Web bengali.cri.cn   
তিব্বতের ছিংহাই প্রদেশের সংখ্যালঘু এলাকার শিক্ষা খাতের উন্নয়ন
  2017-07-09 19:49:24  cri
বন্ধুরা, ছিংহাই প্রদেশের আয়তন ৭২ বর্গকিলোমিটার। প্রদেশটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড়ে ৩ হাজার মিটার উঁচুতে অবস্থিত। লোকসংখ্যা ৫৮ লাখেরও বেশি। এর মধ্যে সংখ্যালঘু লোকসংখ্যা ৪৮ শতাংশ। গোটা প্রদেশে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান আছে ২৯৯৮টি। এর মধ্যে বাধ্যতামূলক শিক্ষা পর্যায়ের বিদ্যালয় ১১৫৭টি। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১১ লাখ। এর মধ্যে সংখ্যালঘু শিক্ষার্থী ৫৩ শতাংশেরও বেশি। ছিংহাই প্রদেশের স্থানীয় সরকার বরাবরই সংঘ্যালঘু জাতির শিক্ষার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছে। স্থানীয় সরকারের উদ্যোগে ও বিশেষ ব্যবস্থায় শিক্ষা খাতে সংখ্যালঘু জাতি অনেক উন্নতি করেছে। এ সম্পর্কে ছিংহাই প্রদেশের শিক্ষা ব্যুরোর উপ-পরিচালক ইয়াং ফা ইউ বলেন, "ছিংহাইয়ে সংখ্যালঘু জাতির জন্য মানসম্পন্ন মৌলিক শিক্ষা নিশ্চিত করাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। ছিংহাই প্রদেশের ছয়টি জেলার পাঁচটি তিব্বতি জাতির স্বায়ত্তশাসিত জেলা এবং একটি মঙ্গোলীয় জাতির স্বায়ত্তশাসিত জেলা। প্রদেশে যেখানে তিব্বতিরা সংখ্যায় বেশি, সেখানে সংখ্যালঘুদের জন্য মৌলিক শিক্ষা নিশ্চিত করার কাজটা সহজ ছিল না।'

১৯৯২ সালে ছিংহাই প্রদেশে সংখ্যালঘু জাতির এলাকায় স্কুলে যাবার উপযুক্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার ছিল ৬৪.৬৭ শতাংশ, জাতীয় স্বায়ত্তশাসিত এলাকায় ছিল ৭৮.২৩ শতাংশ, আর যাজকসংক্রান্ত এলাকায় ছিল ৪৭.৩ শতাংশ। কিন্তু ২০০২ সালে সংখ্যালঘু এলাকায় স্কুলে যাবার উপযুক্ত বয়সের শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার বেড়ে দাঁড়ায় ৯২.১ শতাংশে, জাতীয় স্বায়ত্তশাসিত এলাকায় ৯৩ শতাংশে, আর যাজকসংক্রান্ত এলাকায় ৮০ শতাংশে। ২০১৬ সাল পর্যন্ত এখানকার কিন্ডার গার্টেনে ভর্তির হার ছিল ৮১.২১ শতাংশ, প্রাথমিক ও জুনিয়র স্কুলে অর্থাত্ বাধ্যতামূলক শিক্ষা পর্যায়ের স্কুলে ভর্তির হার ৯৩,৬৯ শতাংশ এবং হাই স্কুলে ভর্তির হার ছিল ৮১.৯৮ শতাংশ। ছিংহাই প্রদেশের শিক্ষা ব্যুরোর জাতীয় শিক্ষা বিভাগের পরিচালক সুই ইয়ান হুই বলেন, বর্তমান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে স্কুলে ভর্তির হার আরও বাড়ানো। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, "ছিংহাই প্রদেশের বাধ্যতামূলক শিক্ষা পর্যায়ে যারা কাজ করছেন, তাদের দায়িত্ব অনেক। প্রথমত, এখানে বাধ্যতামূলক শিক্ষার হার বৃদ্ধি করতে হবে ও শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত শিক্ষা ও শিক্ষকদের মান আরও উন্নত করতে হবে।"

তিব্বতি জাতির এলাকার শিক্ষার মান উন্নত করা ও শিক্ষার্থীদের জন্য আরও উন্নত পরিবেশ সৃষ্টির জন্য ২০১৬ সালের শরত্কাল থেকে ছিংহাই প্রদেশের ছয়টি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে ১৫ বছরের বাধ্যতামূলক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা হয়। এ ছাড়া, প্রদেশটির রাজধানী সিনিং ও হাইতংসহ উন্নত শহরগুলোতে সংখ্যালঘু জাতির শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাশ চালু করা হয়েছে। এ সম্পর্কে ইয়াং ফা ইউ বলেন, "প্রাদেশিক সরকারের সমর্থনে আমরা সিনিংয়ে সানচিয়াং ইউয়ান জাতীয় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি। কুওলুও ও ইউশুসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু এলাকার শিক্ষার্থীরা এখানে লেখাপড়া করছে। গত বছর প্রাদেশিক সরকার কুওলুও জেলার শিক্ষার্থীদের জন্য সিনিংয়ে আরেকটি কুওলুও মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে। এ ছাড়া, সংখ্যালঘু জাতির এলাকায় নতুন নতুন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।'

চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিপি)-র ১৮তম প্রতিনিধি সম্মেলনের পর কেন্দ্রীয় সরকার, রাষ্ট্রীয় পরিষদ, ছিংহাই প্রাদেশিক সরকার ও ছিংহাই প্রদেশের সিপিপি'র কমিটি তিব্বতি জাতি এলাকার শিক্ষার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছে। স্থানীয় মানুষদের ভাষ্য, আগে তিব্বতি জাতির এলাকায় সবচেয়ে সুন্দর স্থাপত্য ছিল মন্দির, কিন্তু এখন বিদ্যালয় হচ্ছে সবচেয়ে সুন্দর। এ ছাড়া, আগের বিদ্যালয়গুলোকে সার্বিকভাবে সংস্কার করা হয়েছে। গত বছর থেকে ছিংহাই প্রদেশের নর্মাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলকভাবে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শেখানো হচ্ছে। ২০১৫ সালে ২১০০ জন নতুন শিক্ষকের ৯৯ শতাংশকে তিব্বতি জাতির এলাকায় পাঠানো হন।

মা লং হলেন সান চিয়াং ইউয়ান জাতীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন গণিতের শিক্ষক। তিনি ছিংহাই নর্মাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেছেন। তিনি বলেন, যাজকসংক্রান্ত এলাকায় শিক্ষকের অভাব এবং ভাষাগত সমস্যা আছে। এখানকার শিক্ষার্থীদের অবস্থাও ভালো নয়। মা লং বলেন, "আমি আগে কখনও তিব্বতে যাইনি। তিব্বতকে আমার অনেক দূরে মনে হতো। সেখানকার অবস্থা সম্পর্কে আমি সন্দিহান ছিলাম। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর মাত্র ৩ মাসেই আমি চমত্কার খাপ খাইয়ে নিয়েছি। এখানে কাজ করতে পেরে আমি এখন গর্বিত।"

বিগত কয়েক বছরে বেইজিং, থিয়ানচিন, শাংহাই, চেচিয়াং, চিয়াংসু ও শানতুং প্রদেশ পৃথক পৃথকভাবে ছিংহাই প্রদেশকে সহায়তা করেছে। ইয়াং ফা ইউ জানান, ২০১৬ সালে ছিংহাই প্রদেশ থেকে প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী ওই সকল প্রদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতে যায়।

বন্ধুরা, শুনছিলেন 'প্রসঙ্গ: তিব্বতের ছিংহাই প্রদেশের সংখ্যালঘু এলাকার শিক্ষা খাতের উন্নয়ন' শীর্ষক একটি প্রতিবেদন। এখন একটি গান শুনবেন। বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলার গ্লোবল সিআরআই রেডিও লিসনার্স ক্লাবের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম তার ইমেলে লিখেছেন: বিগত এপ্রিল ও মে মাসে শর্টওয়েভের সব ফ্রিকোয়েন্সিতে সিআরআইয়ের বাংলা অনুষ্ঠান শুনতে কোনো অসুবিধা হয়নি। এ সময় সিআরআইয়ের সব শর্টওয়েভ ফ্রিকোয়েন্সি এবং বরাবরের মত মিডিয়াম ওয়েভের দুটি ফ্রিকোয়েন্সিতে সিআরআইয়ের বাংলা অনুষ্ঠান জোরালো ও স্পষ্ট শোনা গেছে। সিআরআইয়ের বাংলা অনুষ্ঠানমালা রেডিও ছাড়াও ওয়েবসাইট এবং ফেসবুকের মাধ্যমে উপভোগ করছি। সিআরআই বাংলা ওয়েবসাইটটি চলতি টাটকা খবর, তথ্য ও বিনোদনে ভরপুর। সুন্দর ও আকর্ষণীয় সব ছবি দেখে মুগ্ধ হচ্ছি। চীন আন্তর্জাতিক বেতার ও CRIbangla নামে দু'টি ফেসবুক ফ্যানপেজে নিয়মিত তথ্য ও ছবি আপলোড করাতে আমরা অনেক উপকৃত হচ্ছি। চলতি নানারকম তথ্য ও ছবিতে ভরপুর এসব ফেসবুক ফ্যানপেজ এখন খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। হাজার হাজার শ্রোতা প্রতিদিন ফেসবুকে লাইক, কমেন্টস ও শেয়ার করছেন। এতেই বোঝা যায় সিআরআইয়ের জনপ্রিয়তা কতখানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সুযোগে আমি সিআরআইয়ের ওয়েবসাইটে কর্মরত কর্মকর্তা এবং সিআরআই ফেসবুক টিমকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। মোহাম্মদ তৌহিদ ও শুয়েই ফেই ফেই উপস্হাপিত নতুন চীনা ভাষা শিক্ষার অনুষ্ঠান "সহজ চীনা ভাষা" খুব ভাল লাগছে। তাদের চীনা ভাষা শেখানোর কৌশলও অভিনব। আশা করছি শ্রোতারা এ অনুষ্ঠান শুনে চীনা ভাষা খুব ভালভাবে রপ্ত করতে বা শিখতে পারবেন। ২০১৭ সালে এ পর্যন্ত ফেসবুক ও বেতারের মাধ্যমে সিআরআই কর্তৃপক্ষ কিছু প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন, যা শ্রোতাদের বহু কাঙ্খিত একটি বিষয় ছিল। সম্প্রতি "রেশমপথ সম্বন্ধে জানেন কি?" প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের 'এক অঞ্চল, এক পথ' উদ্যোগ সম্বন্ধে শ্রোতাদের অনেক জ্ঞান অর্জন হয়েছে বলে আমি মনে করি। এ প্রতিযোগিতার ফলাফল মুক্তার কথা অনুষ্ঠানে খুব শীঘ্রই ঘোষিত হবে এমনটিই প্রত্যাশা করছি। "আজকের টপিক" এবং "হ্যালো চায়না" অনুষ্ঠান সিআরআইয়ের খুবই তথ্যসমৃদ্ধ ও উপযোগী দুটি মূল্যবান অনুষ্ঠান, যা আমাদের জ্ঞানভান্ডারকে সমৃদ্ধ করছে। ধন্যবাদ সিআরআইকে। আমি সিআরআই বাংলা বিভাগ থেকে ক্রীড়া বা খেলাধুলাবিষয়ক নতুন একটি অনুষ্ঠান প্রচারের প্রস্তাব করছি।

বন্ধু, আশরাফুল ইসরাম, আপনাকে নিয়মিত আমাদের মতামত দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাই। ক্রীড়াবিষয়ক অনুষ্ঠান প্রচারের প্রস্তাব আমরা অবশ্যই বিবেচনা করবো।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার মিতালি লিসনার্স ক্লাবের শিবেন্দু পাল তার ইমেলে লিখেছেন: চীনের প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো 'তুয়ান উ চিয়ে' বা ড্রাগন নৌকা উৎসব। চীনের চান্দ্রপঞ্জিকা অনুযায়ী প্রতি বছরের পঞ্চম মাসের পঞ্চম দিন হলো 'তুয়ান উ চিয়ে'। ২০১৭ সালের ৩০ মে চীনে 'তুয়ান উ চিয়ে' বা ড্রাগন নৌকা উত্সব পালিত হয় । চীনা ভাষায় 'তুয়ান' মানে 'শুরু', 'উ' মানে 'দুপুর'। আর পাঁচ শব্দের উচ্চারণও 'উ'। প্রতি মাসে রয়েছে পাঁচ, পনের, পঁচিশ। এর মধ্যে পাঁচই প্রথম। তাই এদিনই তুয়ান উ চিয়ে। এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ড্রাগন নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। এই উৎসবের বিশেষ খাবারও আকর্ষণীয়।

২৭ মে মুক্তার কথা অনুষ্ঠানে আমার চিঠি বিস্তারিতভাবে পড়ায় ভীষণ খুশি হয়েছি। তবে মুক্তার কথা অনুষ্ঠানে চিঠি পড়ার সময় বাড়াতে হবে, দরকার হলে এই দিন 'সুরের ধারা' অনুষ্ঠানের সময় ১০ মিনিট কমিয়ে আনা যেতে পারে। তাতে শ্রোতারা উৎসাহিত হয়ে বেশি চিঠি লিখবে বলে আমার মনে হয়। বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ জানাই। আমি চীন আন্তর্জাতিক বেতারের একজন নিয়মিত শ্রোতা। দীর্ঘদিন ধরে আমার ক্লাব চীন আন্তর্জাতিক বেতারের অনুষ্ঠান নিয়মিত শোনার পাশাপাশি নানারকম সামাজিক কাজের সঙ্গেও যুক্ত। "এক অঞ্চল, এক পথ"বা "রেশমপথ সম্পর্কে জানেন কি" কুইজ প্রতিযোগিতার ফলাফল কবে ঘোষণা করা হবে জানাবেন। "এক অঞ্চল, এক পথ"বিষয়ে চীন আন্তর্জাতিক বেতার থেকে এবং ওয়েবসাইট ও ফেসবুক থেকে অনেক কিছু জানতে পারছি। ওয়েবসাইট ও ফেসবুক কুইজ কবে থেকে চালু হচ্ছে? গত ২২.৫.১৭, ও ২৯.৫.১৭ সুরের ধারা অনুষ্ঠানে ভারতীয় হিন্দি সিনেমা "তারে জামিন পর"এবং "ও মাই গড-এর গান শুনলাম, খুব ভাল লাগলো। আজ এই পর্যন্ত। উত্তরের অপেক্ষাই রইলাম। শুভেছান্তে।

বন্ধু শিবেন্দু পাল, আপনাকে ধন্যবাদ জানাই। 'এক অঞ্চল, এক পথ' প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের তালিকা আমি আগামী সপ্তাহের মুক্তার কথায় ঘোষণা করবো এবং ফেসবুকে প্রকাশ করবো। আপনার সব প্রস্তাব আমরা বিবেচনা করবো।

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040