ফ্রান্সে চীনের দূতাবাসের ইউরোপীয় ঐতিহ্য দিবসে অংশগ্রহণ
  2017-09-26 09:31:15  cri

 

সুপ্রিয় বন্ধুরা, আপনারা শুনছেন চীন আন্তর্জাতিক বেতার থেকে প্রচারিত বাংলা অনুষ্ঠান 'সাহিত্য ও সংস্কৃতি'। আর এ অনুষ্ঠানে আপনাদের সঙ্গে আছি আমি আপনাদের বন্ধু ওয়াং ছুই ইয়াং জিনিয়া।

আজকের অনুষ্ঠানে প্রথমে আমরা মস্কোর কেন্দ্রে বড় একটি বিনোদন পার্ক নির্মাণ সমন্ধে একটি সাংস্কৃতিক প্রবন্ধ শুনবো।

সম্প্রতি রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর কেন্দ্রে জারিডিই পার্ক নামে একটি বড় বিনোদন পার্ক নির্মিত হয়েছে।পার্কটি ক্রেমলিন ভবনের পরবর্তী নির্মিত হয় বলে একে শহরের 'নতুন ল্যান্ডমার্ক' বলা হয়। অনেক চীনা পর্যটক সেখানে যাওয়ার কারণে পার্কের বিভিন্ন নির্দেশনা চীনা ভাষাও লিখিত হয়েছে। কিন্তু চীনা পর্যটকরা পার্কে হেঁটে হেঁটে এসব চীনা ভাষা দেখার পর অনেক মজার অনুবাদ আবিস্কার করেছে।

কী কী মজার অনুবাদ আছে? লাল মহাচত্বরের অনুবাদ হয়েছে 'লাল সসেজ'। প্রকৃতি সংরক্ষণ কেন্দ্র হয়েছে 'সুরক্ষিত দূতাবাস'। দীর্ঘদিন ধরে চীন-রাশিয়া বিনিময় কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন রুশ সিনোলজিষ্ট এলেক্সি এফিমভ দুঃখ করে বলেছেন,

"পার্কের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ পেশাদার অনুবাদক নিযুক্ত না করে সরাসরি ইন্টারনেটের অনুবাদ সফটওয়ার ব্যবহার করেছেন। আমি গুগল করেছি, একই অনুবাদ ফলাফল পেয়েছি। এটা গুরুতর ইস্যু না হলেও সঠিক কাজ হয়নি । এত সুন্দর একটা নতুন পার্ক নির্মিত হয়েছে, বিস্তারিত ইস্যু এখানে ভালভাবে দেখভাল করা উচিত।"

কিন্তু আসলে পার্কে আসা চীনা পযর্টকরা ভুল অনুবাদে কোন নেতিবাচক মন্তব্য করেননি। চীনা ভাষা দেখে খুব অন্তরংগ অনুভব করেছেন।

একজন চীনা পর্যটক বলেন,

"অনুবাদ দেখার পর আমি বুঝতে পেরেছি যে, এগুলো গুগলের অনুবাদ কর্ম। কিন্তু কখনো কখনো এ ধরণের 'মজার' অনুবাদ দেখে হাসতে চাই। কোন সমস্যা নেই।"

আসলে সম্প্রতি, রাশিয়ায় চীনা পর্যটকদের সংখ্যা বিপুল সংখ্যায় বেড়েছে। ফলে রাশিয়ার অনেক প্রকাশ্য স্থানে চীনা ভাষায় লিখিত সাইনবোর্ড দেখা যায়। এফিমভ বলেন, বিশেষ করে গত দু'-এক বছরে রাশিয়ায় এ ধরণের পরিবর্তন অনেক স্পষ্ট ।

জানা গেছে, পার্কের ব্যবস্থাপনা বিভাগ সংশ্লিষ্ট তথ্য সমন্ধে ইতোমধ্যেই অবগত হয়েছে। চীনা অনুবাদক নিযুক্ত করে সংশ্লিষ্ট সাইনবোর্ড সংশোধন করবেন তাঁরা।

বন্ধুরা, মস্কোর কেন্দ্রে বড় বিনোদন পার্ক নির্মাণ সম্পর্কে প্রবন্ধটি এখানে শেষ। এখন শুনুন ফ্রান্সে চীনের দূতাবাসের ইউরোপীয় ঐতিহ্য দিবসে অংশগ্রহণ শিরোনাম একটি সাংস্কৃতিক প্রতিবেদন।

প্রতি বছরের ইউরোপীয় ঐতিহ্য দিবসে নাগরিকরা অনেক চমত্কার প্রদর্শনী উপভোগ করতে পারেন। অধিকাংশ বিষয়বস্তু সাধারণ দিনগুলোতে দেখা যায় না। চলতি বছর, ফ্রান্সে চীনের দূতাবাসের ঠিকানা পরিবর্তিত হয়েছে। এর পরই এ বছরের ইউরোপীয় ঐতিহ্য দিবসে তাঁরা অংশ নেয়। ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যটকরা ফ্রান্সে চীনের দূতাবাস পরিদর্শন করার সুযোগ পায়।

সেদিন সকালে বৃষ্টি ছিল। কিন্তু সকাল ৮টা থেকে অনেক পর্যটক দূতাবাসের বাইরে সারি বেঁধে অপেক্ষা করেন পরিদর্শন করার জন্য। জানা গেছে, সারা দিনে ৩ হাজার ৬'শরও বেশী পর্যটক দূতাবাস পরিদর্শন করেন।

ফ্রান্সে চীনের রাষ্ট্রদূত জাই চুন দূতাবাসের সামনে আগত অতিথিদের অভ্যর্থনা জানান। তিনি এবং দূতাবাসের অভ্যন্তরীণ সাঁজ-সজ্জা ডিজাইনার এক সাথে দর্শকদের দূতাবাসের অবস্থা পরিচয় করিয়ে দেন।

ফ্রান্সে চীনের দূতাবাস প্যারিস সপ্তম জেলা, সাইন নদীর বাম তীরে অবস্থিত। আবাসিক ভবন, অফিস এবং বাগান তিনটি অংশ নিয়ে দূতাবাসটি গঠিত। এর মধ্যে আবাসিক ভবন ও ফরাসি স্টাইলের বাগানের ২'শ ৩০বছরেরও বেশী ইতিহাস আছে। এগুলো ফ্রান্সের ইতিহাস এবং সংস্কৃতির সুরক্ষা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। ফ্রান্সে চীনের দূতাবাস নতুন ঠিকানায় এস্টেট কেনার পর আগের ভবনের রূপান্তর এবং পুনর্নিমাণ করেছে। ইউরোপীয় ঐতিহ্য দিবস হলো নতুন ভবনে কাজ শুরু করার পর দূতাবাসের অংশ নেওয়ার প্রথম তত্পরতা। এ প্রাচীন ভবন দশর্কদের স্বচক্ষে দেখা নতুন শক্তি যোগ করবে।

এক সাক্ষাত্কারে রাষ্ট্রদূত জায়ও উল্লেখ করেন, তিনি আশা করেন ভবনের ফরাসি স্টাইল বজায় রাখার ভিত্তিতে চীনা উপাদানসমূহও পুনর্নিমাণে যুক্ত হবে। নতুন দূতাবাসের অবস্থা দেখে সন্তুষ্ট হন তিনি। তাঁর মতে নতুন দূতাবাসের ভবন হলো চীন-ফ্রান্স সাংস্কৃতিক মিলন। ইউরোপীয় ঐতিহ্য দিবসসহ বিভিন্ন সুযোগের মাধ্যমে আরো বেশী মানুষ দূতাবাসে আসার আশাও প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত জায় যাতে দূতাবাস দু'দেশের জনগণের মৈত্রীর সেতুতে পরিণত হতে পারে।

বন্ধুরা, ফ্রান্সে চীনের দূতাবাসের ইউরোপীয় ঐতিহ্য দিবসে অংশ নেওয়া সমন্ধে প্রবন্ধটি এখানে শেষ। এখন শুনুন জার্মানিতে চীনা স্টাইল শিরোনামে একটি সাংস্কৃতিক খবর।

জার্মানির নর্দরাইন ওয়েস্টফালেন'র রাজধানী দাসেলফোরড-এ সপ্তম দাসেল চীনা উত্সব ১৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় একটি ঐতিহ্যবাহী কার্যক্রম হিসেবে, প্রতি বছর দাসেল চীনা উত্সব ৩০ হাজারেরও বেশী দর্শক আকর্ষণ করে।

লাল তাম্বু, লাল লণ্ঠন, লাল মঞ্চের ব্যাকগ্রাউন্ড। দাসেলফোরড শহরের কেন্দ্রে সেদিন একটি আনন্দ উত্সবপূর্ণ একটি লাল সাগরে পরিণত হয়। শিল্পস্বরুপ হস্তলিপি, চীনা ঔষধ, কিগং, চা অনুষ্ঠান, হস্তশিল্প, চীনা পর্যটন তথ্যসহ বিভিন্ন প্রদর্শিত-দোকান সেখানে দেখা যায়। তাছাড়া দর্শকরা রামেন, ভাজা ডাম্পলিংস, লিয়াংপিসহ বিভিন্ন সুস্বাদু ঐতিহ্যবাহী চীনা খাবার খাওয়ার সুযোগ পান।

সিটি হলের সামনে একটি অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হয়। সেখানে সারা দিন ধরে চীনা জাতীয় নাচ, লোক সঙ্গীত, তাই চি, মার্শাল আর্টসহ বিভিন্ন চমত্কার অনুষ্ঠান দর্শকদের উপস্থিতিতে প্রদর্শন করা হয়।

বর্তমানে আরো বেশী ফরাসি চীনে আসছেন। তাদের মতে পশ্চিমা মাধ্যমের প্রতিবেদনের চীন তাদের দেখা চীন ভিন্ন। চীনকে আরো বেশী জানতে চান তাঁরা। আর যত বেশী জানছেন চীনকে তত বেশী পছন্দ করছেন।

দাসেলফোরড শহরের মেয়র থমাস জিআইএসেল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, দাসেলফোরড চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখে। অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দাসেলফোরড-এ ৫'শও বেশী চীন-বিনিয়োগের শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যবসা করছে। সবশেষে, দিবসটি উপভোগ করে সকলের আনন্দময় স্মৃতি পাওয়ার কামনা করেন তিনি।

প্রিয় শ্রোতা, আজকের অনুষ্ঠান আপনাদের কেমন লাগলো? আপনারা যদি 'সাহিত্য ও সংস্কৃতি' বিষয়ক কোনো কিছু জানতে বা আলোচনা করতে চান, তাহলে আমাকে চিঠি লিখবেন বা ই-মেইল করবেন। আপনাদের কাছ থেকে চমত্কার পরামর্শ আশা করছি। আর আপনাদের জানিয়ে রাখি, আমার ইমেইল ঠিকানা হলো, hawaiicoffee@163.com

চিঠিতে প্রথমে লিখবেন, 'সাহিত্য ও সংস্কৃতি' অনুষ্ঠানের 'প্রস্তাব বা মতামত'। আপনাদের চিঠির অপেক্ষায় রইলাম।

বন্ধুরা, আজকের অনুষ্ঠান এখানেই শেষ করছি। শোনার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আগামী সপ্তাহে একই দিন, একই সময় আপনাদের সঙ্গে আবারো কথা হবে। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। চাইচিয়ান। (জিনিয়া/মহসীন)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040