানি ৩৯০০ কোটি এবং সেবা-রফতানি ৫০০ কোটি ডলার ধরা হয়েছে। গত বছর পণ্য ও সেবা খাতের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪১০০ কোটি মার্কিন ডলার, যা প্রায় পুরোটাই অর্জিত হয়েছে।

সম্প্রতি সচিবালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন। এ-সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গত অর্থবছরের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। গত বছর পণ্য খাতে রফতানির প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৩৬ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৭.৪৩ শতাংশ। সার্বিকভাবে রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬.৪৭ শতাংশ।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের রফতানির সিংহ ভাগ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। চলতি বছর তৈরি পোশাক রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩২০০ কোটি মার্কিন ডলার, যা মোট রফতানি লক্ষ্যমাত্রার ৮৩.৮২ শতাংশ।

মন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক নতুন বাজারে রফতানিতে আগে ৩ শতাংশ হারে নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হতো। এখন আরও এক শতাংশ বাড়িয়ে ৪ শতাংশ হারে নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। আগামীতে তৈরি পোশাক রফতানিতে ১০ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে বলে সরকার আশা করছে। ২০২১ সালে এ খাতে রফতানির পরিমাণ ৫০০০ কোটি মার্কিন ডলারে দাঁড়াবে বলে আশা করা যায়।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, গত অর্থবছরে একমাত্র চামড়া খাত ছাড়া সব খাত থেকে রফতানি ভালো হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ৩.৫৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১২৪ কোটি ডলার; কৃষিজাত পণ্য রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭১১ কোটি ডলার; এবং ৫.৮০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০৮৫ কোটি মার্কিন ডলার।

এদিকে, আরও ৯টি পণ্য রফতানিতে দশ শতাংশ হারে নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পণ্যগুলো হল: হিমায়িত সফটসেল কাঁকড়া, ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য ও ঔষধের কাঁচামাল, সিরামিক দ্রব্য, গালভানাইজড সিট বা কয়েলস, ফটোভলটাইক মডুল, রেজার ও রেজার ব্রেডস, ক্লোরিন, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, কস্টিক সোডা এবং হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড।

১০. চলতি অর্থবছরে ব্যাপক বৈদেশিক বিনিয়োগ আশা করছে বাংলাদেশ সরকার। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে চলতি অর্থবছরের এডিপির বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণ, নতুন প্রকল্প নির্দিষ্টকরণ ও অনুমোদন সংক্রান্ত বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব কথা জানান পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

(আলিমুল হক)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040