Web bengali.cri.cn   
নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বিমান-ইঞ্জিনের সফল পরীক্ষা চালালো চীন (অর্থ-কড়ি, ২৬ মে ২০১৮)
  2018-05-26 12:29:22  cri


১. চীনের আর্থিক খাত বিদেশিদের জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের জন্যই লাভজনক প্রমাণিত হবে। বিশেষজ্ঞরা এমন কথাই বলছেন।

সম্প্রতি চায়না ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স রেগুলেটরি কমিশন (সিবিআইআরসি)-র ভাইস চেয়ারম্যান ছেন ওয়েনহুই বলেন, ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স খাতের উন্মুক্তকরণ সম্পদের যথাযথ বণ্টন নিশ্চিত করবে। আর সম্পদের যথাযথ বণ্টন প্রকৃত অর্থনীতি বা রিয়েল ইকনোমির জন্য জরুরি।

সম্প্রতি বেইজিংয়ে আয়োজিত ছিনহুয়া পিবিসিএসএফ গ্লোবাল ফাইন্যান্স ফোরামে দেওয়া ভাষণে ছেন ওয়েনহুই আরও বলেন, গত ৪০ বছর ধরে চীনের ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে বিদেশি বিনিয়োগ। অথচ ২০১৭ সালের শেষ নাগাদ পর্যন্ত চীনের ব্যাংকিং খাতের মোট সম্পদের মাত্র ১.৩২ শতাংশ বিদেশি। উন্নত দেশগুলোতে যে-হার দশ শতাংশের বেশি। তার মানে, এই খাতে উন্মুক্তকরণের ব্যাপক সুযোগ রয়ে গেছে।

২. যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য আলাস্কার গভর্নর বিল ওয়াকারের নেতৃত্বে ২৬-সদস্যের একটি বাণিজ্য-প্রতিনিধিদল গত ১৯ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত চীন সফর করে। সফরে দলটি 'অপরচুনিটি আলাস্কা' শীর্ষক সপ্তাহব্যাপী বানিজ্যমেলায় অংশগ্রহণ করে। প্রতিনিধিদলটি বেইজিং ছাড়া শাংহাই ও ছেংতুও সফর করে।

সফরকালে আলাস্কার গভর্নর বিল ওয়াকার চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী লিউ হ্য'র সঙ্গে বৈঠকও করেন। বৈঠকে লিউ হ্য তাঁর সদ্যসমাপ্ত ওয়াশিংটন সফরের কথা স্মরণ করে বলেন, চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য-আলোচনা ইতিবাচক, বাস্তবধর্মী ও ফলপ্রসূ ছিল। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দু'দেশ গুরুত্বপূর্ণ মতৈক্যে পৌঁছেছে। এটা দু'দেশের জনগণের জন্যই কল্যাণকর প্রমাণিত হবে।

এদিকে, চীন সফরে আসার আগে গভর্নর বিল ওয়াকার এক টুইটার-বার্তায় বলেন, চীন-মার্কিন বাণিজ্য সমঝোতা এমন এক সময় হল, যখন তার রাজ্য চীনে পণ্য রফতানি বাড়ানোর জন্য প্রস্তুত। তিনি চীন-মার্কিন বাণিজ্য-যুদ্ধ এড়ানোর খবরকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আলাস্কা নিজের উত্পাদিত পণ্য বিশ্বকে দেখাতে উন্মুখ হয়ে আছে। আলাস্কা চীন-মার্কিন বাণিজ্য-ঘাটতি কমিয়ে আনতেও ভূমিকা রাখতে তৈরি।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে আলাস্কা ১৩২ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য চীনে রফতানি করে।

৩. চীন ও যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রসঙ্গে যে-মতৈক্যে পৌঁছেছে, তা দু'দেশের স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। আর যেসব কাজ দু'দেশের স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, সেসব কাজ ভালোভাবে করার দায়িত্ব দু'দেশের সরকারের ওপর বর্তায়। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু খাং সম্প্রতি বেইজিংয়ে এক নিয়মিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ-মন্তব্য করেন।

লু খাং বলেন, দু'দেশের মধ্যে বাণিজ্যসহ অন্যান্য ইস্যুতে উত্তেজনা সৃষ্টি হোক, তা চীন চায় না। চীন-মার্কিন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বিভিন্ন খাতে দু'দেশের সহযোগিতা বিশ্বের জন্যও কল্যাণকর।

মুখপাত্র বলেন, বাণিজ্য-যুদ্ধ যে কল্যাণকর নয়, তা দু'দেশই উপলব্ধি করেছে। আর তাই এ-বারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য-আলোচনা সফল হয়েছে। দু'পক্ষ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাণিজ্যখাতে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে এবং পরস্পরের রফতানি-পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

লু খাং আরও বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে ৪০ বছর আগে। এখনও দু'দেশের মধ্যে বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র বড় দেশ। দু'দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক বিনিময় ও যোগাযোগ যত বাড়বে, তত মতভেদও সৃষ্টি হবে। এটা স্বাভাবিক। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই এসব মতভেদ দূর করতে হবে এবং সেটা দু'দেশের অর্থনীতি ও জনগণের জন্য কল্যাণকর।

৪. শাংহাইয়ে সম্প্রতি চীনের নিজস্ব প্রযুক্তিতে স্থানীয়ভাবে তৈরি বিমান-ইঞ্জিন সিজে-১০০০এএক্স-এর সফল পরীক্ষা চালানো হয়। এইসিসি কমার্সিয়াল এয়ারক্রাফ্ট এঞ্জিন কোম্পানি লিমিটেড এই ইঞ্জিনটি ডিজাইন করেছে চীনের স্থানীয়ভাবে তৈরি বড় পরিসরের যাত্রীবাহী বিমান সি৯১৯-এর জন্য।

কোম্পানিটি সি৯১৯ বিমানের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কমার্সিয়াল এয়ারক্রাফ্ট করপোরেশান অব চায়না-র সঙ্গে একটি চুক্তিতে উপনীত হয় ২০১৬ সালে। চুক্তির ভিত্তিতে নতুন ইঞ্জিন তৈরি কাজ শেষ হয় ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে।

৫. মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নরওয়ের সঙ্গে চীনের একাদশ দফা আলোচনা সম্প্রতি অসলোতে শেষ হয়েছে। আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে বলে জানিয়েছে দু'পক্ষ।

আলোচনায় পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, রুলস্‌ অব অরিজিন, কাস্টম্‌ প্রক্রিয়া, মেধাস্বত্ত্ব, প্রতিযোগিতামূলক নীতিমালা, সরকারি কেনাকাটা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

চীনা পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মুক্ত বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা দু'দেশের সম্পর্ককে ইতোমধ্যেই জোরদার করেছে। এই আলোচনা একতরফাবাদ ও বাণিজ্যে সংরক্ষণনীতির বিরুদ্ধে একটি বার্তাও বটে।

উল্লেখ্য, চীন ও নরওয়ে ২০০৮ সালে মুক্ত বাণিজ্য আলোচনা শুরু করে।

৬. বিশ্বের ষষ্ঠ ধনী দেশ ভারত। অর্থ ও সম্পদে বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি। ভারতের মোট সম্পদের মূল্য ৮,২৩,০০০ কোটি মার্কিন ডলার।

এএফআর এশিয়া ব্যাংক গ্লোবাল ওয়েলথ মাইগ্রেশন রিভিউ-এর সমীক্ষা অনুসারে, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশ আমেরিকা। দেশটির মোট সম্পদের অর্থমূল্য ৬২,৫৮,৪০০ কোটি ডলার। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চীন (২৪,৮০,৩০০ কোটি ডলার) ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে জাপান (১৯,৫২,২০০ কোটি ডলার)।

প্রথম দশে আরও যেসব দেশ জায়গা করে নিয়েছে, সেগুলো হল: ব্রিটেন, জার্মানি, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স ও ইতালি। দেশের সব মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের মোট সম্পদ যোগ করে এই মূল্য বের করা হয়েছে। অবশ্য হিসেবে সরকারি সম্পত্তি ধরা হয়নি।

৭. চলতি বছরের এপ্রিলে পণ্য-বাণিজ্যে জাপানের উদ্বৃত্ত ছিল ৫৬০ কোটি মার্কিন ডলার। সম্প্রতি দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় এ-তথ্য জানায়।

মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুসারে, এপ্রিলে জাপানের রফতানি বেড়েছে গত বছরের একই সময়ে চেয়ে ৭.৮ শতাংশ। অন্যদিকে, আমদানি বেড়েছে ৫.৯ শতাংশ।

৮. ৩১০৫ কোটি টাকায় ঢাকা ওয়াসার গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে ফ্রান্সভিত্তিক দুই কোম্পানি ভিওলিয়া ওয়াটার টেকনোলজিস এবং সুয়েজ। এই দুটি প্রতিষ্ঠান যৌথ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এ-প্রকল্পের নকশা, নির্মাণ এবং পরিচালনার কাজ করবে। এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ফ্রান্সের উন্নয়ন সংস্থা এএফডি এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক। সম্প্রতি ঢাকায় এ-ব্যাপারে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

বর্তমানে ঢাকা ওয়াসা দৈনিক ২৪৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করতে পারে। এর মধ্যে ১৭০ কোটি লিটার পানি তোলা হয় ওয়াসার গভীর নলকূপ থেকে। বাকি প্রায় ৬০ কোটি লিটার সরবরাহ করা হয় বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার পানি ওয়াসার পাঁচটি শোধনাগারে শোধন করে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ২০৩০ সাল নাগাদ ঢাকায় বিশুদ্ধ পানির চাহিদা দাঁড়াবে এখনকার প্রায় দ্বিগুণ। সেই লক্ষ্য পূরণে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার গন্ধর্বপুর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব পাড়ে এই শোধনাগার তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

ঢাকা ওয়াসা জানিয়েছে, গন্ধর্বপুরের শোধনাগারের পানি আনা হবে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা বিশনন্দী এলাকার মেঘনা নদী থেকে। সেখানে শোধন করে প্রতিদিন ৫০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা যাবে রাজধানীতে, যার সুবিধা পাবে প্রায় ৪৩ লাখ মানুষ।  

৯. বাংলাদেশে চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে সেবাখাতের রফতানি-আয় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২০ শতাংশ বেড়েছে। আর একক মাস হিসাবে গত মার্চে এ-খাতে রফতানি-আয় বেড়েছে ৪২.১৪ শতাংশ। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সম্প্রতি এ-তথ্য জানায়।

তথ্য অনুসারে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে বিদেশে বিভিন্ন সেবা বিক্রি করে ৩০৩ কোটি ১৯ লাখ ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। এ-আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৪.৫৩ শতাংশ বেশি। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ১৫.৫ শতাংশ। এ-সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬২ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

এদিকে, এই নয় মাসে বিভিন্ন পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ২৭৪৫ কোটি ১৫ লাখ ডলার। সবমিলিয়ে এসময় দেশের মোট রফতানি-আয় হয়েছে ৩০৪৮ কোটি ৩৪ লাখ ডলার।

(আলিমুল হক)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040