Web bengali.cri.cn   
 প্রতিদিন অফিসে আমরা কী পরিমাণ অপচয় করি?
  2017-06-28 14:19:02  cri



কয়েক বছর আগে চীনে চালু হয় 'খালি থালা' নামের একটি উদ্যোগ। মানুষকে খাবার নষ্ট না-করতে উত্সাহ দেওয়াই ছিল এ উদ্যোগের লক্ষ্য। কিন্তু আপনারা কি কখনও ভেবেছেন, প্রতিদিন অফিসে আমরা কী পরিমাণ অপচয় করি? সে অপচয়ের পরিমাণ কল্পনার চেয়ে বেশি।

অফিসে একটি বলপেন আমরা কতক্ষণ কাজে লাগাই? সে কলম কী কাজেইবা লাগাই? কলমের কালি ফুরিয়ে গেলেই বা আমরা কী করি? এ সব প্রশ্ন কি কখনও আমাদের মনে জাগে?

চীনা কলম নির্মাণ কমিটির উপ-পরিচালক উ সাও পিং সম্প্রতি সাংবাদিকদের জানান, ২০১৬ সালে চীনে বলপেন উত্পাদন হয়েছে ১৩৭২.৭ কোটি। এর মধ্যে ৮১২ কোটি বিদেশে রফতানি হয় এবং ৫৬০ কোটি স্থানীয় বাজারে বিক্রি হয়। যদি এই কলমের ৮০ শতাংশও বিক্রি হয়ে থাকে, তবে প্রায় ৪৫০ কোটি কলম ভোক্তার হাতে এসেছে। অন্যভাবে বললে গড়ে প্রতিটি চীনা মানুষ কলম ব্যবহার করেছে বছরে ৩টি করে। সাধারণত ছাত্রছাত্রী ও গ্রামীণ এলাকার মানুষ রিফিল ব্যবহার করে একটা কলমই বার বার ব্যবহার করেন। কিন্তু আমরা সাধারণত অফিস-আদালতে একটা কলম একবার ব্যবহার করে ফেলে দিই!!

ভান সুয়াই সাংহাই একটি বড় কোম্পানিতে কাজ করেন। তিনি বলেন, কলম দামি জিনিস না এবং অফিসে সহজলভ্য। তাই এটা নিয়ে কোনোদিন ভাবিনি। কখনও কখনও এমনও দেখা গেছে, নতুন একটি কলম মাত্র একটি সম্মেলন বা সভায় ব্যবহারের পর হারিয়ে গেছে। অফিসে প্রত্যেক টেবিলে অনেক কলম থাকে। প্রয়োজন হলে যে-কেউ একটি কলম নিয়ে ব্যবহার করেন এবং কোনো কলমই পুরোপুরি ব্যবহার করা হয় না। একটা কলম কতক্ষণ ব্যবহার করা যায়, বা এটার ব্যবহার যথাযথ হচ্ছে কি না, এই নিয়ে তার মাথায় কখনও চিন্তাই হয়নি।

মিঃ ইয়াং তথ্যমাধ্যমে কাজ করেন এবং তিনি প্রায় সবসময় কলম ব্যবহার করেন। তিনি জানালেন, স্কুলে পড়ার সময় নতুন কলম কেনার বদলে সবসময় রিফিল কিনে একই কলম বার বার ব্যবহার করতেন। কলম কোনো কারণে ভালো কাজ না-করলে, নিজেই সেটা ঠিকঠাক করার চেষ্টা করতেন। তবে এমন অভ্যাস এখন আর নেই। কলম রিফিল না-করে ফেলে দেওয়া একটা বড় অপব্যয়। আর প্লাষ্টিক ও কালি রিসাইক্লিং না-করা প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্টের জন্য দায়ী।

সাং হাই চেন কুয়াং মনিহারী পণ্য কোম্পানি প্রযুক্তি বিভাগের উপ-প্রধান ইয়াও হং জুন বলেন, উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একটি জেল পেন তৈরির সময় ১২ বার মেশিনে কাটাকাটি করতে হয় এবং নানা পরীক্ষার পর সেটি বাজারে ছাড়া হয়। তা ছাড়া, কলমের স্প্রিং উত্পাদন ও বলপেন হেড তৈরির সরঞ্জাম সব বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। একটি কলম তৈরির প্রক্রিয়া কল্পনার চেয়ে জটিল। যেমন কলমের বল ও হেড-এর মধ্যে একটি ফাঁক থাকে, যেখান দিয়ে কালি বের হয়। এ ফাঁক মাত্র ০.০১২ মিলিমিটার, যা মানুষের চুলের ব্যাসের ১০ শতাংশ।

কোনো কোনো ইউন্টারনেট ব্যবহারকারী এমন পরামর্শ দিচ্ছেন যে, এখন যেমন সুপার মার্কেটগুলোতে বিনামূল্যে প্লাস্টিক ব্যাগ পাওয়া যায় না, নিজেকেই বাজারের থলে বহন করতে হয় বা পয়সা দিয়ে কিনতে হয়, ঠিক তেমনি অফিস-আদালতেও কলমের রিফিল ব্যবহারকে উত্সাহিত করতে কিছু নীতিমালা গ্রহণ করা যেতে পারে।

আসলে শুধু কলম নয়, অফিসে অন্যান্য ক্ষেত্রেও অপব্যয়

চোখে পড়বে। সরকারি একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন ইচ্ছেমতো কাগজ ব্যবহার করে মানুষ এবং কাজ শেষে বাতিগুলো নেভানো হয় না।

বিদ্যুত সরবরাহ কোম্পানির একজন প্রযুক্তিবিদ বললেন, সাধারণ একটি ল্যাপটপ এক ঘন্টায় প্রায় ০.০৪৫ কিলোওয়াট বিদ্যুত ব্যবহার করে। কাজ শেষে বিদ্যুতের কানেকশন বন্ধ না-করলে ১০ ঘন্টার স্লিপিং মুডে সেটি ০.২ কিলোওয়াট বিদ্যুত নষ্ট করে। এভাবে এক মাসে একটি ল্যাপটপ ৬ কিলোওয়াট বিদ্যুত নষ্ট করে। তো, একটি কোম্পানিতে এভাবে কত বিদ্যুতের অপচয় হয় ভেবে দেখুন।

মিটিং রুমে সরবরাহ করা হয় পানির বোতল। সাধারণত কোনো বোতলের পানিই কেউ সম্পূর্ণ পান করেন না। সম্মেলনশেষে বাকি পানি নষ্ট হয়। কোম্পানির যে-কোনো অনুষ্ঠানের জন্য ব্যানার তৈরি করা হয় এবং সেগুলো শুধু একবারই সাধারণত ব্যবহার করা হয়। মানে অপচয়।

এমনি এক প্রেক্ষাপটে ২০১৩ সাল থেকে চীনা সরকারি অফিস-আদালতে চালু হয় অপচয়-বিরোধী নীতি। এতে বলা হয় জ্বালানি, পানি, অফিসের সরঞ্জামসহ নানা জিনিসের ব্যবহার কমাতে হবে এবং 'পেপারলেস' অফিস গড়ে তুলতে হবে।

ধীর গতিতে হলেও আমরা এখন কিছু পরিবর্তন দেখতে পারছি। আজকাল অফিসে আমরা কাগজের উভয় পৃষ্ঠায় প্রিন্ট নিচ্ছি। কাজশেষে সহকর্মীরা পরস্পরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি বাতি নিভিয়ে দেওয়ার কথা।

কোনো কোনো কোম্পানিতে কর্মীদের স্মার্টকার্ড দেওয়া হয়। প্রিন্টার ব্যবহার করতে চাইলে কার্ড ব্যবহার করতে হবে; কলমের জন্য রিফিল নিতে হবে ইত্যাদি। আবার বলপেনের পরিবর্তে কলম ব্যবহার করাকেও উত্সাহিত করা হচ্ছে। এতে যেমন প্লাস্টিক বর্জ্য কমবে, তেমনি ঐতিহ্যিক লেখার ধরনও রক্ষিত হবে। (শিশির/আলিম)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040