Web bengali.cri.cn   
রান্নাঘরে সৃষ্ট আবর্জনা ও দূষিত পানি শোধনের প্রক্রিয়া: রিচাও শহরের দৃষ্টান্ত
  2017-09-30 10:10:23  cri

বন্ধুরা, আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, যে-কোনো ধরনের ময়লাযুক্ত ও দূষিত পানি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পুরনায় ব্যবহারযোগ্য করে তোলা যায়। আবার রান্নাঘরে সৃষ্ট আবর্জনাও যথাযথ প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে ব্যবহারযোগ্য অন্য জিনিসে রূপান্তরিত করা যায়। বিগত কয়েক বছরে চীনের শান তোং প্রদেশের রিচাও শহরে রান্নাঘরে সৃষ্ট আবর্জনা ও দূষিত পানি শোধন করে পুরনায় ব্যবহারযোগ্য করার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আজকের অনুষ্ঠানের শুরুতেই এ বিষয়ে আমি কিছু তথ্য আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই।

রান্নাঘরে সৃষ্ট আবর্জনা সামলানো একটি কঠিন কাজ, বিশেষ করে একটা গোটা শহরের কথা যদি ধরা যায়। প্রতিদিন একটি শহরের অসংখ্য রান্নাঘরে ব্যাপক আবর্জনা সৃষ্টি হয়। এই আবর্জনার যথাযথ ব্যবস্থাপনা না-হলে পরিবেশের ওপর এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে বাধ্য। তাই ২০১৫ সালে রিচাও শহরে প্রতিষ্ঠিত হয় রান্নাঘরের আবর্জনা ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি।

রিচাও হংলু পরিবেশ সুরক্ষা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কোম্পানি শহরের রান্নাঘরগুলোতে সৃষ্ট আবর্জনা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেয়। কোম্পানিটি প্রতিটি রেস্তোরাঁ ও ক্যান্টিনে আর্বজনা সংগ্রহের বিশেষ ট্র্যাশ ক্যান স্থাপন করে। প্রতিদিন নিয়মিত আবর্জনা সংগ্রহ করে কোম্পানি। কোম্পানির ম্যানিজার মৌ দুন সিং বলেন, "আমরা স্কুল, সরকারি প্রতিষ্ঠান, রেস্তোরাঁ, কারখানার ক্যান্টিন, সশস্ত্র বাহিনীর ক্যান্টিন ইত্যাদিতে আবর্জনা সংগ্রহের ট্র্যাশ ক্যান বসিয়েছি। এ ক্যানের সংখ্যা দুই শতাধিক। সাধারণত প্রতিদিন আমরা আবর্জনা সংগ্রহ করি কমপক্ষে ৪৫ টন এবং গড়ে ৫০ থেকে ৬০ টন করে। গতকাল সংগ্রহ করেছি ৭৩ টন। এটি একটি রেকর্ড। কিন্তু আমরা একশ টন পর্যন্ত আবর্জনা ব্যবস্থাপনার সামর্থ্য রাখি।"

কোম্পানির শ্রমিকরা প্রতিদিন রান্নাঘরের আবর্জনা সংগ্রহ করে রিচাও শহরের হুয়াংশান আবর্জনা ব্যবস্থাপনা কারখানায় পাঠায়। কারখানায় বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় এই আবর্জনাগুলো থেকে বর্জ্য তেল, বর্জ্য পানি, বায়োগ্যাসের অবশিষ্টাংশ ও অজৈব বস্তু উত্পাদিত হয়। এরপর সেগুলোকে ব্যবহার উপযোগী করে তোলা হয়। রিচাও শহরের কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকেন্দ্রের উপপরিচালক হান বাং নিং বলেন, "আমাদের কারখানায় গ্যাস, পানি, দূষিত পানি পুনর্ব্যবহৃত হয়। উত্পাদিত বায়োগ্যাস দিয়ে বিদ্যুত্ উত্পাদিত হয়। আমরা পানি শোধনের জন্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছি। এ ব্যবস্থায় দূষিত পানি পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করা হয়। এতে পরিবেশও রক্ষা পায়।"

হান বাং নিং বলেন, এ ব্যবস্থায় আবর্জনা থেকে আবর্জনা সৃষ্টি হয় না। রিচাও শহরের রান্নাঘরের আবর্জনা ব্যবস্থাপনা কারখানা অর্থনৈতিকভাবেও ফলপ্রসূ।

রিচাও শহরে যে-কারখানায় আবর্জনা থেকে বিদ্যুত উত্পাদন করা হয়, সেই কারখানায় প্রতিদিন প্রায় ৮শ টন আবর্জনা ব্যবহৃত হয়। এখানে উত্পাদিত বিদ্যুত দিয়ে ২০ হাজারেরও বেশি পরিবারের চাহিদা মেটে। কারখানার জেনারেল ম্যানেজারের সহাকারী ছিন হাই জিন বলেন, আবর্জনা থেকে বিদ্যুত উত্পাদন প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট ছাই ও ধোঁয়া অ-বিষাক্ত করার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ছিন হাই জিন বলেন, "আবর্জনা থেকে বিদ্যুত উত্পাদনের কারখানার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছাই ও ধোঁয়া। কারণ, ছাই ও ধোঁয়ায় ভারী ধাতু থাকে। আমরা সক্রিয় কার্বন দিয়ে ছাই ও ধোঁয়া মোকাবিলা করি।"

রিচাও শহর আবর্জনা ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি সবুজ পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করেছে। এ ছাড়া, রিচাও শহর দূষিত পানির কবল থেকে বাঁচার ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে। রিচাও শহরের দ্বিতীয় দূষিত পানি পরিশোধন কারখানায় আধুনিক পদ্ধতিতে দূষিত পানি শোধন করা হয়। প্রতিদিন কারখানায় ৬০ সহস্রাধিক টন দূষিত পানি শোধন করা হয়। শোধিত পানি প্রধানত রিচাও ইস্পাত কারখানায় ব্যবহৃত হয়। কারখানার প্রধান জু ছাও বলেন, "আমাদের কারখানায় পরিশোধনের পর সে-পানি প্রধানত শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরবরাহ করা হয়। কিছু অংশ যায় পার্কে।"

দূষিত পানি পরিশোধন প্রক্রিয়ায় কাদা সৃষ্টি হয়। এই কাদা আবার পানি ও ভূমি দূষণ সৃষ্টি করে। তাই এই কাদা শোধনের জন্য পাঠানো হয় অন্য কারখানায়। রিচাও শহরের সবকটি পানিশোধন কারখানায় সৃষ্টি কাদা পাঠানো হয় ওই কারখানায়। এই কাদা কারখানায় শোধিত হয়। এই পরিশোধিত কাদামাটি ব্যবহৃত হয় জমিতে।

কারখানাটির প্রধান ওয়াং ওয়েই বলেন, তার কারখানায় প্রতিদিন ১২০ টন করে কাদা শোধন করা হয়। তিনি জানালেন, কারখানায় শোধিত কাদা শরের সবুজায়ন প্রকল্পে ব্যবহৃত হয়। ওয়াং ওয়েই বলেন, "যথাযথভাবে শোধনের পর কাদাগুলো শহরের সবুজায়ন প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হয়। যেমন, রাজপথের পাশে বৃক্ষরোপণের কাজে ও বনভূমি উর্বর করতে এ কাদামাটি ব্যবহার করা হয়।"

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040