Web bengali.cri.cn   
ভোরে ঘুম থেকে জাগার সুফল
  2017-06-04 18:57:55  cri

ইংরেজিতে একটি কথা আছে। কথাটার সহজ অর্থ: সকালের একটি ঘন্টা বিকেলের দু'ঘন্টার সমান; ভোরেই শুরু হয় একটি দিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ। হ্যাঁ, অন্তত এক সপ্তাহ প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে জাগার চেষ্টা করুন, দেখুন পার্থক্যটা নিজেই বুঝতে পারবেন। অবশ্য, যারা ইতোমধ্যেই এই ভালো অভ্যাসটি রপ্ত করে নিয়েছেন, তাদেরকে আমাদের বলার কিছু নেই। তারা তো নিশ্চয়ই সকালে ঘুম থেকে জাগার সুফল সম্পর্কে স্পষ্টই জানেন! তাদেরকে অভিনন্দন। হ্যা, ভোরে ঘুম থেকে জাগার সুফল অনেক। ভোরে রাস্তায় যানজট কম থাকে। বিশেষ করে ভোরের সতেজ বাতাস আপনাকে চনমনে করে তুলবে নিমিষেই! তখন রাস্তার গাছ-গাছালি ও লতাপাতাও অনেক সুন্দর লাগে। এ এক চমত্কার অনুভূতি।

অনেকে বলেন, ভোরে ঘুম ভাঙলে বা ঘুম ভাঙানো হলে, তাদের মেজাজ খারাপ হয়; দিনটা ভালো কাটে না। কথাটা কি ঠিক? কানাডার এক গবেষণায় কিন্তু উঠে এসেছে ঠিক বিপরীত চিত্র। যারা ভোরে বিছানা ছাড়েন, দিনটা তাদের তুলনামূলকভাবে বেশি ভালো কাটে; এ ধরনের মানুষের সুখবোধ থাকে তুলনামূলকভাবে বেশি তীব্র। বিশেষজ্ঞরা বলেন, যারা সকালে বিছানা ছাড়েন, তাদের কাজের গুণগত মান ভালো হয়; তাদের দেহের রোগ-প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়; এমনকি, তাদের চেহারার ঔজ্জ্বল্যও বৃদ্ধি পায়। আজকের 'জীবন যেমন' অনুষ্ঠানে আমরা ভোরে বিছানা ছাড়ার কল্যাণ এবং কীভাবে সহজে ভোরে ঘুম থেকে জাগা যায়, সে সম্পর্কে আলোচনা করবো।

হ্যাঁ, সকাল সকাল বিছানা ত্যাগ করার মধ্যে ৫টি কল্যাণ রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। আসুন সেগুলো জেনে নিই।

কল্যাণ ১: মেজাজ ভালো থাকে

সর্বশেষ এক জরিপ অনুসারে, যারা নিয়ম করে রাতে আগেভাগে বিছানায় যান এবং ভোরে বিছানা ছাড়েন, তাদের মেজাজ সারাদিন তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে। ৬৪৩৬ জনের ওপর জরিপ চালানো হয়েছিল চীনে। তাদের মধ্যে যারা আগে বিছানায় গিয়ে আগে বিছানা ছাড়েন, তাদের সমস্যা সমাধানের সামর্থ্য তুলনামূলকভাবে বেশি বলে প্রমাণিত হয়েছে। এ শ্রেণির লোকেরা তাদের দৈনন্দিন কাজকর্মেও বিশেষ সতর্ক থাকেন।

কল্যাণ ২: আনন্দবোধ বেশি

ভোরে ঘুম থেকে জাগতে হলে, রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়া একটি শর্ত। যারা বেশি রাত জাগেন, তাদের পক্ষে ভোরে ঘুম থেকে জাগা সহজ হয় না। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বেশি রাত জাগেন, তাদের বেশিরভাগই ভোরে ঘুম থেকে উঠতে পারেন না। আর উঠলেও তাদের মধ্যে বিষন্নতাবোধ কাজ করে। অন্যদিকে, যারা রাত জাগেন না এবং নিয়মিত ভোরে ঘুম থেকে জেগে ওঠেন, তাদের আনন্দবোধ প্রবল। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এ চক্র তীব্রতর হয়ে ওঠে।

কল্যাণ ৩: রোগ-প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়ে

কথায় বলে Early to bed and early to rise/ keeps a person healthy,wealthy,and wise. সুস্থ থাকতে চাইলে এই নীতি মেনে চলতে হবে। চীনা বা পাশ্চাত্য-উভয় চিকিত্সাপদ্ধতিতেই এই নীতিবাক্যটি বলে থাকেন চিকিত্সকরা। যথাসময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ভোরে ঘুম থেকে জেগে ওঠার অভ্যাস মানুষের শরীরে রোগ-প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়ায়। অধিক রাত জাগার সাধারণ অর্থ দাঁড়ায়, আপনার ঘুম প্রয়োজনের তুলনায় কম হবে। আর তখন আপনার রোগ-প্রতিরোধক ক্ষমতা যাবে কমে। যারা ভোরে ঘুম থেকে জাগেন, তাদের ওপর মানসিক চাপও থাকে কম।

কল্যাণ ৪: পরিমিত খাদ্যগ্রহণে সহায়ক

যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা থেকে জানা গেছে, যারা অতিরিক্ত রাত জাগেন, তাদের খাদ্যগ্রহণের পরিমান বেশি হয়। তারা প্রতিদিন অন্তত ২৪৮ ক্যালরি বেশি গ্রহণ করেন। আর যারা অতিরিক্ত রাত জাগেন, তারা বেশিরভাগই জেগে জেগে ফাস্ট ফুড খান। তাই তাদের শাক-সবজি ও ফলমূল খাওয়া হয় তুলনামূলকভাবে কম।

কল্যাণ ৫: ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

ঘুম ও ওজনের সম্পর্ক নিয়ে ২২০০ জন যুবকের ওপর জরিপ চালানো হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ায়। জরিপের ফল অনুসারে, যারা সকালে ঘুম থেকে দেরী করে ওঠেন, তাদের মুটিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা, যারা ভোরে ঘুম থেকে জাগেন, তাদের তুলনায় শতভাগ বেশি। কথাটি প্রযোজ্য শিশুদের জন্যও। ঘুমের পরিমান যা-ই হোক না কেন, যেসব শিশু অধিক রাতে ঘুমিয়ে অধিক বেলা করে ঘুম থেকে জাগে, তাদের মুটিয়ে যাবার আশঙ্কা বেশি থাকে।

অনেকে অভিযোগ করেন যে, সকাল সকাল ঘুম থেকে জাগা কঠিন। বিশেষজ্ঞরা তাদের জন্য ৪টি পরামর্শ দিয়েছেন।

পরামর্শ ১: পর্যাপ্ত ঘুম ভোরে জাগার পূর্বশর্ত

ঘুম আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ। দূষণমুক্ত পরিবেশের মতোই পর্যাপ্ত ঘুম আমাদের জীবনে অপরিহার্য। পর্যাপ্ত ঘুম আমাদের শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য খুবই প্রয়োজন। প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘন্টা ঘুম দরকার। রাতে যদি আপনি পর্যাপ্ত ঘুমাতে পারেন, তবে ভোরবেলা ঘুম থেকে জেগে ওঠা আপনার জন্য কঠিন হবার কথা নয়। তাই, তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ুন এবং সকাল সকাল ঘুম থেকে জেগে উঠুন। মনে রাখবেন, এটা অভ্যাসের ব্যাপারে।

পরামর্শ ২: রাত জাগা এড়ানোর চেষ্টা করুন

রাতে ঘুমের আগে আপনার মোবাইল ফোন, টেলিভিশন ও নোটবই দেখার অভ্যাস আছে? এ ধরনের অভ্যাস ঘুমের জন্য সহায়ক নয়। যারা অতিরিক্ত রাত জাগেন, তাদের এ ধরনের অভ্যাস আছে। সুতরাং, ঘুমের গুণগত মান নিশ্চিত করতে, বিছানায় যাওয়ার অন্তত এক ঘন্টা আগে ইলেক্ট্রোনিক পণ্য থেকে দূরে থাকুন। মনে রাখবেন, রাত না-জাগা সকাল সকাল ঘুম থেকে জাগার গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত।

পরামর্শ ৩: ঘুমের জন্য ভাল পরিবেশ সৃষ্টি করা

পরিবেশ ঘুমের গুণগত মানের ওপর প্রভাব ফেলে। সুন্দর একটি পরিবেশ দ্রুত আপনার চোখে ঘুম নিয়ে আসতে পারে। কারণ, শান্ত ও সুন্দর পরিবেশ আমাদের মস্তিষ্ককে রিল্যাক্স করে। চিকিত্সকেরা বলেন, ঘুমের আগে কোনো একটা ভালো বইয়ের কয়েকটি পৃষ্ঠা পড়া বা ল্যাভেন্ডারের সুগন্ধ নেওয়া ঘুমের গুণগত মান বাড়াতে পারে।

পরামর্শ ৪: পরের দিনের কাজের পরিকল্পনা করুন

যারা সকাল সকাল ঘুম থেকে জাগতে চান, তাদের উচিত পরের দিনের কাজের একটি পূর্ব-পরিকল্পনা আগেই করে রাখা। তাহলে ঘুমাতে যাবার পর আপনি নিশ্চিত থাকতে পারবেন। কারণ, আপনি জানেন, ঘুম থেকে জাগার পর সারাদিন আপনি কোন কোন কাজ করবেন। এটা জানা না-থাকলে দেখা যাবে, বিছানায় যাওয়ার পর আপনি পরের দিন কী কী কাজ করবেন, তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন। এ ধরনের ভাবনা আপনার ঘুম তাড়িয়ে দেবে। তো, বিছানায় যাওয়ার আগেই পরের দিনের পরিকল্পনা করে ফেলুন। প্রয়োজনে কাজের একটা তালিকা নোটবইয়ে লিখে ফেলুন, তারপর ঘুমাতে যান। দেখবেন আপনার ভালো ঘুম হবে এবং আপনি ঠিক ঠিক ভোরে ঘুম থেকে সতেজ মন নিয়ে উঠতে পারবেন।

(ওয়াং হাইমান/আলিম)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040