Web bengali.cri.cn   
যুক্তরাষ্ট্রের সুন্দর, মহান সুবৃহত্ অট্টালিকা
  2017-04-10 15:23:06  cri


চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং স্থানীয় সময় গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা রাজ্যের মার-এ-লাগোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দু'নেতা গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় বাস্তব সহযোগিতা ও অভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সমস্যা নিয়ে ব্যাপক ও গভীরভাবে মতবিনিময় করেন। দু'পক্ষ মনে করে এ বৈঠক ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ।

সম্প্রতি দু'নেতার সাক্ষাত্ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য জানতে পেরেছেন বন্ধুরা। আমরা আজ তাদের বৈঠকের বিষয় নিয়ে আলোচনা না করবো, কিন্তু তাদের সাক্ষাতের সুন্দর সুবৃহৎ অট্টালিকা মার-এ-লাগো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঐতিহাসিক অট্টালিকা বা ম্যানসন বন্ধুদের কাছে পরিচয় করিয়ে দিবো। বিস্তারিত শুনবেন আজকের টপিক অনুষ্ঠানে। আমরা আজকের অনুষ্ঠানে বন্ধুদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সুন্দর, মহান সুবৃহৎ অট্টালিকা পরিচয় করিয়ে দিবো, তাহলে এবার দু'দেশের প্রেসিডেন্টের সাক্ষাতের জায়গা মার-এ-লাগো থেকে শুরু করি।

মার-এ-লাগো যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা রাজ্যে অবস্থিত। তা আসলে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ব্যক্তিগত রিসোর্ট। আমরা জানি যে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবার আগে ট্রাম্প রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হওয়ার পর মার-এ-লাগোতে অনেক বৈঠক ও বৈদেশিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেজন্য অনেকেই বর্তমানে মার-এ-লাগোকে 'শীতকালীন হোয়াইট হাউস' বলা শুরু করেছেন। মার-এ-লাগো'র ইতিহাস শেয়ার আগে আমি একটি মজার তথ্য শেয়ার করতে চাই।

মার-এ-লাগোতে অনেক পাম গাছ আছে।

আমি ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট কোস্টের কয়েকটি শহর ভ্রমণ করেছি। সেখানে আমার একজন বন্ধুর গাড়িতে করে আমরা বিভিন্ন জায়গা ঘুরে বেড়িয়েছি। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। যখন তার গাড়ি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রবেশ করে, তখন রাস্তার দু'পারে অনেক পাম গাছ দেখতে পাই, দেখতে খুবই সুন্দর। আমার বন্ধু আমাকে জানায় যে, যুক্তরাষ্ট্রে পাম গাছ হচ্ছে সম্পদের প্রতীক। সেজন্য যেসব জায়গায় ধনী মানুষ থাকে, সেখানে অবশ্যই পাম গাছ থাকবে। সেজন্য যখন আমি জানতে পারি যে মার-এ-লাগোতে অনেক পাম গাছ আছে, তখন আমি বুঝতে পারি, হ্যাঁ, তার কথা সত্যি। এ তথ্য মজার কিনা।

আচ্ছা, তাহলে আমরা এখন মার-এ-লাগোর ইতিহাস সংক্ষিপ্তভাবে পরিচয় করিয়ে দিবো। ২০ শতাব্দীর ২০'র দশকে মার-এ-লাগোর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ডিজা

ইনার জোসেফ আরবান'র নেতৃত্বে তিন বছরের মধ্যে মার-এ-লাগোর নির্মাণ শেষ হয়। মার-এ-লাগোর মূল মালিক মারজোরাই মেরিওয়েদার আশা করতেন মার-এ-লাগো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ভবনে পরিণত হবে। তাই মারজোরাই'র মৃত্যুর পর তার অন্তিম বাণী অনুসারে এটা মার্কিন সরকারকে দান করা হয়। কিন্তু মার-এ-লাগোর রক্ষণাবেক্ষণ ফি খুবই উচ্চ বলে কয়েক বছর পর মারজোরাই'র বংশধরদের কাছে তা প্রত্যাবর্তন করে মার্কিন সরকার। ২০ শতাব্দীর ৮০'র দশকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ৮মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়ে মার-এ-লাগো কিনে নেন। খুবই সুন্দর ও মহান একটি অট্টালিকা। বন্ধুরা অবশ্যই আমাদের ওয়েবসাইটে এর ছবি দেখবেন। আচ্ছা টুটুল, আপনি কি আমাদের শ্রোতাবন্ধুদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি সুন্দর অট্টালিকার পরিচয় করিয়ে দেবেন?

ফস্টার-পেইন হাউস (ইংরেজি ভাষায়: Foster-Payne House) হলো রোড আইল্যান্ডের, পোটাকেটের, ২৫ বেলমন্ট স্ট্রি্টের একটি ঐতিহাসিক বাড়ি। বাড়িটি ১৮৭৮ সালে নির্মিত, বহু-চালা ছাদ বিশিষ্ট দুই তলা বাড়ি যা ক্ল্যাপবোর্ড বিশিষ্ট বাইরের কাঠের কাজ এবং অভ্যন্তরে ঐশ্বর্যশালী বৈঠকখানা রয়েছে। এ ছাড়াও কাঠামোর ত্রিকোণাকার ছাদ এবং ছোট গম্বুজ সাথে একটি মানানসই বহনযোগ্য বাড়ি। বাড়িটির মূলত মালিক এবং নির্মাতা হলেন থিওডোর ওয়াটার্স ফস্টার, কিন্তু এটি ১৮৮২ সালে বাড়িটি "জর্জ ডব্লিউ পেইনের" কাছে বিক্রি করা হয়। ফস্টার-পেইন হাউস, ১৯শ-শতাব্দীর শেষ দিকের একটি সুগঠিত এবং ভালভাবে সংরক্ষিত উপশহরীয় বাসস্থান হিসেবে স্থাপত্যের দিক দিয়ে উল্লেখযোগ্য একটি বাড়ি। এটি ১৯৮৩ সালে ঐতিহাসিক স্থানসমূহের জাতীয় নিবন্ধনে যোগ করা হয়।

ইতিহাস

বাড়িটি ১৮৭৮ সালে থিওডোর ওয়াটার্স ফস্টারের জন্য নির্মিত করা হয়েছিল। তিনি ১৯শে মে, ১৮৪৭ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। তার মা "ওফেলিয়া রেমিংটন" এবং বাবা "চ্যান্সি ফস্টার"। তিনি পোটাকেটে শিক্ষা লাভ করেন এবং ১৮৬৩ সালে রোড আইল্যান্ড ক্যালভেরি যোগদান করেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধের সময় লাল নদীর প্রচারাভিযানে "নাথানিয়েল প্রেন্টিস ব্যাংকসের" অধীনে দায়িত্ব পালন করেন। ১৮৭৩ সালে, তিনি "স্যামুয়েল এইচ বেইলি" এবং "ওয়াল্টার ই. হোয়াইটের" সাথে একটি জুয়েলারী-ম্যানুফ্যাকচারিং পার্টনারশিপ গঠন করে যার নাম "হোয়াইট, ফস্টার ও কোম্পানি" দেওয়া হয়। ১৮৭৮ সালে হোয়াইটের অবসর গ্রহণের পরে, কোম্পানিটি "ফস্টার ও বেইলি" নামকরণ করা হয়।এই সময়, ফস্টার বাড়িটি নির্মাণ করে। এই বাড়িতে তিনি চার বছর বসবাস করেন এবং এখান থেকে তিনি রোড আইল্যান্ডের, প্রোভিডেন্সে তার কাজের জায়গায় যাতায়াত করতেন। ফস্টার একজন সফল জুয়েলারী ম্যানুফ্যাকচারিং ব্যবসায়ী ছিলেন। ১৯২৮ সালে তার মৃত্যুর পর তার ছেলে, থিওডোর ক্লাইড ফস্টার তার ব্যবসার উত্তরসূরী এবং সফল ব্যবসায়ী হন। ১৮৮২ সালে, থিওডোর ফস্টার বাড়িটি "জি.ডব্লিউ. পেইন ও কোম্পানির" মালিক "জর্জ ডব্লিউ পেইনের" কাছে বিক্রি করেন।

নকশা

১৮৭৮ সালে নির্মিত, ফস্টার-পেইন হাউস একটি বহু-চালা ছাদ বিশিষ্ট দুই তলা বাড়ি। বাড়ির এক তলার পশ্চিম পাশে একটি খোলা বারান্দা আছে, যার পিছন দিকে একটি রান্নাঘর রয়েছে এবং এক তলা প্রবেশ পথের পাশেই তিন দিকে কাচ দিয়ে ঘেরা একটি জানালা আছে। বাড়ির বাইরের ক্ল্যাপবোর্ড ও ঢালু ছাদের নিচে বাইরের দেয়ালের ত্রিকোণাকার অংশের সরু চূড়ার অধীনে কাঠের তৈরি সুবিন্যস্ত, বারান্দার বন্ধনী এবং পরিপাটি জানালা দ্বারা বাড়িটিকে বৈশিষ্ট্য প্রদান করা যায়। এই বাড়িতে তিন ধরনের জানালা ব্যবহার করা হয়েছে, এক কাচ বিশিষ্ট জানালা, একটির উপর একটি জোড়া কাচের জানালা এবং দুটির উপর দুটি কাচের জানালা।

পশ্চিমের ছোট প্রবেশ কক্ষের বারান্দা প্রধান সিঁড়িহলের দিকে নিয়ে যায়, যেখানে রয়েছে একটি বাকানো সিঁড়ি। প্রথম তলার কক্ষসমূহ দক্ষিণে একটি "এল" আকৃতির নকশায় সাজানো হয়েছে এবং পূর্ব দিকে রান্নাঘর স্থাপন করা হয়েছে। ভিতরের একটি কক্ষের সিলিং যা এনআরএইচপি-তে মনোনয়নপত্র উল্লেখ করা হয়নি, একটি প্রেসড টিনের দিয়ে পরিবর্তিত করা হয়েছে। বাড়ির দ্বিতীয় তলায় এনআরএইচপি মনোনয়নপত্র দ্বারা বর্ণনা করা হয়নি। মরহুম ভিক্টোরিয়ান কক্ষের ভিতরের বিবরণ দেন যে, সামনে বৈঠকখানায় একটি উত্কীর্ণ মার্বেল টুকরা আছে, সিলিং এর মাঝখানে একটি পদকের মত নকশা, যেখানে একটি সুদর্শন পিতলের ছয় গ্যাস লাইট (এখন বৈদ্যুতিক) বিশিষ্ট ঝার বাতি ঝুলানী আছে এবং স্ক্রোল-কাজের সাথে একটি সুচিত্রিত সিলিং রয়েছে। বৈঠকখানার পিছনে রেনেসাঁ পুনরুজ্জীবন ফ্রেমে আয়না দ্বারা আবৃত একটি মার্বেলকৃত স্লেটে কালো, লাল, ধূসর ও সাদা কারুকাজ করা টুকরা সমৃদ্ধিসহকারে সাজানো রয়েছে। এনআরএইচপি মনোনয়নপত্রে এই কাঠামোর একটি জিনিস বর্ণনা করা হয়নি, সেটি হল ২০১৩ সালের একটি ছবিতে গুম্বজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা দেখা যায়।

ফস্টার-পেইন হাউস, ১৯শ-শতাব্দীর শেষ দিকের চমৎকার অভ্যন্তরীণ বিবরণ এবং একটি মানানসই বহনযোগ্য বাড়ি, যা একটি সুগঠিত এবং ভালভাবে সংরক্ষিত শহরতলি বাসভবন হিসেবে স্থাপত্যের দিক দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাড়ি। এটি যে এলাকায় অবস্থিত তা ছিল একটি উচ্চবিত্ত শহরতলিসুলভ এলাকা, কিন্তু ১৯শ-শতাব্দীর শেষ দিকে এখানে বাণিজ্যিক ও শিল্প ভবনসমূহ প্রবেশ করে।১৯৮৩ সালে বাড়িটি ঐতিহাসিক স্থানসমূহের জাতীয় নিবন্ধনে যোগ করা হয়েছিল।

আজকের অনুষ্ঠান শেষে আগে আমি মার-এ-লাগো নিয়ে আরো কিছু তথ্য যোগ করবো। এর মেঝের আয়তন ৮০ হাজার বর্গমিটার, এতে মোট ১২৬ টি রুম আছে। মার-এ-লাগোর ভিতরে কেটারিং এবং বাসস্থান শুধু ম্যানসনের সদস্য বা ট্রাম্পের গলফ ক্লাব উপভোগ করতে পারে। কিন্তু যারা সদস্য না তা নিবন্ধন করে অস্থায়ী ভাড়া করতে পারে।

ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হওয়ার পর "শীতকালীন হোয়াইট হাউস" বলা হয়েছে মার-এ-লাগোকে। অবশ্যই এখানে নিরাপত্তাব্যবস্থাও অনেক উন্নত হয়েছে। যখন ট্রাম্প মার-এ-লাগোতে থাকেন, তখন পাম বিচ এলাকায় অস্থায়ী নো ফ্লাই জোন স্থাপন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের উপকূল রক্ষী বাহিনী এবং সিক্রেট সার্ভিস মার-এ-লাগো'র গুরুত্বপূর্ণ চ্যানেল রক্ষা করে।

মার্কিন প্রতিবেদক রোনাল্ড কেসলার তার বইয়ে লিখেছেন, মার-এ-লাগোকে আমেরিকার উন্নত সমাজ চেনে। অনেক আমেরিকান সেলিব্রেটি এখানে পরিদর্শন করেন।

বন্ধুরা, আজকের টপিক অনুষ্ঠান এখানে শেষ করছি, সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ। আগামীতে আমরা অব্যাহতভাবে সুন্দর মার্কিন ম্যানসনের পরিচয় করিয়ে দিবো। ভাল থাকুন, সুন্দর থাকুন। চাই চিয়েন।

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040