Web bengali.cri.cn   
সিলেটে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব
  2018-03-21 09:58:10  cri

সিলেটে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব

স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণকে উৎসাহ দিতে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে চার দিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব।

১৮ মার্চ সকালে উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য।

এবারের আসরে ১২২ টি দেশ থেকে ২ হাজার ৮০৮ টি স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে সেরা ৯৭টি চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হচ্ছে। এছাড়াও দেখানো হবে পাঁচটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।

প্রতিদিন সকাল ১১ টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টা পর্যন্ত উৎসব প্রাঙ্গনে চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। আগামী কাল ২১ মার্চ শেষ হবে এ উৎসব।

এবারের উৎসবে জুরি হিসেবে রয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা আশরাফ শিশির, চলচ্চিত্র নির্মাতা মুক্তাদির ইবনে সালাম, অভিনেতা মনোজ কুমার।

প্রথম দিন বিকেলে প্রদর্শিত হয় চলচ্চিত্র নির্মাতা মোর্শেদুল ইসলামের চলচ্চিত্র 'আঁখি ও তার বন্ধুরা'।

মাদকের বিস্তার এবং প্রতিকার নিয়ে স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা

বাংলাদেশে মাদকের বিস্তার এবং প্রতিকারের ওপর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নির্মিত ৩ মিনিটের শর্ট ফিল্ম নিয়ে সম্প্রতি শেষ হয়েছে একটি স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা।

ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্স ও বেসরকারী ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি যৌথভাবে এর আয়োজন করে। গত বৃহস্পতিবার এতে বিজয়ী সেরা চার তরুণ নির্মাতার হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী দ্বিপ রায়ের চলচ্চিত্র তমসা (দ্য ডার্কনেস) ।

যৌথভাবে দ্বিতীয় হয়েছে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির তাহমিদ রাকিব অতুলের 'কেইজ' ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষার্থী তানজিল সুলতান খান তুর্যের 'দ্য মার্ডারার'।

তৃতীয় হয়েছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সৈয়দ সাফকাত হোসেইন গালিবের চলচ্চিত্র 'সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ'।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত নির্মাতারা তাদের চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতার নির্দিষ্ট পেইজে আপলোড করেন।

এর মধ্য থেকে জুরি বোর্ডের রায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভোটিংয়ের ভিত্তিতে সেরা তিনটি চলচ্চিত্র নির্বাচন করা হয়। জুরি বোর্ডের ৯০ ভাগ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের লাইকের সংখ্যা অনুযায়ী ১০ ভাগ নম্বরের ভিত্তিতে ফলাফল নির্ধারন করা হয়।

এ প্রতিযোগিতায় জুরি বোর্ডের সদস্য হিসেবে ছিলেন অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা এবং আফসানা মিমি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিম।

বিজয়ীরা প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন যথাক্রমে ৫০ হাজার, ৩০ হাজার ও ২০ হাজার টাকা। সেই সাথে তাঁরা পাবেন চলচ্চিত্র নির্মাণের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন এবং চলচ্চিত্রবিষয়ক আন্তর্জাতিক কর্মশালায় অংশগ্রহণের সুযোগ। আকর্ষণীয় গিফ্ট হ্যাম্পার ছিল প্রাপ্তির তালিকায়।

মহসীন- এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি- বাংলাদেশ, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি- বাংলাদেশ, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস এবং ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা।

ধরা পড়লো ইরফানের রোগ

৫ মার্চ টুইট করে ইরফান খান জানিয়েছিলেন, এক বিরল রোগে আক্রান্ত তিনি। কিন্তু তার অসুখ আসলে কী সে বিষয়ে কোনো কথা বলেননি ইরফান। বলেছিলেন আরও একটু অপেক্ষা করতে।

অবশেষে শুক্রবার ইরফান খান নিজেই জানালেন তাঁর অসুস্থতার বিষয়ে ।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সূত্রে জানা গেছে তাঁর 'বিরল রোগ'টির নাম নিউরো এন্ডোক্রাইন টিউমার ।

এই টিউমার মূলত মানবদেহের অন্ত্রে হয়। রোগটি ক্যানসার প্রবণ। ধীরে ধীরে শরীরের নানান অঙ্গপ্রতঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন।

মহিয়সী নারী নূরজাহান বেগম

যে সময়ে বাঙালি মুসলিম নারী মানেই ছিল অন্তঃপুরের বাসিন্দা সেই সময়টাতেই সাংবাদিকতা করেছেন নূরজাহান বেগম।

তার বাবা সওগাত পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের হাত ধরে এই পেশায় পা রাখেন তিনি।

১৯২৫ সালের চৌঠা জুন চাঁদপুরের চালিতাতলী গ্রামে জন্ম নেন এই পথিকৃৎ। বাবার নাম মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন ও মা ফাতেমা বেগম।

১৯৪২ সালে ভারতের বিহার রাজ্যের ভাগলপুর জেলার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন তিনি। ১৯৪৪ সালে কলকাতার লেডি ব্রাবোর্ন কলেজ থেকে আই এ পাস করেন। পরে এই কলেজ থেকেই তিনি উচ্চশিক্ষা নেন।

নুরজাহান বেগমের সাংবাদিকতা জীবন শুরু হয় ১৯৪৫ সাল থেকে। যখন তিনি বিএ শ্রেণিতে পড়তেন। প্রথমে সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। চার মাস পরে বেগমের সম্পাদক হন তিনি। এই সুবাদে দেশের অগণিত নারী স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শিখেছে, প্রেরণা পেয়েছে। নারী শিক্ষা, নারী জাগরণ, নারী সাহিত্যের বিকাশ হয়েছে।

বেগমের বিশেষ সংখ্যাগুলো নারী মহলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সে সময় মেয়েদের জন্য বেগমই ছিল একমাত্র সচিত্র সাপ্তাহিক।

নূরজাহান বেগমের হাতেই গড়ে উঠে বেগম ক্লাব। এই ক্লাবের সদস্য নারী লেখিকারা মাসিক একটা আলোচনা করতেন। প্রথম দিকে সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করলেও পরে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। মেয়েদের পড়ার জন্য বেগম ক্লাবে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ ক্লাব থেকে সমাজসেবকদের সম্মাননাও দেওয়া হতো।

স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি পেয়েছেন অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ সরকারের রোকেয়া পদক। বাংলাদেশ মহিলা সমিতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, লেখিকা সংঘ, বাংলাদেশ সাংবাদিক ফোরামসহ বেশ কিছু সংগঠন থেকে পেয়েছেন স্বর্ণপদক।

১৯৪৭ থেকে ২০১৬। দীর্ঘ ৬৯ বছর একটানা বেগম পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন নুরজাহান বেগম। ২০১৬ সালের ২৩ মে ৯১ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান বাংলাদেশের মহিয়সী এই নারী।

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040