Web bengali.cri.cn   
সংবাদ পর্যালোচনা প্রসঙ্গ: ইরানের পরমাণু ইস্যু আলোচনায় ইউরোপ সফরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসন
  2017-12-06 15:13:37  cri
ইইউ'র কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা-বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি ফ্রেডারিকা মোঘেরিনি গতকাল (মঙ্গলবার) ইউরোপ সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া, ইরানের পরমাণু ইস্যু, কোরীয় পরমাণু সমস্যা এবং সিরিয়া ইস্যুতে মতবিনিময় হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ইরানের সঙ্গে ছয়জাতির স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু ইইউ এ চুক্তির বাস্তবায়ন চায়। তাই এবারের বৈঠকে ইরানের পরমাণু ইস্যুটি অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

বৈঠকের পর দু'পক্ষ যৌথভাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে অংশ নেন। এতে মোঘেরিনি বলেন, বৈঠকের মাধ্যমে ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক অংশীদারিত্ব প্রমাণিত হয়েছে। এ নিয়ে টিলারসনও একই মতামত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এমন বৈঠক প্রমাণ করে, ইইউ'র কাছে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ঠিক থাকবে এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইইউ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ'র মধ্যে অংশীদারিত্বের সম্পর্ক আটলান্টিক মহাসাগরীয় অঞ্চলের অভিন্ন মূল্যবোধ এবং নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির অভিন্ন লক্ষ্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। এ ভিত্তি এখনো পরিবর্তিত হয়নি।

যদিও দু'পক্ষ সবসময় পরস্পরের সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে আসছে, তারপরও কিছু কিছু বিষয়ে দু'পক্ষের মতভেদ এখনো স্পষ্ট। ইরানের পরমাণু ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বহুবার অভিযোগ করে বলেছেন, ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ছ-পক্ষীয় চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। তাই এ চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকিও দেন তিনি। কিন্তু ইইউ এ চুক্তি রক্ষা করার চেষ্টা করছে। ইইউ মনে করে এ চুক্তি ইউরোপের নিরাপত্তা রক্ষায় সহায়ক।

গত নভেম্বরে মোঘেরিনি ওয়াশিংটন সফরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হাউস ও কংগ্রেসে ট্রাম্পের এ মতামতের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়েছিলেন। গত মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে মোঘেরিনি ইইউ'র এ অবস্থানের প্রতি আবারো জোর দিয়ে বলেন, ছ-পক্ষীয় বৈঠকের চুক্তি অব্যাহত পালন করাই হলো ইরানের পরমাণু সমস্যা সমাধানের ভিত্তি। তিনি বলেন, ইইউ মনে করে স্বাক্ষরিত চুক্তি অব্যাহতভাবে পালন করা ইইউ'র নিরাপত্তার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং আঞ্চলিক তথা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ চুক্তি পালন করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অব্যাহত সহযোগিতা চালাতে চায় ইইউ। আন্তর্জাতিক সম্পদ সংস্থা ইতোমধ্যে নয়বার এ চুক্তি পর্যালোচনা করেছে। এ চুক্তি বাতিল করলে ইরানের পরমাণু সমস্যা সমাধানে তা ইতিবাচক হবে না।

ইইউ'র অবস্থান নিয়ে টিলারসন সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তিনি ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের বিষয়ে অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, ইরানের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর। ইয়েমেনে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের তৈরি। ইরানের এসব কার্যক্রম উপেক্ষা করা যায় না। দেশটিকে বোঝাতে হবে যে এসব তত্পরতার উপরে আমরা নজর রাখছি।

মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া নিয়েও ইইউ'র সন্দেহ রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্ভবত খুব শীগগিরি, ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দেবেন। এ বিষয়টি আন্তর্জাতিক সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। এ প্রসঙ্গে মোঘেরিনি বলেন, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের কার্যকর শান্তি প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে ইইউ এবং 'দুই রাষ্ট্র'-এর পরিকল্পনাকেও সমর্থন জানায়। এসব প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর তত্পরতা এড়ানো উচিত বলে মনে করে ইইউ। আলোচনার মাধ্যমে জেরুজালেমের ভূমিকা নির্ধারণ করা উচিত।

উল্লেখ্য, ইউরোপ সফরে প্রথম ব্রাসেলস যান টিলারসন। পরবর্তীতে তিনি ন্যাটোর দু'দিনব্যাপী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন এবং ভিয়েনায় ইউরোপের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা-বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন।

(স্বর্ণা/তৌহিদ)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040