Web bengali.cri.cn   
দ্রুতগতির রেলপথের তিনটি বৈশিষ্ট্য ---সুবিধাজনক, দ্রুত ও নিরাপদ
  2017-07-11 19:44:01  cri


 

২০০৮ সালে চীনের প্রথম দ্রুতগতির রেলপথ চালু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত নয় বছরে দ্রুতগতির রেলপথের দৈর্ঘ্য আর যাত্রী পরিবহনের সংখ্যা নতুন নতুন বিশ্ব রেকর্ড তৈরি করেছে। দ্রুত গতির রেলপথ বিভিন্ন জনগোষ্ঠির ভিন্ন ভিন্ন চাহিদা মেটাতে পেরেছে। যেমন ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধ একা একাই দ্রুত গতির রেলগাড়ি করে নিরাপদে নানা জায়গায় যেতে পারেন। ব্যবসায়ীদের দ্রুত গতির রেলগাড়ির সাহায্যে কাজ করতে বা যাতায়াত করতে আরো সুবিধা হয়েছে। চীনের অভ্যন্তরে পারিবারিক ভ্রমণের আরও বিকল্প তৈরি হয়েছে। দ্রুত গতির রেলগাড়ি কীভাবে চীনাদের জীবনের ওপর প্রভাব ফেলেছে তার বাস্তব গল্প শুনুন।

বেইজিংয়ের দক্ষিণ রেলস্টেশনে সবসময় ভীড় হয়। বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করা যাত্রীরা স্টেশন অভ্যন্তরে ব্যস্ত হয়ে চলাফেরা করেন। প্রতি দিন ৩১৮টি দ্রুত গতির রেলগাড়ি এ স্টেশন থেকে চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে চলে যায়। ৮২ বছর বয়সী ম্যাডাম চু ইয়ুন সিয়া একাই শাংহাই থেকে বেইজিংয়ে এসেছেন। প্ল্যাটফর্ম থেকে হেঁটে হেঁটে বাইরে আসার সময় তাঁর মুখে কোন ক্লান্তি দেখা গেলনা। তিনি বলেন, "আমি একা বাইরে আসলে পরিবার চিন্তা করেন। তাঁরা বলেন, 'তুমি একা গেলে পথে সমস্যা হবে না?' আমি বলি, 'অসুবিধা নেই। এখন অনেক ভালো মানুষ আছেন। তাঁরা আমাকে সাহায্য করেন। আমার বয়স বেশি বলে অনেকে আমার লাগেজ উঠাতে ও বসতে সাহায্য করেন। রেলস্টেশনে পরিসেবা দলও আছে। তাঁরা আমাকে বগি পর্যন্ত পৌঁছে দেন। আমার লাগেজ ভালো করে রেখে দেন। আমার কোন ক্লান্তি হয়না। আমি মনে করি, এখন দ্রুতগতির রেলগাড়ি করে বাইরে যাওয়া খুব আরামদায়ক। বিমানের আসন এতো ছোট। রেলগাড়িতে বসতে পারি, হাঁটতে পারি। অনেক আরাম।"

আরামদায়ক ও প্রশস্ত স্থান আর পূর্ণাঙ্গ আনুষঙ্গিক সেবা ব্যবস্থা আছে এবং সময় সাশ্রয় হয় বলে অনেক বয়স্ক ব্যক্তি রেলগাড়ি পছন্দ করেন। চু ইয়ুন সিয়া বলেন, "বিমান করে যেতে কমপক্ষে দু'ঘন্টা আগে বিমান বন্দরে যেতে হয়। তা ছাড়া আবহাওয়া খারাপ হলে বিমান দেরি হতে পারে, এমন কি ফ্লাইট বাতিল হতে পারে। আমার বয়স বেড়েছে, আমাকে বিমান বন্দরে অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করতে হলে অস্থির লাগে। ফলে আমি পরিবারের সঙ্গে আলাপ করেছি, আমি দ্রুত গতির রেলগাড়ি করে বেইজিংয়ে আসবো।"

চীনে বেইজিং আর শাংহাই এ দু'টি মহানগরের মধ্যে লোকজন আসা যাওয়া অনেক বেশি। ২০১১ সালের জুনে বেইজিংয়ের দক্ষিণ রেলস্টেশন থেকে শাংহাইয়ের হোংছিয়াও রেলস্টেশনগামী দ্রুতগতির রেলপথ চালু হয়েছে। এর দৈর্ঘ্য ১৩১৮ কিলোমিটার। এখন প্রতি দিন বেইজিং থেকে শাংহাইয়ের মধ্যে ১৬০ জোড়া দ্রুত গতির রেলগাড়ি চলাচল করে। গত বছরে এ রেলপথে ১০ কোটিরও বেশি যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে। এ রেলপথ চীনের মহানগরের পরিবহনের এক গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াতের রুটে পরিণত হয়েছে।

বড় বড় শহরগুলোর পরিবহন উন্নয়ন করার পাশাপাশি দ্রুত গতির রেলপথ উন্নয়নের দরুণ বড় শহরের আশেপাশের অর্থনীতি ও ব্যবসাও তত্পর হয়েছে। আর্থিক খাতে কর্মরত মি: চেন স্টেশনহলে বসে দুটি মোবাইল ফোন আর একটি ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করছেন। কাজের জন্য তিনি প্রতি সপ্তাহে বহু বার বেইজিং আর থিয়ানচিনের উ ছিংয়ে আসা যাওয়া করেন। এ দু'টি স্থানের দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার। গাড়ি করে যেতে কমপক্ষে এক ঘন্টা সময় লাগে। কিন্তু দ্রুতগতির রেলগাড়ি করে যেতে মাত্র ২৪ মিনিট সময় লাগে।

মিঃ চেন বলেন, "গণ পরিবহনে করে বাইরে যেতে সময় সাশ্রয় হয় এবং কষ্টও কম হয়। গাড়ি করে যেতে অনেক ঝামেলা। বিশেষ করে গাড়ি করে বেইজিংয়ে যেতে যানজট হয়। রেলগাড়ি করে বেইজিংয়ে যেতে যানজটের ঝুঁকি নেই। তাছাড়া, গাড়ি করে আসতে তেলের খরচ আছে, সেতুর টোল আছে। আমার একা আসা যাওয়া করতে রেলগাড়ির টিকিট মাত্র ৭০ ইউয়ান। অনেক সস্তা।"

1  2  
© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040