Web bengali.cri.cn   
চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী-আবদুলাহ ও তাঁর বন্ধুরা
  2018-02-10 15:57:28  cri

'আমাদের উইগুর জাতির একটি প্রবাদ আছে যে, ভাল মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব করলে তোমার ফুল ফুটবে।'

প্রতিদিন দুপুর ২টায় নানছাং শহরের সিহু এলাকায় কুয়াংদং ইস্ট সড়কের ২১০ নম্বরে সুন্দর উইগুর জাতির সংগীত প্রচারিত হয়। তখন মানুষ এখানে সিনচিয়াংয়ের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ খাবার নানের স্বাদ পেতে পারেন। এখানে আবদুল্লা ইলাক্সিমের (ABDULLA•ULAXIM) আবুচিয়াংলা নামের সিনচিয়াং বৈশিষ্ট্যপূর্ণ রেঁস্তোরা।

৪৩ বছর বয়সী আবদুল্লা চীনের সিনচিয়াং উইগুর জাতির স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের হোথিয়াং এলাকার মোইউ জেলার চাওয়া থানায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লম্বা না, পাতলা। তিনি মাথায় উইগুর জাতির ঐতিহ্যগত রঙিন টুপি পড়েন।

এ বছর হল আবদুল্লার নানছাংয়ে আসার ১৫তম বার্ষিকী। অন্য মানুষের মত আবদুল্লা উদ্বিগ্ন থাকেন তাঁর বাবা-মাকে নিয়ে। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, 'নানছাং আসার প্রথম দিকে আমার মা আমাকে নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। কারণ কী? আমি আগে ম্যান্ডারিন পড়তে পারতাম না ও হান ভাষা লিখতে পারতাম না। সিনচিয়াংয়ের বাইরে অধিকাংশ মানুষ হান জাতির। তিনি ভেবেছিলেন আমাকে অনেক কঠিন চ্যালেন্ঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। কিন্তু আমি বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কারণ, আমিও ম্যান্ডারিন শিখতে ও বাইরের বিশ্ব দেখতে চাই।'

সাহস নিয়ে আবদুল্লা প্রথমবারের মতো জন্মস্থান ত্যাগ করে বাইরে এলেন। অপরিচিত পরিবেশ ও অপরিচিতি ভাষা যুবক আবদুল্লার জন্য ছিল একইসঙ্গে সুযোগ ও চ্যালেন্ঞ্জ। কেউ এখন ভাবতেও পারবেন না যে, আগে আবদুল্লা আগে ম্যান্ডারিন পড়তে পারতেন না। 'আমি প্রতিরাতে ম্যান্ডারিন চর্চা করতে থাকি। আমি আগে ম্যান্ডারিন একদমই বলতে পারতাম না। অন্যের সঙ্গে কথা বলতে আমার খুব সমস্যা হতো।'

শুরুতে সহজ সহজ শব্দ শিখে আবদুল্লাহ তাঁর বাইরের জীবন শুরু করেন। এক বছর, দুই বছর, তিন বছর কেটে গেছে। আবদুল্লা কিশমিশ বিক্রী করা থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ পর্যন্ত খুলেছেন।

আবদুল্লার মেয়ে আইশেম বর্তমানে মা'র সেলফোনে ম্যান্ডারিন ভাষার গান শুনতে পছন্দ করে। সে ভালভাবে ম্যান্ডারিন পড়তে পারে এবং নানছাং আঞ্চলিক ভাষা পড়তে পারে।

আবদুল্লার প্রতিবেশী লুও কুওলিয়ান তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে অনেক সহায়তা করেছেন। আইশেম লুও কুওলিয়ানকে 'লুও মা' বলে ডাকে। নানছাংয়ে আসার প্রথম দিকে আবদুল্লার ব্যবসা জমে ওঠে, ব্যস্ততা বাড়ে। তখন লু কুওলিয়ান সবসময় আউশেমের যত্ন করতেন। আবদুল্লা বলেন, নানছাংয়ে তাঁর মেয়ে'র একজন হান জাতির মা আছে। 'আমি প্রথমে নানছাংয়ে আসার সময় লিউ ফেং লিং নামের আরেকজন মহিলা আমাকে অনেক সহায়তা করেছেন। তিনি তখন বলেছেন, আমরা নতুন প্রতিবেশী হয়েছি, সেজন্য পারস্পরকে সহায়তা করা উচিত। আমি তাঁকে অনেক ধন্যবাদ জানাই। তাঁর বয়স আমার মার মতো। আমাকে ছেলের মতো যত্ন করেন। আমি একজন হান জাতির মা পয়েছি।'

আবদুল্লার হান জাতির মা লিউ ফেং লিংয়ের বয়স ৮৩ বছর। তিনি হলেন আবদুল্লার আরেকজন প্রতিবেশী। তাঁর একমাত্র মেয়ে নানছাংয়ের বাইরে কাজ করেন। সেজন্য তিনি সবসময় আবদুল্লাকে সহায়তা করেন। তিনি বলেন, 'তাঁর রেস্তোরাঁ খোলার পর আমি প্রায় প্রতিদিন তাঁকে সহায়তা করি। এ পর্যন্ত দুই বছর হয়ে গেছে। আমার কাছে আবদুল্লা আমার নিজের ছেলের মত।'

'ভালো মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব করলে তোমার ফুল ফুটবে'। ২০১৭ সালে আবদুল্লা নানছাং আবুলাচিয়াং রেষ্টুরেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। এ পর্যন্ত তিনি নানছাংয়ে ১১টি রেস্তোরাঁ খুলেছেন। তাঁর ৩২ জন কর্মী আছে। তিনি বলেন, 'এখন আমি ধনী হয়েছি। আমিও নানছাংয়ের মানুষকে সহায়তা করতে চাই। সবার আনন্দ হল সত্যি আনন্দ।' এ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, 'আমরা একই পরিবার। আমরা সবাই চীনা মানুষ! আমার বয়স এখন ৪৩ বছর। আমি আজীবন নানছাংয়ের বন্ধুদের সহায়তা ভুলবো না।'

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040