সিরেটের প্রথম বৃহত্ সংস্কৃতি উত্সব ২০১৭
  2017-03-01 20:35:15  cri
বর্ণাঢ্য আয়োজন আর ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে জমে উঠেছে সিলেটে প্রথম বারের মতো বৃহৎ সংস্কৃতি উৎসব ২০১৭। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এ উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে জাতীয় অধ্যাপক জ্ঞানতাপস অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের স্মৃতির প্রতি।

সিলেট নগরীর মাছিমপুরস্থ আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে গত ২২ ফেব্রুয়ারি বুধবার থেকে শুরু হওয়া ১০ দিনব্যাপী বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসব শেষ হবে আগামী ৩ মার্চ।

বাঙালি সাহিত্য-সংস্কৃতির হাজার বছরের ইতিহাস, সমসাময়িক প্রেক্ষাপট ও পরিবর্তিত জীবনধারার নানান দিকই উপস্থাপিত হচ্ছে বেঙ্গলের এ উৎসবে। শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির সকল দ্বারই এসে উন্মুক্ত হয়েছে সিলেটের এ উৎসবে। আর কেবলমাত্র বাংলাদেশের নয়, ভারত ও নেপালও যেন এক হয়েছে এ উৎসবের প্রাঙ্গণে।

উৎসব ঘিরে মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে অন্য রকম আনন্দ। প্রতিদিনই হাজারো মানুষ স্বপরিবারে আসছেন উৎসব প্রাঙ্গণে, মিশে যাচ্ছেন গানের সুরে, নাচের ছন্দে, চিত্রকলার রঙে কিংবাসাহিত্যের সম্মিলনে। সব মিলিয়ে বেঙ্গলের আয়োজনে মুগ্ধ সবাই। মঞ্চে ও চত্বরে বইছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। একাধিক মঞ্চ ও চত্বরে পরিবেশিত অনুষ্ঠানমালা উপভোগ করছেন আগত দর্শনার্থীরা।

সমাজ ও ঐতিহ্য চেতনায়, প্রজ্ঞায় ও সৃজনী-উৎকর্ষে অমর হয়ে আছে সিলেট অঞ্চলের অগণিত মানুষ। তাই এমন কয়েকজন মহান ব্যক্তির নামানুসারে উৎসবস্থলের চত্বর ও মঞ্চ তৈরী করা হয়।

আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সের মাঠে উৎসবের প্রধান মঞ্চটি অসামান্য মরমী কবি দেওয়ান হাছন রাজার নামে "হাছন রাজা মঞ্চ" হিসেবে নামকরণ করা হয়। মাঠের প্রধান চত্বর যেখানে বাদ্যযন্ত্র ও সিলেট অঞ্চলের লোকগানের ইতিহাস নিয়ে প্রদর্শনী চলছে, সেটি বাউল গানের কিংবদন্তি শিল্পী শাহ আবদুল করিমের নামানুসারে নামকরণ করা হয়। এখানে আলাদা আলাদা ছোট গ্যালারিতে প্রদর্শিত হচ্ছে ভারতীয় উপমহাদেশসহ বিশ্বের নানা দেশের বাদ্যযন্ত্র। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, অনুবাদক ও রম্যরচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী স্মরণে জিমনেসিয়ামের ভেতরে সাহিত্যসভা, মঞ্চনাটক ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনের জন্য তৈরী মঞ্চটির নাম রাখা হয়েছে 'সৈয়দ মুজতবা আলী মঞ্চ'। কারুশিল্প প্রদর্শনীর চত্বরটি লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণের অগ্রপুরুষ ও ব্রতচারী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা আইসিএস গুরুসদয় দত্তের নামে নামকরণ করা হয়েছে। আর্ট ক্যাম্পের বেদীটিকে চিহ্নিত করা হয়েছে 'রাধারমণ দত্ত বেদী'হিসেবে। এছাড়া স্থাপত্য প্রদর্শনী ও স্থিরচিত্র প্রক্ষেপণের জন্য নির্মিত তোরণটিকে 'কুশিয়ারা কলোনেড' নামে অভিহিত করা হয়েছে। এখানে প্রদর্শিত হচ্ছে সিলেট শহরের নানা অংশ। যদি এ শহরটি পরিকল্পিত হতো তাহলে দেখতে কেমন হতো সে বিষয়টিও তুলে আনা হয়েছে স্থাপত্য প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে। স্থাপত্যের প্রদর্শনীর পাশেই রাখা হয়েছে অসংখ্য কাঁচের জার। দিঘীর নগরী নামে পরিচিত এ নগরীর নানা স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা দিঘী ও পুকুর থেকে সংগৃহীত পানি রাখা হয়েছে সেগুলোতে। এর মাধ্যমে দেখানো হচ্ছে আমরা কীভাবে নষ্ট করছি আমাদের পরিবেশ ও প্রতিবেশ। বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া দিঘীর নামেও রয়েছে জার, যাতে রয়েছে কেবল মাটি। উপস্থিত দর্শকদের কাছে বেঙ্গলের এ আয়োজনটি ছিলো অনবদ্য। ‍বেঙ্গলের এই আয়োজন মুগ্ধ করছে সিলেটের সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষকে।

উৎসবের পঞ্চম দিন ২৬ ফেব্রুয়ারি রবিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সৈয়দ মুজতবা আলী মঞ্চে কালি ও কলম সাহিত্য সম্মেলনের মাধ্যমে শুরু দিনব্যাপী উৎসবের কার্যক্রম। সন্ধ্যা ছয়টা ২০ মিনিটে হাসন রাজা মঞ্চে নীলাঞ্জনা দাশের পরিচালনায় নৃত্যানুষ্ঠান 'দ্রোহকাল' মঞ্চায়িত হয়। এরপর সরোদ বাদনে অংশ নেন রাজরূপা চৌধুরী। এরপরই রবীন্দ্রসংগীত ও তিন কবির গান পরিবেশন করেন লাইসা আহমদ লিসা। সবশেষে পালাগান পরিবেশন করেন প্রখ্যাত পালাকার ও লোকসংগীত শিল্পী কুদ্দুস বয়াতি।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি বুধবার ১০ দিন ব্যাপী এই বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসবের উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, এমপি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, এমপি, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন স্যার ফজলে হাসান আবেদ।

উৎসবের সমাপনী দিনে শুক্রবার ৩ মার্চ প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, এমপি।

দিদারুল ইকবাল

চীন আন্তর্জাতিক বেতার (সিআরআই)

বাংলাদেশ।

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040