Web bengali.cri.cn   
বেইজিংয়ে সি চিন পিংয়ের সঙ্গে ফরাসি প্রেসিডেন্টের বৈঠক
  2018-01-09 15:20:24  cri

গতকাল (সোমবার) বেইজিংয়ে ফ্রান্সের সফররত প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্‌খোঁর সঙ্গে বৈঠক করেন চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। চীনের রাষ্ট্রীয় ভবন—তিয়াও ইয়ু থাই-এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এই শীতে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবনের শান্ত পরিবেশে দুদেশের প্রেসিডেন্টদ্বয় আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় করেন। এ-সময় প্রেসিডেন্ট সি বলেন, চীন ও ফ্রান্স সমৃদ্ধ সংস্কৃতির দুটি দেশ। নতুন বছরের শুরুতে প্রথম এশিয়া সফরের প্রথম দেশ হিসেবে চীনকে বেছে নিয়ে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্‌খোঁ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ব্যাপারে তার ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করলেন। এ-সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট সি বলেন:

"মাঝে-মাঝে চীনা প্রেসিডেন্ট মাও সে তুং ও জেনারেল দ্য গলের কথা আমার মনে হয়। ১৯৬৪ সালে এই দু'জন মহান রাজনীতিবিদ, সে-সময়কার ঠাণ্ডা যুদ্ধের বেড়াজাল ছিন্ন করে, চীন-ফ্রান্স কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখেন। তাদের প্রচেষ্টায়, চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠাকারী পশ্চিমা দেশ হিসেবে, সবার চেয়ে এগিয়ে থাকে ফ্রান্স।...বর্তমান বিশ্বে অব্যাহতভাবে সংস্কার চলছে। এ-সময় আমাদের বৈঠকের মাধ্যমে দু'দেশের সম্পর্ক নতুন যুগে প্রবেশ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।"

প্রেসিডেন্ট সি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান বিশ্বে অস্থিতিশীলতার যথেষ্ট উপাদান রয়েছে। মানবজাতির অভিন্ন স্বার্থের কমিউনিটি গড়ে তোলার পক্ষে চীন। এই ক্ষেত্রে অনুরূপ ধারণা পোষণ করে ফ্রান্সও। দু'দেশকে সামাজিক ব্যবস্থা, উন্নয়নের পর্যায়, ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অমিল অতিক্রম করে, পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থা জোরদার করতে হবে এবং দু'দেশের সহযোগিতামূলক সুপ্তশক্তিকে জাগিয়ে তুলতে হবে। ফ্রান্সের সঙ্গে পারস্পরিক কল্যাণের ভিত্তিতে বিভিন্ন খাতের সহযোগিতা ঘনিষ্ঠ করতে, বিশেষ করে 'এক অঞ্চল, এক পথ' কাঠামোতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করতে, চীন ইচ্ছুক। ফ্রান্সের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করে চীন। নতুন যুগে চীন ও ফ্রান্সের সম্পর্ক আরও সমৃদ্ধ হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ-সময় প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্‌খোঁ বলেন, "প্রথমবার চীন সফরে এসে আমি বেশ আনন্দিত। ফ্রান্স ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ইতিহাস সুদীর্ঘকালের। এবারের সফরের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে দুদেশের সম্পর্ক ও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে মতবিনিময় করতে আগ্রহী আমি। 'এক অঞ্চল, এক পথ' প্রস্তাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে যোগ দিতে ভীষণ আগ্রহী ফ্রান্স। চীনের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনসহ আন্তর্জাতিক সমাজের যৌথ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অবদান রাখতে ইচ্ছুক ফ্রান্স। আমি বিশ্বাস করি, দুপক্ষের যৌথ প্রচেষ্টায় এবারের সফর হবে চীন ও ফ্রান্সের সম্পর্কের নতুন মাইলফলক।" তিনি আরও বলেন:

"এটি আমার প্রথম এশিয়া সফর। চীনে সম্প্রতি সফলভাবে শেষ হয়েছে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ঊনবিংশ জাতীয় কংগ্রেস। অন্যদিকে, গত মে মাসে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রেক্ষাপটে আমার এবারের সফর হবে চীন ও ফ্রান্সের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন মাইলফলক। এবারের সফরের মাধ্যমে দু'দেশের পারস্পরিক আস্থা জোরদার হবে বলে আমি আশা করি। আমি আরও আশা করি, আমার কার্যমেয়াদে ফ্রান্স-চীন সম্পর্ক এবং ইউরোপ-চীন সম্পর্ক আরও জোরদার হবে, সমৃদ্ধ হবে।"

চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের স্ত্রী ফেং লি ইউয়ান, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পলিট ব্যুরোর সদস্য ও রাষ্ট্রীয় কাউন্সিলার ইয়াং চিয়ে ছি, এবং ফরাসি প্রেসিডেন্টের স্ত্রী ব্রিজিত ম্যাক্‌খোঁ বৈঠকের সময় উপস্থিত ছিলেন। (ওয়াং হাইমান/আলিম)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040