Web bengali.cri.cn   
চীনের দুই অধিবেশনে শিক্ষাবিষয়ক প্রস্তাব, চীন-কেনিয়া শিক্ষা সহযোগিতা
  2017-03-13 15:53:52  cri

 


সুপ্রিয় শ্রোতাবন্ধুরা, আপনারা ভালো আছেন তো? সুদূর বেইজিং থেকে আপনাদের সবাইকে আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আমাদের নিয়মিত সাপ্তাহিক আয়োজন 'বিদ্যাবার্তা' অনুষ্ঠানটি। আর এ আয়োজনে আপনাদের সঙ্গে রয়েছি সুবর্ণা ও টুটুল।

চীনের দ্বাদশ জাতীয় গণকংগ্রেস (এনপিসি)-র পঞ্চম অধিবেশন ও দ্বাদশ গণরাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলন (সিপিপিসিসি)-র পঞ্চম অধিবেশন এখন বেইজিংয়ে চলছে। সংস্কৃতি ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয় সিপিপিসিসি ও এনপিসি'র সদস্যদের ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। আজকের অনুষ্ঠানে আমরা এ দুই অধিবেশনে শিক্ষাসম্পর্কিত বিষয়ে সদস্যদের প্রস্তাব, চীন-কেনিয়া কৃষি ও বিজ্ঞান প্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে কিছু তথ্য তুলে ধরবো।

চলতি বছরের দুই অধিবেশন চলাকালে শিক্ষাসম্পর্কিত বিভিন্ন ইস্যু ব্যাপকভাবে মনোযোগ আকর্ষণ করে। কারণ এ বিষয়টি চীনের কোটি কোটি পরিবারের সাথে জড়িত। নিজের শিশুকে একটি চমত্কার ও গুণগতমানসম্পন্ন স্কুলে ভর্তি করার জন্য বাবা মা বিভিন্ন ব্যবস্থা ও পদ্ধতির প্রচেষ্টা চালান। এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর টাকা দিয়ে শ্রেষ্ঠ স্কুলের পাশে বাড়ি কেনা। বর্তমানে বেইজিংয়ে বিভিন্ন শ্রেষ্ঠ স্কুলের পাশে আবাসিক এলাকায় বাড়ি বা 'সুয়েছুফাং'-এর দাম অনেক বেশি। এ সম্পর্কে সিপিপিসিসি'র সদস্য,নিউ ওরিয়েন্টাল এডুকেশন টেকনোলজি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইউ মিন হোং মনে করেন, সুয়েছুফাং শিক্ষাদানের সমস্যাকে গুরুতর করে তুলেছে। তিনি বলেন,

'কেবল ধনী ব্যক্তিদের পক্ষেই শ্রেষ্ঠ স্কুলের আশেপাশে বাড়ি কেনা সম্ভব, কারণ কেবলমাত্র তারাই এত অর্থ দিয়ে এরকম দামী বাড়ি কিনতে পারে। এসব বাড়ির প্রতি বর্গমিটারের দাম আড়াই লাখ রেনমিনপি, বর্তমানে এমন দামেও কেনা সম্ভব নয়, এর চেয়েও বেশি দামে কিনতে হবে। আমি মনে করি এখন বিভিন্ন শক্তিশালী ব্যবস্থা নিয়ে প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষাসম্পদ সমন্বয় করতে হবে চীন সরকারকে।'

শিক্ষা ছাড়া 'এক সন্তান পরিবারে' প্রবীণদের বৃদ্ধাশ্রম বা যত্নের ব্যাপারেও ব্যাপক মনোযোগ দেন সিপিপিসিসি ও এনপিসি'র সদস্যরা। সিপিপিসিসি'র সদস্য পান ছিং লিন চলতি বছর এ বিষয় নিয়ে একটি বিশেষ প্রস্তাব পেশ করেন। তাতে 'এক সন্তান পরিবারে' বাবা মায়ের যত্ন নেওয়ার জন্য তাদের সন্তানকে আইনগত ছুটি প্রদান করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে এ প্রস্তাব পেশ করেছেন তিনি। একবার তিনি বিমানবন্দরে এক যুব দম্পতিকে তাদের বাবা মাকে যত্ন নেওয়ার বিষয় নিয়ে বিতর্ক করতে দেখেন। এরপর ব্যাপক জরিপ ও গবেষণার মাধ্যমে তিনি বুঝতে পারেন এটা শুধু আকস্মিক ব্যাপার নয়, বরং এই সমস্যা বিভিন্ন 'এক সন্তান পরিবারে' একটি অভিন্ন সমস্যা। তিনি বলেন,

'বর্তমানে অনেক 'এক সন্তান পরিবারের' বাবা মা বয়স্ক হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা দিন দিন দুর্বল হচ্ছে, তবে তাদের একমাত্র ছেলে বা মেয়ে ব্যস্ততা বা চাকরির কারণে ছুটি নিয়ে তাদের যত্ন নিতে পারেন না, তাই সরকারের অনুমোদনে আইনগত ছুটি নিয়ে সন্তানরা বাবা মায়ের যত্ন নিতে পারবে বলে আশা করি।'

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের ঐতিহ্যিক সংস্কৃতি বিভিন্নভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। আরো কিভাবে এই ঐতিহ্যিক সংস্কৃতির শ্রেষ্ঠ বিষয় বিশ্বের সামনে তুলে ধরা যায় এবং আরো বেশি দেশের জনগণকে চীনা সভ্যতার সৌন্দর্য উপভোগ করানো যায়, তা সিপিপিসিসি'র সদস্য ও চীনের চিত্রশিল্পী সমিতির চেয়ারম্যান লিউ তা ওয়ে'র কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ সম্পর্কে তিনি বলেন,

'চীনা জাতির শ্রেষ্ঠ সংস্কৃতি সম্প্রসারণ এবং তা বিশ্বের সামনে তুলে ধরা উচিত। চিত্রশিল্প একটি দৃশ্যের মাধ্যমে চিন্তাভাবনা প্রকাশের পদ্ধতি, যা ভাষা ছাড়াও বোঝা যায়। চিত্রশিল্প জাতীয় সংস্কৃতির মর্ম প্রচারের সবচেয়ে সুবিধাজনক, সহজ ও প্রভাবশালী পদ্ধতির অন্যতম একটি পদ্ধতি। তাই চিত্রশিল্পের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে চীনা সংস্কৃতি বিশ্বের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করা উচিত।'

সিপিপিসিসি'র আরেকজন সদস্য, চীনের গায়িকা ছেন সিসি সংস্কৃতি নিয়ে প্রস্তাব পেশ করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের অনলাইন প্রচারের প্ল্যাটফর্ম দ্রুতভাবে বেড়েছে। গত বছর চীনের অনলাইন প্রচারকের সংখ্যা ৩৪ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি, যা মোট নেটিজেনের ৪৭.১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে অনলাইন লাইভ প্রচারের মধ্যে সহিংসতা, অশ্লীলতা ও কপিরাইট লঙ্ঘনের আচরণ দেখা গেছে। এ বিষয়ে সুস্থ ও সুশৃঙ্খল ইন্টারনেট পরিবেশ গড়া তোলার প্রস্তাব দেন ছেন সিসি। তিনি বলেন,

'চলতি বছর আমি দু'টি প্রস্তাব পেশ করবো। একটি রাষ্ট্রীয় সাংস্কৃতিক দিবস স্থাপন করা সম্পর্কে, আরেকটি ইন্টারনেট লাইভ প্রচারসংক্রান্ত আইন সম্পর্কে।'

বন্ধুরা, সিপিপিসিসি'র সদস্যদের প্রস্তাব শোনার পর এখন চীনের বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের নতুন নীতি সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরবো।

চলতি বছরের দুই অধিবেশনে চীনের সরকারি কার্যবিবরণীতে বাধ্যতামূলক শিক্ষাদান সম্পর্কে চীনের শহর ও গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে লেখাপড়া ও ভাতা দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে শিক্ষাদানের সম্পদ যুক্তিযুক্তভাবে সমন্বয় এবং বাধ্যতামূলক শিক্ষার ভারসাম্য উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা যায়। এটি সার্বিকভাবে স্বচ্ছল সমাজ গড়ে তোলার মূল বিষয়।

তা থেকে বোঝা যায়, চলতি বছর থেকে চীনের শহর ও গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা বিনা বেতনে লেখাপড়া করতে পারবে এবং দরিদ্র পরিবারের বোর্ডিং শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার ভাতা দেওয়া হবে। এভাবে চীনের ১ কোটি ৩০ লাখ কৃষকের সন্তান সুষ্ঠুভাবে স্কুলে লেখাপড়া করতে সক্ষম।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের সবচেয়ে দরিদ্র অঞ্চল ও অনুন্নত স্কুলের শিক্ষাদান ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে। শিক্ষাসম্পদের ভারসাম্য সমন্বয়ে ব্যাপকভাবে শহর ও গ্রামের মধ্যে শিক্ষাদানের ব্যবধান কমে গেছে। গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের খরচও বাতিল করা হয়েছে। প্রতি বছর বিভিন্ন ধরনের স্কুলের দরিদ্র পরিবারের ৮ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীদের অর্থ সহায়তা দিয়েছে চীন সরকার।

বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের ভারসাম্য উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা গণজীবিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। চীনের জাতীয় গণকংগ্রেস (এনপিসি)-র প্রতিনিধি, চীনের শিক্ষা সমিতির উপ-প্রধান চাং চি ইয়োং মনে করেন, বাধ্যতামূলক শিক্ষার ভারসাম্য উন্নয়ন বাস্তবায়ন করতে চাইলে গ্রামাঞ্চলের দুর্বলতা ও শহরের ভিড় বা চাপ- এ দু'টি সমস্যা সমাধান করতে হবে।

সরকারি কার্যবিবরণীতে আরো বলা হয়েছে, শহরাঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী লোকদের শিক্ষাদান সেবা দিতে হবে, দুর্বল স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবস্থা উন্নত করতে হবে, গুণগতমানসম্পন্ন শিক্ষার আওতা বাড়াতে হবে এবং শহর, অঞ্চল ও স্কুলের মধ্যে শিক্ষাগ্রহণের ব্যবধান কমাতে হবে। অব্যাহতভাবে দরিদ্র এলাকা ও গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের শহরাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ স্কুলে ভর্তির পরিমাণ বাড়াতে হবে।

এ সম্পর্কে সিপিপিসিসি'র সদস্য লি তুং ফু মনে করেন, ২০২০ সাল নাগাদ চীনের বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের ভারসাম্য উন্নয়ন মোটামুটি বাস্তবায়ন ও শিশুদের যথাযথভাবে শ্রেষ্ঠ শিক্ষাদান গ্রহণ নিশ্চিত করা চীনের রাষ্ট্রীয় শক্তিশালী নীতিমালার কৌশলগত কার্যক্রম। বাধ্যতামূলক শিক্ষার সমস্যা সমাধান করা চীনের বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারের দায়িত্ব। বাধ্যতামূলক শিক্ষার ভারসাম্য উন্নয়ন এ কার্যক্রমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অন্যতম।

কেনিয়ার এগার্টন বিশ্ববিদ্যালয় কৃষিভিত্তিক বহুমুখী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘকাল ধরে চীনের নানচিং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সহযোগিতা সম্পর্ক বজায় রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।এগার্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে কৃষির বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট ছাড়াও চীন সরকারের উদ্যোগে পূর্ব আফ্রিকার সবচেয়ে উন্নত জৈব গবেষণাগার নির্মিত হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কৃষি বিজ্ঞান প্রযুক্তির উদ্যান। কৃষি ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি খাতে দু'দেশের সহযোগিতা দ্রুতভাবে উন্নত হয়েছে।

কেনিয়ার অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো কৃষি, তবে দুর্বল প্রযুক্তি দেশটির কৃষিখাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা। নানচিং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও এগার্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা গত শতাব্দীর ৮০ দশকে শুরু হয়। গবেষণাগার নির্মাণ, শিক্ষক বিনিময়, উদ্যান প্রযুক্তি ও কৃষি প্রযুক্তির প্রশিক্ষণে বিভিন্ন সহযোগিতামূলক সম্পর্ক স্থাপন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় দু'টি। আফ্রিকায় চীনের অর্থ ও প্রযুক্তি সহায়তার দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে কেনিয়া।

'আপনারা যে গানটি শুনছেন, এর নাম 'দু'টি বাঘ'। এগার্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা ভাষার শিক্ষার্থীরা এ গানটি গেয়েছেন। নানচিং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও এগার্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে এ কনফুসিয়াস ইনস্টিডিউট প্রতিষ্ঠিত হয়। গত কয়েক বছরে কেনিয়ায় চীনা ভাষার প্রশিক্ষণ ও চীনা সংস্কৃতি প্রচারের পাশাপাশি চীনের উন্নত কৃষি প্রযুক্তির পরিচয় দেওয়া হয়েছে। দেশটিতে চীনা ভাষা ও কৃষি প্রযুক্তি জানা দক্ষ ব্যক্তি তৈরি হয়েছে, যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে স্থানীয় অঞ্চলের বহুমুখী ও কৃষি উন্নয়নে।

এ কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের কৃষিবিষয়ক চীনা বিশেষজ্ঞ লিউ কাং ছিয়োং চীনের নানচিং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে কেনিয়ায় চাকরি করছেন। দু'দেশের কৃষি খাতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণে অনেক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বলে মনে করেন অধ্যাপক লিউ। তিনি বলেন,

'কেনিয়া বিশ্ব বিখ্যাত উদ্যান দেশ ও ফুল উত্পাদনকারী দেশ। এগার্টন বিশ্ববিদ্যালয় কৃষিভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম এবং আফ্রিকায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সুনাম আছে। তবে চীনের সাথে সহযোগিতার শুরুতে উদ্যানপালন বিষয় শুধুমাত্র কলেজের প্রধান হিসেবে চালু করা হয়। পরে চীনের নানচিং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তায় শিক্ষক প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতি উন্নতিসহ বিভিন্ন ব্যবস্থার পরিবর্তন হয়। বর্তমানে উদ্যানপালন বিষয়ে এখানে ডক্টরেট ডিগ্রিও চালু করা হয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি উদ্যানপালনবিষয়ক শিক্ষক চীনে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, অন্য অনেক বিষয়ের অনেক শিক্ষকও চীনে সফরে গেছেন।'

২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর চীন সরকারের অর্থসহায়তায় নির্মিত চীন-কেনিয়া ফসল অণু জীববিজ্ঞান গবেষণাগার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। এ গবেষণাগার কেনিয়ার উদ্ভিদ উদ্যান ও অন্যান্য ফসলের জেনেটিক পরিবর্তনে সহায়তা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ গবেষণাগারের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি চীনে তৈরি। অধ্যাপক লিউ'র পরিচয় থেকে জানা গেছে, চীন-কেনিয়া ফসল অণু জীববিজ্ঞান গবেষণাগার প্রকল্পে অংশগ্রহণকারী দু'দেশের বিশেষজ্ঞরা স্থানীয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেবেন। আগামী ৫ বছরের মধ্যে আফ্রিকায় ১০০০ জন পেশাদার ব্যক্তি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে ধারণা করা হয়।

এগার্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রযুক্তি পরীক্ষামূলক উদ্যান দু'দেশের কৃষি প্রযুক্তি সহযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। উদ্যানে পরীক্ষাক্ষেত, মাছের পুকুর, হ্যাচারি ইত্যাদি স্থাপন করা হয়েছে। এ উদ্যানের কেনীয় পরিচালক পল কিমুর্তো বলেন, উদ্যানের মধ্যে মাছের পুকুরের প্রযুক্তি ও ফসলের নতুন ধারণা সবই চীনের কাছ থেকে শেখা। চীনের সহযোগিতা কেনিয়ার জন্য অনেক কল্যাণ বয়ে এনেছে বলে মনে করেন তিনি। কিমুর্তো বলেন,

'চীন সরকার, জনগণ ও বিজ্ঞানীরা আমাদের অনেক সাহায্য প্রদান করেছে। চীন সফরকালে আমরা অনেক উন্নত প্রযুক্তি দেখেছি। চীনের সহযোগিতা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাদান ও গবেষণার দক্ষতা উন্নত করেছে এবং কৃষকদের কৃষি দক্ষতায়ও অনেক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। তাই নানচিং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা স্পষ্টভাবে কেনিয়ার কৃষকদের বহুমুখী দক্ষতা ও উত্পাদন শক্তি জোরদার করতে সক্ষম'।

বন্ধুরা, এতক্ষণ আপনারা চীন ও কেনিয়ার কৃষি সহযোগিতা বিষয়ে কিছু তথ্য শুনলেন।

সুপ্রিয় শ্রোতা, আজকের অনুষ্ঠানে চীনের দুই অধিবেশনে শিক্ষাবিষয়ক প্রস্তাব, চীন-কেনিয়া শিক্ষাবিষয়ক সহযোগিতা সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

বন্ধুরা, সময় দ্রুত চলে যায়, আমাদের অনুষ্ঠানও তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে এলো। এ অনুষ্ঠান সম্পর্কে কোনো মতামত থাকলে আমাদের চিঠি লিখতে ভুলবেন না। আমাদের যোগাযোগ ঠিকানা ben@cri.com.cn

তাহলে এবার বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। থাকুন সুন্দর ও আনন্দে। আগামী সপ্তাহে একই দিন একই সময় আবারো কথা হবে। চাই চিয়ান। (সুবর্ণা/টুটুল)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040