Web bengali.cri.cn   
মহাকাশযান শিল্পে ২০৫০ সালে সবাইকে ছাড়িয়ে যাবে চীন
  2018-03-28 20:30:54  cri



২০১৮ সাল, চীনা মহাকাশযান শিল্পের জন্য মাইলফলক উন্নয়নের একটি বছর। এরই মধ্যে, পেই তৌ-৩ উপগ্রহ, ছাং-এ-৪ উপগ্রহ যথাক্রমে মহাকাশের উদ্দেশ্যে উত্ক্ষেপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে চীনা মানববাহী নভোযান সার্বিকভাবে'স্পেস-ষ্টেশন' যুগে প্রবেশ করেছে। ভারী রকেট ইঞ্জিনের গবেষণা দ্রুত সফলতা অর্জন করছে। বাণিজ্যিক মহাকাশযান শুরু এবং ধাপে ধাপে উন্নয়ন হচ্ছে। সব কিছু মিলিয়ে চীনা মহাকাশযানের জন্য 'সুপার ২০১৮' শুরু হয়েছে। আজকের পুবের জানালা অনুষ্ঠানে আমরা চীনের মহাকাশযান শিল্পের কথা বলব।

এক মাস আগে, ১২ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টা, রকেট ইঞ্জিনের বড় গর্জন শব্দের সঙ্গে সঙ্গে দুটি পেই তৌ উপগ্রহ নিয়ে লাং মার্চ –বি অভিযান রকেট সি ছাং উত্ক্ষেপন কেন্দ্র থেকে মহাকাশের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছর চীন কয়েকবারে ১৮টি পেই তৌ-৩ উপগ্রহ উত্ক্ষেপন করবে এবং 'এক অঞ্চল এক পথ' সংশ্লিষ্ট দেশের জন্য মৌলিক সেবা দিবে এ উপগ্রহ নেটওয়ার্ক।

আসলে পেই তৌ-৩ উপগ্রহের উত্ক্ষেপন চীনা মহাকাশযানের 'সুপার ২০১৮' প্রকল্পের একটি সূচনা মাত্র। চীনা মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কর্পোরেশন-CASC -এর পরিবহন রকেট গবেষণালয়ের পরিচালক লি হং জানিয়েছেন, চলতি বছর লং-মার্চ ধারবাহিক পরিবহন রকেটের উত্ক্ষেপন সংখ্যা নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করবে। পেই তৌ উপগ্রহসহ মোট ৩৬ বারের মতো উত্ক্ষেপণ করা হবে 'লং-মার্চ ধারাবাহিক পরিবহন রকেট'।

লা হং বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছর ৩৬ বার উত্ক্ষেপন করব আমরা তা চীনা মহাকাশযান শিল্পে একটি নতুন রেকর্ড। উত্ক্ষেপণের সংখ্যা অনেক বেশি ছাড়াও যে উপগ্রহ আমরা উত্ক্ষেপন করব তা অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

থিয়ান চৌ-১ গত বছর সফলভাবে মহাকাশে গমন করে এবং ফিরে আসে। চীনা মানববাহী মহাকাশযান প্রকল্পের পরীক্ষাগার পর্যায়ের চতুর্থ উড্ডয়ন কর্তব্য শেষ করে সার্বিকভাবে প্রবেশ করে 'স্পেস-ষ্টেশন' যুগে। চীনা মানববাহী মহাকাশযান প্রকল্প কার্যালয়ের উপ-পরিচালক, নভোচারী ইয়াং লি ওয়ে জানিয়েছেন, ২৫ বছরের কঠোর সংগ্রামের পর, চীন মহাকাশ-পৃথিবীর মধ্যে আসা যাওয়া, মহাকাশচারীর কেবিনের বাইরে যাওয়া এবং 'স্পেস-ষ্টেশন ও মহাকাশযানের সাথে যুক্ত এ তিনটি মৌলিক প্রযুক্তি আয়ত্ত করে। এখন আমরা নিজেদের 'স্পেস-ষ্টেশন' নির্মাণ করতে সক্ষম। চলতি বছর আমাদের মানববাহী মহাকাশযান উত্ক্ষেপনের পরিকল্পনা নেই তবে ২০১৮ সাল আমাদের গবেষণা বিশেষ করে 'স্পেস-ষ্টেশন' নির্মাণের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর।

২০১৮ সালে চীনা স্পেস ষ্টেশন পরীক্ষামূলক কোর ক্যাপসুল প্রাথমিক নমুনা থেকে আনুষ্ঠানিক নমুনায় পরিণত হবে এবং ২০২০ সালের কাছাকাছি সময়ে উত্ক্ষেপন করা হবে। চীনা মানববাহী মহাকাশযান প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী চৌ চিয়ান পিং জানিয়েছে এখন বিশ্বের একমাত্র প্রধান স্পেস-ষ্টেশন ২০২৪ সালে মেয়াদ উত্তীর্ণ হবে এবং তখন চীন হবে স্পেস-ষ্টেশনের অধিকারী বিশ্বের একমাত্র দেশ। চৌ চিয়ান পিং বলেন, চলতি বছর আমাদের গবেষণা দল স্পেস-ষ্টেশনের গবেষণায় সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে। আমাদের স্পেস ষ্টেশনের তিনটি ক্যাপসুল আছে এবং প্রত্যেক ক্যাপসুলের ওজন ২০ টন। ওখানে গবেষক মেকগ্রেটিভিটি, মৌলিক পদার্থবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যাসহ নানা বিষয় নিয়ে গবেষণা করতে পারবে।

ভবিষ্যতে মহাকাশে অবকাঠামো নির্মাণ, গভীর মহাকাশের আবিষ্কার এবং চাঁদে অবতরণের জন্য ভারী রকেট খুব প্রয়োজন। ত্রয়োদশ জাতীয় গণকংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন চলাকালে, এনপিসির প্রতিনিধি, চীনা মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কর্পোরেশন-CASC–এর ষষ্ঠ গবেষণালয়ের পরিচালক লিউ চি রাং জানিয়েছেন, বর্তমানে চীনা ৫০০ টন সক্ষমতার তরল অক্সিজেন-কেরোসিন ভারী রকেটের ইঞ্জিন গবেষণা গুরুত্বপূর্ন পর্যায়ে আছে। ২০১৮ সালে তা পরীক্ষা শেষ করতে পারবে এবং ২০৩০ সালে তা প্রথম উত্ক্ষেপন করা হবে। তিনি বলেন

২০১৮ সালে আমাদের লক্ষ্য হল ৫০০ টন সক্ষমতার ভারী রকেটের ইঞ্জিনের একটি প্রোটোটাইপ নির্মাণ শেষ করা। ভবিষ্যতে আমাদের নভোচারীরা চাঁদে অবতরণ করবে এবং মহাকাশের আরও গভীরে অনুসন্ধানের কাজ করবে বলে বড় বহন ক্ষমতার রকেট প্রয়োজন।

২০১৮ সালে আমরা ইতোধ্যেই চীনা মহাকাশযানের কিছু সাফল্য প্রত্যক্ষ করছি। যেমন ১৯ জানুয়ারি, চীনে প্রথম বারের মত একটি জেলার নাম দিয়ে নামকরণ করা একটি উপগ্রহ 'তে ছিং-১' সফলভাবে উত্ক্ষেপন করা হয়। এটা চীনা বাণিজ্যিক মহাকাশযান শিল্পের একটি মাইলফলক মুহূর্ত। বর্তমানে, বাণিজ্যিক মহাকাশযান আমাদের জীবনযাপনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। দূর অনুধাবন, টেলিযোগাযোগ, নৌ পরিবহণসহ নানা বিষয়ের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং নতুন ও উত্সাহব্যঞ্জক একটি শিল্পে পরিণত হচ্ছে। এনপিসির প্রতিনিধি, চীনা মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কর্পোরেশন-CASC–এর সিইও কাও হং ওয়ে মনে করেন, সামাজিক সম্পদ ব্যবহার করে এবং বাণিজ্যিক নীতি অনুসরণ করে বাণিজ্যিক মহাকাশযান শিল্পকে উন্নয়ন করা এখন একটি প্রবণতা। তিনি বলেন, চীনে বাণিজ্যিক মহাকাশযান শুধু একটি ধারণা তা নয়, চীনে এ শিল্প শুরু হয়েছে। অন্য শিল্পের মতো মহাকাশযান বাজারজাতকরণ, সামাজীকীকরণ এবং আন্তর্জাতিকীকরণে উত্সাহ দেয় সরকার এবং আমাদের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য - চীনের বাণিজ্যিক মহাকাশযান শিল্পে বিশ্বে এগিয়ে থাকা।

২০১৮ সাল চীনা মহাকাশযান শিল্প দ্রুত উন্নয়নের একটি বছর। এ ক্ষেত্রের শক্তিশালী দেশ রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগাল পাব আমরা। কাও হং ওয়ে মনে করেন, কিছু ক্ষেত্রে আমরা বিশ্বের সামনে থাকলেও তা সার্বিকভাবে এগিয়ে থাকা নয়। আমরা পেছন পেছন আসি এবং ভবিষ্যতে আমরা সবার সামনে দৌড়াব। কোন সন্দেহ নেই ২০৩৫ সালে আমরা উন্নত দেশের সঙ্গে সামনের কাতারে থাকতে পারব এবং ২০৫০ সালে আমরা সবার চেয়ে এগিয়ে থাকব।

(শিশির/মহসীন)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040