Web bengali.cri.cn   
বিশ্বের ১৪২টি দেশ ও অঞ্চলে ৫১৬টি কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট
  2017-10-06 18:04:05  cri

চীনের বৈদেশিক সাংস্কৃতিক বিনিময় সংস্থা 'কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট' যাত্রা শুরু করে ১৩ বছর আগে। বর্তমানে বিশ্বের ১৪২টি দেশ ও অঞ্চলে ৫ শতাধিক কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট এবং প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে হাজারটি কনফুসিয়াস ক্লাসরুম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ সংস্থাগুলোতে এ পর্যন্ত শিক্ষা নিয়েছেন ৭০ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী।

চীনা ভাষা ও সংস্কৃতিকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে ২০০৪ সাল থেকে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট যাত্রা শুরু করে। অলাভজনক এ সংস্থার লক্ষ্য বিদেশিদের চীনা ভাষা শেখানো এবং চীনা সংস্কৃতির সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া। কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট সদরদফতরের উপ-মহাপরিচালক মা চিয়ান ফেই জানান, গেল ১৩ বছরে মোট ৭০ লাখ মানুষ বিশ্বব্যাপী কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটগুলোতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তিনি বলেন,

"আমরা ইতোমধ্যে বিশ্বের ১৪২টি দেশ ও অঞ্চলে ৫১৬টি কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট এবং প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে ১০৭৬টি কনফুসিয়াস ক্লাসরুম প্রতিষ্ঠা করেছি। কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটগুলোর আয়োজিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এ পর্যন্ত সর্বমোট ১০ কোটি মানুষ অংশগ্রহণ করেছে। নানা দেশে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট জনপ্রিয়তা পেয়েছে।"

ব্রাজিলের ভি বি সুজা কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের একজন ছাত্র। তার একটি চীনা নাম আছে: ছাং সি জে। চলতি বছর তিনি বৃত্তি পেয়ে চীনের আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও অর্থনীতি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছরের জন্য পড়তে এসেছেন।কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটে লেখাপড়ার অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন,

"গত বছরের মার্চ মাস থেকে আমি চীনা ভাষা শিখতে শুরু করি। কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের ক্লাস খুব মজার এবং প্রতিবছর নতুন শিক্ষক আসেন। তারা সাধারণত তরুণ বয়সের। ক্লাসে শিক্ষক আমাদেরকে চীনের খাবার ও রীতিনীতি সম্পর্কেও ধারণা দেন। কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়; যেমন, হস্তলিপি, থাই চি, ইত্যাদি। একবার আমি একটি চীনা খাবার রান্না অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি। তখন আমি প্রথমবারের মতো পাওচি নামক একটি চীনা খাবার খাই।"

সুজার মতো বহু বিদেশি কনফুসিয়াস ইনস্টিডিউটগুলোতে চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি শিখেছেন ও শিখছেন। পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, বর্তমানে কনফুসিয়াস ইনস্টিডিউটগুলোতে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২১ লাখ। তাদের মধ্যে 'এক অঞ্চল, এক পথ' উদ্যোগসংলগ্ন ৫১টি দেশে মোট ১৩৫টি কনফুসিয়াস ইনস্টিডিউট এবং ১২৯টি কনফুসিয়াস ক্লাসরুম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

চীনের অর্থনীতির উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চীনা ভাষার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে ৬৭টি দেশে পাবলিক শিক্ষাব্যবস্থায় চীনা ভাষা অন্তর্ভুক্ত আছে এবং ১৭০টিরও বেশি দেশের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে চীনা ভাষার কোর্স বা মেজর রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের নির্বাহী চেয়ারম্যান পল বার্টন বেল জানিয়েছেন, কনফুসিয়াস ইনস্টিডিউটের কারণে স্থানীয় অঞ্চলের অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী চীনা সংস্কৃতি জানার সুযোগ পেয়েছে। তিনি বলেন,

(রে ৩)

"কনফুসিয়াস ইনস্টিডিউট না-থাকলে আমরা শুধু ওকলাহোমা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে চীনা ভাষা শিক্ষা দিতাম। কিন্তু তখন কনফুসিয়াস ইনস্টিডিউটের বৃত্তির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৬ জন শিক্ষার্থীর চীনে পড়ার সুযোগ থাকতো না। কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের কারণে আমাদের দেশের ৫০ জন শিক্ষাকর্মী চীনে গিয়ে সেদেশের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছেন। চীনের ১৩০ জন অধ্যাপক আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি পড়িয়েছেন এবং ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের ১৫০ জন মাধ্যমিক শিক্ষার্থী চীনা ব্রিজের গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পে অংশ নিয়েছে।"

বস্তুত, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট চীনকে জানার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হয়েছে। এই ইনস্টিটিউটগুলো চীনের সাথে বিশ্ববাসীর সংযোগসেতু হিসেবে কাজ করছে। চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি প্রচারে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটগুলো রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। (শিশির/আলিম/সুবর্ণা)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040