Web bengali.cri.cn   
বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে অধ্যয়নের জন্য এশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় দেশ চীন
  2018-07-09 14:51:51  cri

 


সুপ্রিয় শ্রোতাবন্ধুরা, সবাই ভালো আছেন? সুদূর বেইজিং থেকে আপনাদের আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আমাদের নিয়মিত সাপ্তাহিক আয়োজন 'বিদ্যাবার্তা' অনুষ্ঠান। আর এ আয়োজনে আপনাদের সঙ্গে রয়েছি সুবর্ণা ও টুটুল।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে অধ্যয়নের জন্য এশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় দেশ চীন

সম্প্রতি চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, ২০১৭ সালের শেষ নাগাদ চীনে মোট বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা পাঁচ লক্ষাধিক। তাদের মধ্যে ৩.২ লাখ 'এক অঞ্চল, এক পথ' উদ্যোগ সংলগ্ন দেশের, যা চীনে মোট বিদেশি শিক্ষার্থীদের ৬০ শতাংশেরও বেশি। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

চীনের ঐতিহ্যিক মার্শাল আর্ট ও থাইচি ব্যাপকভাবে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করে থাকে। নরওয়ের ছাত্রী এবি বর্তমানে বেইজিং স্পোর্টস বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছেন। তাঁর সবচেয়ে বড় আশা তিনি দেশে ফিরে যাওয়ার পর চীনা মার্শাল আর্ট শেখাবেন। তিনি বলেন,

'নরওয়েতে মার্শাল আর্টের প্রতি আগ্রহী লোকের সংখ্যা কয়েক শো, তাই আমি স্বদেশে চীনা মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ দিতে চাই। চীন থেকে লেখাপড়া শেষ করে দেশে গিয়ে আমি এ কাজ করতে চাই।'

বর্তমানে চীনে বিদেশি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার বিষয় থেকে বোঝা যায়, শিল্পকলা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক দাঁড়িয়েছে। শিল্প, প্রশাসন, গণিতসহ বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে, যার বৃদ্ধির হার ২০ শতাংশেরও বেশি। তাছাড়া, বর্তমানে চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৪৬টি দেশ ও অঞ্চলের সাথে পারস্পরিক ডিগ্রিসম্পর্কিত স্বীকৃতি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, এদের মধ্যে 'এক অঞ্চল, এক পথ' সংলগ্ন দেশের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক। চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিনিময় বিভাগের প্রধান স্যু থাও বলেন, 'এক অঞ্চল, এক পথ' সংলগ্ন দেশগুলোর চীনের উচ্চ শিক্ষার ব্যাপক স্বীকৃতি সংশ্লিষ্ট দেশের ব্যক্তি বিনিময়ের জন্য সহায়ক। তিনি বলেন,

'এ চুক্তি স্বাক্ষর চীন ও সংশ্লিষ্ট দেশের শিক্ষার্থীদের বিনিময়ের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। এতে চীনা শিক্ষার্থীদের বিদেশি ডিগ্রি আমাদের স্বীকৃতি পেতে সক্ষম। আবার বিদেশি শিক্ষার্থীদের চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি স্বদেশেও স্বীকৃতি পেতে সক্ষম। এভাবে পারস্পরিক শিক্ষা বিনিময় জোরদার করা যায়। শিক্ষার্থীদের বিনিময় আমাদের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কর্মের মূল বিষয়, এজন্য নীতিমালার দিক থেকে আমরা বেশ সুযোগ সুবিধা তৈরি করেছি।'

এ পর্যন্ত চীনের ৯৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করেছে। গত ৪০ বছরে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ শো থেকে ৫ লাখে দাঁড়িয়েছে। এ সম্পর্কে চীনের রাষ্ট্রীয় বৃত্তি তহবিলের মহাসচিব লিউ চিং হুই বলেন, ভবিষ্যতে চীনে বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের মান আরো উন্নত করা হবে। তিনি বলেন,

'প্রশিক্ষণের মান উন্নত করার জন্য প্রাথমিক শিক্ষাদান ও একই মানদণ্ডের পরীক্ষা চালু করতে হবে। এভাবে চীনে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য শক্ত ভিত্তি স্থাপন করা যাবে। শ্রেষ্ঠ বিদেশি শিক্ষার্থীদের চীনে লেখাপড়ায় আকৃষ্ট করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ভাষার কোর্স চালু করতে সমর্থন দেওয়া হবে। তাছাড়া, ধাপে ধাপে সরকারি বৃত্তিব্যবস্থা, তাদের শিক্ষাদান, জীবনযাপনের নিশ্চয়তা ও চিকিত্সা বিমাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা চালু করতে হবে।'

পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, বর্তমানে চীনে বিদেশি মাস্টার্স ও ডক্টরেট পর্যায়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ৭৫ হাজারেরও বেশি, তা থেকে বোঝা যায়, চীনে বিদেশি শিক্ষার্থীদের গুণগতমান-উন্নয়ন বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০১৭ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের ৫৮ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী চীনের সরকারি বৃত্তি লাভ করেন, যা মোট শিক্ষার্থীর ১০ শতাংশ।

পেশাগত স্কুল ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সমন্বয় জোরদার করবে চীন

সম্প্রতি চীনের পেশাগত স্কুল ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা পদ্ধতি প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে পেশাগত স্কুল এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার পদ্ধতি, ব্যবস্থা ও তত্ত্বাবধায়কবিষয়ক নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়।

চীনের নানচিং উচ্চপর্যায়ের পেশাগত স্কুল ও চোংশিং সিনইয়াতা শিক্ষা ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি লিমিটেড কোম্পানির মধ্যে গত ২ বছর ধরে সহযোগিতা চালু হয়েছে। বর্তমানে দু'পক্ষের যৌথ উদ্যোগে টেলিযোগাযোগ, বিগ ডেটা, ইন্টারনেট নিরাপত্তাসহ ১৪টি কোর্স চালু হয়েছে। এ সম্পর্কে নানচিং উচ্চপর্যায়ের পেশাগত প্রযুক্তি স্কুলের ইলেকট্রনিক বিষয়ের শিক্ষার্থী শি নান বলেন,

'এ প্রকল্প আমার ভবিষ্যতের চাকরির জন্য সহায়ক। কারণ আমি নিউ-মিডিয়ার সাথে জড়িত চাকরি করতে চাই। তাদের সহযোগিতামূলক প্রকল্পের মাধ্যমে বিগ ডেটা সংগ্রহের জ্ঞান অর্জন করেছি।'

সম্প্রতি দু'পক্ষের যৌথ উদ্যোগে তথ্য ও ইন্টারনেট প্রযুক্তি একাডেমি স্থাপিত হয়েছে এবং তারা ১০টিরও বেশি পেশাগত বই প্রকাশ করেছে, চালু করেছে অনলাইন ক্লাস।

চোংশিং সিনতাইয়া কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক চেং বো থাও বলেন, শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট কোর্সের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে, যদি তারা ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারে, তবে তারা কোম্পানিতে চাকরি পাওয়ার সুযোগ পাবে। তিনি বলেন,

'অনার্স কোর্স বা পেশাগত প্রশিক্ষণ, বস্তুত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য উপযোগী কোর্স খুব গুরুত্বপূর্ণ। পেশাগত স্কুলের শিক্ষার্থীদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ দক্ষতা অর্জন করা খুব দরকার, এই দক্ষতার কারণে সহজেই শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজ করা যায় এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি উন্নয়নের চাহিদার সাথেও খাপ খাওয়ানো যায়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্পাদন ও প্রশিক্ষণের সমন্বয় এবং স্কুল ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে চীন সরকার। ২০১৭ সালে উত্পাদন ও প্রশিক্ষণের সমন্বয় গভীরতর করার ধারাবাহিক প্রস্তাব পেশ করে চীনের রাষ্ট্রীয় পরিষদ। চলতি বছরের মার্চ মাসে পেশাগত স্কুল ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার উত্সাহ পদ্ধতিও এর অন্য একটি প্রমাণ বলা যায়। এ সম্পর্কে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চাকরি প্রশিক্ষণ ও প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা বিভাগের উপ-প্রধান সিয়ে লি বলেন,

'এ ধারাবাহিক প্রস্তাবের মাধ্যমে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও স্কুলের সহযোগিতায় যৌথভাবে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ, প্রতিষ্ঠান স্থাপন, অভিন্ন সম্পদ উপভোগ করা নিয়ে বিস্তারিত নীতিমালা নির্ধারিত হয়েছে।'

তাছাড়া, ব্যক্তি প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তির নব্যতাপ্রবর্তন, কর্মসংস্থান, সামাজিক সেবা ও সংস্কৃতি উত্তরাধিকারসহ বিভিন্ন খাতের সহযোগিতার স্পষ্ট নীতিমালাও প্রণয়ন করা হয়েছে।

এ সম্পর্কে সিয়ে আরো বলেন, বর্তমানে নতুন দফার উত্পাদন ও প্রশিক্ষণের সমন্বিত কার্যক্রম নিয়ে গবেষণা করছে চীন, যাতে সহযোগিতার মাধ্যমে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহায়তা দেওয়া যায়। তিনি বলেন,

'বিভিন্ন প্রদেশে পেশাগত প্রশিক্ষণ পরীক্ষা এলাকা স্থাপন করার মাধ্যমে ১০টি প্রদেশ, ১০০টি শহর ও ১০০০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও পেশাগত স্কুল বাছাই করে এমন পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করা হবে। এতে প্রযুক্তি ও দক্ষতা প্রশিক্ষণে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের মান উন্নীত করা যাবে বলে মনে করেন তিনি'।

সিছুয়ান ভয়াবহ ভূমিকম্পের ১০ বছর পর ইংসিউ ছাত্রছাত্রীদের নতুন উজ্জ্বল জীবন

২০০৮ সালের ১২ মে চীনের সিছুয়ান প্রদেশের ওয়েনছুয়ান জেলায় রিখটার স্কেলে ৭.৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে ৬৯২২৭ জন নিহত, ৩৭৪৬৪৩ জন আহত ও ১৭৯২৩ জন নিখোঁজ হয়, যা ১৯৭৬ সালে চীনের হ্যপেই প্রদেশের থাংশান শহরের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর সবচেয়ে গুরুতর আঘাত। ২০১৮ সাল ওয়েনছুয়ান ভূমিকম্পের দশম বার্ষিকী, বিভিন্ন অঞ্চলের লোকদের যৌথ প্রয়াসে বর্তমানে অঞ্চলটির পুনর্গঠন কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং স্থানীয় অধিবাসীরা তাদের নতুন জীবনও শুরু করেছে।

এ প্রতিবেদনে ইংসিউ প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ও জীবনযাপন নিয়ে কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

আপনারা এখন যে শব্দ শুনছেন তা ইংসিউ প্রাথমিক স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র উ হাও লিনের পড়া কবিতা। ৮ বছর বয়সী ছেলেটি ওয়েনছুয়ান ভূমিকম্পের দু'বছর পর জন্মগ্রহণ করে। সে চীনা ভাষার ক্লাস সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে। তার মনে গভীর ছাপ ফেলা প্রবন্ধের নাম 'লেই ফেং চাচা আপনি কোথায়'।

'লেই ফেং চাচা নিয়মিত অন্যদের সাহায্য করেন, তারপর কাউকে না বলেই চলে যান। তিনি কখনো তাঁর নাম বলেন নি। লেই ফেং চাচার চরিত্র পবিত্র। আমিও তাঁর মতো কাজ করবো।'

ইংসিউ প্রাথমিক স্কুলের নতুন ঠিকানা পুরনো ঠিকানা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে। ১০ বছর আগে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ইংসিউ জেলা ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়, স্কুলের অর্ধেক ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক প্রাণ হারান। ভূমিকম্পের পর শেনচেন শেয়ার কোম্পানি ৩ কোটি রেনমিনপি বরাদ্দ দিয়ে মিনচিয়াং নদীর পাশে নতুন হোস্টেল ও স্কুল ভবন নির্মাণ করে। ২০১১ সালে ইংসিউ স্কুল পুনরায় ইংসিউ জেলায় চালু করা হয়।

ইংসিউ প্রাথমিক স্কুলের প্রধান তুং স্যয়ে ফেং বলেন, নতুন স্কুল, আধুনিক শিক্ষার সরঞ্জাম ও শিক্ষকসহ বিভিন্ন দিক থেকে বলা যায়, ভূমিকম্পের ১০ বছর পর স্কুলটি প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠছে। তিনি বলেন,

'এ স্কুলের নির্মাণ অতি সুন্দর ও আধুনিক। শিক্ষা সরঞ্জামও উন্নত, প্রতি ক্লাসে ইলেকট্রনিক বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে এবং ইন্টারনেটও আছে। ২০০৮ সালে আমাদের স্কুলের অর্ধেক শিক্ষক মারা যান, বর্তমানে শিক্ষক সংখ্যা ৪১ জন, ২০১০ সালে আরো কয়েকজন যুবক শিক্ষক যুক্ত হন, তাদের মধ্যে ৮ জন অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রিপ্রাপ্ত। ভূমিকম্পের পর নতুন ইংসিউ প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষাদানের মান ওয়েনছুয়ান জেলার শীর্ষস্থানে দাঁড়িয়েছে।'

বর্তমানে শিক্ষাদানের মান উন্নত করার সাথে সাথে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের ওপর অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ সম্পর্কে স্কুলের প্রধান তুং বলেন, শিক্ষার্থীদের চীনের জাতীয় শিল্পকলা ও খেলাধুলার সাথে যুক্ত করা হয়েছে, যাতে জাতীয় সংস্কৃতি উপভোগ করার পাশাপাশি শরীর চর্চাও করতে পারে। তিনি বলেন,

'আমাদের ক্লাসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের ব্যায়াম করতে হয়। এ ব্যায়াম প্রায় ৪০ মিনিট, মোট তিনটি বিষয় রয়েছে। জিমন্যাস্টিকস, কুওচুয়াং নাচ ও ছিয়াং জাতির বিশেষ ব্যায়াম। এ তিনটি বিষয় পর্যায়ক্রমে চর্চা করে থাকে শিক্ষার্থীরা। কুওচুয়াং নাচ তিব্বতি জাতির বিশেষ নাচ, সবাই গোলাকারে দাঁড়িয়ে সংগীতের সাথে নৃত্য করে। এমন মজার ব্যায়াম সবাই পছন্দ করে'।

তাছাড়া, ইংসিউ প্রাথমিক স্কুলে বিশেষ একটি ক্লাস চালু করা হয়, তার নাম 'জীবন ও নিরাপত্তা'। যা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে আত্মরক্ষা ও ঝুঁকি এড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। ওয়েনছুয়ান ভূমিকম্পের পর অনেক গুরুত্ব দেয় স্থানীয় সরকার। তিনি বলেন,

'আমরা স্কুলে ও ক্লাসে বিভিন্ন পদ্ধতিতে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা সম্পর্কে ধারণা প্রধান করি। প্রাথমিক স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের এমন জ্ঞান ও ধারণা নিয়মিত প্রদান করতে হবে, যাতে তারা এসব বিষয় মনে রাখতে পারে। ক্লাস চলাকালে, ক্লাসের বিশ্রামে ও র‍্যালিতে আমরা বাচ্চাদের খেলার মতো বিভিন্ন মহড়ায় অংশ নেওয়ার কথা বলি। কারণ হঠাত্ এমন দুর্যোগ ঘটলে তখন তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে।'

ছাত্র উ হাও লিনের বাবা সাংবাদিককে বলেন, বর্তমানে ইংসিউ স্কুল অনেক উন্নত হয়েছে এবং তাঁর ছেলেও ভালোভাবে লেখাপড়া করে। পিতা হিসেবে তিনি অনেক খুশি। তিনি বলেন,

'নিরাপত্তাবিষয়ক ক্লাসে শিক্ষকরা মনোযোগ দিয়ে সবাইকে সব তথ্য জানান। আমার দুই ছেলে স্কুলে লেখাপড়া করে। দু'জনের লেখাপড়ার ফলাফল ভালো। আমি অনেক সন্তুষ্ট, কারণ শিক্ষকরা অনেক পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল।'

সুপ্রিয় শ্রোতাবন্ধুরা, সময় দ্রুত চলে যায়, আমাদের আজকের অনুষ্ঠানও তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে এলো। আমাদের অনুষ্ঠান সম্পর্কে কোনো মতামত থাকলে আমাদের চিঠি লিখতে ভুলবেন না।

আমাদের যোগাযোগ ঠিকানা ben@cri.com.cn, caoyanhua@cri.com.cn, আমাদের ওয়েবসাইটের ঠিকানা Bengali.cri.cn, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট cribangla

তাহলে এবার বিদায় নিচ্ছি, সবাই ভালো থাকুন, সুন্দর থাকুন। আগামী সপ্তাহে একই দিনে একই সময়ে আবারো কথা হবে। যাইচিয়ান। (সুবর্ণা/টুটুল)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040